"ভারতের স্বাধীনতা-লাভের পচিশ-বছরের রজত-জয়ন্তী-অর্য--

ভ্দন্নহ্গাীহ্নম-ভ্বম্মবিমান্স্ষ ভারতের “জাতীয়-সংগীত”-রচনা-কাহিনীর নাট্যধ্মী বিচিত্র-আলেখ্য

গ্রীস ধীরচন্দ্র কর

পারমিতা -প্রকাশন কলেজ রোড পোঃ বোলপুর, জেল! বীরভূম শ্চিন্স বজ

প্রচ্ছদ শিল্পী £ শ্রীসত্যজিৎ রায়

প্রকাশক শ্রীশবধীরচন্্র কর

জাতীয়-সংগীতের

পুত্তক-সংস্করণ : প্রথম-প্রকাশ_ সেপ্টেম্বর ১৯৬২

পরিবেশক পারমিত-াপ্রকাশন কলেজ রোড

পোঃ বোলপুর, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ

মুদ্রণ ভগবতী প্রেস ১৪।১, ছিদ্রীম-মুদি লেন

কলকাতা-৬

প্রাপ্তিস্থান প্রেসিডেন্দী লাইব্রেরী ফার্মা কে. এল. মুখোপাধ্যায় ১৫১ কলেজ স্কোয়ার, ৬।১ এ, ধীরেন ধর সরণী

কলকাতা-১২ কলকাতা-১২

মূজ্য কুড়ি টাকা

জনগণমন-অধিনায়ক

রবীন্দ্রনাথ

লে

উৎসর্গ

“ভারতের মহাঞ্জাতীয়-উদ্বোধনের সেই আমাদের পুরো হিতবৃন্দকে” --প্রণাম।

“যে-ভারতবর্ষ মানবের সমস্ত মহং-শক্তিপুঞ্জদ্বারা ধীরে-দধীরে এইরূপে বিরাট- মৃতি ধারণ করিয়া উঠিতেছে, সমন্ত আঘাত-অপমান সমস্ত বেদনা যাহাকে এই পরম- প্রকাশের অভিমুখে অগ্রসর করিতেছে, সেই মহা-ভারতবর্ষের সেবা আমাদের মধ্যে সজ্ঞানে সচেতনভাবে কে করিবেন, কে একাস্ত অবিচলিত ভক্তির সহিত সমস্ত ক্ষোভ-অধৈর্ধ-অহংকারকে এই মহা*সাঁধনায় বিলীন করিয়! দিয়! ভারত-বিধাতার পদতলে নিজের নির্মল-জীবনকে পুজার-অর্ধ্ের তায়. নিবেদন: করিয়! দিবেন। ভারতের মহাঁজাতীয়-উদ্বোধনের সেই আমাদের পুরোহিতবৃন্দ কোথায়। তাহারা যেখানেই থাকুন, একথা! আপনারা ধ্রবসত্য বলিয়া জানিবেন,--ভাহারা চঞ্চল নহেন, তাহারা উদ্মত্ত নহেন, তাহারা কর্মনির্দেশশূন্ত স্পর্ধ-বাক্যের দ্বারা দেশের লোকের হৃদয়াবেগকে উত্তরোত্তর সংক্রামক-বাধুরৌোগে পরিণত করিতেছেন না; নিশ্চয় জানিবেন, তাহাদের মধ্যে বুদ্ধি হ্বায় এবং কর্মনিষ্ঠার, অতি অসামান্ত-সমাবেশ ঘটিয়াছে, তাহাদের মধ্যে জ্ঞানের স্গভীর শাস্তি ধৈর্য এবং ইচ্ছাশক্ির অপরাজিত বেগ অধ্যবষায়__এই উভয়ের সুমহত সামঙ্রস্ত আছে।

-পথ পাথেয়, রবীনত্রনাথ

1৬৬০ ডাব & 2-৮বাি ৬%১৫৬ 4৯ ৬৬০18 00 006 0101781 41010610001 [17018 ১০ 520 900131: 01810019 1091 [8010 1906 48072] ] 81000910081)88১ 0.0. 90190:, [0180 81010000, ৬68৫ 86108৯1,

রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষ

রবীন্্-সাহিত্যে যদি কোনো নিশ্চিততম ভিত্তি থাকে তবে তা বাংলাদেশ বা বিশ্ব নয়-ভারতবর্ষ। এই ভারতবর্ষকে একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড বলে মনে করলে ঠিক হবে না, ভৌগোলিক-তৃখণ্ডের মমাস্তরাল বহু-ছাজার বছরের সাধনায় একটি সত্তার সি হয়ে উঠেছে ভৌগোলিক যার ভিত্তি, আধিদৈবিক যার অবয়ব, আধ্যাত্মিক যার অন্তরাত্মা- রবীন্দ্রনাথ তাকেই ভারত-বোধ বলেছেন। ভারতোগপলব্ধি বলতে এই সত্তাকে আত্মস্থ করবার চেষ্টা ;_-তবে শুধু রবীন্ত্রনাথ নন, এদেশ ধাদের মহাকবি পদবী দান করেছে, ধর্মগুরু ব'লে স্বীকার করে নিয়েছে, তারা সবাই ভারতোপল্ধির সাধক, সবাই ভারত-পথিক। রামায়ণ মহাভারত, কালিদাসের কাব্য, তুঙগসীদাসের রামচরিত্ত-মানস গ্রভৃতি যাবতীয় মহাকাব্য ভারত-বোধকে আোতার মনে সঞ্চারিত করতে চেষ্টা করংছ। সেই ধারাই আত্ প্রোজ্জল পূর্ণ হয়ে দেখ! দিয়েছে রবীন্র- সাহিত্যে, গৌরাগিক-কাল থেকে প্রবহমান-ভাবধারার আধুনিকতম-মূততি রবীন্ত্রনাথে। এক-মময়ে ভারত-বোধের সাধন! সহজ ছিল, তথন ভারতীক্ব-ন্ীবনে উপাদানের জটিলতা! ব] বিরোধ ছিল না। কিন্তু মধ্যযুগের পর-থেকে প্রথমে ইসলাম পরে রস্টান এসে পৌছবার ফলে মে-সাধনা কঠিন হয়ে উঠেছে; তার উপরে আবার আমাদের স্বকৃত-ব্যাধি আছে- প্রাদেশিকতা-বোধ। এতগুলি বাধ! ভেদ ক'রে ভারতের মৃত্তি দেখতে পাওয়া সহজ নয়, কল্পিত অবান্তর বিতর্কের ধূলি-বধা আবহাওয়া এমনি আবিল ক+রে দিয়েছে যে, খুব ভালো! ক'রে ঠাহর করলেও সে-মূতি চোথে পড়তে চায় না, ফলে অনেকেই ভারতের আধ্যাত্মিক-সত্তায় অবিশ্বাস করতে আরস্ত করেছে।, এঁতিহালিকগণ এই সততার অস্তিত্বে অবিশ্বীস করেন, বলেন, অতীতে 'এফথনে! ছিল না) অকেজো-লোকের দল বলেন, ভবিষ্কতে এ-কখনে! হবে না। কেনন। বর্তমানে এযোধ নেই অপরপক্ষে, মহাকবি, ধর্মাচার্ মনীষী মহাশিক্পী- গণ এই বোধের বোধিপ্রম-তলগের সাধক, এই রসের রসিক, এই ভাবের ভাবুক-- ভারতোপলব্ধিই তাদের সাধনার ফ্রব-বিদ্দু। এখন এছু,য়ের মধ্যে কার কথ! বিশ্বাস- যোগ্য তা কচি, শিক্ষা! বিশ্বাসের দৃঢ়তার উপরে নির্ভর করে। রামারণ-মহাভারতের দিঘিজী রাজারা রাজহয় অশ্বমেধ-উপলক্ষ্যে যে এদেশ পরিক্রমা করতেন তা কি

3

কেবল সেকেন্দার-শা'র “শৌখিন দিপ্থিপলয়” মাত্র? আচার্য শঙ্কর দেশের চার-প্রাস্তে যে চার মঠ স্থাপন করেছিলেন তা কি তাৎপর্যহীন? মহাপ্রত যে নাম-প্রচারের উদ্দেশে ভারত-গ্রদক্ষিণ করেছিলেন তার কি কোনো! গভীরতর অর্থ নেই? মহামতি.আকবর হিন্দু ইসলাম জৈন প্রভৃতি ধম(য-উপাদান মিলিত করবার যে চেষ্টা করেছিলেন তা কি কেবল রাঁজনৈতিক চাল-মান্র? আর, বিবেকানন্দ গান্বীজির ভারত-ভ্রমণ কি নিরর্ক। আর, দর্ধোপরি, যুগের বেদব্যাস-হুল্য মহাকবি কেন বারে-বারে ভারতের সর্বত্র ভ্রমণ করেছেন? হেন প্রদেশ নেই, ছেন উল্লেখযোগ্য নগর নেই, যেখানে না গিয়েছেন, বসে কিছু-না-কিছু না লিখেছেন! কি কেবল কবিজনোচিত শৌখিন বিলাদ-সাত্র ! কায়েন মনসা বাঁচা ।--মনের দ্বারা অনুভব, বাক্যের বারা প্রকাশ, আর কায়ার দ্বারা স্পর্শ --সাধনার এই তিন-প্রকার উপায়। রবীন্দ্রনাথ মনের দ্বারা অন্গুভব করেছেন তাকে, আর, অবশেষে দেশের সর্বক্র পরিভ্রমণ করে কায়ার দ্বারা তাকে স্পর্শ করতে চেষ্টা করেছেন। পুজা সাঙ্গ করবার পর হচ্ছে দেবতার অন্দির-গ্রদক্ষিণ ;-যার অভ্যন্তরে বিগ্রহরূগী ভারত-ভাঁগ্যবিধাতা, তারই মন্দির এই ভারতবর্ষ। ভৌগোলিকও বটে আবার তার চেয়ে অনেক বেশিও বটে। “আননামঠে” এই ভারত-বোধের উদ্বোধন। অনেকের ধারণা “আনন্দমঠ,ও 'বন্দেমাতরম্‌'- সংগীত বঙ্গদেশ-সম্পকিত। লেখক বাঙালী বলেই ঘটনা-স্থান বাংলাদেশ, কিন্ত “আনন্দমঠে”র নায়ক পরিচালক বাঙালী নন, হিমালয়বাপী কোনো মহাপুরুষ। বঙ্িমচন্দ্র ভারত-বোধকে গ্রাদদেশিকতার উধ্বে স্থাপিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ তাকে স্থাপিত করেছেন ভৌগোলিক-ভারতের উধ্র্বে। আধুনিক যুগের প্রথম ভারতীয়- নাগরিক গোরা রক্ত-স্ত্রে আদৌ ভারতীয় নয়_-তবু তার চেয়ে বেশী ভারত-বোধের সার্থক-মাধক আর কে আছে? একজন আছেন। তিনিও বন্ত-সত্রে ভারতীয় নন-- ভগিনী নিবেদিতা আনন্মমঠ গোরা উপন্যাসের বক্তব্য এই যে, ভারতোপলব্ধির সঙ্গে ভৌগোলিক-ভাঁরতের সম্বন্ধ নিতান্তই আকম্মিক। মধ্যযুগে যে-মনীষীনব্যক্তি ভারত-বোধকে আত্মস্থ করতে চেষ্টা করেছিলেন সেই মহামতি-আকবরের ধমনীতে ভারতীয় রক্ত এক বিন্দুও ছিল না। ভারতবর্ষের হিমালয়ের মতোই গঙ্গা যমুনা ব্রহ্মপুত্রের মতোই ভারত-বোধ সনাতন এ-বুগে রবীন্ত্রনাথে এসে তা একসঙ্গে যুগোচিত যুগোভর অক্ষয় বাণী-মুতি লাভ করেছে। (কমলাকান্তের আসর, আনন্দবাজীর-পত্রিকা ২৯শে বৈশাখ, ১৩৭৬)

