বাংন। দেশের ইতিহাস

ভ্বিভীন্র খণ্ড | মধ্যযুগ ]

ভারত তত্ব-ভাস্কর শ্রীরমেশচত্র মজুমদার, এম-এ, পিএইচ -ভি সম্পাদিত

(জনাবেল প্রিঞচার্স যাও পারিশার্স প্রাইতিট লিমিটেড ১৯৯৯, শবভিল্া কুটীট : কলিকাতা -৯৩

প্রকাশক £ শ্ীদুজিৎ্চজা দাস জেশার্রেল প্রিশ্টার্স য়্যাগড পার্রিশার্প প্রাইভেট লিমিটেড ১১৯, ধর্সতলা স্ট্রট, কলিকাতা -১৩

প্রথম সংস্করণ ফাল্ভন, ১৩৭৩ « কুড়ি টাকা

শ্রীদুরেজ্র শ্রেপ, ১৮৬/১ আনার্য প্রফুল্লচজ্্র রোড, কলিক্ষাক্চা-ঘ হইতে শ্রীহীরেক্্রনাথ বন্দোপাধাক়ি কর্তৃক মুদি ||

বাংন্রা দেশের ইতিহাস

[ মধ্যযুগ ]

লেখকবৃন্দ £ ডঃ বমেশচন্দ্র মজুমদার, এম্‌-এ, পিএইচডি ডঃ সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যাক্ম, এমূ-এ, ডি-লিট অধ্যাপক সুখমম মুখোপান্যায়। এম-এ ডঃ অমবনাথ লাহিড়ী, এম্-এ* শিখ্ইচ৩ডি

ভমি্া

মালদহ-নিবামী রজনীকান্ত চক্রবর্তী সর্বপ্রথমে বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের মধ্যযুগের ইতিহাস রচনা! করেন। কিন্তু তংপ্রণীত “গড়ের ইতিহাস" সেকালে খুব মূল্যবান বলিয়া বিবেচিত হইলেও ইহা 'আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে লিখিত ইতিহাস বলিয়৷ গণ্য করা যায় না। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত ১৩২৪ সনে প্রকাশিত “বাঙ্গালার ইতিহাস--দ্বিতীয় ভাগ” এই শ্রেণীর প্রথম গ্রন্থ ইহার ৩১ বৎসর পরে ঢাকা! বিশ্ববিস্তালয়ের তত্বাবধানে ইংরেজী ভাষায় মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাম প্রবীণ এঁতিহালিক স্যার যদুনাথ সরকারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় (77150 ০: 36088], ৬০100)€ ]], 1948 )। কিন্তু এই দুইথানি গ্রন্থেই কেবল রাজনীতিক ইতিহাঁদ আলোচিত হইয়াছে। রাখালদাসের গ্রন্থে “ঠৈতন্তদেব গৌড়ীয় সাহিত্য" নামে একটি পরিচ্ছেদ আছে, কিন্তু অন্থান্ত নকল পরিচ্ছেদেই কেবল রাজনীতিক ইতিহামই আলোচিত হইয়াছে প্রীন্থময় মুখোপাধ্যায় “বাংলার ইতিহাসের ছুশেো বছর: স্বাধীন স্থলতাঁনদের আমল (১৩৩৮-১৫৩৮ শ্রীঃ)' নামে একটি ইতিহীসপ্রস্থ লিখিয়াছেন। কিন্তু এই

