প্রাচীন বজজ-সাহিত্য

(৫ম গু-৬ষ্ খণ্ড)

শ্রীকালিদাস রায়

ভ্ীজয়দদব স্বায় এম-এ কর্তৃক সম্পাদিত

সন্ধ্যার কুলায়, টালিগঞ্জ

(১৩ চারু এভিনিউ) হইতে গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত। ফান্কন,। ১৩৫৮ মূল্য ছয় টাকা

(বুক হাউস, দাশগুপ্ত কোং, শ্রীগুর লাইত্রেরি, কমল] বুক ডিপো! ইত্যাদি পুস্তকালয়ে প্রাপ্তব্য )

মুদ্রাকর- শ্রানীলকণ্ ভট্টাচার্য দি নিউ প্রেস, ১, রমেশমিত্র রো, কলিকাত!-

উৎসর্গ

সৃহথাদ্বর, স্ীযুক্ত মন্সথনাথ সান্যাল করকমলেষু,

এই পুস্তকের অধিকাংশ রচনা আপনার সম্পাদিত কায় প্রকাশিত হইয়াছে এবং আপনি আমার প্রবন্ধের [ীধ অনুরাগী সেন্ভন্য আপনাকেই শ্রদ্ধাভরে এই

রম অর্পণ করিলাম ইতি--

দ্যা কুলায়, আপনার গ্ুণমুগ্ধ টালিগঞ্জ। _ শ্তরীকালিদাজ রাক্স,।

সূচিপত্র

বিষয় গ্রীচৈতন্ত চালা দাক্ষিণাত্য বৈষ্বধর্ম্ম গৌড়ীয় বৈষঝুবধর্মম শ্রীচৈতন্তের বাণী রী শ্রীচৈতন্তের প্রভাব গ্ীচৈতন্যের মানবিকতা শ্রীচৈতন্যের ভগবত্ত। গ্রচৈতন্ত ভাগবত গৌরনাগর , শ্মচৈতন্য চরিতামুত ভাগবত সাহিত্য কীর্তন সঙ্গীত লোচনদাস দ্গদানন্দের পদাবলী রায়শেখর ভাবসম্মেলন নাথসাহিত্য ভারতচন্দ্রের ছন্দ কবিকঙ্কণের ছন্দ ভাষা ... জাতীয় জীবন প্রাচীন সাহিত্য কষ্চচন্দ্রীয় যুগের প্রভাব .. নিধু বাবু কবির গাল দাশু রায়ের পাচালি বাউল সঙ্গীত

ওস্রাগীনন ম্বগ্গঙাান্ডিভ্য তৃতীয়াংশ-৫ম ৬উ খণ্ড

শ্রীচৈতন্য

প্রীচৈতগ্যের প্রচারিত প্রেমধর্শমকে গৌড়ীয় বৈষঃব ধর্ম বল! হয়। শীচৈতন্তের এই রাগাজগ ভক্তিশ্ধর্মপ্রচারের সময়ে ভারতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর বৈষ্ণব ধশ্মমত প্রচলিত ছিল যেমন-- ১। রামাছুজের প্রচারিত বৈষ্কব ধশ্মমত। ২। মধ্বাচাধ্যের প্রচারিত ভক্তিধন্মমত ।৩। বল্পভাচার্যোর প্রচারিত বৈঞুব মতবাদ | ৪। নিষ্বার্কের প্রচারিত তক্তিতত্ব। €। রাগানন্দ হ্বাসীর প্রচারিত রামাইত বৈষ্বমত ইত্যাদি নিথ্ার্ক ছাড়া দক্ষিণাপথেই এই সকল সাধুসস্তের জন্ম হয়। তাহার কলে দক্ষিণাপথই বৈষ্ণবধর্শের প্ররুত জন্মভূমি এই সকল সাধুসস্তের প্রচারিত বৈধবমত ছাড়া গ্রাটীন কাল হইতে দ্রাবিড় জাতির মধ্যে আলোয়ার বা আলডার সাধক বলিযা এক শ্রেণীর বৈষ্ব তাম্পর্ণী, পয়স্থিনী, কৃষণবেথা ইত্যাদি নদীর তীরে বাস করিতেন। ইহার! রাগান্থগা! (শ্রীরুষকে পতিভাবে কল্পন! ) ভক্তির দ্বারা লাধন ভজন করিতেন। শ্রীমদৃভাগবত (সন্তবতঃ দক্ষিণাপথেই রচি-) গ্রন্থে শ্রেণীর মাধকদের উল্লেখ আছে।

আর্ধ্যানর্তের প্রধান সাধন] ভক্তি-মার্গ মূলক নয়, জ্ঞান-মার্গ-মূলক | এই জ্ঞান-মা্গও ক্রমে কতকগুলি বৈদিক আচার-অগ্ুষ্ঠানপালনে পর্যবসিত হইয়াছিল আর্ধাবর্তে সেজন্য যাগধজ্েরই প্রাধান্য ছিল। এই আচার-অনুষ্ঠানপর্ধন্থ গতাচগতিক স্মার্ত ধর্মের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহী হ'ন--মহাবীর বুদ্ধদেব ইহারা কর্মমমূলক অহিংসাত্মক নৈতিক ধর্শ

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

আধ্যাবর্তে গ্রচার করেন। ফলে, আর্াবর্তে বৌদ্ধ জৈন ধর্মেরই প্রাধান্ ঘটে এই দুই ধর্ম কম্মমূলক, ভক্তিমূলক নয়। | পরে আধ্য।বর্তে বৌদ্ধধর্মের অধ:পতনের পর যে হিন্দুধর্মের পুনরুখান হয়, তাহা পৌরাণিক ধর্ম। ইহা ভক্তিমূলক বটে, কিন্তু এই ভক্তি সকাম অর্থাৎ এহিক পারলৌকিক কাম্য বস্তলাভের জন্য বহু দেবদেবীর উপাসনা এই সময়ে এদেশে ইস্লামের প্রাদুর্ভাব হয়। ইসলামের একেশরবাদ নিষাম ভক্তিনিবেদন প্রচারিত হইলে হিন্দুসমাজে একটা আলোড়ন উপস্থিত হয়। তখন এদেশে কতকগুলি সাধুসস্তের আবির্ভাব হয়। এই সাধুসন্তগুলির নাম রামানন্দ, নানক, কবীর, দাছু ইত্যাদি। ইহারা ইস্লাম হিন্দুত্বেরে মধ্যে একটা সন্ধি স্থাপন করেন। ইহারা একেশ্বরবাদপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তিবাদও প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ভক্তিবাদ, প্রধানতঃ এক ভগবানে শাস্ত বা দাস্ত ভাবের ভক্তি-__-অর্থাৎ দা যেমন প্রভূকে সেবার মধ্য দিষা ভক্তি করে, অক্ষম শাক্তহীন জীব সর্ধবশক্তিমানকে যে ভাবে ভজনা করিতে পারে, ইহা সেই প্রকারের ভক্তি-সাধনা। সমগ্র আধ্যাবর্তে এই সকল মহাপুরুষের গ্রভাব সঞ্চারিত হয়। ইহার| জাতিভেদ মানিতেন ন|। সকল মান্ষই ভগবানের কাছে সমান, মাহ্ষকে দ্বণা করা মহাপাপ, শুফ আচার অহ্ুষ্টানে কোন লাভ নাই, তাহাতে কেবল মানুষে মাহ্বষে ভেদের ট্রি হয়, মানুষকে কিংবা মুণ্তিপ্রতিমাকে পুজা করিয়। কোন লাভ নাই। ইহাদের ধর্মমতে এই সকল সত্যের স্থান হইয়াছিল। কষ্ণদান কবিরাজ মাধবেন্ত্র পুরীকেই নিষ্কাম প্রেমধ্দের প্রথম অঙ্কুর বলিয়াছিলেন। বৃন্দাবনদাস বলিয়াছেন 'ভক্তিরসে আদি মাধযেন্ত সথতজধার। ইনি বাৎসল্যভাবের সাধনা প্রবর্তিত করেন। ইহারই

প্রান বঙ্গ-সাহিত্য

শিশ্যাসেবকগণ গোপালমন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন। অদ্বৈতাচার্ধ্য, ঈশ্বরপুরী, মাধব মিশ্র, পুগুরীক বিদ্যানিধি, পরমানন্দ, গঙ্গাধর, শ্রীবান ইত্যাদি শ্রীচৈতন্যের অগ্রদূতগণ মাধবেন্দ্র পুরীর প্রভাবেই এদেশে বৈষ্বভাবে সাধনভজন করিতেন। মুরারি গ্রপ্ত পরম বৈষ্ণব ছিলেন, রামানন্দী সম্প্রদায়ের ভক্ত না হইলেও, রামকেই পৃর্ণব্রক্গ বলিয়া ইনি উপাপনা করিতেন। যবন হরিদাস গ্রেমভক্তির, পরম সাধক ছিলেন। মোটকথা, বঙ্গদেশে শ্রচৈতন্যের ,প্রেমধার্দের বীজবপনের ক্ষেত্র প্রস্ততই ছিল।

শ্রীচৈতন্ের আবির্ভাবের পূর্বে নবদ্বীপে জ্ঞানমার্গের অন্ুবর্জী লোকও অনেক ছিলেন। নবদ্বীপ ছিল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রস্থল এখানে বেদাস্ত, যোগ, সাংখ্য ইত্যাদি দর্শনশাস্তর শ্রীমদ্‌ভাগবত পাঠিত পঠিত হইত অনেকে মায়াধাদী বৈদাস্তিক ছিলেন। সংসার অসার জানিয়া কেহ কেহ সংসার ত্যাগ করিয়া সন্যাসীও হইতেন।

শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাবের পূর্বে বঙ্গদেশে নানা লৌকিক ধর্মমতও চলিতেছিল। একশ্রেণীর লোকেরা লৌকিক, পৌরাণিক বৌদ্ধ দেব-দেবীদের পুজা করিত খুব ঘটা করিয়া। এই পূজা ছিল ককটা ভীতিমূলক-__-মনসা, শীতলা, চণ্ডী ইত্যাদি দেবীর এবং অন্যান্য বহু দেব-দেবীর পৃজা। আর একশ্রেণীর লোক অধঃপতিত বৌদ্ধধর্মের অন্থুনরণ করিত। ইহার! ধর্ম্মরূপী বুদ্ধদেবের পূজা! করিত, বৌদ্বতান্ত্রিক মতে নান প্রকার গ্রহ সাধন করিত, বৌদ্ধ যোগসিদ্ধ পুরুষদের গুরু বলিয়! মানিত। হা হইতে গুরু-পৃজাও দেশে প্রচলিত হইয়াছিল

আর এক শ্রেণীর লোক হিন্দু সেনরাজদের প্রবর্তিত নব বৈদ্দিক ধর্দেরই অনুরণ করিত এই ধন্ম ব্রাঙ্মণ্য-প্রধান। ম্মার্ত পথের বর্ণীশ্রমী

গ্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

্রাঙ্মণগণ টবদিক আচার 'অঙ্ুষ্ঠান পালন করিতেন--নিয়শ্রেণীর লোকেরা! দূরে দূরে থাকিয়। তাহাদের প্রতি ভক্তি নিবেদনকেই ধর্ম মনে করিত এবং তাহাদের আচ।র অনুষ্ঠানের সহায়ত। করিত।

শ্রচৈতন্টের পূর্বেও এদেশে বৈষ্ণবসাহিত্য রচিত হইয়াছিল। শ্রীচৈতন্তের আবির্ভাবের পূর্ববে কবি জয়দেব জন্মিয়াছিলেন। ইনি পুরীধামে বিবিধ সম্প্রদায়ের বৈষ্কবতার সংসর্গে আসেন। মিথিঙ্গার . রাজ। শিবমিংহের সভাকবি বিদ্যাপতি রাধারুষ্ণের রন্দাবন-লীলা অধলগ্গনে পদাবপী রচনা করেন। এই পদাবলী মিথিল। অপেক্ষা বঙ্গদেশেই অধিকতর সমাদর লাভ করিয়াছিল। বঙ্গদেশেও ডু চণ্ডীদাস ভাগবত গীতগোবিন্দের অগ্ুসরণে কাব্য রচনা করেন। দ্িজচণ্ীীদাসের বহুপদ রাগানুগ! ভক্তিমূলক | কিন্ত শ্রীচেতন্ের আবি- ভাবের পূর্বের এইগুলি সাহিত্া-রসপ্রধান বণিয়াই গণ্য হইত বগিয় মনে হয়। গ্রীচৈতন্যদ্বেই এই সাহিত্যে প্রেমতক্তিমূলক অভিনব ব্যাখ্যা "যোগ করেন।