আশীর্বাদ

'জনগণ-মন” গানটি ভারতের 'জাতীয়-সংগীত” হয়ে ভারতবাসীর কঠে-কঠে আজ সর্বত্র গীত হচ্ছে। এই সংগীতের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তার যে সার্বজনীন-আ'দর্শ প্রকাশ করেছেন, তা কোনো! বিশেষ জাতির বা সম্প্রদায়ের নয় -বিশ্বজাতির সঙ্গে আত্মিক-সংযোগে সে-জাতীয়তার মুক্তি; এবং সে-মুক্তি শুধু দলের নয়, গোষ্ঠীর নয়,_দে-মুক্তি সমন্ত-মান্ষের মুক্তি, স্বজনের মনুয্বত্-বিকাশেই সে-মুজির সার্থকতা কেবল দেশের মুক্তি, রাষ্ট্রের মুক্তি বা! ধনের মুক্তি নয়,--মনের মুক্তি, সামাপ্িক-মুক্তি সবই রয়েছে সেই মুক্তির অস্তগতি হয়ে। মানুষ স্বাধীন, সমস্ত জগতে মানব-মুক্তির এই জক়গাথা ধ্বনিত হচ্ছে আমাদের এই 'জাতীয়-দংগীতে”। ভারতের মুক্তির আদর্শ এতদুর প্রসারিত যে, শুধু মানুষ কেন, চেতন-অচেতন জড়- জীব-সর্বকালের সকলের এবং জল-্থল-মন্তরীক্ষব্যাপ্ত সর্বলোকের সব-কিছুরই হয়েছে সে মুক্তিকামী মুক্তির পরম-প্রেরণাবাহী এই সংগীতকে মহান-নেতা। জওহরলালম্বীর নেতৃত্বে জাতি সেদিন সর্বোচ্চ-রাষ্ট্রমর্যাদায় “জাতীয়-সংগীতে'র পবিভ্র-মামনে করল প্রতিঠিত। অতঃপর, এ'কে গভীর ব্যাপকভাবে আরে!-ক্নপ্রিয় করবার জন্ঠ ষ্ঠ -ব্যবস্থার এক সংকল্প কেন্দ্রীয় তথ্য বেতার-দপ্তর থেকে হয়েছে প্রচারিত কবির সাধন?স্থল শাস্তিনিকেতনেও এবিষয়ে একটু চেষ্টা, দেখা দিয়েছিল। গুরুদেবের বছদিনের-অনুচর শ্রীন্ধীরচন্ত্র কর মহাশয় গুরুদেবের বইগুলি থেকে (১৯১১ সন অর্থাৎ “জনগণমন”-গান-রচনার আগ-পর্যস্ত) বাণী চয়ন সংযোজন ক'রে অতি নিষ্ঠা নিপুণতার সঙ্গে একটি পাল! রচনা করেন। প্রথমত তিনি গানটির রচনা-কালের বিখ্যাত “ম্বদেশ-ঘুগ' নিয়ে কাহিনীর পরিকল্পনা করেন, ক্রমে সেকালের সুপরিচিত ব্যক্তিদের আভাস-যুক্ত নানা-চবিত্রের লিপিবন্ধ-কর| নানা- ঘটনার সমবায়ে আলেখ্যটিকে বর্তমান-রপ দেন। এতে তিনি নিজে কিছুই বলেন-নি, সকলে সোজান্ুজি তাদের কবিকেই যাতে কাছে পায়, তারই ভাষায়, তারই কথা শোনে, তারই কথ। ভাবে সংলাপে সেমন্ত সংগৃহীত তারই বাণী সাজিয়ে সব বলেছেন। নাটকে এ-রীতি বোধ হয় অভিনব। এর আরো-বিশেষত্ব এই, --গুরুদেবের আদর্শের ব্যাখ্যাই ষে এতে মিলবে তা নয়, দেখা যাবে যে, তথ্যের সঙ্গে চরিত্রগুলিও প্রকাশ পেয়েছে অনেকটা বান্তবান্থগ হয়ে। আকারে তাঁরা ছায়া-রূপে থাকলেও চালে-চল্তিতে চিন্তে তাদের কোনোকালেই বিশেষ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়; সেকালের হয়ে যেন তার! একালেরও ; সুখছুংখ-সমস্যা-সংঘাত নিয়ে আজও তাদের আনাগোনা! এই আশেপাশেই ; আর, নাটকীয়-মাবর্তনের মধ্য দিয়ে দৃষ্রে-দৃষ্টে চলেছে যার! মুক্তি-সন্ধানে, দর্শক-রনপে-তাঁরাই যেন চলেছি আজ জীবনের পৃাঁকে- জড়িয়ে আমাদের-কালের সমাধানে ভাবে-ভাষায় কার্য-কলাপে যথাসম্ভব গুরুদেবেরই আদর্শের ভারসাম্য রক্ষা ক'রে তারা হয়েছে আমাদের চিরসঙ্গী। সঙ্গে আছে কবির

[ ১০ ]

সেকালের গানগুলি। উপরস্ত, আনন্দের বিষয়, শুধু আদর্শ নয়, কবির অপূর্ব- ব্যক্তিত্বের মধুর-ব্যঞ্জনাও উদ্দীপনাময় হয়ে লক্ষ্যে-অলক্ষ্যে সর্বত্র হবে অনুভূত

'জাতীয়-সংগীত সকলের জিনিস। শুরু থেকেই দেখি, যেখানে যেভাবে পেরেছেন_-লেখকের মূল লক্ষ্য রয়েছে-সকলের অনুভবে বিষয়টিকে মিলিয়ে দেওয়া পদ্ধতির বাধাবাঁধি বা কোনে! ্তর-বিশেষের উপভোগ্যতার ঝেঁক এতে প্রাধান্য পায়নি। “শ্বদেণী-যুগ”, “রবীন্ত্রনাথ “জাতীয়-সংগীত',-_একাধারে এই তিনটি-জিনিষের সংগতি রেখে আলেখ্যটি গড়ে উঠেছে। বলাবাহুল্য, বিষয়টি মহৎ_করে তুলতে পারলে এর প্রদর্শনী হবে তেমনি একটি মহৎ কাকজ-দ্রষ্টার চোখে এ/র সেই সম্ভাবনাটুকু এড়াবার নয়।

জিনিসটা যখন তথ্যালেখা, তখন তথ্যের আলেখ্য একেই গ্রন্থের কাজ মেটে বটে, কিন্তু দৃশ্ঠকাব্য নাটকের মতে! আলেখ্যের সার্থকতাও অপেক্ষ। রাখে প্রদর্শনীর এর নাট্য বা চিত্ররূপ ফুটিয়ে-তালার সে-কাজটি করবেন সৃষ্টিকুশল-কোনো-বহুদশী শিল্পী-জাছুকর। আপামর সকলের-উপযোগী করে এর রূপ-দেওয়া সহজ নয়। কতটুকু ছেড়ে কতটুকু জুড়ে কোথায় কীভাবে কী দিয়ে কী করবেন-_-জমিয়ে-তোলার সেই জাছু শুধু গুণী-গ্রযৌজকই জানেন। এক্ষেত্রে কেবল এইটুকুই বলার, তথ্যালেখ্যটি লাকসমাজে তথ! পল্লী ্রাণ-ভারতের পল্লীতে-পল্লীতে-যার! কিছু জানে না, খবরও রাখে না, তাদের মধ্যে সাড়া-জাগাবার বিশেষ আবশ্যকতা রাখে। কেননা তারাই জনগণের অধিকাংশ সেদিক থেকে গুরুত্ব আছে এর প্রারম্ভিক 'মুক্তিক্রন্দন-নামক অংশটিরও | কারণ, মংক্ষেপে আগে তার থেকে শুরুতেই ভারতের এঁতিহাসিব-ধারাটি না বুঝে নিলে কাহিনীর কাল-নির্য়ে পরব্তী-ঘটনা-অনুমরণে কারো-কায়ে! একটু অসুবিধা হতে পারে। পক্ষান্তরে, ছায়াছবি বা মৃকাভিনয়ে সেটুকু প্রশ্ছুট দেখত পেলে গল্পের বাকি-মংশ গুরুদেবের বাণীধার৷ সকলের পক্ষেই বোঝ! সহজ হবে এবং আশা! করা যাঁয় যে, তার থেকে গুরুদেবের আদর্শীনুষায়ী লোকচরিত্র-গঠন সংস্কতি-বিস্তারের কাজও কিছু-কিছু ক'রে নানা অঞ্চলে না- চলতে পারে এমন নয়। সেইজন্তেই শহরে গ্রামে শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে নানাস্থানে নানাভাবে এর বহুল-গ্রচার বাঙ্নীঘ়। লেখাটি পড়ে ভালো লেগেছে-_ আশীর্বাদ করি, সুধীরবাবু তার গ্রয়াসে সফলকাম হবেন।

প্রতিম! বেবী

শ্্রীন্ঘধীরচন্্র কর অল্প-বয়সেই 'অভয়-আঁশ্রম+ থেকে শান্তিনিকেতনে আমেন। প্রথমে এসে আশ্রয় পান বিশ্বভারতী-লাইব্রেরিতে আমার কাছে। তখন থেকেই তাকে জানি--দে আজ কত বংসর হয়ে গেছে। তখন তার বিদ্যার পুঁজি ছিল অল্প _ কিন্তু একাগ্রত| নিষ্ঠা দিয়ে সব অভাব পূরণ করে নেন। কালে বাংলা-মাহিত্যের ক্ষত্রে_-বিশেষ ক'রে ববীন্-সাঘিত্যে নিজের স্থানটুকু ক'রে নিয়েছেন। তবে এই মাহিত্য-পরিচয় ছাড়াও আর-একটি পরিচয় আছে, তা সর্বজনবিদিত নয়। অভয়- আশ্রমের গান্বী-শিক্ষা তাঁকে একদিন রবীনত্রনাথের জীবনাদর্শের লাথে সমদ্িত করেছে। শান্তিনিকেতনে অতি-্্ীনভাবে যে 'সংস্কার-সমিতি” স্থাপিত হয়, মধীরচন্্ ছিলেন তার নীরব-বর্মী--প্রাণ-্বরূপ | জগগণের মধ্যে মিলেমিশে তাদেরই একজন হয়ে ছিলেন। মনে পড়ছে, এই তুবনডাঙা-গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ*মানুযদের নিয়ে তিনি নানা-কর্সে নিজেকে ব্রতী করেছেন। তাদের রবীন্ত-সংগীত শিখিয়ে দল বেধে ঘুরেছেন গ্রামে, শহরেউদ্দে্ট কবির বাণী-প্রচার। আন তিনি প্রোচান্তে উপনীত, আমি তো অতি-বৃদ্ধের কোঠায় এসেছি। তার সাহিত্য-দাধনা সার্থক হোক--এই আমার আশীর্বাদ

্রপ্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

ভূমিকা

ভারতবর্ষের জাতীয়-সংগীত “জনগণমন-অধিনায়ক"-গানটি গুরুদেব-রবীন্নাথের একটি আকম্মিক-রচনা নয়। তাঁর কবিচিত্তের বহুমুখী-প্রতিভার শ্ছুরণ একদিনে হকনি। তাঁর মানসিক-ভ্রমবিকাশের একটি সুদীর্ঘ-ইতিহাম পরিলক্ষিত হয় তার নানা-রচনার মধ্যে জোৌড়া্সীকোর স্থবিখ্যাত ঠাকুর-বাড়ীর মধ্যে যে একটি নির্মল আবহাওয়| নিত্য-গ্রবহমান ছিল সেকথা সকলেই জানেন। সে-বাড়ীর ছেলেমেয়েদের মধ্যে স্বাদেশীকতার যে প্রেরণা ছিল তার কিছুটা আভা পাওয়া যায় তখনকার-দিনের ““ম্বদেণী-মেলা'র অগষ্ঠান থেকে রবীন্ত্রনাথও যে সেই শ্বদেশ- প্রেমের প্রেরণায় অন্গপ্রাণিত হয়েছিলেন তা তিনি নিজে বছ রচনায় বক্তৃতায় বলে গিয়েছেন। বঙ্গভঙ্গ-জনিত স্বদেণী-আন্বোলনের উতলা-হাওয়া যে তৎকালীন যুবক-ছাত্রদের মধ্যে আশ! উদ্দীপনা স্জন করেছিল তা সর্বজনবিদিত। সেই সঙ্গে ঘুক্ত হয়েছিল পল্লীগ্রামের অধিবাসীদের দৈনন্দিন স্থখছুঃখের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ধনিষ্ঠ-আত্মীয়তা। এই মকল ঘটনার সমাবেশে কবিচিত্তের যে ক্রমবিবর্তন ঘটেছিল তার নিখৃ'ত-হবি দেখতে পাওয়া যায় গুরুদেবের কবিতায়, গানে নানা-প্রবদ্ধে। গুরুদেবের মনোলোকের ক্রমবিকাশ যে চরম-পরিণতি লাভ করেছিল তার “জনগণমন-অধিনায়ক'-গানে তাতে সন্দেহের অবকাশই নেই। সুতরাং, এ-্গাতীয় সংগীতের মর্মার্থ উপলব্ধি ক'রে তার সুগভীর রসসম্ভোগ করতে গেলে সেই গানের প্রাচীন-ইতিহাসের কিঞ্চিদধিক জ্ঞানের বিশেষ প্রয়োজন নিশ্চয়ই আছে। আমাদের সহকর্মী শ্রীন্ধীরচন্্র কর আমাদের জাতীয়-দংগীতের পটভূমিকার সঙ্গে জনগণের ্রতক্ষ-পরিচয় সাধনের উদ্দেশ্টে গুরুদেবের বাণী গীত চয়ন ক'রে এই তথ্যালেখ্যটি রচনা করেছেন। লেখক, কবিচিত্তের ক্রমবিকাঁশটিকে পরম্পরায়-ক্রমে কবিরই ভাষায় পরিস্কুট ক'রে তুলবার প্রয়াস করেছেন। আমাদের জাতীয়-সংগীতটি যে গুরুদেবের দ্ব্দেশ-গ্রীতির ক্রমবিকাশের স্বাভাবিক পরিণতি সে-কথাটি সর্বসাধারণের জ্ঞান-গোচরে আনার জন্যে শ্রীযুক্ত করের প্রয়াস যে বহুলাংশে সফন্তু হয়েছে তাতে নন্দেহমাত্রও নাই গানখানির রস-গ্রহণে জনসাধারণকে সহায়তা ক'রে প্রযুক্ত কর আমাদের সকলেরই ধন্যবাদ-তাঁজন হয়েছেন।