্রন্থখানিও প্রধানত রাজনীতিক ইতিহাস। একুশ বৎসর পূর্বে মৎ্সম্পাদিত, এবং ঢাকা বিশববিদতালয় হইতে প্রকাশিত ইংরেজী ভাষায় লিখিতবাংলার ইতিহাস ্রধমতাগ, (13198019 ০৫ 86791, ৬০|. [, 1943) অবলম্বনে খুব সংক্ষিপ্ত আকা 'বাংলার্দেশের ইতিহাম? লিখিয়াছিলাম | ইংরেজী বইয়ের অঙ্গুকরণে ' এই. বাংলা গ্রস্থেও রাজনীতিক সাংস্কৃতিক উভয়বিধ ইতিহাসের আলোচনা ছিল। এই গ্রস্থের ঘাঁধৎ চারিটি নংস্করথ প্রকাশিত হইয়াছে। ইহা এই রী ইতিহাসের ' জনপ্রিয়তা প্রয়োজনীয়তা সুচিত করে---এই ধারণার বশী হইয়া আমার পরম জেহাস্পদ ভূতপূর্ব ছার এবং পূর্বোক্র “বাংলাদেশের ইত্হাষের প্রকাশক শ্রীমান হুরেশচন্ দাস, এম. এ,'আমাকে একখানি পূর্ণাঙ্গ মধ্যের বাংদেশের ইতিহাস লিখিতে অচরোধ করে। কিন্ত, এই গ্রন লেখা অফার দুরূহ'ঃনে করিয়া আমি নিবৃত্ত ছই। ঢাকা বিশ্ববিষ্তারয় হইতে প্রকাণিত'ু ইংরেজী ভাবায় লিখিত বাংরার পুইতিহান-_ুধম ভাগে রাঙ্গনীতিক সামাজিক ইতিহাদ উভয়ই আঙোঁচিত

$ €%০ )

হইয়াছিল-স্থত্বরাং মোটামুটি এতিহাসিক উপকরণগুলি সকলই সহজলভ্য ছিল। কিন্তু মধ্যযুগের রাজনীতিক ইতিহাস খাঁকিলেও সাংস্কৃতিক ইতিহাস যাবং লিখিত হয় নাই। অতএব তাহা আগাগোড়াই নৃতন করিয়া অন্থ্ীলন করিতে হইবে। আমার পক্ষে বৃদ্ধ বয়পে এইরূপ শ্রমসাধ্য কার্ধে হস্তক্ষেপ করা যুক্তিযুক্ত নহে বলিয়াই সিদ্ধান্ত করিলাম কিন্ত শ্রীমান হরেশের নিবন্ধাতিশষ্যে এবং ছুইজন সহযোগী সাগ্রছে আংশিক দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আঁমি এই কার্ষে প্রবৃত্ত হইয়াছি। একজন আমার ভূতপূর্ব ছাত্র অধ্যাপক ডাক্তার স্থরেশচন্ত্ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আর একজন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক শ্রীহ্খময় মুখোপাধায়। ইহাদের সহায়তার জন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইতেছি।