প্রীচৈতন্ত ভাবাবেগমূলক প্রেমধর্শ প্রচার করিতে আরম্ভ করিলে সর্ধশ্রেণীর ধন্মপিপাস্থু ব্যক্তিগণ তাত] সাগ্রহে গ্রহণ করেন। বান্থদেব সার্বভৌম, ্বপদামোদরের মত দিগগজ বৈদান্তিক, নিত্যানন্দ, গ্রকাশানন্দের মত তত্ববাদী এন্যাপী, রূপসনাতন্র মত মুসলমানস*সর্গে আচাবভ্রষ্ট লক্ষমীলরস্বতীর বরপুত্রগণ, পুগুরীক দাস- রঘুনাথের ন্যায় বিলাসী ধনিগণ, হরিদাসের মত মুসলমান দরবেশ এইরূপ অনেকেই তাহার ধ্মমত গ্রহণ করিয়া তাহার অনুগামী হ'ন।

শ্িচৈতন্ প্রচার করিলেন--কলিযুগে হবরিনামই পরিণামের গতি, হরিনামই মহাযজ্ঞ, অন্য কোন যাগযজ্জের প্রয়োজন নাই “সর্ব মন্ত্রার নাম এই শাস্মর্খ | এছিক ইষ্টসাধনের জন্য দেবদেবীর উপাসনা

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

ধর্ম নয়, ভয়ে ভক্তিও ভক্তি নয়। শরীরের প্রতি নিষ্ধাম প্রেমই ধর্ম | এহিক কোন ইষ্ট নঘ়ই__পারমাথিক ইষ্ট, এমন কি মুক্তি- মোক্ষও প্রার্থনীয় নয়।

শ্রীরষ্ধের প্রীতির জন্য তপ, দান, ব্রত ইত্যাদি কোনটাই প্রয়োজনীয় নম়ু। কেবল চাই প্রেম, _"পুরুষার্থ শিরোমণি প্রেম মহাধন ।”

দাঁনং তপোনেজা শৌচং ব্রতানি চ। প্রীণনায় মুকুন্দস্য বিত্তং বহুজ্ঞতা

নবনাবীর মধ্যে ষে গভীর নিষ্কাম প্রেম এই প্রেম তাহারই ভাগবত রূপ, অর্থাৎ রাধারুষ্জের প্রণয়রসের আস্বাদন 'কঞ্চবিষয়ক প্রেমা পরম পুরুষার্থ' নামকীর্তনের মধ্য দ্রিয়াও এই প্রেমকে আসম্বাদ করা যাঁয়।

শ্ীচেতন্তের মতে উপাশ্য নিরাকার নিবিশেষ ব্রদ্ধ নহেন-তিনি ষ়ৈশ্বর্যাময় ভগবান ষড়েশ্বর্ধ্যপূর্ণানন্দ বিগ্রহ তিনি। ধাহা হইতে জীবলোকের উৎপত্তি, ধাহার দ্বারা তাহা জীবিত এবং ধাহাতে তাহা লয় প্রাপ্ত হয়_-( যতো বা ইমানি ভূতানি জারস্তে, ধেন জাতানি জীবপ্তি ধং প্রায়স্ত্যভিনংবিশস্তি) এই শ্রুতিবাক্া মানিলে তিনি নিবিশেষ কিরপে? সচ্চিদানন্দের চিদংশে সংবিৎ, সদংশে সন্ধিনী, আনন্দাংশে ভলাদিনী--এই তিন শক্তি বর্তমান। ষড়েশ্বধ্য এই চিচ্ছক্তির বিঙ্গাস। অতএব তিনি নিবিশেষ নহেন।

তিনি মায়াধীশ রূপে ব্রক্ষ, কিন্ত মায়াবশ রূপে জীব। ব্রচ্ম জীব মূলতঃ এক হইলেও ব্রঙ্গে জীবে ভেদ রহিয়াছে অতএব যাহাকে অচিস্তাভেদাভেদবাদদ বলে ্রীচৈতন্ত €েই মতেরই অন্থবর্তা ছিলেন

যে নৈদান্তিক ভগবানের সচ্চিদানন্দবিগ্রহ মানে না--ভাহাতে

৬. গ্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

আর শৃন্যবাদী বৌদ্ধে তফাৎ নাই শ্রীচৈতন্য শঙ্করকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলিতেন। * |

নিখিশেষের প্রতি ভক্তি সম্ভবে ন!--তিনি সচ্চিদানন্দবিগ্রহ বলিয়াই ভক্ভিক দ্বারা তাহার উপাসন! সম্ভব তাহাতে ভক্তিই পরমপুরুযার্থ বেদে যিনি ইন্ত্াদি দেবতা, উপনিষদে ব্রন্ষ, সাংখো পুরুষ, যোগশাস্সে পরমাত্মা, শ্লীচৈতন্তের ভক্কিশাস্ত্ে তিনি ড়েশ্বধ্যশালী সচ্চিদাণন্দ বিগ্রহ ভগবান্‌। তিনি নিধিশেষ হইয়াও জীবের উদ্ধারের জন্য সবিশেষ, তিনিই ভক্তির দ্বার! উপাশ্য তিনি অন্ত যাহাই হউন, জীবের পক্ষে তিনি সবিশেষ ভগবান্। তন্ববিষ্ঠেষণ করিতে করিতে তাহাকে নিবিশেষ ব্রহ্ম এমন কি শুন্যে পরিণত করা যায়, কিন্ত তাহা বুদ্ধির অধ্যবসার মাত্র, তাহাতে জীবের কল্যাণ নাই। ইহাকে পণ্ডিতের] বলেন, জ্ঞানযার্গ, এই জ্ঞানমার্গের সাধনাতেও মুক্কি মিপিতে পারে। কিন্তু তাহার চেয়ে ঢের বড যে ভক্তির অলৌকিক রসাম্বাদ, তাহা

ক্ষ সার্বভৌমের সহিত বিচারে শ্রীচৈতন্ত নিজের দশনিক তত্ব উদ্ঘাটন করিয়াছেন।

সৎ-ট২ আনন্দময় ঈশ্বর স্বরূপ তিন অংশে চিচ্ছ্ড হয় তিনরূপ॥

আনন্দাংশে হল।দিনী সদংশে সদ্ধিনী। চিদংশে সংবিৎ যারে জ্ঞান করি মানি॥

ষড় বিধ এশখফ্য প্রভুর চিচ্ছক্কি-বিলান। হেন শক্তি নাহি মান পরম সাহস

“স ঈশো! যন্ঘশে মায়! জীবে যন্তয়প্দিত” এই শ্রুতিবাক্যে গ্রতিপা দিত হইয়াছে-_ বাহার বশে মায়! তিনি ঈশ্বর, আর মায়ার বশই দীব। গীতাশাস্ত্রে গীবরূপ শক্তি করি মানে। হেন জীব অভেদ কর ঈখরের সনে ঈশ্বরের বিগ্রহ নচ্চিদানন্দাকীর সে খিগ্রহ কহ সন্বগুণের বিকার

প্ীবিগ্রহ যে মানে ন| মেইত নাস্তিক বৌদ্ধরা! বেদ মানে ন1 বলিয়! নাস্তিক আর তুমি বেদা শরয়ী হইয়াও নাস্তিক তোমার বিবর্তবাদ কল্পন। মাত্র :

মণি যৈছে অবিকৃতে ওসবে হেনভার। জগক্রপ হয় ঈশ্বর তথু অবিকার

জগ্ধৎ মিথ্য। নয়, নগ্বর মাত্র। লীবদেহে পরমাত্ববুদ্ধি মিথ্যা

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

পথে নাই। তুক্তিম্পৃহা' থাকিলেও যেমন-_সুক্তিষ্পৃহা থাকিলেও তেমনি উহা! পাওয়। যায় ন।

কবিরাজ গোস্বামী বিষয়ে একটি উপমা দিয়াছেন---কোন সর্বাজ আসিয়া কোন দরিজ্রকে যদি বলেন, “তোমার পিতা গ্রচুর ধন মাটিতে পুতিয়া রাখিয়া গিয়াছে --খুঁজিয়া দেখ তাহা হইলে দপ্িদ্রের কোন লাভ হয় না, সে সার] জীবন মাটি খুঁড়িদ্ধাই যরে। কিন্তু তিনি যদি কোথায় সে ধন আছে তাহ। বলিয়া দেন, তাহা হইলে দরিদ্র সেই পিত্বৃ- ধন পাইতে পারে জ্ঞানমার্গের সাঁধকরা! ভগবানের স্বরূপ অস্তিত্ সম্বন্ধে জ্ঞানই দিতে পারেন, কিন্তু কেমন করিয়া তাহাকে পাওয়া যাইবে তাহার নির্দেশ দিতে পারেন না। ধন্মপিপাঙ্গ নানা পথে ঘুরিয়া মরে ভক্তিপথের মাধকই বলিতে পারেন--ইহাই একযাজ্ম পথ যে পথে তাহাকে পাওয়া যাইবে--নান্তঃ পন্থা বিদ্তে অমনায়। ভক্কিপথে মুক্তি প্রার্থনীয় নয়। মুক্তির জন্য যে ভক্তি তাহাও সকাম ভক্তি। নিষ্কাম ভক্তিতে কি তবে মুক্তি হয় না? মুক্তি আপনা হইতেই আলে।

“প্রেমে কুষ্কান্বাদ হৈলে ভবনাশ পায়।”

বাঙ্গালী পরধর্থের প্রতি অসহিষ্ণু ছিল। উচ্চখেণীর হিন্দুর নিল শ্রেণীর লোকদের স্বণা করিত, তাহাদের ধর্মে অধিকার স্বীকার করিত না। শ্রীচৈতন্ত ষে উদার ধর্ম প্রচার করিলেন--তাহাতে জান্যা- ভিমানের স্থান থাফিল না। আচগ্ডাল সকলেরই এই ধর্শে 'সধিকার জন্মিল। অভিমান অসহিষ্ণতাই মহাপাপ--সেক্জগ্ত তিনি 'তরোবিব সহিষ্ণ' 'তৃণাদপি সুনীচ' হইতে বলিয়াছেন, অমানীকেও মান দিতে ধলিয়াছেন। বৌদ্ধ জৈনদের অহিংসার বাণীও এই ধর্পের অঙ্গীভৃত হইয়াছে তাই নামে রুচির সঙ্গে জীবে দয়ারও যোগ হইঘ়াছে।

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

শ্রীচৈতন্তদেব শিক্ষা (দিলেন-_ “অন্ত দেব, অন্য শান্স নিন্দা না করিবে ।” এই উদ্দার ধর্শমতে পরধর্খের প্রতি অনহিষুততার স্থান নাই !