প্ীনুধীরঞন দাস

গ্রন্থকারের নিবেদন

বিশ্বের জনগণের যিনি অধিনায়ক, তিনি আর কেহ নন,২-ভগবান। দেশে- কালে তিনি জনে-জনে বিচ্ছিন্ন হয়েও, জনে-জনের মধ্যে আবার সংহত-রূপে-ও তিনি-ই হয়ে আছেন এক অখণ্-অনস্ত-সত্তা তিনি মকল-দ্েশের মতো ভারতেরও ভাগ্য-বিধাতা” ।--একই-কালে বিচ্ছিন্নতা সংহতির এই মিলিত-আদর্শ এবং এই আদর্শের উদগাঁতা _রবীন্ত্রনাথকে তার মহান-দানকে ভারতবাসী-আমর! আমাদের প্রতিদিনের-স্্রীবনে একই-কালে একত্রে মিলিয়ে সবচেয়ে সহজে পাই কোথায়? পাই তার 'জনগণ-মন"-গানে, পাই আমাদের “জাতীয়-সংগীত/-টিতে।

ভারতের 'জাতীয়-সংগীতের এই পুস্তক'সংস্করণ প্রকাশের সময়, এস্থলে গ্রসঙ্গত একটি-কথ। বিশেষভাবে উন্লেখষোগ্য এই সংগীত নিয়ে একটা -কিছু-করার আদি-পরিকল্পনার ছোটো একট! খসড়া প্রথম মুদ্রিত হয় ১৯৪৯ সনের ডিসেম্বরের দৈনিক “সত্যযুগ' পত্রিকার রবিবারীয় ছুটি সংখ্যায় আর তারপরে ১৩৭০ সনের ৭ই ৮ই পৌষে শীস্তিনিকেতনের বাধিক-উৎসব মেলা এবং তার সঙ্গে বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানও চলছিল 'রবীন্ত্র-শতবাধিকী+-রও তখন উদ্যাপন-পর্ব। প্রতিষ্ঠানের সেমাবর্তন*-আচার্যরূপে ভারতের তৎকালীন জাতীয়-সরকারের প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় জহরলাল নেহেরু এসেছিলেন তার নিয়মিত বাধিক-শাস্তিনিকেতন-পরিক্রমায় | ইত্তি- পূর্বে €জনগণ-মন,-সংগীতকে তিনি ভারতের রাষ্ট্র-সংগীতের মর্যাদায় প্রতিষিত করেছেন এবারে দেশের রাষ্ট্রনায়ক বিশ্বভারতীর-আচার্য অহরলালের হাতে লেখক-রচিত রবীন্দ্র-শতবাধিকী-অর্থ্য “জনগণের রবীন্দ্রনাথ, শীস্তিনিকেতনের শিক্ষা সাধনা,-:এই ছু*থানি-গ্রস্থেরই সগ্ভ-মুদ্রিত ২য়-সংস্করণের ছু'খানি কপি অর্পণ করে শ্রদ্ধানিবেদনের যে-সংকল্প মনে-মনে এতদিন পোষণ ক'রে আসছিলাম, অনুগ্রহ ক'রে আশ্রম-কর্মীকে ত৷ পূর্ণ করবার স্থুযোগ ক'রে দিয়েছিলেন তৎকালীন- উপাচার্য শ্রদ্ধেয় স্্রীযুক্ত সুধীরপ্রন দাস মহাশয় | কিন্ত, দুর্ভাগ্যের বিধয়,_ প্রচ্ছদ-পট বাঁধাইয়ের অসম্পূর্ণতার হেতু শেষ-মুহূর্তে উক্ত-্রনথদ্বয়ের পরিবর্তে নিরুপায়ে আমারই সগ্ঘ-প্রকাশিত আরেকথানি গ্রন্থ (কল্যাপএতী রবীন্দ্রনাথ, এবং জনগণের রবীন্দ্রনাথের ফাইল-কপি এই-ছুখানিই-মাত্র উত্তরায়ণ-প্রাজণে হ্ল্লাবকীশের মধ্যে নেহেরুজীর হাতে উপহার দেওয়! হল। সেই সঙ্গে শেষোজ গ্রন্থ-শেষে-সুদ্রিত “জাতীয় সংগীতে'র তথ্যানেখ্য-রূপ একটি অধ্যায়“মাকার হ্ুত্র-আংশিব-স্বেচটির কথা-ও উপাচার্যমশায় মুদ্রণাংশ দেখিয়ে অবস্থার আকণ্মিক-বিপর্যয়ের বিষয় নেহেরুজীকে লব বুঝিয়ে

[ ১৪ ]

বললেন ঘটনাটি সামান্ত, কিন্তু এগ্স্থের আদি-পর্বে এটি ঘটে আছে বেদনাদায়ক হয়ে। বহুদিনের হলেও সেই একটি-দিন নেহেরুজীর হাতে প'ড়ে তার শুভেচ্ছাময় শ্মিতহান্তমাথা সেই প্রসৃষ্টি-আালোর স্পর্শটুকুতে ধন্ত-হবার সৌভাগ্য লাভ করেছিল ্রস্বশেষে সন্লিবিষ্ট এখানকার তুপনায় স্বতকত্রাকার ক্ষুদ্র স্বেচখানিও। বইটি বের হলে, পাঠিয়ে-দেবার কথা উপাচার্ধমশায় যদিও নেহেরুজীকে সে-সময় ব'লে রেখেছিলেন, কিন্তু, তার-পরেই দৈবের দুরস্ত-বাধায় চিরত্তরেই সে-দেওয়া রইল অদেয় হয়ে। কেবল, অতি-বেদনার মধ্যেও তখন থেকেই সেদিনকার সামান্ঠ এই ঘটনা অন্তরে অবিশ্বরণীয় এক পুণ্যস্থতি হয়ে বিরাজ করছে) এবারে,_-কষুত্র বা আংশিক-স্কেচ, নয়, তথ্যালেখ্যটির এই পূর্ণাঙ্গ-গ্রন্থ প্রকাশের-ক্ষণে আমি সেটুকু স্মরণ ক'রে স্বর্গত সেই মহানায়কের উদ্দেশে আমার প্রণতি জানাচ্ছি দীর্ঘ ন'বছর পরে দর্শকদের পত্রে সম্প্রতি জানলাম, যা! দিয়েছিলাম, দিল্লীতে ত্রিমুতি-ভবনে মহাহ্ুভব-নেহেরুজীর ব্যক্তিগত-গ্রস্থাগারে সে-গ্রন্থ (কল্যাণব্রতী রবীন্ত্রনাথ ) আজো স্ুরক্ষিতই আছে।

কিন্তু, দ্বিতীর়-সংস্করণ ;জনগণের রবীন্দ্রনাথ-গ্রন্থখাঁনি ছিল রবীন্দ্র-কেন্দ্রীক মূলত প্রবন্ধেরই গ্রন্থ; তার শেষ-অধ্যায়ে-সন্গিবেশিত উক্ত অংশিক-স্কেচ-আকারী “তথ্যালেধ্য'ট-ও সাময়িক-পত্রে বিশেষভাবে উল্লেখিত প্রশংসিতই হয়েছিল। গ্রন্থের ভূমিকায় জানানো ছিল যে, "-_শেষোক্তটি শ্বতস-গ্রন্থাকারেই প্রকাশিত হবার বিষয়।” সাপ্তাহিক “অমৃত” লেখেন, “কবির বাহির অন্তর্জীবনের কর্ম ভাব যে গানের উৎমস্থলে 'ওতপ্রেতিভাবে জড়িত, লেখক তার পরিচয়-দানের চেষ্টা করেছেন। প্রাসঙ্গিক হলেও এই অংশটুকু মূল-গ্রন্থ থেকে ভিন্ন ক'রে প্রকাশ করাই যুক্িযুক্ত হত মনে করি।” (২৯ জষ্ট, ১৩৭১) “আনন্মবাজার-পত্রিকা” লেখেন, ”( “ভারত ভাগ্য- বিধাত।”-নামক ) তথ্যালেখ্যটিতে মূর্ভ হয়ে উঠেছে এ-গ্রস্থের মূল বক্তব্য। সামাজিক তাৎপর্ষের ভিত্তিতে রবীন্ত্র-সমালোচনায় এই তথ্যালেখ্যের গুরুত্ব অসামান্ত হয়ে রইল ।” (১৭ই জান্টয়ারি, ১৯৬৫ )।-_-আজ এই--উপলক্ষে আমি এঁদের প্রাতি কতজতা জানাই বর্তমান পূর্ণাজ-পুত্তক-সংস্করণটিও তাদের শ্রীতি-অর্জনে সমর্থ হলে ধন্ত হব।

উপরোক্ত মন্তব্যাদির থেকে দেখা যাচ্ছে -স্কেচ-আকারে হলেও উক্ত প্রবন্ধ" সংস্করণটি রচনা-স্বাতস্তর্ে উল্লেথযো/গ্যই হয়েছে। এমনিতেও মুদ্রিত-আকারে স্বেচটি দেখে কেউ-কেউ বলেন, বিষয়টি “জাতীয়-সংগীত” ব'লে এট সর্বভারতীয়-আ গ্রহের জিনিস। সুতরাং, এটকে বৃহত্তর-আকারে পূর্ণাঙ্গ ক'রে সর্বত্র-দর্শনীয় এবং নানা জ্রপে রসে মনোরঞ্জনীয়-তর ক'রে জনগণের দৃষ্টি-আকর্ষক-ভাবে ূপাস্তরিত করা

| ১৫ ]

আবশ্তক। আমি সেই জন-আগ্রহের নির্দেশ-অন্ছসারেই এবারে নানা-আঙ্গিকের প্রসাধনে সাঞ্িয়ে তথ্যের ভিত্তিতে কাহিনী আরো সম্প্রসারণে, গোটা-গ্রন্থকে সোজাস্জি জাতীয়-সংগীতেরই ক্র স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তির সহায়ক নব-নামে নব-মানে 'জনগণ-মন-অধিনায়ক*-করে গড়ে তুললাম অবশেষে আকারে-গ্রকারে বিচিত্র হয়ে সকল-কিছুরই প্রকাশ ঘটল এই পুস্তক-সংস্বনণে। এ-সংস্করণটির সবটাই হল মুলক না্যধর্মী।

ত্বদেশী-আন্দোলনে'র-সময়কার কবির ভাষাতেই কবির মনের-কথাগ্তলি সকলে যাতে শুনতে পায়, জনগণের সঙ্গে সোজাসুজি সেই রবীন্দ্র-বাণীর সংযোগ-সাধনই এই «“আলেখা'-রচনার বেলায় লেখকের ছিল একান্ত-সংকল্প ১৩১৮ সন পর্যন্ত লিখিত কবির নাটক, চিঠিপত্র, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপস্তাস সম্পাদকীয় ইত্যাদি নানারকমের-রচন! থেকেই এসমস্ত বাণী সংগৃহীত হয়েছে তথ্যালেখ্যের কাহিনী প্রযোজনার-নির্ধেশক-অংশগুলি গ্রন্থকারের

সাধারণ-রসিক-সমাজের নিকট কাহিনীর সুসংগতি তার নাটকীয় হি মিলে" নাটকের রপোত্বীর্ণতাই হবে মুখ্য-বিচার্য ; তাঁর-উপর, কারো-কারো! থাকতে পাঁরে রবীন্ত্র-উদ্ধতির নির্েশিকা-সংযোজনের প্রশ্ন কিন্তু, এমনিতেই লেখাটির আকার হয়েছে (নাটক-হিসাবে ) অতি-বৃহৎ এর পরে প্রামাণিকতার জন্য এর পিছনে উদ্ধতির নির্দেশিকা দিতে গেলে বইখানি দামে দর্শনে মাপ ছাড়িয়ে যাবে, _এই আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে সে-কাজে নিবৃত্ত থাক! গেল। “রবীন্ত্র-রচনাবলীতেই প্রায়-সব-উদ্ধতির উদ্দেশ মেলার কথ! | তাতে অন্ততবড়-বড় উদ্ধৃতিগুলির খোজ মিললে, আনাঁচ-কানাচের টুকিটাকি কয়েকট] নাট কীয়-ধর ত1-বুলির পাঠ নিয়ে ভাববার কিছু নেই। বলা-বাহুল্য, সেটুকুর দায় গ্রস্থকারেরই নাটকের প্রয়োজনে স্থল-বিশেষে যোগ-বিয়োগের এনপ স্বাধীনত। লেখকের আছে এবং তা চিরদিনই সর্বঞ্জন-স্বীকৃত।

তথ্যালেখ্যটি ইতিহাস নাটক এই ছু'য়েরই উপকরণ ভঙ্গির সংমিশ্রণে রচিত ধরতিহাসিক-নাটক তো চিরকালই চ'লে আসছে। এ-শ্রণীর রচনাকে কতকটা নাটকীয়-ইতিহাসের পর্যায়ে ফেল! চলে কিন বিবেচ্য বিস্তৃত স্থান, কাল, পাত্র" পাত্রী ঘটনাবলী নিয়ে নান! বাধার মধ্য দিয়ে যথাসম্ভব গ্রন্থনার সংগতি এবং সে- সঙ্গে গতিবেগও বজায় রেখে চালিয়ে নিতে হয়েছে 'এই সপ্চ-পর্বে-পরিব্যাপ্ এর সমগ্র- কাহিনীটিকে। এতে, পরিকল্পনার বিস্তৃতি বাঁধুনি থেকে এর প্রকাশ, পরিবেশনা- পর্যন্ত সর্বস্তরেই যে কী-ছুরহ প্রয়াস, ধৈর্য, শ্রম, বিচার-বিবেচনা প্রয়োগ করতে হয়েছে তা কিছু-না-কিছু সকলেরই কাছে অনুমেয় হবে, মনে করি।

[ ১৬ ]