| বর্তমানকালে বাংলাদেশের-_-তথা ভারতের মধ্যযুগের সংস্কৃতি বা সমাজের _ ইতিহান লেখা খুবই কঠিন কারণ বিষয়ে নানা প্রকার বদ্ধমূল ধারণা সংস্কারের প্রভাবে এতিহাঁসিক সত্য উপলব্ধি কর দুঃসাধ্য হইয়াছে এই শতকের গোড়ার দিকে ভারতের মুক্তি-দংগ্রামে যাহাতে হিন্দু-মুদলমান নিহিশেষে সকলেই যোগদান করে, সেই উদ্দেশতে হিন্দু রা্জনীতিকেরা হিন্দু-মুনলমান সংস্কৃতির সমন্বয় সন্ধে কতকগুলি সম্পূর্ণ নৃতন “তথ্য” প্রচার করিয়াছেন। গত ৫০1৬০ বৎসর যাবৎ ইহাদের পুনঃ পুনঃ প্রচারের ফলে বিয়ে কতকগুলি বাধা গৎ বা বুলি অনেকের মনে বিভ্রাস্তির সৃষ্টি করিয়াছে। ইহার মধ্যে যেটি সর্বাপেক্ষা গুরুতর--অথচ এঁতিহাসিক সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত--:৩৩৪-৩৫০ পৃষ্ঠায় তাহার আলোচনা করিয়াছি ইহার সারমর্ম এই ঘে ভারতের প্রাচীন হিন্দু-সংদ্কৃতি লোপ পাইয়াছে এবং মধাযুগে মুসলিম সংস্কৃতির সহিত সমস্য়ের ফলে এমন এক সম্পূর্ণ নৃতন সংস্কৃতির আবির্ভাব হইয়াছে, খাহা হিন্দুও নহে মুসলমানও নহে। মুদলমানেরা অবশ্ত ইহা স্বীকার করেন না এবং ইসলামীয় সংস্কৃতির ভিত্তির উপরই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত, ইহা প্রকাস্তে ঘোষণা করিয়াছেন। কিন্ত ভারতে “হিন্দু-সংস্কৃতি' এই কথাটি এবং ইহার অন্তসিহিত ভাবটি উল্লেখ করিলেই তাহা সংকীর্ণ অহছদার লা্রদায়িক মনোবৃত্তির পরিচায়ক বলিয়া! গণ্য করা হয়। মধ্যযুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসের ধারা এই মতের সমর্থন করে কিনা তাহার কেনিরূপ আলোচন! না করিয়াই কেবল মাত্র বর্তমান রাজনীতিক তাঁগিদে এই লক বুলি বা বাঁধা গৎ এতিহথাসিক অঙ্ট্য বলিয়া গৃহীত হইয়াছে। একজন পর্বজনমান্ত রাজনৈতিক ন্তো বলিগ্নাছেন যে আযখিলা-স্তাকলন, জুট, ডেন নর্ষান প্রভৃতি বিভিন্ন জাতির

ক,

( ৬০ )

মিলনে যেমন ইংরেজ জাতির উত্তব হইয়াছে, ঠিক সেইন্ধপে হিচ্ছুমূসলমান একেবারে মিলিয়া (০০9159050) একটি ভারতীয় জাঁতি গঠন করিয়াছে আদর্শ হিসাবে ইছ! ঘে সম্পূর্ণ কাম্য, তাহাতে সন্দেহ নাই--কিন্ত ইহা কতদুর এ্রতিহাঁসিক ত্য, তাহা নির্ধারণ কর! প্রয়োজন এই জন্যই এই প্রসঙ্গটি এই গ্রন্থে ক্মালোচন1 করিতে বাধ্য হইয়াছি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এ্তিহাসিক প্রণালীতে বিচারের ফলে ষে শিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছি, তাহা! অনেকেই হয়ত গ্রহণ করিবেন না। কিন্তু “বাদে বাদে জায়তে তন্ববোধঃ” এই নীতিবাক্য ন্মরণ করিম্বা আমি যাহা প্রকৃত সত্য বলিয়৷ বুঝিয়াছি, তাঁছ। অসঙ্কোচে ব্যক্ত করিয়াছি। এই প্রসঙ্গে ৫১ বৎসর পূর্বে আচার্য যছুনাথ সরকার বর্ধমান সাহিত্য সশ্মিলনের ইতিহাস-শাখার লভাপতির ভাষণে যাহ! বলিয়াছিলেন, তাহার কিঞ্চিৎ উদ্ধীত করিতেছি :

“সত্য প্রিয়ই হউক আন অপ্রিয়ই হউক, লাধারণের গৃহীত হউক আর প্রচলিত মতের বিরোধী হউক, তাহা ভাবিব না। আমার ন্বদেশগৌন্ববকে আঘাত করুক আর ন! করুক, তাহাতে জ্রক্ষেপ করিব ন1। অসত্য শঁচার করিবার জন্য, লমাঁজের বা বন্ধুবর্গের মধ্যে উপহাস গঞ্জন। পহিতে হয়, সহ্থিব। কিন্তু তবুও সত্যকে ধুঁজিব, বুঝিব, গ্রহণ করিব। ইহাই এঁতিহাসিকের গ্রতিজ্ঞা”।