বৈষ্ণব সাহিতো উল্লিখিত হইয়াছে_-কোথাও শ্রীচৈতন্য তর্কের হবার! দিগগজ পণ্ডিতদের পরান্ত করিয়া স্বধর্ে আনয়ন করিতেছেন কোথাও তিনি ধা-বিভূতি দেখাইয়া অবিশ্বাসী বৈদাস্তিক বা! বিরুদ্ধ- বাদীদের পদানত করিতেছেন প্রকৃত পক্ষে তীহার ভাবাবেশময় জীবনে প্রেমভক্তির অপূর্ব প্রকাশ দেখিঘ়াই সকলে তাহার চরণে আশ্রয় লইয়াছিলেন বলিয়া মনে হয়। গোপীনাথ আচাধ্য সার্বভৌমকে এই কথাই বলিয়াছেন-_ ইহার শরীরে সব ঈশ্বর-লক্ষণ। মহাপ্রেমাবেশ তুমি পাও তার দর্শন তবুও ঈশ্বরজ্ঞান হয় না তোমার | ঈশ্বরের মায়ায় করে এই ব্যবহার

শ্কষ্ণের ভাবে অহনুক্ষণ আবিষ্ট থাকার ফলে তাহার মনে হইত, তিনি নিজেই ভ্ীক্ঃ। “অন্ুখণ মাধব মাধব সোঙরিতে” নিমাই নিজেই ভাবাবেশে মাধাই হইয়া যাইতেন। এঁতিহাসিকদের মতি সম্ভবতঃ ইহা হইতেই সকলে তাহাকে শ্রীকষধের অবতার বলিয়া মনে করিতেন। শ্রীচৈতন্যও ভাবাবিষ্ট অবস্থায় নিজেকে শ্রীকৃষ্ণ বলিয়া প্রচার করিতেন--আবার 'বাহ্ৃজ্ঞান, লাভ করিয়' নিজেকে কেবল ভক্ত বলিয়াই জানিতেন জানাইতেন। তখন কেহ তাহাকে শ্রীরষ্ণ বলিয়া! পূজা! করিপে তিনি বিরক্ত হইতেন। তাহা ছাড়া, এদেশে অসামান্ত ভক্ত হইলেই তাহাকে ভগবানের অবতার বলিয়া মনে করার একটা 'প্রবণতাও ছিল! নিত্যানন্দ অনস্তদের বলভত্রের এবং অদ্বৈত মহাবিষণ মহাদেবেব অবতার বলিয়। গণ্য হইয়াছিলেন। গৌরাঙ্গের সঙ্গে নিত্যানন্দের মৃতিও পূজিত হয়। আজিও. অসামান্ত ভক্তদের ভগবান বলিয়] পূজা করার পদ্ধতি.

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

চলে। যুগে শ্রীরামক্ধকেও ভগবানের অবত্তার মনে করা ইয়। শ্রীচৈতশ্দেবকে ভগবানের অবতার বলিয়! মনে করিম ভক্তিসাধক ধর্পপান্ধদের অনেকেই তাঁহার ভক্ত হইলেন-কিস্ক অনেকে আবার বিরোধিতা করিতেও লাগিল। বর্গদেশ তখন মুসলমানের অধিকারে তাহার প্রতি সথলতান হোসেন শা'র ভক্তি ছিল, তবু মুসলমানের অধিকৃত দেশে এই প্রেমপন্ধ গ্রচারের পদে পদে বাধা ঘটিতে পারে,_এই আশঙ্কায় হয়ত তিনি বঙ্গদেশ ত্যাগ করিয়! পুরীধামে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন। উড়িয্যা তখনও স্বাধীন হিন্দুরাজ্য। তাহ] ছাড়া, রাজা রাজপুরুষগণ ধর্মগ্রহণ করিলে সহজে দেশের মধ্যে ধর্ম প্রচারিত হইবে। পুরী তখন সর্বশ্রেষ্ঠ বৈঞ্চবতীর্থ-_- জগম্নাথদেবের মন্দির সেখানে, সর্ধশ্রেণীর বৈষ্বর্দের মঠ আশ্রম সেখানে বর্তমান ছিল। পুরীতে থাকিলে বৈষ্বতার জন্ম-ভূমি দক্ষিণাপথের নাধুসন্তগণের সঙ্গে সংষে।গ ঘটিবে। এসব কথা তাহার মনে থাকিতে পারে

বঙ্গদেশে ধর্ম প্রচারের ভার তিনি তাহার শিষ্যসেবক পার্ধদগণের উপরই ন্যন্ত করিয়াছিলেন অদৈত বঙ্গদেশেই ছিলেন, পুরী হইতে মহাপ্রভু নিত্যানন্দকে বজদেশে পাঠাইয়া দেন এই উদ্দেশ্টে। নিত্যানন্দ সন্ন্যাসী ছিলেন-_ প্রভুর আজ্ঞায় তিনি গাহ্‌স্থ্যাশ্রমে ফিরিয়া! প্রৌঢবয়সে সংসাবী হ'ন। গৃহস্থগণের মধ্যে ধর্মপ্রচারের জন্য ধর্ম গুরুকে গৃহস্থ হওয়ার প্রয়োজন- এই ঘত্য তিনি বোধহয় পরে উপলব্ধি করিয়াছিলেন

পুরীতে অবস্থানকালে পুরীর রাজমন্ত্রী দক্ষিণাপথের বিগ্ানগরবাণী রায় রামানন্দের সঙ্গে তাহার মৈত্রী হয়। এই মৈত্রীর ফলে মঙ্থাপ্রভৃব ধন্মজীবনে একট! পরিবর্তন ঘটে। নবদ্বীপ-লীল্লায় তিনি শ্রীকের ভাবে আবিষ্ট হইতেন-- রামানন্দের সহিত সাক্ষাতের ফলে এবং

১৩ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

দক্ষিণাপথের রাগাহুগ ভক্কিমার্গের সহিত পরিচয়ের ফলে তিনি রাধা ভাবে আবিষ্ট হইলেন। ভক্তগণ তাহার জীবনে শ্রীরুঞ্চ রাধা উভয়ভাবের সমাবেশ আবেশ দেখিয়া তাহাকে রাধা কষ্জের মিলিত লীলাবতার বলিয়া আখ্য। দিয়াছেন।

শ্রীচৈতন্তদেব পুরী হইতে দক্ষিণাপথ-ভ্রমণে যাত্রা করেন। ইহা ঠিক ধন্মপ্রচারের জন্য নয়--দক্ষিণাপখের বৈষ্ণবশ্রক্তগণের বিশেষতঃ আলোয়ার সাধকগণের সহিত ভাবের আঘানপ্রপানের জন্যই প্রধানতঃ তাহার এই পরিক্রমা নৈষ্ণব গ্রন্থাদির সন্ধানও তাহার উদ্দেশ্টা ছিল। রামানন্দের সহিত সাক্ষাতে তিনি যে রসের আম্বাদ পাইয়াছিলেন-_ তাহারই পূর্ণাম্বাদ লাভ করাও হয়ত তাহার উদ্দেশ্য ছিল।

পুরীর রাঙ্গা প্রতাপরুদ্রদেব মহাপ্রভুর ভক্তয়েবক হইলেন। মন্ত্রী রায় রামানন্দ তাহার পরম ভক্ত ছিলেনই সমগ্র উড়িস্ায় গৌড়ীয় ধন্ম প্রচারের গ্দে এই যোগাযোগেরও সম্পর্ক আছে।

সন্ত্রাট, সেকেন্দার লোদীর অত্যাচারে মথুবামগুলে তীর্থযাত্রা বন্ধ হইয়া গিয়াছিল--বৃন্দাবনও ধ্বংস প্রাপ্ত হইরাছ্িল। বৃন্দাবন শত্যই বন হ₹ইয়াই ছিল। এই বৃন্দাবনকে আবিষ্কার করিবার জন্য ম্হাপ্রত্ প্রথমে ভূগর্ত লোকনাথ স্বামীকে পরে রূপ মনাতনকে তীর্থ উদ্ধারের জন্ত প্রেরণ করেন। বূপসনাতন তাহার সহযোগী ভক্তগণ রন্দাবনকে আবার বৈষ্ণবতীর্থে পরিণত করেন বৃন্দাবন সমগ্র আধ্যা- বর্তে গৌড়ীয় বৈঞ্ণবধশ্মের কেন্দ্রস্থল হগ। উঠিল। বৃন্দাবনকে কেন্দ্র করিয়া উীঢচতন্তের প্রেমবর্ম সমগ্র আর্ধযাবর্তে প্রচারিত হইয়াছে। শচৈতগ্গ্েবের জীবৎকালে এবং তাহার তিরোঁধানের পর দলে দলে বাঙাপী বৈষ্কবসাধকগণ বৃন্দাবনে আশ্রয় গ্রহণ কবিয়াছিলেন। সাহাদের দ্বারাই বাক্ষালীর সংস্কতিও আর্ব্যাবর্ধে প্রচারিত হইয়াছে

প্রাচীন বজ-সাহিত্য ৩১

বঙ্গদেশে নিত্যানন্দই প্রধান প্রচারক | তাহারই প্রয়াসে বঙ্গের নিয়শেণীর উপেক্ষিত হিন্দুগণ বৈষ্ণবধর্শ গ্রহণ করিয়াছিল। উচ্চশ্রেণীর হিন্দুগণেরও অশ্িকাংশ এই ধন্শমত' গ্রহণ করিয়াছিল বৈধব গোম্বামিগণ এই ধর্মমন্ত্রে আজিও দীক্ষা্দান করেন আসামে শক্গরদেব মাধবদেব নামে ছুই বৈষ্ণব ধর্মগুরু বৈষ্ণবধন্ম প্রচার করিয়াছিলেন আসামের মণিপুরে কিন্ত গৌড়ীয় বৈষ্ণবধশ্ম গ্রচলিত। বাকি অংশে যে বৈষ্বধন্ম চলিতেছে তাহাও গৌড়ীয় বৈষ্বধর্দের দ্বারা প্রভাবান্বিত।

শ্রীচৈতন্তের অপূর্ব্ব ভাবাবেগময় জীবন, তাহার সাধন! বাণী বাংল। সাহিত্যকে অপূর্ব রূপ দান করিয়াছে পরাধীন দেশের কথাই নাই, কোন স্বাধীন দেশে কোন ধর্মগুরু, কোন জাতির অনৃষ্ট- বিধাত| দিগ বিজয়ী বীর ব1 সাম্রাঙ্য-প্রতিষ্ঠাতা বাংলার এই দরিঝ্ ব্রাহ্মণ সস্তানের মত নাহিত্য সৃষ্টির এমন উজ্জিতা প্রেরণা দান করিতে পারেন নাই। প্রাটীন বঙ্গ-সাহিন্্য বলিতে প্রধানতঃ বৈষ্ঞব-সাহিত্যকেই বুঝায়। পৃথিবীর যেমন তিনভাগ জল, প্রাচীন বজ-সাহিত্যের তিনভাগ তেমনি রাধা এবং 'রাধাভাব-ছ্যতি-শবলিত' গৌরাঙ্গস্ন্দরের প্রেমাশ্রু- জল ইহার ছুইটি ধার একটি ধারায় শ্রীচৈতন্ত তাহার সহচর অনুবর্তীদের জীবন সাধনার কথা বাণীরূপ লাভ করিয়াছে অন্ত ধারার নাম 'পদাবলীসাহিত্য*'। এই পদাবলী সাহিত্যের দুইটি শাখা। একটি শাখা গৌরাঁজদেবের জীবনের লীলামাধুধ্য অবলম্বন করিয়া রচিত-_ অর একটি শাখা চৈতন্ত-গ্রবন্তিত রসাদর্শে বৃন্দাবনলীলা অবলম্বনে রচিত। শ্ীচৈতগ্ঠের প্রভাবে আবিষ্ট কবিগণের মধ্যে-গোবিন্দদাস, জ্ঞানদ।স, বলরাম দান, নরহরি, নরোত্তম,। তোচনদাস, বাহুদেব ঘোষ, কুষ্দাস কবিরাজ, বৃন্দাবনদাস, ঘনশ্যাম, জগদানন্দ, উদ্ধব দ্রাল, যছ্ুনন্দন, রার়শেখর, কবিরঞ্ন ইত্যাদির নাম বিশেষভাবে

১২ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

উল্লেখযোগ্য টচৈতন্তের প্রেমধর্শ বঙ্গসাহিত্যে যে রসের বন্তা আনিয়াছিল তত্তব উর্বরতা আজি নষ্ট হয় নাই।

প্রীচেতন্থের প্রভাবে এদেশে ত্রান্মণ্য প্রভাব মন্দীভূত হয়। সমাজে কেবল ব্রান্ধণরাই শ্রদ্ধেয় থাকিলেন ন।, ব্রাহ্মণেতর টৈষ্বরাও শ্রদ্ধেয় হইলেন। এমন কি ব্রাহ্মণের সঙ্গে বৌদ্ধযুগের শ্রমণভিক্ষুদের মত বৈষ্বদের সেবাও গৃহীর ধর বলিয়া গণা হইল। হরিভকিপবায়ণ শৃ্রদের ব্রাহ্মণরাঁও ভক্তি করিতে লাগিলেন