্রন্থথানিকে আশাহ্ুরূপ সম্পূর্তা দিতে গিয়ে জাতীয়-সংগীত-“জনগণ-মন+- রচনার পূর্ববর্তী--(১) জাতীয়-ইতিহাসের আন্পুবিক ধারা,

(২) জাতীয়-সংগীত রচনার সমসাময়িক পটভূমি, তথা “্যদেশী- আন্দোলন,

(৩) জাতীয়-সংগীত-রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ,

(৪) রবীন্ত্রনাথ-রচিত তৎকালীন অন্ান্ত স্বদেশ-সংগীতমালা,

(৫) 'জনগণমন+-সংগীত-রচনা জাতীয়-কংগ্রেসে জনগণের মধ্যে এই সংগীতের প্রথম-প্রকাশ্র-পরিবেশনা,

(৬) ভারতীয়-গণপরিষদে” জাতীয়-সংগীতের শ্বীকৃতি-লাভ বিশ্ব- জনীন শ্রদ্ধার্ধের অনুষ্ঠান-বিবরণ,

(৭) ভারত-্রাষ্ট্রের ভাবাদর্শের প্রেরণা এবং বাস্তবে সেই প্রেরণার জনসামাজিক প্রতিষ্ঠা-সাধনার উপযোগী রবীন্দ্র-পরিকল্পনার রূপায়ন,

এতগুলি বিষয় নিবন্ধ কর! আবশ্যক হয়ে পড়ে তাতে গ্রন্থখানির আকারও স্বভাবতই বৃদ্ধি পায়। এ-সবের সমাবেশ ক'রে গ্রন্থটিতে দাড়ায় প্রায়-স্বয়ং-সম্পূর্ণ সাতটি-পর্ব। যথা-_ (১) মুক্তি-্রনদন (২) রাখী-বন্ধন (৩) মাল্য-চন্দন (8) জয়-স্যন্দন ( জয়-রথ ) (৫) অভিবন্দন (৬) দিকৃ-স্পন্দন (৭) মত্য-নন্দন : ১ম অংশ-_-লোকমাতা ২য় অংশ--ভুথা-ভগবান

গ্রন্থের গ্রথম-পর্ব “মুক্তি-ক্রন্দনে দেখ যাবে, রাষ্ট্রিয-বহিঃ-শক্তির দ্বার! অত্যাচারিত হয়ে মুক্তিকামী-ভারতবাসীর মনের বিচ্ছিন্ন চাপা-ক্রন্দন এখানে-ওথানে ক্রমবর্ধিত হচ্ছে। দ্বিতীয়-পর্ব “রাথী-বন্ধনে দেখ! যাবে, সেই ঘনীভূত বর্ধিত রুদ্ধ-বেদনা-থেকে বঙগদেশে "শ্ঘদেশ-আান্দৌলনে”র উদ্ভব হয়েছে। তৃতীয়-পর্ব 'মাল্য-চন্দনে” দেখা যাবে,-সরকারী-আইন-অমান্তের অভিযানে সংঘবন্ধ-গণশক্তির যাত্রা-প্রস্ততি | চতুর্থ- পর্ব “ভয়-স্ন্দনে' দেখা যাবে,-ত্বদেশীদল সরকারী -পক্ষে সংগ্রাম বেধেছে, এবং

| ১৭ ]

ত্বদেশীদলে শেষে জয়োৎসবের-উদ্ঠোগ হচ্ছে পঞ্চম-পর্ব “অভি-বন্দনে দেখা যাবে, -কলকাতায় কংগ্রেসের-অধিবেশনে ছ্বদেশীদলের-বিজয়োৎসবের জয়গীতি-রূপে' “জনগণ-মন-অধিনায়ক”-এর প্রকাশ্তে আদি-আবির্ভাব। যষ্ট-পর্ব “দিকৃ-্পন্দনে” আছে, 'জাতীয়-সংগীতে”র এই আবির্ভাবকে ভারতীয়-গণপরিষদে সরকারী-ম্বীক্কাতি দান এবং গানটির প্রতি দেশবিদেশেরও শ্রদ্ধার্থ-দান-অনুষ্ঠানের বিবরণী আর, সর্বশেষ সপ্তম-পর্ব 'মর্য-নন্দনে, মিলবে, -জাতীয়-আন্দোলনের মূল-প্রেরণার- অনুসারী একটি ছুই-অংশে-বিভক্ত রূপক-নাট্যোপাখ্যান।

গোটা-তথ্যালেখ্যাটিতেই বান্তবকে অনুসরণ করা হয়েছে ইহগিত-মাত্রে,শুধু নদুর- অতীতের তৎকালীন সম্ভাব্য-সথত্রুকু মনে-পড়িয়ে-দেবার জন্ত কারণ. এটি একথানি 'আলেখ্য”। কবিই একস্থলে বলেছেন,-“আলেখ্য ফোটে! নহে, আভাস মাত্র।” এটিও তথ্যের-আভাস দিতেই. অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সব-কিছু মিলিয়ে গানটির একটি ভাবমূতি গঃড়ে-তুলতেই,-লেখা এবং তদনুযায়ী নানা-আঙ্গিকে লেখা কবির লেখাগুলির মধ্যে নির্দি্ট করে কারো নাম-ধামের তেমন উল্লেখ না-থাকলেও এ-তথ্যালেখ্যে অভিনয়-রসন্থষ্টির সহায়তা দর্শকদের অভিনয়-উপভোগের স্থবিধার্থে প্রধান-প্রধান পাত্রপাত্রীদের আভাসিক-ভাবে ছায়া-নামযুক্ত কর! হল। তাদের মধ্যে মূল নামী-ব্যক্তিদের আদল কিছুটা মিলবে আশা! করা যায় শুধু ব্যক্তি নয় _ব্যক্তিগুলির মতে। অনেকম্থলে অনেক ঘটনাও একেবারে বাস্তবত যথাযথ না-হলেও প্ররুতপক্ষে তার! হল ব্যক্তি বা ঘটনাবলম্বনে রূপক-আঙ্গিক-মুিধারী এক-একটি ভাব (1৫62 78:5011560) | ষার| বিশেষজ্ঞ বা তথ্যানসন্ধানী হবেন নিশ্চয়ই তার! “আভাসে”র কুষ্নাশা সরিয়ে ভাবচ্ছায়া-রূপী পাত্র-পাত্রীদের প্ররুত-পরিচয় অনুমান করতে পারবেন, বা,সমসাময়িক পত্র-পত্রিকায় তাদের এ-সম্পকিত অনুসন্ধানও ফলপ্রদ হতে পারে।

এগ্রস্থের যেখানে যে-সংলাপ বা ঘটনা-বিন্তাস ঘটেছে, তাদের সকলের মূল এবং বর্তমান-আহ্ৃতাংশ, এই-উভয়-ক্ষেত্রের ভিত্তিতেই যে একই-রূপের মিল,--সর্বত্র তা না-ও থাকতে পারে $ কিন্তু ভাবে-রূপে কিছু-না-কিছু আভাসিক-মিল পাওয়া অসম্ভক নয়; কারণ, তা না হ'লে, সংত-সংলাপগুলি যথোপযুক্ত-ভাবে পান্র-পাত্রী, পরিবেশ ক্রিয়া-কলাপেতে গল্পাংশের-আবশ্বকীয়-বাস্তবের-আভাসটুকু জোগাবে কী ক'রে?

তবে, খুব-বেশী-একটা বাস্তব-মিলের অভাব-ই কোথাও যদি থাকে, তা নিরর্থক শাও হতে পারে। কারণ, সেই অভাবটাই আবার আরেক-রকমের কাজও দিতে পারে ।--েছেডু তাতে বিষয়ের শুধুইজিতটুকু থেকেই, পাঠক দর্শক-সাধারণ নিজ- নিজ কল্পনা! খেলিয়ে পুরো-সত্যটাকে আবিফারের একট। চমক-টপভোগের সুযোগও ফে,

[ ১৮]

'অনেক-সময় পেয়ে থাকেন কিনা আর, বলা-বাহুল্য না-বলাটাও যে অনেক-মময় বলার চেয়ে বেশি-অর্থবহ হয়ে থাকে সেই আবেদন-তাৎপর্যেই তো সংসারে:হালের খরনটা হচ্ছে সববিষয়েই একটু রেখে-ঢেকে বলা কেননা, এই ঝাপসা-আব ছায়ার উপরেই চলে ভাধুনক-ব্যঞ্জনাময়-বিলিমিলি-খেলা আধুনিক-কাব্য তো বটেই, এমন কি, নাটকের-রাড্যটিও “আযাব সার্ড এই ঝিলিমিলি-আজিকের অধিকারেই ক্রমশ ভলেযাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের গানেও যে রয়েছে, আমার না-বলা বাণীর ঘন-যামিনীর মাঝে কবির প্রতাক্ষগত, ভুত, পঠিত, বা আলোচিত-_নান! উপায়েই-লন্ধ নানা-ঘটনা দিনে-দিনে ক্রমে কবির ধারণাতে, স্থৃতি-বিস্বতিতে, ভাবনাশচিস্তায় পাক খেয়ে-খেয়ে, বা, শ্বপ্রেধ্যানে জারিত হয়েও তার প্রেরণা, পরিকল্পনা সিন্ধান্তগুলিকে নান! সময়ে উদ্দীপ্ত ক'রে তুলেছে এবং সোজাস্প্তি-মৌলিক-ভাবে ব৷ রূপান্তরিত-মিশ্রিত- 'ভাবে-ও সাহিত্যের সর্ববিধ-রচনায় বিচিত্র-ভঙ্গিতে সে-সব-উপলন্ধি প্রকাশ-ও পেয়েছে। »তাই, সে-সকলকে শুধু সাহিত্য-বিলাসের অবান্তব-উপাদান ব'লে উড়িয়ে দেওয়া 'কিংব! সে-দব থেকে উপাদান সংগ্রহ ক'রে অন্ত-কাঁরে! পক্ষে সাহিত্যের-কাজে-ও তা ব্যবহার করা চলে কিন1, বলতে পারবেন তা তথ্যনিষ্ঠ বিদগ্ধ রসিক-সমাজই | তবু, আপাতত 'জনসাধারণ'-মামর1-আমাদের অভ্যন্ত গ্ুল-বান্তবের পথ ধ'রে- "ধ'রে কবির এ£ষ্ট "লিপিকা”-র “ভুল দ্বর্গেঁ উঠে মাঝেমাঝে যদি বদ্ধ-মনে একটু মুক্তির-হাওয়! লাগিয়ে নেই আর তাতে যদ্দি ভ্যাপসা-গুমোট থেকে একটু বেচেই যাই, ভাতে কার কী ক্ষতি? এসঙ্গে ম্মর্তব্য কবিরই "স্বর্গ হইতে বিদায়” এবং “ভাষা চছন্দ'-কবিতার পংক্তিগুলি। 'রামায়ণ-রচনার শুরুতেই বান্মীকি, নারদ-মুনিকে যখন বললেন-_ ইতিবৃত্ত রচিব কেমনে, পাছে সত্যত্রষ্ট হই, _এই ভয় জাগে মোর মনে। তখন নারদ বান্সীকিকে আশ্বাস দিয়ে তার দ্বিধা-সমাধানে বললেন -- সেই সভ্য যা রচিবে তুমি ঘটে যা! তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি অধোধ্যার চেয়ে সত্য জেনে | রামের এই ভাবষৃতির সাহিত্যিক-সত্য দিয়ে কাঁলে-কালে আদি-মহাকায্যের সঙ্গে অনুমান-নির্ভর হয়ে যদি দুর-এঁতিহাসিক-আভাসের কাজও আজপর্যস্ত সমানে চলে আসতে পারে, তবে, সেই রীতি ধরেই কিছুটা কি আশা করা চলবে না যে,

[ ১৯ ]

একালের এই আভাস-আঙ্গিক তথ্যালেখ্য,__সে যতই তুচ্ছ হোক, তা-থেকেও 'জাতীয়- সংগীত”-বিষয়ে জনগণের কিছু উপলব্ধি এবং উপভোগের কাজটাও একেবারে অচল না-ও হতে পারে

'রামায়ণে'র কাবা-দলিলটি লিপিবদ্ধ হবার আগে, “সাহিত্যের-সত্যে"্র সনাতন- রায়টি-সন্দ্ধে নারদের জবানীতে নিষ্জন্ব-অভিমতের পূর্বোক্ত কাব্যিক-প্রকাশ ঘিনি রূরে গেছেন, তার জীধন বাণী-সংপৃক্ত বিচিত্র এই তথ্য-কাহিনীতে বাস্তব-সত্যের যাচাই-স্থলে কোন্‌ দৃশ্ঠ, কোন্‌ পাত্রপান্রী বা কোন্‌ ঘটনাকে কে কী-ভাবে নেবেন, তাঁর দায়িত্ব জনগণের নিজেদের জ্ঞান রুচির উপরেই ছেড়ে দেওয়া শ্রেয় মনে করি।

তবু এ-দিধা-্বন্দের মীমাংসা-ক্ষেত্রে, সাহাযা-ন্বরূপ, একাধারে সাহিত্যিক ধ্রতিহাসিক এক প্রখ্যাত-শিক্ষাবিদ্‌্-এর এ-গ্রন্থের-ই “গুভেচ্ছা+-অংশে-যুক্ত বিশিষ্ট- অভিমতটির উল্লেখ ক'রে রাখা যেতে পারে তাঁর মতে, পাঠক-দর্শক-সকলের পক্ষে প্রথম-থেকেই স্মরণীয়, এ"গ্রন্থের বিষয়-বস্তর পৰিবেষণাটি 'জীবনী,-আঙ্গিক নয়, _-তা «নাট্যাঙ্গিক?।