এই আদর্শের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া, হিন্দু-মুললমানের সংস্কৃতির সমন্বয় লক্বন্ধে সাহ! লিখিয়াছি (৩৩৪-৩৫০ পৃষ্টা), তাহা! অন্যেকরই মনহপুত হইবে না ইছ। জানি। ভাহাদের মধ্যে ধাহার! ইহার এতিহাঁসিক সত্য গ্বীকার করেন, তীহারাও বলিরেন ঘে এরূপ সত্য প্রচারে হিন্দু-মুনলমানের মিলন জাতীয় একীকরণের (ট84924 2585000) বাঁধা জন্মিবে। একথা আমি মানি না। মধ্যযুগের ইতিস্থাস বিকুত করিয়া! কল্পিত হিন্দুমূসলমানের ভ্রাতৃতাব উভয় সংস্কৃতির সমন্বয়ের কথ প্রচার করিয়া বেড়ীইলেই উন্দেস্ঠ সিদ্ধ হইবে না। সত্যের দৃঢ় প্রস্তরময় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা না করিয়! কাল্পনিক মনোহর কাহিনীর বালুকার ব্তুপের উপর এইকূপ মিনন-পৌধ প্রস্তত করিবার প্রয়াম ঘে কিন্পুপ ব্যর্থ হয় পাকিস্তানি তাহার প্র প্রমাণ

হিন্দু-মুসলমান দংস্কৃতির সময় সম্বন্ধে আমি যাহ! লিখিয়াছি-রাজনীতিক দলের বাহিরে অনেকেই তাহার সমর্থন করেন---কিন্ধ গ্রকাঞ্চে বলিতে লাঁহুস করেন না। তবে জশ্প্রতি ইহার একটি ব্যতিক্রম দেখিয়া সুখী হইয়াছি।' এই কের ঘে অংশে হিন্ছুমুদনমানের যাস্কৃতির লমসথয গন্ধে আঁলোছন করিযাছ তাহা

10০ )

মুদ্রিত হইধার পরে প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি প্রবন্ধ পড়িলাম। “বড়বাধু* নামক গ্রন্থে চারি মাস পূর্বে ইহ প্রকাশিত হইয়াছে। হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই যে কিরূপ নিষ্ঠার সহিত পরস্পরের সংস্কৃতির সহিত কোনওরূপ পরিচস্র স্থাপন করিতে বিমুখ ছিল, আলী সাহেব তাহার স্বভাবসিদ্ধ ব্য্গপ্রধান সরস রচনায় তাহার বর্ণন! করিয়াছেন। কয়েক পংক্তি উদ্ধত করিতেছি £