ত্রাহ্গণেতর জাতির ভক্তবৈষ্ণবরাঁও গুরুর মর্যাদা লাভ করিয়াছিলেন --উচ্চবর্ণের লোকের! তাহাদের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করিতেন। দেশে জাত্যভিমানের তীব্রতা অনেকটা হাস পাইল অস্পৃশ্য বলিয়া নিয়- শ্রেণীর লোকে আব পূর্বের মত দ্বণিত হইত না। দেশে সঙ্গীতের ছার| উপাসন। প্রবর্তিত হইল। তাহাতে সঙ্গীতকলার৪ চরম উৎকর্ষ সাধিত ভূঈল। নামসংকীর্রুন পদীবলী-কীর্ঘন ধর্মের একটি বিশিষ্ট অঙ্গ বলিয়া গণ্য হইল। হিন্দুর বহু জানে বিশেষতঃ অস্ত, শ্রান্ধ ইত্যাদি ব্যাপারে নামকীতর্ন অপরিহাধা অঙ্গ হয়া উঠিল। বৎসরের নানা তিথিতে নানা উপলক্ষে বঙ্গদেশে গ্রামে গ্রামে নগর- সংকীন্তন প্রবস্তিত হইল-_-আজিও সে প্রথা চলিতেছে আপামর সাধারণ দকলেরই ষে এই ধর্শে সমান অধিক'র--নগর-সংকীপ্তনের দ্বার! তাহা' প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে আজিও ত্রাঙ্গণ হইতে চগ্ডাল পর্যন্ত সকলেই এই নগবকীর্তনে যোগ দিয়া এককণে প্রীহরির নাম-কীর্ভন করিয়া থাকে _-জাতিভেদের কথা এই সমবেত উপাসনায় সকলে ভুলিয়া ঘায়--কীর্তন গামকদের চরসপাতে পবিত্র পথের ধুলি ব্রাঙ্গবাদি সকল জাতির লোক .ভক্তিভরে মাথায় তুলিয়। লয়। গৃহে গৃহে তুলসীমঞ্চ বৈষ্ুবতার চিহ্ন বহন করিতেছে রাগ,

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিতা - | ১৩

দোল, ঝুলন, রথধাত্র। ইত্যাদি উতনবের ঘট] শ্রীচৈতন্তের পর বাড়িয়া গিয়াছে দাস্ত-বাহসল্যময়ী দেবসেবার সঙ্গে অতিথিসেবা, অল্পকূট, অনাথ আতুরদের অন্পদান ইত্যাদি সদনুষ্ঠান সংযুক্ত হইয়াছে

নিত্যানন্দ প্রভু ষে অভিনব বৈষ্ণবসমাজ গঠন করেন--তাহাঁতে জাতিভেদ ছিল না--নকল জাতির লোকই সে সমাঙ্জে প্রবেশ করিতে পারত ফলে, বৈষ্কবজাতি বলিয়া একটি স্বতন্ত্র জাতিরই সৃষ্টি হইয়াছে | এই জাতির বৃত্তি, গৃহে গৃহে হরিনাম শুনাইয়া ভিক্ষা নিত্যানন্দ ষে স্বজাতির সমধয়ে বাঙ্গালী জাতিকে এক জাতিতে পরিণত করিতে চাহিয়াছিলেন--তীাহার নে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় নাই।

কালক্রমে বৈষ্বসমাজের অধঃপতন হইল। গোস্বামী গুরুগণ অভিনব আভিঙ্জাত্যের স্থপতি করিলেন। যেখানে ত্রাঙ্ষণত্বের সঙ্গে গোস্বামিত্বের সংযোগ হইল--সেখানে আভিজাত্যের অহ্মিক। ছ্বিগুণিত হইল। ইহা অর্থ ভোগ্যবস্তর আহরণের অভিনব পন্থায় পধ্যবমিত হইল। বৈজ্ধগুরুগণ ভেগবিলাসী হইয়া পড়িলেন। বৈষবের আখড়াগুলি নৈতিক অধংপতনের আস্তানা হইয়া উঠিল। টবঞ্ণব- তীর্থগুলিতেও নানাবিধ পাপ প্রবেশ করিল। হরিমংকীর্ভন, শ্রীমদ্‌- ভাগবতের ব্যাখ্যা, রাধার চৈতগ্তদ্দেবের বিগ্রহপ্রতিষ্ঠা বৈষ্ণবমন্ত্ে দীক্ষা দান ইত্যাদি অভিনব ব্যবসায়ের মূলধন হইয়া উঠিল। বনু লোকই গুরুগিরির নামে এবং দেবালয়কে আশ্রয় করিয়া অকর্মণ্য জীবন যাপন করিতে লাগিল। ফলে বৈষ্ণবতা অধংপতিত হইয়া দেশের কশ্বো্যম শ্রমশক্তি, পৌরুষ, তেজস্থিতা ম্বাবলম্বন-প্রবৃত্তিকে বুল পরিমাণে মন্দীভূত ক্ষীণ করিয়া ফেলিয়াছে।

বেশিদিন পরে নয়, জয়ানন্দের চৈতন্য মন্ষলেই অধঃপতনের সুত্র পাতের আভাস ইঙ্গিত দেওয়। আছে।

দাক্ষিণাত্য বৈষবধর্্ম গৌড়ীয় বৈষ্বধর্্ম

ভক্তিমার্গীয় মাধনার লীলাতৃমি দর্ষিণাপথে আরধ্যাবর্তের আর্ধ্াগণ জানমার্গ কর্মমার্গেরই পক্ষপাতী ছিলেন। বৈদিক ধশ্মের প্রভাবে আর্ধ্যাবর্তে স্মার্তধন্মেরই প্রাধান্য ঘটিয়াছিল। কর্মকাণ্ড প্রবল হইয়া ক্রমে জ্ঞানকাগুকেও গ্রাস করিয়াছিল। আধ্যাবর্তের ধন্ম ক্রমে ষাগ- ষজ্ঞ, বৈদিক অনুষ্ঠান বহু দেবদেবীর শান্ত্রসম্মত উপাপনায় পর্যবসিত হইয়াছিল বলিয়! মনে হয়। বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাবে বৈদ্দিক কর্মকাণ্ড নিশ্রভ হইয়াছিল বটে, কিন্তু নূতন কর্মকাণ্ডের আবির্ভাব হইয়াছিল। দশশীলসম্মত নৈতিক স্দাচরণই বৌদ্ধমতের ধর্মসাধনা বলিয়৷ গণ্য হইয়াছিল। বৌদ্ধধন্মের অধঃপতনে নানাগ্রকার অস্ত্রের সষ্টি হইয়াছিল। কঠোর সাধন! নানাপ্রকার আত্মনিগ্রহের দ্বারা অলৌকিক শক্তি লাভ করিবার জন্য যে মকল যোগীরা প্রাণপণে চেষ্টা করিতেন এবং তন্জারা সিদ্ধি লাভও করিতেন-তাহারাই সাধারণ লোকের উপান্য গুরু হইয়।৷ উঠিয়াছিলেন। তিব্বতীয় বৌদ্ধমতের প্রভাবে একপ্রকার তান্ত্রিক সহজিয়! সাধক সম্প্রদায়েরও উদ্ভব হইরাছিল।

ইহারা সামাজিক, পারিবারিক ধর্শাজীবনের ' সর্বপ্রকার সংস্কার ইইতে মুক্তি লাভকেই নির্বাণলাভের উপায় সইজ আনন্দ উপভোগকে মুক্তিজনিত মহানুখবাদে পূর্বাভাস বলিয়া ঘোষণা করিতেন। প্রাচীন

* এই প্রবন্ধ রচনায় মন্‌ মধহুদন তন্ববাচস্পতি সংকলিত গৌড়ীয় বৈফব ইতিহাস হইতে নে কিছু কিছু সহায়তা গাইযাছি। ভজ্জস্ত খণ স্বীকার করিতেছি-_লেখক |

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য - 5৫

বঙ্গ সাহিত্য এবং অর্ধাচীন সংস্কৃত সাহিতা ইহাদের দ্বারা প্রভাবিত হইয়াছিল। |

দক্ষিণাপথে জ্ঞানমার্গের যে প্রাধান্য হয় নাই তাহা নহে--ন্বয়ং শঙ্করাচাধ্যইত দক্ষিণাপথে জন্বিয়াছিলেন। বৈদিক: আচার অন্থুষ্ঠানও দক্ষিণাপথে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। আজিও সে দেশে ম্মার্ত শাক্ত, শৈব পঞ্চোপাসক লোকের অভাব নাই। তামিল নাইডু ত্রাহ্মণর] আজিও অক্ষরে অক্ষরে বৈদিক কশ্মকাগড অনুসরণ করেন। বৌদ্প্রভাব দক্ষিণাপথে পূর্ণরূপে আপতিত হয় নাই। দক্ষিণাপথে সকল প্রকার ধর্মসাধনাই অবাধ প্রসার লাভ করিয়াছিল। কিন্তু সমস্ত সাধনাকে ছাড়াইয়া মাথ! তুলিয়া উঠিয়াছে ভক্তিধর্ম | ষে শ্রীমদ্ভাগবত- গ্রন্থ ভক্তিধর্মের বেদ-_তাহা দক্ষিণাপথেই রূচিত বলিয়া আধুনিক পণ্ডিতগণ অন্থমান করেন।

জ্ঞানমার্গ যেমন আধ্যদের নিজন্ব, ভক্তিমার্গ তেমনি ভ্রাবিড়জাতির নিজস্ব মৃখ্য পথ। কালক্রমে আর্ধ্যগণ দ্রাবিড়-ভক্তিধন্মের দ্বারা ভ্রাবিড়গণ আধ্যগণের জ্ঞানধর্মের দ্বার] অল্পবিস্তর প্রভাবিত হইয়াছেন

পূর্বেই বলিয়াছি, প্রাচীনকাল হইতে দ্রাবিড়জাতির মধ্যে আলোয়ার নামক একশ্রেণীর সাধক জন্মিয়াছিলেন। শ্রীমদ্ভাগবতে যে রাগান্ুগ বৈষধাবসাধকদের : উল্লেখ আছে-_তীহারাই, ইহার] ইহারা কেবল ভক্তিমার্গের সাধক-মাত্র' ছিলেন না, ইহার! ভক্তিরসকে মধুর বা উজ্জল রসে পরিণত ' করিয়া ভক্তিমার্গের চরম লক্ষ্য লাভ করিয়া গিয়াছেন। . শ্রীচৈতষ্দেব যে মধুর ভাবের সাধনা গৌড়বঙ্গে প্রচার করিয়াছেন-_ ইহারা অতি গ্রাটীনকালেই তাহা অধিগত করিয়াছিলেন। তামিল ভাষায় ইহাদের যে রসসাহিত্য আছে--তাহা পাঠে দেখা যায় ই'হার। অরক্গকে শ্রীকষ্ক

১৬. প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

জীবাত্মাকে নায়িকা রূপে কল্পনা করিয়! মধুররসের সাধনার পরাকাষ্ঠা দেখাইয়া গিয়ছেন। ইহাদের সাহিত্য তামিল-ভাষায় রচিত বলিম! আধ্যাবর্তে তাহার সন্ধান কেহ জানিতনা। ইহারা যে সময়ে 'আবিভূত হইয়াছিলেন, সে সময়ে দক্ষিণাপথে বৈদিক ম্মার্ভধর্মের বড়ই গ্রভাব--ত্রাঙ্ষণগণের মধ্যে অনেককেই শৈব। ইহারা শীচ দ্রাবিড় জাতিতে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন বলিয়া বোধহয় ক্রাঙ্ষণাসমাজ ইহাদের ধন গ্রহণ করেন নাই--কিন্ত অব্রাদ্ষণ্াসমাজ ই'হাদ্দিগকে অবতার বলিয়া মনে করিম্া ধর্মমত অনুসরণ করিয়াছিল

ব্রাঙ্মণ্যসমাজ এই রনসাঁধনাব ধর্ম গ্রহণ ন। করিনেও ত্রাহ্মণা- নমাজের উপর ইহাদের প্রভাব-সম্পাত হইরাছিল। বেদবেদাস্তের সহিত ভক্তিনাধন!র সামগ্রন্ত-সাধন দ্রাবিড়ী ত্রাঙ্ষণদের মধ্যে আরম্ত হইয়া গিয়াছিল। অদ্বৈতবাদের সহিত ভক্তিধর্শবের সামঞগ্রশ্ত-মিলনেই শ্রীমদ্ভাগবতের স্থট্টি। আলোয়ারদের তামিল ভাষায় রচিত রস- সাহিত্য সংস্কৃতে অনূদিত হইয়াছিল এবং সংস্কৃত আডিজ্াত্য লাভ করিয়। ব্রাধণ্য সমাজেও সমাদৃত হইয়াছিল