তবে, সেই পরিবেষণ! নয়, বিষয়ের মহিম! বা বিশেষ-আ্গিক-ও নয়, আসল হচ্ছে _-ভাবমুত্তিটির উদ্ভাস, যা-থেকে নির্বঝরিত-প্রোৎসাহ নিয়ত অন্ভূতিকে এক-লক্ষযে আকধিত আগ্ুত করে চলেছে কবির সেই নেপথ্যগত অনৃশ্ঠ বিদেহী-সত্তাই আমাদের মতো মুককে বাচাল করেছে আর পঙ্থুকেও গিরি-লজ্যনের ছুশ্টেটায় প্রবৃত করেছে; তার ফল কী হয়েছে, তা গ্রন্থ প'ড়ে গুরুদেবের প্রিয়-জনগণ+ই বিচার করবেন।

এই তথ্যালেখ্য-রচনীর সেই চেষ্টায় গ্রকৃত-পক্ষে কবিই হয়েছেন আমার দিশারী কবির ভাষায় বলতে গেলে “তথ্যের মধ্যে সত্যকে প্রকাশই হচ্ছে প্রকাশ ।” আমি এই তথ্যালেখ্যে যথাসম্ভব সত্যের সেই-প্রকাশের ধাঁরাই অনুসরণের চেষ্টা করেছি মাত্র।

দৃশ্তবিভাগ, সংলাপ নির্দেশনাদি দেখে অনেকে ধরে নেবেন, এটি একটি রীতি- মাফিক নাটক। সবিনয়ে জানাতে চাই, এটি ঠিক সেই-শ্রেণীয় নয়। তাই বিশুদ্ব-নাট্য- আঙিকের বাধা-মাপকাঠিতে এর বিচারও যথোচিত হবার নয়, বরং হলে তাতে কিছুটা! এর উপর অবিচারই-ব! হয়ে পড়তে পারে ফে-রীতিতে এটি রচিত হয়েছে তার আদর্শ মোটামুটি একরকম ধর! যেতে পারে, রবীন্ত্রনাথেরই স্থুবিখ্যাত সংলাপ-গ্রধান- নাট্যোপগ্তাস__সেকালের “প্রজাপতির নির্বন্ণ। আর, একালের “মাল” ।-_-যাদের থেকে পরবর্তীকালে ছুটি-নাটক তৈরী হয়েছে, _বধাক্রমে কু্রসিদ্ধ মঞ্চসফল “চিরকুমার- সভা, অধুনা-প্রকাশিত নাটক-“মালঞ্চ+ | গ্রয়োজন-বোধে, স্থলবিশেষে এশ্গর্থে

| ২০ ]

নাটক-ছাড়াও ছায়াছবি, গীতি-ও-নৃত্যনাট্য, লোকনাট্য-যাত্রা এমন কি; মাঝে-মাকে কোথাও-কোথাও অল্লবিস্তর কবি; কীর্তন, ছড়া, বাউল, ভাটিয়ালী-আদির আমেজ কোথাও আবার বুন্দ-বাগ্-শীত-সহযোগে রণনৃত্যোপযোগী কুচ কাওয়াজের-প্রদর্শনী-_- প্রভৃতি বিবিধ-আঙ্গিকেরই আশ্রয় গ্রহণের দ্বার! যে-ভাবে হয় ভাব-প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। কালের ধারায়, স্থুকুমার-শিল্পের ক্ষেত্রে ভারতের সাম্প্রতিক-প্রবণতা এই-দিকেও যে কিছু প্রবাহোন্ুখ, তা বিশ্বজয়ী ভারতীয়-রষ্া-শিল্পীদের সন্ত- পরিবেশিত-অনুষ্ঠানাদি থেকে-ও অন্রমিত হতে পারে।

এ-সঙ্গে আর-একটি কথাও বলতে হয়, _“স্বদেশী-আন্দোলনে”র পটতৃমিতে স্থান, কাল, পাত্রপাত্রী ঘটনাবলী-গত আরও-অনেক এতিহাদিক-উপাদানের সমাবেশ এবং নানাদিক দিয়ে নানারকমেই অনেকের অনেক-আরো বিশিষ্ট ভূমিকা আর গৌরবময় মূল্যবান দান সুস্পষ্ট ছিল, যা খুবই উল্লেখযোগ্য এ-গ্রস্থে ্রতিহালিক-সর্বাজীপতা- বিচারে সে-সবের অঙ্থল্লেথ অনেকের কাছে পরিলক্ষিত হবে এবং গুরুতর-অন্হহানির বিষয় বলেই-বা মনে হবে কিন্তু, তেমনি তারা দয়! করে এক্ষেত্রে সে-সময় একবার স্মরণ করবেন যে, তৎসাময়িক রবীন্দ্র-সাহিত্যেও সে-সব বিষয় অনুল্লিখিত আছে বলেই যথা-রীতি এগগ্রন্থেও তাদের সংযোজনার আগ্রহ সংযত করতে হয়েছে। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি-আকর্ষণ করেন 'রবীন্দর-জীবনী”কার শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। এই জাতীয়-সংগীত - “জনগণ-মন”-এর রচনার-তারিথ-প্রসঙ্গে তার কাছ-থেকে এ-ও জান! যায় ষে,-অগ্যাবধি তার অনুসন্ধানে নির্দিষ্একটি-কোনে। বিশেষ তারিথ না-পাঁওয়! গেলে-ও ১৯১১ সনের ১২ই থেকে ১৮ই ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো-একদিন এ-গানটি যে রচিত হয়েছিল সে-বিষয়ে নানাদিকের তথ্যবিচারে তিনি নিংসন্দেহ হয়েছেন

বুহৎ-বুহৎ-ব্যাপারে কিছু-না-কিছু খুঁত-থাকা বিচিত্র নয়, এ-গ্রন্থেও তা থাকা-ই স্বাভাবিক। কিন্তু তা-সত্বেও, যদি দেখা যায়, সব-কিছু ছাপিয়ে তথ্যালেখ্ প্রকাশ পেতে চাচ্ছে__ঘটনার-পটে-মুতি-ধ'রে প্রত্যাশিত-প্রেরণাটি, আর, প্রেরণার-অনুসারী ইঙ্গিত সংগতি রক্ষা ক'রে দৃশ্ে-দৃশ্টে প্রাণবস্ত হয়ে উঠতে চাচ্ছে বাহ্িক-বিচিত্র স্থুল- ঘটনাগুলি,- তবেই হল। কারণ, সেইভাবেই কিংব! প্র-রীতিতেই, এ-গ্রন্থে ফোটাতে চাওয়া! হয়েছে গানের রচয়িতী-রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিটিকে, চাওয়া হয়েছে তার জীবন বাণীর প্রাণ-কেন্ত্রত্বরপ তীর 'অহাগীত'--কেবিরই উক্তি__দ্তবে, ধন্ত হবে মোর গানঃ শত-শত অসস্তোষ মহাগীতে লভিবে নির্বাণ” )-__-এই 'জনগণ-মনন্অধিনায়ক"* গ্লানেরও ভাব-মু্তিটিকে। কবি তার মহাগীতের অঙ্গাঙ্গীভাবে বুক্ত-র্ূপ উদবাটনেনর

মি

[ ২১ ]

এই প্রচেষ্টা চলছে এর-প্রতি জনগণ-মনের আকর্ষণ উদ্দেশ্য কঃরে,__এবং তা চলছে সহ্জ-স্থবোধ্য নাটাধর্মী-প্রকরণকে ভিত্তি ক'রে আনুষঙ্গিক আরে নানা-আঙ্গিকের সহযোগে তা করতে গিয়ে এতে এতিহাসিকতার সঙ্গে সাহিত্যিক-সত্যের যেখানে যা বুট চলেছে তার সবই ঘটেছে স্থপরিচিত শান্ত্রনির্দেশ মেনেই, বথা১--সত্যকে অপ্রিয় থেকে কিছুটা প্রিয় করে বলবার জন্যই আর, জিনিসটা নাট্যধর্মী বলেই সে-পথে এসে-গেছে রুক্ষ-রূট় বাস্তবের সঙ্গে কিছু-কিছু সরস-শোভন রম্যতার-ও সংযোজন!

মোঁট কথা,_ সপ্ত-পবিক এই গ্রন্থের প্রথম টানা-ছয়টি-পর্বের ঘটনাস্থল, প্রধানত ইংরেজি ১৯০৫ _:১৯১১ সনের বাংলাদেশ সপ্তম-পর্বের ঘটনাস্থল, অতীত-ভারতের অন্ুমানিক শ্রষটপূর্ব ষষ্*-শতাব্ধীর কাছাকাছি-সময়ের আঞ্চলিক-গণতন্ত্রী-্তিহবাহী-__ বৈশালী তথা 'বুজি” বা “বজ্জি” এবং অন্যটি তাখি-নদীর দক্ষিণস্থ--বিদর্ত-রাজ্য | আর, যদিও এর রচনারীতি অনেকট! আভাসিক রূপক-জাতীয়, তাহলেও সেটা তেমন কুটতাত্বিক দুর-অন্বয়ী ব৷ ছুর্বোধ্য-প্রতীকী-কিছু নয়। সময়, ঘটনা, ভাষা চরিত্রের হেরফেরের মধ্যেই সেই রূপকের রূপটি সীমিত আভ।সিত। অত্যাবস্তকীয় যোগ- বিয়োগ অদল-বদল যেটুকু করা হয়েছে সবই পূর্ব-অন্থহুতরীতিতে__মুলের-উপাদান- অভাবে ; কিন্তু, করা হয়েছে তা মূলেরই-মতো-ক'রে যতটা-পারা-যায়-ভাবে +বাস্তব- সত্যের-কাছাকাছি স্বপ্রাভাসিক তার ভাবমুতি। গোটা মর্ত্যনন্দন-পর্বটও সেই স্বপ্নাভামিক-ইঙ্গিতবাহী হয়ে ভাবী-পরিণত-ভারতের ভাব-মুভতিটিকে দেশবাসীর গোচরে এনে আবিভূতি করেছে।

অন্যদিকে, ইতিপূর্বে সাধুকথ্য-নিধিচারে মূলে যেখানে-যেরূপ-ভাষার দেখা মিলেছে, প্রামাণিকতা-রক্ষার দায়ে গ্রন্থের সংলাপে অবিকৃতভাবে তা-ই রেখে দেওয়। হয়েছিল কিন্তু কার্যত তা অচল দেখে, কোনো-কোনে] স্থলে--বিশেষ ক'রে ক্রিয়াপদেই, যথ। “করিলেন' স্থলে বদলে “করলেন” "আমাদিগকে" স্থলে 'আমাদিকে' করে দিয়ে, আগাগোড়া-সর্বব্র এবার সব-ই কথ্য-ভাষায় একই-রকমে সামান্ততম-রূপাস্তর সাধন করা হয়েছে। ভাষার মতো কাহিনীরও অধিকাংশ-ঘটনাই হয়েছে রবীন্ত্র- সাহিত্য থেকে সংগৃহীত। লেক্ষেত্রেও সুদীর্ধ-পালার স্থলে-স্থলে ঘটনার কষু্র-কষুত্র ফাক-পূরণের-প্রয়োজনে উপাদানে খাদও-কিছু-যে না-মেশাতে হয়েছে এমন নয়, তবে, এ-মেশানোটাও হয়েছে সেই-পরিমাণেই যা শ্বর্ণশিক্পীরা-ও মিশিয়ে থাকে তাদের শিল্পসস্তারের সৌষ্ঠব টেকৃসই-র দিক চেয়ে। এসব করতে গিয়েই, বিষয়ে ভাষাভঙ্গিতে গ্রন্থথানি এই-বিষয়ক-পূর্ব-রচনাদির থেকে যেমন হয়েছে বিবিধ-রকমেই বড়ো-আকারের, স্বাদে-সৌকর্ষেও হয়েছে তেমনি শ্বতঙত্-ধরনের |

[ ২২ |]

এবারের সমগ্র-রচনাটি জাতীয়-সংগীত “জনগণমন+-কেন্ত্রিক হওয়ায় সংগীতকার রবীন্দ্রনাথের জীবন সাধনার কথ। প্রাসঙ্গিকভাঁবে এতে ম্বতই এসেছে বেশি ক?রে। “কবিকে জানার পথে 'জন-গণ-গানকে জান। দরকার, কিন্তু, জাতীয়-সংগীত “জন- গণ গানকে জানার জন্ত কবিকে জান! বোধ হয় আরো-বেশি দরকার” এবারে বোধহয়, নয়, লিখতে গিয়ে দেখা গেল উত্ত-কথাটি কাজেও কত সত্য। এ-থেকেই বোঝা যাচ্ছে»-কেন-যে এই গ্রন্থ একটি ক্ষুদ্র স্কেচ বা একটি অধ্যায়-এর মধ্যে নয়,--- পষ্বতন্র-গরন্থাকারেই” একটি প্বৃহৎ পুস্তক সংস্করণেই প্রকাশিত হবার” দরকার ছিল।