আলোগার সাধকগণের মধ্যে শঠকোপ ছিলেন অগ্রগণা | পঞ্চরাত্র অথবা! ভাগবত সম্প্রদায়ের শ্ীরগ্গাচাধ্য বা নাথমুনি নামে একজন সাধক খৃষ্টীয় নবম শান্দীর শেষভাগে ত্রিচিনপল্লীর নিকটে ধর্প্রচার করিতেন। ইনিই শঠকোপের ভক্দিবসাত্বক রচনায় বিমুগ্ধ হইয়া আলোয়ার সাদকদের সমস্ত রচন1 সংগৃহ করেন,--শঠকোপের বৈষব- দর্শন বা 'ভ্রাবিড়বেদকে আর্ালমাজে প্রচার করেন এবং ইহারিই চেষ্টাতেই আলোয়ারদের স্তোতরাবলী শ্রীবঙ্গমে শ্রীমুদ্তির সম্মুখে আবৃত্ত গীত হইতে থাকে এই নাথমুনির পুক্ত ঈশ্বর মুনি- ঈশ্বরমূনির পুত

প্রালীন বঙ্গ-সাহিত্য ১৭

যামুনাচার্ধ্য ইনি দক্ষিণাপথে বৈষ্ণবসিক্ধাস্ত প্রচার করেল। এই ধামুনাচার্য্ের শিক্ক শ্রাসম্প্রদায়ের প্রবর্তক রামানুজ।

এই যাষুনাচাধ্যই শঙ্করের মায়াবাদ খণ্ডন করিষ্জা ভগবানের চিদ্বিগ্রহত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। যাষুনাচাধ্য হইতেই বিশিষ্টাছৈতবাদের উতৎপত্তি। ইহার উপর আলোয়ার সাধকগণের প্রভাব যথেষ্টই ছিল। সেজন্ত ইনি কেবল বৈধী ভক্তি নয়__রাগানুগ! ভক্কিনও প্রচারক ছিলেন শ্রীচৈ তন্যদেবের ভক্তিধন্ের নহিত ইহার মিল ছিল বলিগ্াই কূপ গোস্বামী ভক্তিরসামুতপিন্ধুতে, জীবগোস্বামী ঘট্সন্দর্তে এবং কুযঃদাস কবিরাজ শ্রীচৈতগ্যচরিতামৃতে তাহার স্তোত্রাবলী হইতে স্ব স্ব রসধর্শের পোষকত!র জন্য শ্লোক উদ্ধৃত করিয়াছেন।

রামানুজ একাদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে মান্্াজের চেক্গপৎ জেলায় শৈবত্রাহ্ষণবংশে জন্মগ্রহণ করেন। রামান্জ শৈব ত্রাঙ্মণ্যসমাজে জন্মগ্রহণ করিয়া বৈদাস্তিক পণ্ডিত যাদবপ্রকাশের নিকট বেদাস্ত অধ্যয়ন করেন। কিস্ত তিনি মায়াবাদে আস্থা রাখিতে পারেন নাই। কেবল তিনি বৈষ্ঞব যামুনাচাধ্যের শিষ্প ছিলেন বলিয়া নয়--তাহার গুরুভাই কাক্ষীপূর্ণের পূর্ণ প্রভাবও তাহার উপর পড়িয়াছিল। এই কাঞ্ধীপূর্ণ হীন ভ্রাবিড়বংশে জন্মগ্রহণ করিয়া মে স্ময়ে বৈষ্ণবসন্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় হইয়া উঠিয়া" ছিলেন। ইহ! ছাড়া, শঠকোপের রচিত শঠারিস্থত্র তাহার ধর্দমমতের আমুল পরিবর্তন করিয়া দিয়াছিল।

শঙ্করের ব্রহ্ষকে রামান্থজ ভক্তের ভগবান করিয়া তৃলিলেন। তাহার প্রবন্তিত সপ্রদায়ের নাম শ্ত্রীসম্প্রদায়। তাহার রচিত বেদাস্তভাষোর নাম শ্প্রীভাস্ত। এই শ্রীভান্তে তিনি অপ্রাকৃত রূপগুণযুক্ত অদ্বৈত ঈশ্বরকেই সৃষ্টি, স্থিতি লয়ের নিদানম্বরূপ

১৮. , প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

স্বীকার করেন। তাহার দার্শনিক মতকে তাই বিশিষ্টাত্বৈতবাদদ বলে। বেদাস্তের সহিত ভক্তিধর্মের সমন্বয় করিয়া তিনি বিষুকেই পরমেশ্বর বলিয়া পূজা করিতেন। শ্রীভাঙ্বে িনি শঙ্করের মায়াবাদ, বৌ গ্রনধণ্মমতের খণ্ডন করিধাছেন। পঞ্চরাত্রসম্প্রদায়ের বৈষবগণ এই ধশ্মমত গ্রহণ করিলেন এবং অনেক শৈব বৌদ্ধ তাহার মতানুবত্তী হইলেন।

রামানূজসম্প্রদ!য়ের দুইটি শাখ।, একটি শাখা! আচারী-_খ্ৰার একটি বামানন্দী। মাচারী সম্প্রদায় বর্ণাশমী-স্মার্তমতের সহিত বৈষ্ণবমতের সমঞ্চয়ে এই সম্প্রধায়ের স্থষ্টি। আর একটি সম্প্রদায় তাহার গ্রশিষ্তের প্রশিত্য রামানন্দ স্বামীর দ্বার! প্রবন্তিত হইল। আচারীর। ল্মী-নারায়শের উপাপক--রামানন্দী সম্প্রদায় রামসীতার উপাসক।-- ইহারা রামকেই ভগবান বলিয়া পৃজা করিতেন, এবং জাতিভেদ মানিতেন না। এই স্প্রদায়ের ধন্দমতই সমগ্র আধ্যাবন্তে প্রচারিত হইয়াছিল। তাহার ফলে তুলসীদাসের ঝামায়ণ আর্ধ্যাবর্তে ধর্মগ্রন্থ ইইর! উঠিরাছে। রাণানন্দী সম্প্রদায় হইতে বিশিষ্টাদ্বেতমতের বহু উপসন্প্ররদায় আধ্যাবর্ত ছাইয়া ফেলিয়া ভক্তিধশ্মের প্রচার করিয়াছিল। কবীবরপস্থী, রুইদামীপন্থী, সেনপন্থী, খাকী, মলুকদাসী, দাুপন্থী, র[মসেনেদী ইত্যাদি শাখার নাম উল্লেখযোগ্য ইহাদের কোন কোনটিতে মুদলমান প্রভাব সম্পাতিত হওয়ায় বিষণ বা রামের বদলে সর্বশভ্িমান ঈশ্বরের স্থান হষ্টয়াছে। শ্রমম্প্রদায়ের আচারী শাখার লোকেরা বঙ্গদেশে দর্ম প্রচার করিয়াছিল, শ্রীচৈতন্যদেবের পূর্ব হইতেই বঙ্গদেশে সেজন্য বৈষ্ণব ধমণবলম্বী গৃহস্থ অনেক ছিল। বামানন্দী শাখার লোকের] বঙ্গদেশে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল বঙছিয়া মনে হয় ন]। বঙ্গদেশে যে জাতিভেদের শিথিলতা ঘটিয়াছিল তাহ যৌদ্ধ প্রভাবে

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য 0১৯

গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের ভক্তিসাধনার তুলনায় এবং আলোয়ার বৈধবদের একাস্তিকী রাগাসুগ! ভক্তিধর্শের তৃপনায় শ্রীসম্প্রদায়ের শাস্তদাশ্যভাবের ভক্তিধর্ম অনেক নিয়ন্তরের এই তক্তিধমের প্রসঙ্গ উঠিলে শ্রচৈতন্ত বলিয়াছেন--'এছে! বাহা আগে কহ আর।?

গৌড়ীয় বৈঝবমতের সঙ্গে বরং মাধব সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর। একাদশ শতাবীর শেষভাগে মধ্বাচার্্য মান্দ্রাজে পাপ-নাশিনী নদীর তীরে উদ্ভুপকুঞ্ণ নামক গ্রামে দ্রাবিড়-ব্রাক্ষণ-বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যে বৈষুব সম্প্রদায়ের প্রবর্তক-_তাহাকে মাধ্বসত্প্রর্দায় অথবা ব্রহ্ধনন্্রদায় বল! হয়। এই অন্প্রদায় দ্বৈতথাদী, এই মন্প্রদায়ের উপাস্য শ্রীকঞ্চ। মধ্বাচার্ধায জ্ঞান অপেক্ষা ভক্তিকে বড় করিয়াছেন-- শরীক রাধার সম্পর্ককে ব্রন্ম জীবের সম্পর্ক বলিয়াছেন, প্রীরাধাকে শ্ীকষ্ণেরই হলাদিনী শক্তি বপির1! অবণ্য তিনি স্বীকার করেন নাই। তাহা নবেও প্রীচৈতন্তদেবের প্রাথমিক ধমমত এই সম্প্রদায়ের ধর্মমতের স্বার পরিকল্পিত মাধ্ব-মন্প্রদা়ের সাধকগণের জীবনে অন্যান্য বৈষ্ণব ধমমতের ছায়পাত হইয়াছিল ফলে, শ্রীচৈতন্ত সম্প্রদায়ের ঘে সকল সাধকদের সাক্ষাৎ পাইগ্াছিলেন তীহার| ভক্তিপথে বছরূর অগ্রমর। মাধবেগ্্রপুরী ছিলেন এই সম্প্রদায়ের লোক-.তাহারই শিশ্ত অদ্বৈত, নিত্যানন্দ 9 ঈশ্বরপুরী। এই ঈশ্বরপুরী শ্রচৈতন্তদেবের ভক্তিনাধনার গুরু। কেশবভারতীও মাধ্ব সপ্প্রদায়ের লোক--ইনি শ্রচৈতন্তদেবের সন্্যাসদীক্ষা'র গুরু মেঘদর্শনে মাধবেশ্তরপুরীর প্রীরুক্ষত্রমে ভাবাবেশ হইত। কুঞ্চদান কবিরাজ বলিয়াছেন-_

“ভক্তিকল্লতরুর তেঁহ প্রথম অস্থুর |,

ঈশ্বরপুরীর ভক্তিভাবাবেশ দ্েখিয়াই গরায় নিমাই পণ্ডিতের মনে

প্রেমভক্তির প্রথম সঞ্চার হইয়াছিল---ঈশ্বরপুরীকেই মহাপ্রভু প্রেমভক্কির

২৪. প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

গুরু ষলিয়! ভক্কিভরে পুরীর জন্মভূমি কুমারহট্ের মাটি তুলিয়া বহির্বামের অঞ্চলে বাধিয়াছিলেন। অদ্বৈত পূর্ব হইতেই শ্রীচৈতন্যের পথ পরিষ্কার করিয়া রাখিয়াছিলেন। | “পরমানন্দপুরী আর কেশব ভারতী ্রন্মানন্দপুরী আর ত্রহ্মানন্দ ভারতী বিষুণপুরী কেশবপুরী পুরী কষ্চানন্দ নৃসিংহানন্দ তীর্থ আর পুরী সুখানন্দ এই নবমুল বিকাশিল বৃক্ষমূলে এই নবমূলে বুক্ষ করিল নিশ্চলে কষ্দাস কবিরাজ ভ্িকল্পতরুর যে নয়টি মূলের কথা বলিয়াছেন তাহাদের প্রায় সকলেই মাধ্ব সম্প্রদায়ের লোক অতএব দেখা যাইতেছে মাধ্বসম্প্রদায়ের একটি শাখা! অবলম্বন করিয়াই শ্রীচৈতন্যদেব তাহার প্রেমধমের পরাকাষ্টাকে পুম্পিত করিয়া তুলিয়াছেন। কেহ কেহ শ্ীচৈতন্সদেবকে মাধ্বসম্প্রদায়ের সাধক বলেন, মাধ্বসম্প্রদায় না বলিনা বরং 'মাধবসম্প্রদায়' বলা ষাইতে পারে কারণ, মাধবেন্দ্রপুরী মধ্বাচা্ধ্য শ্রীচৈতন্যের যোগস্থত্র আর একটি বৈষ্ণবসম্প্রদায়ের নাম “কদ্রসম্প্রদায় ইহার প্রবর্তক বিষ্ুম্বামী। ইনি বাৎসলাভাবের সাধনারও প্রবর্তন করেন। ইণহার সম্প্রদায়ের দর্শনমত শুদ্ধাছৈতবাঁদ, উপাস্য বালগোপাল। পরে সাধনার রসের পরিবর্তন হইয়াছিল। মীরাবাই এই সম্প্রদায়ের উপাসিকা। শ্রীকষে আত্মনিবেদনই এই ধর্মমতের মূল্ত্র। এই সম্প্রদায়ের একজন সাধকের নাম ছিল বল্পভাচার্যা। ইনি রাধাককফণের উপাসনার প্রবর্তন করেন। কথিত আছে ইনি শ্রীচৈতন্তদেবের লামসময়িক ছিলেন এবং ইনি শীচেতগ্তদেবের সহিত সাক্ষাতের পর তাহার চরণে আত্মসমর্পণ করেন।

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য - ১১

বৃন্দাবনের ছয় গোস্বামী ইহাকে খুব মানিতেন। বল্পভাচার্যোর সম্প্রদায়ের লোকেরা শ্রীচৈতন্যের প্রেম্ধর্দের মহিমা ঠিক বুঝে নাই-- তাহাবা নানাস্থলে মঠমন্দির গড়িয়া বহু শিষ্যুসেবক স্থ্টি করিয়া গুরুগিরি ' করাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম মনে করিতেন। শিষ্তেরাও ধনসম্পদ গুরুচরণে নিবেদন করিয়াই ধন্য হইতেন এবং খুব ঘট1 করিয়! উৎসবাদি সম্পাদন করাকেই ধশ্মকার্ধ্য মনে করিতেন। এই সকল গোস্বামীদিগকে 'পুষ্টিমার্গা, বলে--পশ্চিম ভারতেই ই'হাদের প্রতিপত্তি ছিল।

আব একটি সম্প্রদায় আছে তাহার নাম নিশ্বার্কসম্প্রদায়। নিম্বার্ক উত্তর ভারতেরই লোক এবং সম্ভবতঃ তাহার ধশ্শমত শ্রীচৈতন্তদেবের সময়ে কিংবা পরে প্রচারিত হইয়াছিল।

পূর্বেই বলিয়াছি শ্রীচৈতন্ের পুরীধামে বাসকালে তাহার ভক্তিধন্মের ভজনপদ্ধতির কিছু পরিবর্তন ঘটিয়াছিল। বহদেশের সহিত দক্ষিণাপথের মিলনভূমি ছিল নীলাচল বা জগম্লাথ-ক্ষেত্র। দক্ষিণাপথের সর্বপ্রকার বেষ্জব ধর্মমতের সংস্পর্শ ঘটিয়াছিল পুরীধামে। পুরীধামে আপিয়! তাহার অদ্বৈতভাব অচিস্তয-ভেদাভেদে পরিণত হইয়াছিল। প্রথমে শ্রীচৈতন্তদেব ভক্তভাব গ্রহণ করিয়া শ্রীরঞ্চকে পাইবার জন্য ব্যাকুলত গ্রকাশ কয়েন_-তাঁরপর নবদ্বীপলীলায় তিনি শ্রীকষ্জভাবে বিভাবিত হইয়া দাস্য সধ্য ভাবের ব্রজলীগার মাধুরী উপভোগ করিতেন। পুরীধামে কিছুকাল বাসের পর তিনি রাখাভাবে বিভাবিত হইয়া "হা রুষ্চ, কোথা রুষ/ বলিয়! আত্তনাদ করিতেন_আবার নিজের মধ্যেই কৃষেণেকে পাইয়া দিব্যানন্দে মগ্র হইতেন। ্রীকুষ্ণের মাথুরপ্রবাসের পর শ্ররাধিকার যে দশা পদাবলীসাহিত্যে দেখানো হইয়াছে-_ মেই দশায় আবিষ্ট হইয়া তিনি দিব্যোনম্মাদ লাভ কবিতেন। পদাবলী

২২ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

সাহিত্যে ভ্রীরাঁধিকা যেমন ভ্াবপন্মেলনে উল্লসিত হইতেন-_সেইকধপ উল্লাস তিনিও উপভোগ করিতেন

এই মহাঁভাবাবেশ, ভাবের ক্রমোন্মেষের নিয়মান্চুসারে রীনা যে্ভাহার জীবনে প্রবুদ্ধ হইতে পারে না--একথা জোর করিয়া বলা যায় না। তবে মনে হয়-__ দক্ষিণাপথন্রমণের ফলেই তাহার জীবনে উজ্জ্লরসের মহাভাবাবেশ প্রকটিত হইয়াছে রায় রামানন্দ ছিলেন দক্ষিণাপথের লোক, প্রতাপরুদ্রের উপরাজ পঞ্ষে মন্ত্রী। তিনি একজন মহাভক্ত বৈষ্বতত্বজ্ঞজ ছিলেন তাহার জীবনে দক্ষিণাপথের আলোরার সাধকের প্রভাব নিশ্চয়ই ছিল। অস্ততঃ তিনি ভাহাদের সাধনমার্গের সঙ্গে স্থপরিচিত ছি৫লল.। গোদাবরীতীরে তাহার সহিত সাক্ষাৎ-ও আলোচনার ' ফলে শ্রীচৈতন্যের ভক্তিজীবনে : পরিবর্তন আগিয়াছিল, একথা কেহ কেহ বলেন। *%

* “প্রভু কৃহে এই সাধ্যাবধি স্থনিশ্চয় কথ! কবি জহ'যদি আগে কিছু ইয়॥৮.

. বৈধণবধঙ্ষের চরম: রসত্ব স্বদ্ধে রায় 'রামানদোর' পরিপূর্ণ জ্ঞানই ছিল। কিন্ত তিনি ছিলেন ক্তোগী থিষয়ী বুদ্ধিজীবী রাষ্ট্রনেত! শ্রেণীর লেক ত্রাহ্ার 'জীবনে তত্ব চরম সার্থকত! লা করে নাই-তিনি বুদ্ধি দিয়া উপলব্ধি করিয়ীছিলেন |: শ্রীচৈতন্টের জীবনে অসামান্য অনুকূল স্ষেত্র পাইয়া তিনি, সেই তত্বের বীজ বপন করিয়। তাহার ফল, দেখিয়! স্তপ্তিত বিমুগ্ধ অভিভূত হইয়া পড়িয়াছিলেন। শ্রীচৈত্যাদেব বলির[ছিলেন “রামানন্দ সহ মোর দেহছেদমাত্র।% পরে সতাই কতিধন্মের আদশে, ছুইজনের মধ্যে তফাৎ ছিল নাঁ_দৈহিক জীবনেই তফাৎ ছিল অনেক টুকু। রামানন্দ রা যেন বাংলার নবযুগের রামিমোহন রায়েরই তুলা ছইগ্রনেরই 15061160084 1591152010) হইয়ছিল। . রামযোহছনে আর ঠাকুর রামকৃফে যুগে যে তফাৎ, সে যুগে রামানন্দের সঙ্গে শ্রীচৈতন্তের সেই তফাৎ ছিল ৰলিয়! মনে হয়।

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য - ২৩.

“প্রত কহে ষেলাগি আইলাম তোথা স্থানে। লেই সব বস্ত তত্ব সেই মোর জ্ঞানে। এবে যে জানিল সাধ্যসাধন নির্ণয় “। ,. আগে আর কিছু শুনিবার।মন হয়।” প্রীচৈতন্ভের স্বভাবনিদ্ধ 'দৈন্তের কথা বাদ, দিলেও চরিতাম্বতের এই চরণগুলি পড়িলে মনে ' হয়,--মহাপ্রন্ু হার. ভক্তিধর্দের দশাস্তরের জন্য রামানন্দের কাছে খণী। যাহাই হউক বরই. সাধ্য সাধন-তত্ব ছুইজনের মধ্যে আলোচনার ছ্বারা উন্মেষিত হইয়াছে ইহ! জীবস্ত রূপলাভ করিয়াছে একমাত্র মহাপ্রতুর জীবনে। এই তত্বের স্ুত্রকার 'ম্বদ্দপ দামোদর? ব্যাখা বিশ্লেষণ করিয়াছেন ব্রজের গোস্বামিগণ। রঘুনাথকে 'বল! হইয়াছে বৃত্তিকার। কবিরাজ গোদ্ামী সেই - ব্যাখ্যাবিক্লেষণকে কবিকর্ণপূরের -প্রবন্তিত- নাটকীয় ভঙ্গীতে মহাপ্রত্‌ রামানন্দ রায়ের প্রশ্বোতরের মধ) দিয়া ক্রমোতকর্ষের স্তলে'ম্তরে সৃবিন্স্ত করিয়াছেন। সংস্কৃত 'সার' ইংরাজি 0117029% অলঙ্কারে রচিত চরিতামৃতের শর অংশ জগতের সাহিত্যে একটা! অপূর্ব বস্ত। প্রেমভক্তির যে .চমোৎকর্ষের কথা কবিরাজ গোস্বামী বলিয়াছেন--তাহার অধিকারী বৈঞ্ণচব সাহিত্যে একামান্ত রান জগতের.ইতিহামে একমাত্র শ্ীচৈতন্ত। রামানন্দের কথ! ছাড়িয়া দিলেও--দক্ষিপাপথভ্রমণকালে শ্রীচৈতন্ বহুঙেণীর পাধকদের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন.এবং তাহাদের জীবনে মধুররসের সাধনার ধারা ওস্হাভাব-তন্ময়তার বিলানম নিশ্চয়ই তিনি লক্ষ্য করিয়।ছিলেন। অবশ্ঠ তিনি যাহা সন্ধান করিতেছিলেন তাহাই পাইয়! ছিলেন দক্ষিণাপথে মহাপ্রভ ধন্দপ্রচার করিতে নিশ্চয়ই যান নাই, স্তীহার নিজের দেশ মহাপাপে দগ্ধপ্রায়' যে দেশের ধর্শের গ্লানি

২৪ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

জন্য প্রধানত: তাহার অবতরণ সে দেশকে ফেলিয়া, যে দেশে সকলপ্রকার ধর্মমতের চরম বিকাশ, সেই দেশে ধন্বপ্রচার করিতে যাইবার কথা নয়। তিনি জানিতেন--সকলশ্রেণীর বৈষ্ণব ধর্মমত দক্ষিণাপথেই জন্মিয়াছে-_ সে দেশে বহু বৈষ্কবসাঁধক আজিও বর্তমান। দক্ষিণাপথ এক হিসাবে তাহার কাছে মহাতীর্ঘ। সেই তীর্থপরিক্রমা, সাধক ভক্তদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা, নব নব ভাবরপ-সংগ্রহ ইত্যাদি তাহার উদ্দেশ্য ছিল।