প্রসঙ্গত ন্রর্তব্য,_এই গীতিকার-রবীন্দত্রনাথ এমনি-একজন অনন্ত-অষ্টা,--অজন্র রবীন্দ্র-সংগীতের মধ্যে ধার রচিত বিশেষ-ছুটি গান আজ স্বতন্ত্রভাবে ছুটি-দেশের ছুটি জন-সমাজের 'জাতীয়-“সংগীত"-রূপে গৃহীত হয়েছে ভারতের “জনগণ-মন”-এর মতে আজ বাংলাদেশের জাতীয়-সংগীত “আমার দোনার-বাংলা1৮-গানটিও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এখন বিশ্ববিদিত স্থবন্দিত। অপূর্ব কথায় সুরে সাতকোটি-জ্রনগণের মনোহরণ করে প্রাণে-প্রাণে শ্ক্য, স্বাধীনতা নবহষ্টির উদ্দীপনা জাগিয়ে নবোদ্ুত- বংলাদেশবাসীকে এক মহাজাতি-গঠনে উদ্বোধিত করে চলেছে এই--“সোনার বাংলা”গাঁন। আর, বিশ্বে যার] আজ জাতি-গঠনের অন্ততম-ভিত্তি ব'লে বিশেষ- মর্ধাদায় প্রতিষ্ঠিত, সেই মাঠ-ঘাটের থেটে-খাওয়া এককালের অবজ্ঞাত সামান্ত গেঁয়ো মাঝি-মাল্লী “রাখাল-চাষী”-র কথা (“আমার রাখাল আমার চাষী” ) কী আস্তরিকতা দিয়েই না উল্লিখিত হয়েছে কত আগে এই “সোনার বাংলা” গানে-_ সেই দরদের কি তুলনা আছে? এইভাবে ক্ষুদ্র-ও সেদিন বৃহতের সঙ্গে, তুচ্ছ-ও সেদিন উচ্চের সঙ্গে বিশ্ব-মানবতীর-মূল্যে সম-গৌরবে এই-গানে সম্বিত হয়েছে। আর, এই গানে আজ কোটি-কোটি জন কোটি-কোটি মিলিয়ে, 'জাতি-সংঘে'র বিশ্বমানব-মেলায় শক্তিমান, প্রাণবান অন্যতম-এক সুযোগ্য-অংশীদার-বূপে মাননীয়- সভ্যের আসন-গ্রহণে হয়েছে অগ্রসর মুলত, একই-বাংলার একই-বাঙালী, রাষ্ট্রবিপর্যয়ে ভৌগোলিক-সীমায় বাহিক দ্বিধা-বিভক্ত হলেও, এই-একটি গাঁমের মরমী একটু স্থরের টানে ছুই বাংলাবাসীই ছুই যমজ-ভাইয়ের মতোই একই নাড়ীর- টান অনুভব ক'রে চলছে।

উল্লেখযোগ্য যে, দুটি গানই একই গীতশ্ষ্টার হাতে প্রায়-মমকালেই রচিত হয়েছে। ঘটনা-ও যে একটা ইতিহাস। আর, এটা এমনি-একটা জ্যান্ত-ইতিহাস যা কোনে! কালে কোনোদেশে আজ-অবধি এমন ক'রে রচিত হয়নি। তার অপূর্বত আরো! এইখানে যে, মামুলি অন্ত্রঝংরুত-সংগ্রামের রক্ত-ক্ষরী পথে নয়, _অস্তর-মধ্িত

[| হও ]

মৈত্রী-সংগীতের উদাভ-আহ্বানের পথেই এ-সংগীতের ধীজ্জরজালিক-সক্রিয়ত প্রমাপিত, হয়েশ্রয়েছে।

শুধু, দেশের জল-মাটির বাত্যব-সথত্রে নয়,_সাংগীতিক-রেশের অবাস্তব এক মায়িক- ভাব-সুত্রে-ও ছুটি জন-সমাজকে আত্মার-মাত্সীয়-বোধে “এক-পৃথিবীর এক- পারিবারিক” এক-জাতিতে একাত্ম ক'রে চলেছে পরম্পরের ছুটি 'জাতীয়-সংগীতে? |

আর, রাজনীতির নান জটিলতার মধ্যে কত-না-সহজে এই “এক'-জাতিত্বের শর্ট হয়ে চলেছেন গীতিকার-রবীন্ত্রনাথ এমন কি,বংশধারার এঁতিহের দিক দিয়েও অংশ-সতায় হয়ে আছেন এঁ-কবি ছুই বাংলারই আপন-জন।

আত্মীক্বতার-'পুণ্যতীর্ঘ-মহাভারতে”র মহামিলনবাদী অনস্তধাত্রী-পথিক রবীন্দ্রনাথের “বিবিধের মধ্যে একক,-হক্ির বাস্তব এক মহা সত্য-নিদর্শন ঘটিয়েছে এই ছুই-জাতীয় সংগীতের মহৎস্ঘটনা আর, সেই ঘটনার মহিমা-কীর্তনেই এই গ্রন্থের উৎপত্তি।

এখন এই দেশ মানুষের সর্বাত্ীয় এই-রবীন্দত্নাথের-রচিত জাতীয় জয়-গাথা। এবং সে-সঙ্গে কিছু ।,'মহাকবি-কথা+-ও বলতে গেলে কবিগুরু-বান্দীকিরই মতো সত্য লিখতে গিয়ে সত্যের কাছাকাছি পূর্বোক্ত এক-আটু স্বপ্লাভাসের সেই দিশোলও যদি তাতে এসে পড়ে--কিছুই আশ্চর্য নয়।

সে যা হোক এদিকে কিন্তু, দিনে-দিনেই বাশ্তবে ফল গড়াচ্ছে উপ্টোপাণ্টা বহুদিন বিগত হলেও 'জাতীয়-সংগীতে*র উৎপত্তি, গতি পরিণতি-সম্বন্ধে আজও, বিশেষ-কিছু জানার সহজ-স্থযোগ না পেয়ে জনসাধারণের মধ্যে সংগীতটি-সম্বন্ধে রাগে- বিরাগে প্রতিক্রিয়-মূলক নানা-গণ-অপ্রিয়তার লক্ষণই ক্রমে প্রকাশ পাচ্ছে। এমন কি, তার প্রতিবিধানে কিছুদিন-পূর্বেও সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়-স্তস্তে, প্রবন্ধে এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে নানা-সময়ে নানা কথা! আলোচিতও হয়েছে। পরিস্থি'ত এমন হয়ে উঠেছে যে, সরকারী-মহল-হতে আইন-প্রণয়ন-কল্লে বিল-উত্থাপনের কথাও শোন! গেছে, এবং সংবাদপত্রের সংবাদ এই যে, কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে কয়েক-জুনকে 'জাতীয়- সংগীতে”র প্রতি মম্মান-প্রদর্শনে অবহেলার-দরুণ হাজতে-পুরতেও বাধ্য হয়েছেন) চারদিকের এই গোলমালের মধ্যে গত ১1৩৬৯ তারিখের “আনন্বাজার-পত্রিকা”-তে, জনৈক পত্র-লেখক-_শ্রীমানসরঞ্জন সেনগুপ্ত, নিউ-সপ্ডগ্রাম, বর্ধমান,- এক-পত্রে লেখেন» "আমার ধারণা,-“জনগণমন-অধিনায়ক' বা আমাদের জাতীর়-সংগীতের প্রকত-অর্থ অনেকে হ্ৃদয়ংগম করতে পারেন-নি। সকলের মনে, দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে হলে সংগীতের অর্থ তাৎপর্য গ্রচার করা দরকার” এছাড়াও, জাতীয়-লংগীতের,

[ ২৪ ]

অর্ধাদা-বিষয়ে ১৯.৯.৭২ তারিখের “অমুতবাজার-পত্রিকা”য শ্রীনুনীত মুখাপ্রি লিখিত প্রবন্ধ এব" ৫.১০.৭২ তারিখে “আনন্দবাজার-পত্রিকা”য় প্রকাশিত শ্রীপার্থপ্রতিম দাস- লিখিত পত্রথানিও দ্রইব্য |

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, আমি বন্ৃপূর্বথেকেই এম্নি-একটি প্রয়োজনের- তাগিদে “জাতীয়-সংগীতে”র «অর্থ তাৎপর্য-প্রচার/-কল্পে প্রান্স বাইশ-বছর যাবৎ (সত্যধুগ,_নভেম্বর ১৯৪৯) এগ্রন্থ-রচনায় ব্যাপূত আছি। এবারে তার ফলে রচিত এই পূরণা্গ-গ্রস্থখানি ভারতের শ্বাধীনতা-লাভের পঁচিশ-বছরের রজত- জয়ন্তী-উতসবের উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রকাশ ক'রে জাতীয় একটি পুণ্যক্ষণে দীর্ঘ- দিনের সংকর্পিত-ব্রত সমাধা করলাম আরো উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্বভারতীন্ব সদাশয়- কর্তৃপক্ষ একাজে আমাকে পূর্বাপর অনুমতি দিয়ে প্রভৃত সাহায্য করেছেন, এতে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ আছি।

এতে-ব্যবহৃত সমুদয় রবীন্দ্র-সংগীতের স্বরলিপি "স্বরবিতানে” প্রাপ্তব্য। (বাদে, দু'টি গান--“আজ সবাই জুটে আস্মক ছুটে যে যেখানে থাকে”-_“রাখীবন্ধন"-পর্ব পৃঃ ৬২) এবং "অন্ধকারের মাঝে আমায় ধরেছ ছুই হাতে”-_“জয়-্তন্দন'-পর্ব পৃঃ ২৪১। -মুলেই গান-ছু*টি স্থরহীন ) আর, সর্বশেষ সপ্তম-পর্য “মত্য-নন্দনে+-ব্যবহ্ৃত “নথি, কী যেন দেখেছি কবে”-গানটি মূলত গ্রন্থকারের-লেখা, কিন্ত পরিমার্জনে গানটির দ্বিতীয়ার্ধ-সম্পূর্ণ-ই হয়ে-আছে রবীন্দ্রনাথ-কৃত। প্র-পর্বের “হুখা-ভগবান”*অংশে ““অন্থগত্তজনে কেন কর এত প্রবঞ্চনা”-গানটি যে স্থবিখ্যাত-নিধুবাবুর কত, তা বলাই বাহুল্য “মত্য-নন্দন”-পর্বে ষে ছুটি-অংশ আছে, যথা, 'লোকমাতা” “তুখা-ভগবান” এদের মধ্যে এঁ-ভাবে ভাগ-টান। হয়েছে শুধু_কাহিনীর ছু,টি-পর্যায়-ভাগ-বোঝাবার উদ্ধেশ্ে। শ্বেচ্ছায়-আরোপিত নানাদ্দিকের নানা-সীমাবন্ধতা নিয়ে গ্রন্থে যেখানে ঘেটুকু-যা-করবার করা হয়েছে, কিন্তু, অভিনয়-ক্ষেত্রে প্রয়োজন-মতো প্রযোজনায় ছুটি বা! টানা-একটি পালায়ও এদের সাজিয়ে-নেওয়।--মভিপ্রেত অভিনয়ে, -দংঘাত, ওৎক্য, রহস্য, যথা যোগ্য-ভাষা, দৃশ্ত, ছন্দ, গতিবেগ অভিনয়ের, মনোহারিতা ইত্যাদি আনবার জন্ত-নাট্যোপষোগী প্রসাধনিক-কাজ যথাসম্ভব গ্রন্থের-__প্রতিপাস্ত প্রামাণিকতাকে অক্ু্ন রেখে এসবই করা চলবে--স্থান-কাল-পাত্রের সুবিধা বুঝে আর, আগের বা পরের বর্জনীয়-অংশের ঘটনা-ধারা নেপথ্য-ঘোষণায় ধারা- বিবরণীতে দর্শকদের জানিয়ে দিলেই পালার কাহিনী-অহসরণে তাদের সুবিধা হতে পারে। এই রীতি এ"গ্রস্থের সর্বত্রই নাট্য-প্রয়োগের প্রয়োজনে -প্রযোজ্য হতে পারে কিনা, মাননীয়-প্রযোজকেরাই তার বিচার-ব্যবস্থার স্যোগ্য-অধিকারী। তবে, যা-ই

[ ২৫ ]

কর! হোক, গ্রস্থকারকে জানিয়ে তার অন্থমতি-গ্রহ্ণ সর্বক্ষেত্রেই আবশ্তিক, কেননা, গ্রন্থের সর্ধন্বত্ব গ্রন্থকার-কর্তৃক সংরক্ষিত

এরই সঙ্গে 'জাতীয়-সংগীতে'র ইতিহাস মর্মকথা যাঁতে মকলে আরও ভালে! ক'রে যত-বেশি জানতে পারে, এজন শ্রদ্েয়-মনীধী শ্রীযুক্ত গ্রবোধচন্ত্র সেন ('দিকৃ- স্পন্দন-পর্ব ) শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ বিশী, (“রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষ” ) যথাক্রমে বিশ্বভারতী কলিকাতা-বিশ্ববিগ্ভালয়ের প্রাক্তন-ছুইজন রবীন্ত্র-অধ্যাপকের অভিমত এবং সারগর্ত ছুটি বচন! এপগ্রন্থে সংকলিত হল। গ্রন্থের প্রতি তাদের এই দাক্ষিণ্য আমাকে চিরকৃতজ্ঞ ক'রে রাখল। প্রচ্ছদখানি শ্রীযুক্ত সত্যজিৎ রায় কৃত। এই মহান-শিল্লী এবং বহু-আরেো সহদয়-বন্ধুবান্ধব, বহু বিশিষ্ট সাধারণ-জনের আরো উপদেশ-নির্দেশ, অভিমত, আগ্রহ-প্রোৎসাহ এবং ক্রটিংপ্রদর্শনও যত-যা পেয়ে আসছি, তা কখনো ভুলবার নয়। এই-প্রসঙ্গে অনেকের নামই করতে হয়। বিশেষ ক”রে অধ্যাপক ডঃআনন্নমোহন বন্থ কবির খুলনায়-নাক্ষ্যদানের ঘটনা -গ্রসঙ্গে হীরালাল রায়- রচিত “ছঙ্কার”-গরন্-ন্বন্ধীয় লুর্ত-তথ্য সরবরাহ ক'রে এবং অন্যান্ঠট অনেক তথ্যসহ ১৯০৫ সালে ভারতের রাজধানী যে কলকাতায় অবস্থিত ছিল এদিকে দৃষ্টি-আকর্ষণ করে আমাকে কৃতজ্ঞতা-ধণে আবদ্ধ করেছেন৷ এ-প্রকার আরও দু-একটি তথ্য এবং নানা-সাহায্যের জন্ত বিশ্বভারতীর প্রাক্তনকর্নসচিব শাস্তিনিকেতনস্থ প্রীশৈলেশচন্ত্র সেন, শ্রাহরি মিত্র, শ্রীতুজঙ-ভৃষণ মিত্র, শ্রীমান চপল তালুকদার, বোলপুর-নিবাসী উকিল শ্রীবিভূতি-ভ্যণ মুখাঞ্জি, শ্রীগোপাল চন্দ্র চক্রবর্তী, শ্রীকুশল চৌধুরী, শ্রীন্বপন মণ্ডল, তুবনভাঙানিবাসী ম্বগত কবি-ভোলানাথ সেন, শ্রাহিরম্ময় নাগ, শ্রীপ্রতাকর হাজরা, শান্তিনিকেতন-প্রেসের ম্যানেজার শ্রীমিতিকণ্ঠ ভট্টাচার্য, এণ্গ্রন্থের-কপিকারক প্রাদিজপদ হাজরা, কলিকাতার সঙ্গীতাচার্য শ্রীপঙ্কজকুমার মল্লিক, আমার ভগ্বী অধ্যাপিকা! শ্রীমতী সাধনা কর, কন্ত! শ্রীমতী শুত্রা কর, আত্মীয় শ্রীন্থকুমার ঘোষ, ছায়াছবি- পরিচালক স্নেহাম্পদ শ্রীমমল দত, অগ্রজোপম শ্রীপরমানন্দ দত্ত এবং স্বর্গত বিমল দত্ত-এর নাম উল্লেখযোগ্য বাকী-সবই লুষ্ঠুভাবে উল্লেখের জন্য, সম্ভব-হলে আগামী-সংস্করপের আশায় উহ্‌ রাখ গেল। এদের সকলেরই খণ চিরদিন আমাকে কতজ্ঞ ক'রে আমার অন্তরে এদেরকে বরণীয় স্মরণীয় ক'রে রাখবে সর্বশেষ, রন্থের-পরিবেশক “পারমিতা-প্রকাশন, 'ভগবতী-প্রেসে”র-কতৃপক্ষকে বিশেষ ধল্বাদ জানিয়ে,-দদা শয়-“জনগণে'র সপগ্রীতি-আহুকূল্য প্রার্থনা করছি।

বিশেষ আনন্দ লৌভাগ্যের কথা,_-দেশের নাট্য-আন্দোলনের পুণ্য-শত-

[ ২৬ ]

বার্ধিকী-বর্ষের মধ্যে 'জাতীক্-সংগীতের-রচনা-কাহিনীর এই নারযর্মী-বিচিতর- আলেখ্যটিকে রচনা এবং প্রকাশ করতে পেরে কৃতার্থ হলাম

পরিশেষে বক্তব্য, আজ সাম্য, শাস্তি স্বাধীনতার ভিত্তিতে বিশ্বমানবতার প্রতিষ্ঠার জন্য “জাতিসংঘে” নানা-দেশ সমবেত হচ্ছে। আর+_কোন্‌মতে কোন্‌, পথে নব-এক বিশ্ব-সমার্গ-হথটির কাজ সিদ্ধ হতে পারে, তাই নিয়ে দেশে-দেশে মানুষের মধ্যে উদ্বোগের সাড়া গড়ে গেছে। ভারতবর্ষ-ও বসে নেই একাজে ডাইনে- বাঁয়ে শিলিয়ে তারও চেষ্টা-5রিত্রের অন্ত নেই। বিশ্বজনের গ্রহণ-যোগ্যতার-বিচারে শ্রেষ্ঠ হবার পক্ষে, সকল-দেশের মতো ভারতের প্রতিও একটি আদর্শ-সমাজ-সয্ির “ফরমুলা/-উপস্থাপনের ডাক আছে। এজন্য সর্বাগ্রে স্বদেশে সেই ফরমুলা-আবিষকার এবং জন-জীবনে সেই ফরমুলা-গ্রয়োগের-পরীক্ষায় সফল হওয়া_ সকলেরই একান্ত প্রয়োজন এই সফলতা-লাভের অনিবার্ধত৷ দেশ দলমত-নিবিশেষে উহ্‌ রয়েছে সকলেরই নিকটে এবং সেজজ্ঠ প্রত্যেক দেশের সকলেরই তা সর্বক্ষণ স্মরণ, মনন আচরণের বিষয়। ভারতের পক্ষে সৌভাগ্যই বলতে হবে, রবীন্দ্রনাথের “জনগণ- মন”গানটিতে নিহিত রয়েছে সেই ববিশ্বসভায়-উপস্থাপনীয় শাশ্বত-ফরমুলাটি,-_যেটি সর্বত্র, সর্বকালের, সর্বজনের সর্বার্থ-সাঁধনে শক্িদাতা এক পরম-প্রেরণার উৎস। আর, ব্যক্তিক সামাজিক জীবনের অভ্যন্তরে সেই প্রেরণার প্রতিষ্ঠা-উপযোগী প্রাত্যহিক ধ্যান আচরণ-নির্দেশক একটি উদাত্ব-আহ্বান-দীপ্ত-কাহিনীর-আলেখ্যও সন্মিবিষট

রয়েছে গ্রন্থ-শেষের “মত্যনন্দন”-পর্বে। তার-পরেই ঘটেছে সমগ্র-গ্রন্থের পরিসমান্তি। এদিকে বাইরে মন্দার-বাঁজারে, আকার পর্ব-বাহুল্যের জন্য এ-গ্রন্থ-প্রকাশ

করা ক্রমেই কঠিন হচ্ছিল। কিন্তু, স্বাধীনতা-উৎসবের কথা শোনা-মাত্র--ভিতর থেকে তেমনি-আবার আর-সব-চিন্তা-ছাঁপিয়ে আমার অনন্ত-লক্ষয হয়ে উঠল আর- কিছু নয়-_একটি জিনিস-_সেটি গ্রন্থের বিষয়-বস্তর অমূল্য অনন্ত মহিমাটি। বইটির পিছনে বহছু-ব্যাপারে বহুদিন বছু-কাজে কাটিয়ে-এসে বেশি ভালো করতে আরৌ- বেশি-কিছুর অপেক্ষায় না-থেকে তখনই যে-ক”রে হোক, আসন্ন 'রজত-জয়ন্তী-বর্ষের মধ্যেই জনগণের ভাতে এগ্রস্থ তুলে-দেবার কাজে আমাকে তৎপর করল আমার আস্তরিক-ওৎস্ক্যের নিরন্তর-তাগিদ কেন-না, এইটিই বারবার মনে হতে লাগল --গানটিকে কেবল বিশেষ দেশকালের-সীমায় আবদ্ধ ক'রে দেখার নয়, এটি যে অর্থ-তাৎপর্যে বিশ্বজাতীয়-সংগীতের-ও উদ্দীপনায় মহান। সুতরাং, সেই মহাঁন- তাৎপর্ষেও ভারতের জনগণকে অবহিত কর! একাত্তর আবশ্যক |

এই ভেবে, মাত্র ৫০০ .কপির জন্ত স্বল্প-সম্থল উৎসর্গ ক'রে একাধারে একাই

[ ২৭ ]

গ্রন্থকার প্রকাশক হয়ে কাদে নামলাম কাজে-নামার মুখে, গ্রন্থের মুদ্রণ পরিবেশনের-ব্যবস্থায় পরামর্শের সাহায্য নিয়ে এলেন তখন বোলপুর-কলেজের পূর্বোক্ত প্রধান-সা হিত্য-অধ্যাপক ডঃ শ্রীআনন্দমমোহন বসু

এখন, ভারতের গণতন্ত্রী-সরকার-রূপী মাননীয়-“জন-গণেশের নিকট সহায় বিবেচনার জন্ত সাছুনয়ে এই নিবেদনটি এখানে করে রাখছি যে,__-'জাতীয়-সংগীতে”র এই বিশেষ-ফরমুলা-ভাশুপর্ব-গ্রচারে অচিরেই তীরা উদ্যোগী হলে তা সময়োচিত একটি সুষ্ঠু কাজ করা হয় কি-না কেননা, মনে হয়,-এই প্রচার থেকে, জনগণ-মন+ গানটির মান-উত্তঙ্গতার কথা খানিকট! উপলব্ধি ক'রে গানটির প্রতি যেমন সকলের শ্রদ্ধা বাড়তে পারে, তেমনি, জাতীয়-এরূপ-জন-কল্যাপময়-কাজে-উদ্ভোগী-সরকারের প্রতি গ্রীতি-বিশ্বাসের দৃঢ়তা-ও যে সাধারণের কিছু না-বাড়বে এমন নয়।

এ-সঙ্গে আজ বিশেষ ক'রেই ম্বর্তব্, কলকাতায় আসন্ন-নিখিল-ভারতীর় কংগ্রেসের পূর্ণাজ্জ বাধিক-অধিবেশনের কথাটি-ও ;--কেননা, একষটি বছর আগে ১৯১১ সনের ডিসেম্বরে ভারতীয়-কংগ্রেসের এই পূর্ণাঙ্-অধিবেশনেই ঘটেছিল আজকের জাতীয়-সংগীত এই “জনগণমন”-গানটির প্রথম প্রকাশ্তঠ-আবির্ভাব।

তা-ছাড়া, নানা-আঞ্চলিক স্কুল-কলেজ-লাইব্রেরী-বিশ্ববিগ্ভালয়-সংঘ-সমাজ-সমিতি প্রভৃতি শিক্ষা! জাতীয়-কর্মপ্রতিষ্ঠানখলিতে রজত-জয়ন্তী এবং সেই সঙ্গে কংগ্রেসের এই পূর্ণাঙ্গ-অধিবেশনের-উৎসব-উপসংহারে পবিত্র স্মারক-উপহার-রূপে জন-সাধারণকে বিলোবার-মতো-মেলানি-হিসাবেও এ-বইটিকে দেখ! যেতে পারে কিন'-বিবেচ্য। ২৫ বছর ধ'রে জাতীয়-সরকারই হয়তো এতদিন খুঁজে এসেছেন এই জাতীয় একটা- কিছু এনপ গ্রস্থ-দান-যজ্ঞের দ্বার যথা-অর্থে সার্থক হতে পারে অন্তান্ আরো-অনেক- সময় আরো-অনেক জাতীয়-মহোতসব ; আর, হতে পারে তা কবি-আকাজ্কিত বৃহত্তর-বিশ্ব-মিলন-মেলারই স্বত্র হয়ে। এই মেলার কথা অতঃপর কবির বাণীতেই শোনা যাক £

€"*আমার বাণীর পথ রোধ করবে এমন সাধ্য কারো নেই। সমস্ত পৃথিবীকে আমি আমার দেশ ব'লে বরণ করে নিয়েছি এরাও তে! সকলে আমাকে গ্রহণ করেছে," বেশি ক'রে আপন-লোক বলে জেনেছে পৃথিবী থেকে যাবার আগে সম্ত-পৃথিবীর সঙ্গে আমার আপন-সদ্বন্ধ অন্ুভব স্বীকার ক'রে যেতে পারলুম-_ এইটেতেই আমি আমার জীবন সার্থক ব'লে জানছি। আমাদের বাংলাদেশের কোণে একটা বিশ্বপৃথিবীর হাওয়া উঠেছে--এইটে আমাদের সকলের অনুভব করা উচিত এইখানে রামমোহন বায় সর্বজনীন ধর্মের আলোকে জাগ্রত হয়ে উঠেছিলেন

[ ২৮ ]

-_সেই প্রভাতের আলোকেই বাংলাদেশের নবজাগরণের প্রথম-উধালোক। সেই আলোকে যে বিশ্বের গ্ুর বেজেছে সেই হ্রই আমাদের হুর-_লেই স্বর মানব- ইতিহাসের আসর-ভাবিষুগের-স্থর |