ক্রীনদ্‌ভাগবত ছাড়া তিনি গীতগোবিন্দ, চণ্ীদাসের পদাবলী, বিদ্াপতির পদাবলী শ্রবণ করিয়া আনন্দ লাভ করিতেন। গণতগোবিন্দ শ্রীরুষ্ণকীর্ভন নিশ্চয়ই তাহার অপরিজ্ঞাত ছিল না। শ্রীরুষ্কীর্ভন এশ্বধ্যশিখিল ভাবে পরিপূর্ণ-তবু তিনি বোধ হয় তাহাও উপভোগ করিতেন। নবদ্বীপলীলায় ইহ! সহ কর চলিত-_নীলাচলে এই রসাভাসমূলক রচনা তাহাকে আনন্দ দ্রিত কি? বিষ্যাপতির পদাবলীতে এশ্বধ্যভাব নাই বটে,। কিন্তু ভক্তির বা প্রেমের গভীরতাও নাই। তবে বিগ্যাপতির সাহিত্যপ্রধান বচনায় সম্ভবতঃ তিনি মধুররসের ব্যঞ্জনা লাভ করিতেন। দক্ষিণাপথে প্রকৃত মধুররসের বনু রচনার সাক্ষাৎ পাওয়া যাইবে বলিয়া নিশ্চয় তাহার বিশ্বাস ছিল। এবং বোধ হয় তিনি অবিমিশ্র মাধুর্যরসের বছু রচনার সাক্ষাৎ লাভও করিয়াছিলেন। যে কোন ভক্তিরসের রচনা পাইলেই স্বরপদামোদরের দ্বার পরীক্ষিত হইলে তিনি তাহার পাঠ শুনিতেন, তাহার প্রমাণও পাওয়া যায়। ব্রহ্ষদংহিতা বিষমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকষ্ণকর্ণামৃত--এই পুথি দুইখানি পাইয়া তিনি নকল করাইয়া আনিয়াছিলেন। ভামিলভাষায় রচিত আলোয়ারদের পুস্তক নকল করিয়া আনা হয় নাই--সম্ভবত: তাহার মন্দ তিনি গ্রহণ করিয়া আসিয়াছিলেন বলিয়া মনে কর! যাইতে পারে।

প্র/টীন বক্ষ-সাহিতা. ২৫

যে গভীর আকৃতির জগ শ্রীচৈতন্থের প্রেমজীবন এবং তন্ারা প্রভাবাস্বিত বঙ্গলাহিত্য অপূর্ঘ--সেই গভীর আকৃতি পরিপূর্ণরূপেই আলোয়ারদের রচনায় বর্তমান ছিল। চৈতন্াদেব রগের সন্ধানে দক্ষিণাঁপথ ভ্রমণ করিলেন. আর চমংকার সম্পদ্টি তাহার চোখে পড়িল না বা মর্ধস্পর্শ করিল না ইহ] হইতে পারে না।

শ্রীচৈতন্তের ভাবজ্দীবনের যূলতত্ব বৈষ্ণব সাহিতোর মৃলন্ুত্র ধাঁহার! উদঘাটন করিয়াছিলেন তাহাদের ছয় জনের মধ্যে চারিজনের সহিত দক্ষিণাপথের সম্পর্ক। শ্্রীরঙক্ষেত্রনিবাসী শ্রীসম্প্রদায়ী বেস্বটভট্রের পুত্র গোপালভট্ট দক্ষিণাপথেরই লোক ছিলেন-- আর রূপ, জীব সনাতন গোস্বামীর পূর্বপুরুষগণ দক্ষিণাপথের কর্ণাটদেশ হইতে বঙ্গদেশ আপিয়। বসবাস করিয়াছিলেন। ইহারা ংশধারায় দক্ষিণাপথের সংস্কৃতি নিশ্চয়ই পাইয়াছিলেন। শ্রীচৈতন্যের মহিত নাক্ষাতের আগে হইতেই ইহারা ধর্ধগ্রাণ এবং মহাপ্রাজঞ ছিলেন। ইহাদের চিত্ত পূর্ব হইতেই প্রস্তত ছিল বঙলগিয়াই চৈতন্তদেবের স্পর্শে আপিয়! অপামান্য গ্রেমভক্তি লাভ করিতে পারিয়াছিলেন। একটা! দাক্ষিণাতা রসধারা ইহাদের বংশধারায় নামিয়া আসিয়া! গৌড়ীয় রলধারায় মিশিয়াছে বলিয়া মনে হয়-_শুধু রসধার! নয়, সংস্কৃতির ধারাও ষেন বিদেশাগত বলিয়া মনে হয়। আর গেোপালভটের সাহচর্য তাহারা কতটা যে পাইয়াছিলেন তাহ! বল| শক্ত। তধে জীব গোস্বামীর ষট্‌সন্দর্ত, যাহ বৈষ্ণবধর্মের গীতা--তাহার বক্তা গোপাল ভষ্টই, জীবগোস্বামী ব্যাখ্যাতা মাত্র

শত্রীচৈতন্যের বাণী

ভউচৈতন্তদেব যে অলৌকিক প্রেম ভক্তিনাধনা তাহার জীবনে প্রকটিত করিয়াছিলেন--তাহা! কেবল অধিকারীদের জন্য জননাধারণের় জন্ত তিনি সহজ সরল পন্থা নির্দেশ করিয়াছিলেন। “তিনি লাধারণ লোককে বলিয়াছিলেন--যাগযজ্জ করিতে হইবে না, মৃত্তিপৃজা ' করিতে হইবে না, শান্বজানের প্রয়োজন নাই, তীর্থদর্শনাদি করিতে হইবে না, কেবল হরিনাম কর। মুক্তি চাও? তাহাতেই মুক্তি হইবে। খোলা বেচ। শ্রীধর, ভিচ্ষক শুর্লাঙ্বরই আদর্শ ভক্ত ইহার].জীবমুক্ত মহাপুরুষ এই হুরিনামে ছ্বিজোত্ম হইতে চগ্ডালাধমের৪ সমান অধিকার মাহযমান্তেরই ধর্ম এক, মানুষে মানুষে কোন ভেদ নাই, কলিযুগে নামকীর্তনই একমাত্র ধর্শা। নামজপ, নামাঙঈগরাগ, নামশ্রবণ, 'নামগান-- এই নামকীর্তনের অঙ্গ। 'কলিষুগে নাস্তোৰ নাস্তেব নাপ্তেব গতিরন্থা |

ইহ! শ্রীচৈতন্থের' বাণী হইলেও ইহা শাস্বেরও উক্তি ভাগবত ইহাকেই নামধঞ্জ বলিয়াছেন। ' এই নামগ্রহণ সম্বন্ধে যেমন পাত্রাপান্র- বিচার নাই, তেমনই কালাকালবিচার নাই, সব সময়েই লামগ্রহণ ' করা, চলে। নাম গ্রহণে স্থানাস্থানবিচার নাই-_ সকল স্থানেই নাম গ্রহণ করা চলে। ভক্তির সহিত নাম গ্রহণ করিতে হইবে। এই ভক্তি দ্বার! চিততশুদ্ধি হইলে নানগ্রহণের প্রকৃত অধিকার জন্মে ভক্তিই মানুষকে তৃণাদপি হ্বনীচ, তরোরিব সহিষুণ অমানিনে মানদ করিয়া তুলে। এইভাবে চিতগুদ্ধি হইলে নামগ্রহণের ফল হয়।

নামগ্রহণ চিত্রদর্পণ মাঞ্জন করে, নির্মল চিত্তদর্পণে সত পবিচ্ছন্ন রূপে প্রতিফলিত হয়, সংসারযদ্থপার যে দাবানলে আমরা পরিবৃত

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য " ২৭

তাহা নির্বাণ লাভ কয়ে। ছ্যোতল্গা যেমন কুমুদকে বিকশিত করে---শ্রেয়: তেমনি আমাদের চিকুমুদ উত্মালিত করে তাহাতে পরাবিষ্যার উন্মেষ হয়, হৃদয়ে দিব্যানন্দ উদ্বেলিত হর, প্রতিপদে অমতের 'আম্বাদলাভ হয়, যনঃপ্রাণ প্রেমানন্দরসে অভিষিক্ত করিয় শ্রীকষ্ণকীষ্জন জয়যুক্ত হছয়। চেতোদর্পণমার্জনং ভবমহাদাবাপিনিরাপণম্‌। . * * শ্রেয়ঃ কৈরবচক্ত্রিকাবিতরণং বিগ্বাবধূজীবনম্‌ 'আনন্দাধিবর্ধনং প্রতিপদ পূর্ণামৃতাস্বাদনম্‌ সর্বাত্মন্পনপরং বিজয়তে শ্রীরুষ্ণসংকীর্তনম্‌ ংসারাসক্ত ব্যক্তিরাও এই নামকীর্তন করিতে করিতে . ক্রমে ংসারবন্ধন হইতে মুক্ত হইয়া পরম ভাগবত হইয়। উঠিতে পারেন। তখন কর্শ হইবে ফলস্পুহাশৃন্, ভোগও হইবে কামনারহিত। তখন তাহার শ্রীর্থনা হইবৈ ।-- ধনং ন'জনং হুন্দরীং বনিতাং বা জগদীশ কাময়ে। 'মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভবতাপ্তক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি এই নামমাইাত্যের কথা যবন হরিদাস যা! বলিয়াছেন শ্রীটৈক্কন্তেরও বক্তব্যও তাহাই_- দা 5৪ -.... একেহ কহে নাগ হৈতে হয় পাপক্ষয়। কেহ কহে নাম হৈতে জীবের মোক্ষ হয়।” হরিদাল বলৈম- নাম হৈতে কষ্ণপদে প্রেম উপজয়। পাঁপনাশ মুক্তি তাহার আহ্যঙ্গিক ফল'। কৃষ্ঞপ্রেমের কাছে অন্ত কাম্য বস্তর কথাই নাই, মুক্তিও তুচ্ছ" “সেই মুক্তি উক্ত না লয়, কৃষ্ণ চাছে দিতে” শ্রীচৈতন্যের পরিকরগণ ধাহারা কেবল নামের পথে ভজন করিতেন__ উহাদের বরপ্রার্থন, আশীর্ববাদ, জীবনের কাম্য,__ কৃষ্ণপদে ভক্তি ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

২৮ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

নাম-পথ কম দৃব্ধহ নয়। কিন্তু কর্মপথ বা জ্ঞানপথ্ের চেয়ে অনেক মোজা তাহ! ছাড়া, কর্মপথ জ্ঞানপথ সর্বজনীন নয়। নাম- কীর্ডনের মধ্য দিয় ভক্তিপথ সকল পথের তুলনায় সরলতর। পথে গৌড়জনকে লইয়! যাওয়ার জন্য ভিনি নিত্যানন্দের উপরই প্রধানতঃ নির্ভর করিয়াছেন

শ্রীচৈতন্তদেব ভক্তিপথে অগ্রসর অস্তরঙ্গ সহচরদের জন্য যে পথ দেখাইয়াছেন, তাহ! রসলাদনার পথ এইপথে তিনি নিজে ভাগবত জীবনকে চরম চরিতার্থতা দান করেন।

মাছগষের সহিত মাছষের কয়েকটি রসসম্পর্ক আছে-_এই গুলির নাম শাস্ত, দাসা, সখ), বাৎসল্য মধুর। যখন আমরা কাহারো এশ্বধ্য, মাহাত্ম্য, শক্তিমন্তায় মুগ্ধ হইয়া দূর হইতে ভক্তি জানাই, তখন হয় শাস্তভাব। যখন কোন ভক্তির পাত্রকে নিকটে পাইয়া আমর! দাসের মন সেবা কবি, তখন হয় তাহ] দাস্যভাব। সখার প্রতি সথার যে অনস্কোচ সাম্য-ভাব তাহ! সখ্যভাব। সন্তানের প্রতি মাতাপিতা অথবা অন্য কাহারো যে স্সেহ বা অনুকম্পার ভাব তাহাই বাৎসল্যভাব। আর প্রেমিকের প্রতি প্রেমিকার, পতির প্রতি পত্তীর যে মনোভাব তাহাই মধুর ভাব। শ্রীভগবানের প্রতি জীবেরও এই পীচ প্রকার রসসন্বদ্ধ হইতে পারে-_ এই রসসম্বন্ধের মধ্য দিয়া ভগবানের প্রতি প্রেমই রলবাজের উপাসন। বা রসসাধনা শান্তভাবকে গ্রেমভক্কির প্রাথমিক সোপান বল! হইল-_ কিন্তু ধর্শসাধনার পথে ইহাও অনেক উচ্চে অবস্থিত। বন সোপান অতিক্রম করিয়া এই শাস্তভাবের স্বরে আরোহণ করা যায়।

বায় রামানন্দের সহিত মহ্াপ্রভৃর কথোপকথন হইতে সকল ভাবের স্থান স্তরপরম্পরা_-নির্ণাত হইয়াছে