একদিন চৈতন্ত আমাদের বৈষ্ণব করেছিলেন,_সেই বৈষবের জাত নেই কুল নেই-আর-একদিন রামমোহন রায় আমাদের ব্রহ্মলৌকে উদ্বোধিত করেছেন-_সেই ব্র্মলোকে-ও জাত নেই দেশ নেই। বাংলাদেশের চিত্ত সর্বকালে স্বদেশে গ্রসারিত হোক, বাংলাদেশের বাঁণী সর্বজাতি সর্বমানবের বাণী হোক | আমাদের “বন্দেমাতরং,- মন্ত্র বাংলাদেশের মন্ত্র নয়--এ হচ্ছে বিশ্বমাতার বন্দনা, সেই বন্দনার গান আজ যদ্দি আমরা প্রথম উচ্চারণ করি তবে আগামী ভাকী-যুগে একে-একে সমন্ত-দেশে এই মন্ত্র ধ্বনিত হয়ে উঠবে ।...তালপাতার ভেঁপু যারা বাজিয়ে বেড়াচ্ছে তার] কোনোমতেই বুঝতে পারবে না,- আমাদের দেশের সত্যকার সাধনা কী। আমরা যত ছুঃখ যত দারিদ্রা যত অপমানই পাই না কেন, মাথায় করে নেব - এই সমস্ত ছুঃখ-অপমান আমাদের মাথার মানিক হয়ে উঠবে যদি আমরা মানব-ইতিহাসের সর্বোচ্চ সিদ্ধিকে স্বীকার করতে পারি।

'**আমরা আরামে থাকব না, আমরা আলোকে বাস করব-_এইজন্তে যে, মহাবিশ্বের পথকেই আমর! দেশ ব'লে গ্রহণ করব আমাদের জন্যে সম্পদ নয়, মুক্তি যাই হোক আমি বেশ দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশের বৈরাশীর! বিশ্বের গথে-গথে ছড়িয়ে পড়বে_-কোণের মধ্যে আমাদের জায়গা হবে না। দেখো না, এত কোণ এত বন্ধনের মধ্যেও জগদীশ বোসকে কেউ ধরে রাখতে পারল না। তার বিজ্ঞানের মন্ত্র কুনো-বিজ্ঞানের মন্ত্র নয়--তিনি জড় চেতন, বস্তবিজ্ঞান জীব- বিজ্ঞান সমস্তকে একত্র মিলিয়ে বন্ধনমুক্ত জ্ঞানের মহা-সংকীর্তন পূর্ব-পশ্চিমে ধ্বনিত করে তুলেছেন। এই যে তিনি দ্বার খুলে বেরিয়েছেন এশার সহজে আর বন্ধ হবে না, তার দলের লোক আরো! আসছে, পথে আর জায়গ! হবে না।....""কেনন। অন্তরতম মাধনলোকে সিদ্ধিদাতীর আহ্বান এসে পৌচেছে।""ইতি, ১০ কাতিক ১৩২৩"--( চিঠিপত্র ২)

ভ্রীনুধীরচজ্জ কর

জনগণমন-অধিনায়ক পর্ব-সুচী

মুক্তি-ক্রন্দন

রাখী-বন্ধন

মাল্য-চন্দন

জন্ন-স্যন্দন (জয়রথ )

অতিবন্দন

দিকৃ-্পন্দন

মর্্য-নন্বন £ প্রথম অংশ--লোকমাত। দ্বিতীয় অংশ- তৃখা-ভগবান

০৪ (৪০০09 *

চরিত্র-স্চী ( দ্বিতীয়-পর্ব 'রাধী-বন্ধন+ থেকে গঞ্চম-পর্ব 'অভিবন্দান? পর্যন্ত ) পাত্র পানী কৰি নিবেদিত! (নারীকর্মী-নায়িক] ) অরবিন (শিক্ষাচার্য) রানী (চাষী-রঘুনাথের মেয়ে) লর্ড কার্জন (ভারতের বড়লাট ) ফরিদা ( চাষী-ফরুর স্ত্রী)

বিশ্ববান্ধব উপাধ্যায় (দেশাতা! বৈদান্তিক বিনি (কিশোরী-কর্মী) সন্ন্যাসী) মাসী (বিনির আত্মীয়)

আনন্দমোহন ( দেশসেবী নেতা ) রুক্সিণী ( বন্তি-বালিনী )

চৌধুরী, বাডুয্যে (নরমপন্থী নেতৃ-দয়) উদ্বান্ত-নারীদল তাহাদের শিশুদলগ

মৌলবী-লিয়াকৎ (স্বদেশী-গ্রচারক ) ইত্যাদি।

মুকুন্দ (প্রবীণ-দেশভক্ত গায়ক-কর্মী)

্রতীন্ত্র ( দেশকর্মীদল-নায়ক )

ক্ষুদিরাম ( উগ্ঠপন্থী স্বদেশসেবী-কর্মী )

কুমার (ছাত্র-কর্মী)

বীরেন, অরুণ, অশোক, নির্মল ( দেশসেবী যুবককর্মী )

সিশনারী সাহেব . খ্রীস্টান ধর্মযাজক )

মাজেন্ট ( সংঘর্ষ-পর সরকারী-শাসন-স্ত্ের গ্রতীক )

[ ৩০ 1

ফর-দর্দীর (চাষী )

তমিজ (এ পুত্র)

বিশু হারু (সরকারী-গপ্তচরদ্য় )

মাধব চাটুয্যে (মহাজন )

রামচরণ (নাপিত )

রহিম (চাষী)

রমজান (চাষী )

রঘুনাথ (চাষী )

কিশোর (এ পুত্র)

জনার্দন ( মজুতদার )

পাড়েজী (স্বদেশান্থরাগী-পুলিস, পরে ১নং দারোয়ান )

তেওয়ারি (২নং দারোয়ান )

ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিস-সাহেব, জেলর সহকর্মী, ওয়ার্ডার, মেথর, জনৈক ভদ্রলোক এবং তাহার শিশু-ছেলে মেয়ে, পুলিসদল, শ্বদেশী-কর্মীদল, জেলেদল, মজুর প্রমিকদল, গল্লীবাসীদল, জনকয়েক মুসলমান, তরুণদল, উ্ান্তদল ইত্যাদি

মত্য-নন্দন

উন্ত্রিল-__-বৈশালী-রাঁজকন্তা, বৈশালীরাজ পরে বিদর্তের রানী বিদর্তরাঁজ চন্দ্র _চাষীশকুপ্রলালের বোন শিলাদিত্য, জয়সেন, মানদা-__কুঞ্জলালের স্ত্রী উনার বারি ] অমাত্যবুণ সরল।__-দরিদ-গ্রাম্যবধ ক্ববদ্ধু-__বিদর্ভরাজের বাল্যবন্ধু বিদর্তের-সেনাপতি কুঞ্লাল-_বিদর্ত-বাসী চাষী-সর্দার মহাজন ক্ষ্যাপাঠাদ--উদাসীন

হারু--পথে-পরিত্যক্ত বালক অন্ুচরছয়--শিলাদিত্যের দেহরক্গী জনতা, গ্রামবাসীগণ, নর্ভবীদল ইত্যাদি

পর্বের সার-সংক্ষেপ

মুক্তি-ক্রন্দন ( তথ্যচিত্র ) ইং ১৮৫৬ সনে বীরভূমে সাওতাল-বিড্রোহ। ইং ১৮৭৬ সনে স্তাশল্তাল-মেল|। ইং ১৮৯৭ সনে পুনায় প্লেগ, গুপ্তবিপ্রবীদলের ক্রিয়াকাণ্ড। ইংরেজ ভাৰতীয় মহালভব-ব্যক্তিদের প্রেরণ! প্রচেষ্টায় ভারতে নবধুগের সুচনা

ন্‌ রাখী-বন্ধন (নাট্য)

ইং ১৯০৫ (বাং ১৩১২) সনে ইংরেজ-সরকার-কর্তৃক বাংলাদেশকে-পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ_-এই ছুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব গ্রহণ। ইতিপূর্বেই সরকারের “সৃকঠিন গীড়নেঃ সার] ভারতে বিক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছিল। এইবার তার উপর দেশভাগ করার প্রস্তাবে বাংলায় দেখা দিল সরকার-বিরোধী এক প্রবল গণ-আন্দোলন। ইতিহাসে এরই নাম হয়--“ত্ঘদেশী-আন্দোলন+ সরকারী বঙ্গবিভাগ-বিলের প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভ-মিছিল চলে। শহরে মফঃংস্বলে তেমনি চলে ভরনসাধারণের উপর বিদেশী সরকার দেশীয় ধনিক-শ্রেণীর অত্যাচার | সে-সঙ্গে সরকার-ধেঁষ! মহাজনী-শোষণ সাম্প্রদায়িকতার প্রাছুভভাব-ও ঘটে ম্বদেশ-সেবকদল হয় বিক্ষুন্ধ আর গ্রতিকারপন্থা- সন্ধানে হয় তারা অধৈর্য কিন্তু অত্যাচার অব্যাহত থাকায় দেশের আনাচে-কানাচে শুরু হয় প্রতিক্রিয়াগীল-শাসক শোষকদলের বিরুদ্ধে সহিংস সব্রিয় এক গপত- আন্দোলনের গ্রচেষ্টা। ওদিকে-ও তেমনি সরকাবর-পক্ষ চালাল ধর-পাকড়, জেল, বেত্রাঘাত ক্রমে দিতে লাগল চরমশীস্তি--ফাদি ইতিমধ্যেই সরকার ঘোষণা করেছিল বঙ্গভঙ্গের নিদিষ্ট-তারিখ সরকার-ঘোধিত সেই ১৬ই অক্টোবর, বাং ৩০শে আশ্বিনে কবি-রবীন্ত্রনাথের প্রস্তাব এবং নেতৃমগ্ডুলীরও দিদ্ধান্ত-ক্রমে শাস্তি-শৃঙ্খল! এঁকা-রক্ষার জন্থ সমগ্র-বাংলাব্যাপী অনুষ্ঠিত হল সম্প্রীতিমূলক বিখ্যাত,“রাখী-বন্ধন”- উৎসব। তথন থেকেই বিক্ষোভ গোলযোৌগের পরিস্থিতিতে চলতে লাগল বাংলায় কবি-প্রবতিত সেই 'রাখী-বন্ধন+-এর এঁক্যবাণী-প্রচার |

মাল্য-চন্দন ( নাট্য )

ক্রমে পল্মী-অঞ্চলেও বিস্তার লাভ করল সাধারণের উপর সরকার কুঠিয়াল-

সাহেবদেরশ্কৃত অত্যাচার শহরে তার উপরে দেখ! দিল প্রেগ ছুতিক্ষ শ্বদেশ-

কর্মীদলের বারা “দুঃস্ব-সেবা-সমিতি'-ও নানা কেন্্র স্থাপিত হল দুর্গত-উদ্ধারে কবি

এবং নেতারাও নেমে পড়লেন। সেব! সামাজিক-সংস্কারেব বিচিত্র-কর্মপথে উদ্বান্ত

শ্রমিক-শ্রেণীর মধ্যে 'স্বদেশীদলে”র-ও প্রভাব-বিস্তার ঘটতে লাগল। তেমনি তার

প্রতিক্রিয়াতে ক্রমশ আরো বাড়তে লাগল সরকারী-অত্যাচার ফলে, বজ-ভজ-রদ

ঘটাতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধেও এবার আন্দোলন অগ্রসর হল নৃতনরূপে-_শ্বয়ং- প্রবুদ্ধ গণ-অভিযানে।

| ৩২ |

জয়-ন্যান্দন ( নাট্য ) দেশে স্বরার্ম-গ্রতিষ্ঠার আগ্রহে গুরু হল স্বাধীনতা-আন্দোলন। তার ত্বাচ পেয়েই সরকার-পক্ষের রণকৌশল-ও নিল অন্তরূপ। বাহিরে নির্যাতনের সঙ্গে ভিতরে-ভিতরে চলতে লাগল দিল্লীতে রাজজ-দরবার ডেকে বিলাত-থেকে সম্ত্রাটকে এনে তার সংবর্ধনার আয়োজন সেই দরবারেই শেষে ঘোষিত হল--বঙ্গতঙ্গ-আইন- প্রত্াহার। তখন স্বদেশী-পক্ষে-ও তুমুল-উৎসাহে ঘোষিত হল--বিজয়োৎসব- অনুষ্ঠানের কথা অভি বন্দন (নাট্য ) কলকাতায় ভারতীয় জাতীয়-মহাসভার অধিবেশন সভার দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনেই, এ-উপলক্ষে জাতির জয়-সংগীতরূপে-রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ-মহাসংগীত '"জনগণমন-অধিনায়ক”-গান সর্বপ্রথম সমবেতকষ্ঠে প্রকাসশ্তে গীত হল।

দিকৃ-স্পন্দন ( তথ্যচিত্র )

দিল্লীতে স্বাধীন-ভারতীয়-গণপরিষদের অধিবেশন “জাতীয়-সংগীতে'র প্রতি দেশবিদেশের স্বীকৃতি শ্রদ্ধাধ্য-নিবেদনের অনুষ্ঠান

মত্য-নন্দন ( নাট্য )

মত্য-নন্দন/-নাট্যোপাখ্যানটির মুল-প্রেরণা জুগিয়েছে রবীন্দ্রনাথেরই -রচিত “দীনদান” “নগরলক্ষমী”-নীমক ছুটি কবিতা আর, ববীন্ত্রনাথেরই রচিত তৎকালীন স্থবিখ্যাত 'ম্বদেশী-সমাজ।, “পথ পাথেয়” এবং “অবস্থা ব্যবস্থা'-নামক কয়েকটি ভাষণ-নিবদন্ধ সমাজ-সংস্কারী-পরিকল্পনার প্রভাবও এতে কার্জ করেছে দেশসেবা- ক্ষেত্রে পথ পাথেয় নিয়ে যখন মতে কাজে নেতাদের মধ্যে জটিলতা! দেখা দেয়, কবি তখন তীর লেখায় উক্ত-পরিকল্পনাগুলি পুস্তক পত্রিকা-মাধ্যমে দেশের সামনে, ধরে রেখে দিয়ে নীরবে