গ্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য ২৯

প্রভু কহে কহুঙ্জোক সাধের নির্ণয়।

ধায় কহে স্বধশ্মীচরণ ভক্তিসাধ্য হয়

প্রভূ কহে এহো বাহা আগে কহ আর।

রায় কহে কৃ কর্মার্পণ সর্ধবসাধ্যসার

প্রভূ কহে এছে। বাহা আগে কহ আর।

রায় কহে হ্বধশ্মত্যাগ ভক্তি সাধ্য সার।

প্রভূ কহে এহে। বাহ আগে কহ আর।

রায় কহে জানমিশ্র। ভক্তি সাধাসার।

প্রভূ কহে এহো বাহা আগে কহ আর

রায় কহে জ্ঞানশৃন্/ ভক্কি সাধ্যসার

প্রভূ কহে এহো! বাহু আগে কহ আর।

রায় কহে প্রেমভক্তি সর্ব সাধ্যনার।

প্রভূ কহে এহো হয় আগে কহ আর

রায় কহে দান্যপ্রেম সর্ব সাধ্যপার

প্রতৃ কহে এহে| হয় আগে কহ আর।

রায় কহে সধ্যপ্রেম সর্ধ্ব সাধ্যনার |

প্রভূ কহে এহোত্তম আগে কহ আর।

রায় কহে বাৎসল্য প্রেম সর্ব সাধ্যসার

প্রভূ কহে এহোত্তম আগে কহ আর।

রায় কহে কাস্তাপ্রেম সর্ব সাধ্যসার

ধাহারা বর্ণাশ্রম পালন করেন, স্মার্তপথে জাতিবর্ণ সমাজ ইত্যাদির

বিহিত আচার কৃত্য সাধন করেন, তাহারাও ধান্সিক ব্যক্তি কিন্ত ভাহার। বহু নিয়ধ্যরের ধর্দমাচারী। বাহার! কর্মফল শরীফে সমর্পণ, 'কবেন, তাহার! ইহাদের চেয়ে অগ্রসর | কর্ম্থফলের দায়িত্ব হইতে মুক্তিই

প্রাচীন বজ-সাহিত্য

ভক্তি নয়। জাতিকুলসমাঙ্জবিহিত ধম্ম একট! সংস্কারবন্ধন _ষেজন তাহা হইতে মুক্ত হইয়া শ্রীভগবানের উপাসনাকেই একমান্জ ধর্ম মনে করে--সে শায়ো অগ্রনর। কিন্তু “সর্ব্ব পাপেভ্য মোক্ষের” জন্ত অথব! ভ্রিতাপের বিনাশের জন্য 'এই উপাসনা, ইহাও সফাম বলিয়া আসল ভক্তি নয়। এই যে উপাসনা, তাহা যে-ভক্তির সহিত সম্পাদিত হয়, সেই ভক্তি যদি জ্ঞানমিশ্রা হয় অর্থাৎ ভক্তির মূলে যদি কোন যুক্তি মনে বিরাজ করে তবে ভক্ত পূর্ববর্তী উপাসকের চেয়ে আরে! উন্নত। কিন্তু এই ভক্তি নির্ভেদ ্রন্ধান্ছভবরূপ জ্ঞানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, ভগবৎ-তত্বান্ুভূতি- জ্ঞাত নয়, কাছেই তাহ। বাহা। এই ভক্তি যদি জ্ঞানযুক্তি- শূন্য হয় অর্থাৎ নিধিচারে অস্ধভাবে ঘণ্দি ভক্ত ভগবানকে ভক্তি করে তবে সে উন্নততর স্তরের সাধক। নির্ভেদ ব্রদ্মোপলব্ধির প্রয়াস না করিয়া যাহার! সাধু রপ্ত শভ্তগণের উপদেশে, সাহচয্যে ভগবদ্‌ গুণগান শ্রবণে ভাগবত মাধুষ্য আস্বাদ করেন, তাহাদের ভক্তি জ্ঞাপমিশ্রা বা! বৈধী ভক্তির চেয়ে বড়। এই ভক্তির সঙ্গে ভগবানকে প্রিয়- জ্ঞান হইলে বিশুদ্ধ ভক্তির উদয় হয়_-ইহাই শাস্তভাব। জ্ঞানশৃগ্তা ভক্তির সাধকগণ গাধারণতঃ বিবিধ উপচারে ইট্টদেবের পুজা করিয়াই ভক্তি প্রকাশ করে। ইহার চেয়ে শান্ত ভাবের মাধন! ঢের বড়। তাহাতে বিন1 বাহা উপচারে কেবলমাত্র প্রেমের দ্বারাই উপাসনা এই ভাব পূর্ব পূর্ব্ব ভাব হইতে উদ্নততর, কিন্তু ব্রঙ্গভাবের পক্ষে নিয়তর, ইহাকে অপ্রাকৃত প্রেমধর্খ্ের উপক্রদ্ণিকার স্তর বলা যায়।

প্রেমধর্শের প্রথম শুর দান্ত, এই দাস্ত শান্তভাবের উপরে অবস্থিত। ভগবান ইহাতে রীতিমত অন্থরঙ্গ প্রিয়জন-:তবে সেবাপরিচর্ধ্যার দ্বারা দাক্তভাবে প্রেমণিবেদন করিতে হয়। ইহার চেয়ে

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিতা

উচ্চতর . স্তর সখ্যভাব--এইভাবে প্রিয়জন আরে! প্রিয়তর। ইহাতে ভগবানের লীলায় সহযোগিতার দ্বারা প্রেমনিধেদন করিতে হয়। তছুপরিস্থ শুর বাংসল্যভাবের ; লালনের দ্বারা এইভাবে প্রেম নিবেদিত হয়। সর্ববোচ্চ স্তরে বিরাজ করিতেছে মধুর ভাব। এই- ভাষে ভগবান প্রিয়তম--কাস্তার সঙ্গে কান্তের যে নিবিড় সন্বদ্ধ সেই সন্বন্ধ ওক্তের সঙ্গে ভগবানের | » কবিরাজ গোম্বামী তাহার জরাল্ঈথ ছন্দোবদ্ধে আসল বা

বলিয়াছেন এইভাবে--

কষ্ণনিষ্ঠা তৃষ্ণাত্যাগ শাস্তের দুইগুণ।

পরব্রহ্ম পরমাত্মা কে জ্ঞান প্রবীণ

কেবল স্বরূপ জ্ঞান হয় শাস্ত রসে।

পূর্ণৈর্বর্য্যে প্রভুজ্ঞান অধিক হয় দস্টে !

ঈশ্বরজ্ঞান সষ্্মে গৌরব গ্রচুর।

সেব! করি কষে স্থথ দেন নিরস্তর |

শাস্তের গুণ দাস্তে আছে অধিক সেবন।

অতএব দাস্ব রসের এই ছুই গুণ

শাস্তের গুণ দানের সেবন সধখ্যে দুই হয়।

দাস্যের সংভ্রম গৌরব সেবা সখ্যে বিশ্বাসময়

কাধে চড়ে কাধে চড়ায় করে জ্রীড়ারণ।

কষে সেবে কে করায় আপন সেবন

ভগবানের অনুকল্প কোন প্রতীককে অবলম্বন করিয়াও এই গল ওুক্তিতাবের জনুশীলন চলিতে পায়ে মীরাবাই, মাধবেন্ত্রপুরী, রামপ্রসাদ, র।নকৃষ্ণ ইত্যাদি ভক্ত এক একটি মুদ্তি প্রতীক আবশ্রয় করিয়াই এই সকল বের ছার! তমা করিয়াছেন

৩২ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য

বিশ্রস্তপ্রধান সখ্য গৌরবসন্তরমহীন।

অতএব সধ্যরসের তিনগুণ চিন

মমতা অধিক কৃষ্ধে আত্মসম জান।

অতএব সখ্যরসে বশ ভগবান

বাৎসল্যে শাস্তের নিষ্ঠ। দাস্তের সেবন।

সেই সেবনের ইহ নাম যে পালন

সধ্যের গুণ অসঙ্কোচ অগৌরব আর।

মমতাধিক্যে তাড়ন ভৎসনা ব্যবহার

আপনাকে পালক আর কৃঞ্চে পাল্য জ্ঞান।

চারি রসের গুণে বাৎসল্য অমৃত সমান

মধুর রসে কৃঞ্চে নিষ্ঠা সেবা অতিশয়

সখ্যের অসঙ্কোচ লালন মমতাধিক্যে হয়

কাস্তভাবে নিজাজ দিয়া করান মেবন।

অতএব মধুর রসের হয় পকগুণ

পূর্বের রসের ভাব পরে পরে হয়।

একছুই তিন গণনে পর্যন্ত বাড়য়

গুণাধিক্যে দ্বাদাদিক্য বাটে সর্ধ রসে।

শান্ত দান্ত সখ্য বাৎসল্য মধুরেতে বৈসে

আকাশাদির গুণ ষেন পরপর ভূতে।

ছুই এক গণনে বাড়ে পঞ্চ পৃথিবীতে

কষে নিষ্ঠা বাসন। ত্যাগ শাস্তরসের ছুইগুণ। গীতায় ইহার বেশি

কিছু বল! হয় নাই। শাস্তভাবে প্রীরুষ্ককে পরমাত্থা, পরক্রহ্ধ ইত্যাদি জান জন্মে। ইহাতে কেবল স্বরূপজ্ঞানই হইল, ইহার বেশী নয়। দাস্তভাবে ভগবানে পুর্ণৈ্বর্ধয প্রতৃজান হ্ব। ঈশ্বরের গৌরব বোধ,

প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্যা ৩৩

ঈশ্বরের প্রতি সদক্ষোচ ভরমিশ্র ভক্তির সহিত ইহাতে সৃষ্ধ হইল ভগবানকে আনন্দদানের জন্য সেবা

সধ্যে শাস্ত দাশ্তটের গুণ থাকিলই, তাহার সঙ্গে যুক্ত হইল গভীর বিশ্বাস অপঙ্কোচ। রুষ্ণকে শুধু সেবা নয়_-কৃফের সেবা- গ্রহণেও লঙ্কোচ নাই। সখারা কৃষণকে শুধু কাধে চড়াঁন নাই, নিজেরাও ক্রীড়াচ্ছলে কৃষ্ণের ক।ধে চড়িয়াছেন। সধখ্যরসের তিনগুণ এই রসে দাস্যের চেয়ে মমতার পরিমাণ বেশী এবং শ্রীরুষ্ণকে ক্রীড়া- সহচরের মত নিজের সমকক্ষ মনে করা হয়। ভগবান এই সখ্যরসের বিশেষ বশীভৃত। পদকর্তারা প্রধানত: এই সখ্যরসের শাধক।

বাংসল্যে শাস্তের নিষ্ঠা, সখ্যের অনস্কোচ গৌরববোধশৃন্ততা দাশ্যের সেবা তিনই বিগ্মান, তাহাদের সঠিত যুক্ত হইল মমতাধিকো লালন। দাস্তের সেবা লালনে পরিণত--এই লালনের মধ্যে আছে তাড়ন, ভৎসন এবং নিজেকে পালক শ্রীকষেঃ পাল্যজ্ঞান।

মধুর রসের পঞ্চগুণ_-শাস্তের নিষ্ঠা, দাস্ের সেবা, সখ্যের অসক্কোচ, বাৎ্ল্যের মমতাধিকয লালন এগুলিত আছেই, তাহার সঙ্গে নিজের দেহপ্রাণমন সমন্তই শ্রীকের আনন্দের জন্য সমর্পণ ইহাই বস- সাধনার চরম কথ! এই চরম কথাটি কবিরাজ গোস্বামী রায় রামানন্দের মুখ দিয়া বলাইয়াছেন।

কবিরাজ গোস্বামী তাহার পঙ্গু ভাষায় ভাল করিয়া বুঝাইতে না পারিয়! সাংখ্যস্থত্রের বরাত দিয়া বলিয়াছেন-_

“অ।কাশাদির গুণ ঘেমন পর পর ভূতে ।”

আকাশের গুণ--শন্ব। বাযুর--শব ম্পর্শ। তেজের গুণ-- শব, স্পর্শ, রূপ। অপের গুণ--শবষ, স্পর্শ, রূপ ওরস। ক্ষিতির গুণ--শব, স্পর্শ, কূপ, বস, গঞ্ধ। পঞ্চরলের ক্রমোগ্মেষ ঠিক এইকপ।

৩৪ প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য উপরের শুর নিয়্তর শ্তরকে অপসারিত করিয়া নয়, কবলিত