“ষড়দর্শননির্মাতা আধ মনীষীগণের এতিহথগবিত নি মুনলমান- আগমনের পর সাত শত বৎসর ধরে আপন আপন চতুষ্পাঠীতে দর্শনচর্চা করলেন, কিন্তু পার্বতী গ্রামের মাত্রাসায় সাত শত বৎসর ধরে ঘষে আরবীতে প্লাতো থেকে আরম্ভ করে নিওপ্লাতনিজম্‌ তথা কিন্দী, ফারাবী, বৃআলীসিনা (লাতিনে আভিসেন! ), অল গজ্জালী (লাঁতিনে অল-গাজেল ), আবৃরুশ,দর ( লাতিনে আভেরস্‌) ইত্যাদ মনীষীগণের দর্শনচর্চা হল তার কোনে! সন্ধান পেলেন না। এবং মুসলমান যৌলানারাও কম গাফিলী করলেন না। যে. মৌলানা অমুললমান প্লাতা আরিস্ততলের দর্শনচর্চায় নোৎসাহে সানন্দে জীবন কাটালেন তিনি এক বারের তরেও সন্ধান করলেন না, পাশের চতুষ্পাঠীতে কিসের চর্চা হচ্ছে। '-*এবৎ সবচেয়ে পরমাশ্চর্ধ, তিনি থে চরক স্ুশ্রুতের আরবী অনুবাদে পুষ্ট বৃআলী সিনার চিকিৎসাশাস্ত্'"*আপন মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন, স্থলতান বাদশার চিকিৎসার্থে প্রয়োগ করছেন, সেই চরক'মুশ্রতের মুল পাশের টোলে পড়ান হচ্ছে তারই সন্ধান তিনি পেলেন না।"*****পক্ষান্তরে ভারতীয় আয়ুর্বেদ মুনলমানদের ইউনানী চিকিৎসাশান্ত্র থেকে বিশেষ কিছু নিয়েছে বলে আমার জান। নেই। ".**"শ্রীচৈতন্ধ- দেব নাকি ইললামের সঙ্গে স্বপরিচিত ছিলেন-****-কিন্তু চৈতন্যাদেব উভয় ধর্মের শাস্ত্রীয় সম্মেলন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে আমাদের জান! নেই। বস্তত তার জীবনের প্রধান উদ্দেস্ত ছিল, হিন্দুধর্মের সংগঠন সংস্কার, এবং তাকে ধ্বংসের পথ থেকে নবযৌবনের পথে নিয়ে যাবার ।১.....* মুসলমান যে-জ্ঞান-বিজ্ঞান ধর্মদর্শন সঙ্গে এনেছিলেন, এবং পরবর্তী যুগে বিশেষ করে মোগল আমলে আকবর থেকে আওরঙ্গজেব পর্যন্ত ' মন্বোল-জর্জরিত ইরান-তুরান থেকে যেসব মহত্র সহ কবি পণ্ডিত ধর্মজ্ঞ দার্শনিক এদেশে এসে মোগল রাজনভায় আঁপন

১. এই গ্রন্থের ২৮৮ পৃষ্ঠা আমিও এই হত বাক করিয়াছি।

(1/» )

“আপন কবিত্ব পাঙিত্য নিংশেষে উজাড় করে দিলেন তাঁর থেকে দেশের হিন্দু ধর্মশান্ত্রজজ পণ্ডিত, দার্শনিকরা কণামাত্র লাভবান্‌ হন নি।**.'.হিন্দু পণ্ডিতের সঙ্গে তাদের কোনে৷ ধোগশ্ুত্্ স্থাপিত হয় নি।”

সৈয়দ মুজতবা আলীর এই উক্তি আমি আমার মতের নমর্থক প্রমাণ স্বর়প উদ্ধৃত করি নাই। কিন্তু একদিকে যেমন রাজনীতির প্রভাবে হিন্দু-মুঘলমানের সংস্কৃতির মধ্যে একটি কাল্পনিক মিলনক্ষেত্রের স্থষ্টি হইয়াছে, তেমনি একজন মুসলমান সাহিত্যিকের মানসিক অন্ভূতি যে ইহার সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করে ইহা দেখানই আমার উদ্দেশ এঁতিহাসিক আলোচনার দ্বার আমি যে সত্যের সন্ধান পাইয়াছি, তাহা রাজনীতিক বাঁধা বুলির অপেক্ষা! এই সাহিত্যিক অনুভূতিরই বেশি সমর্থন করে। আমার মত যে অভ্রাস্ত কথা বলি না। কিন্তু প্রচলিত মতই যে সত্য তাহাও স্বীকার করি মা। বিষয়টি লইয়া নিরপেক্ষভাবে এঁতিহাসিক প্রণালীতে আলোচন1 করা প্রয়োিন--এব; এই গ্রন্থে আমি কেবল- মাঁজ তাহাই চেষ্ট। করিয়াছি। আচার্য যছুনাথ এ্রতিহাঁপিক সত্য নির্ধারণের যে আদর্শ আমাদের সম্মুখে ধরিয়াছেন তাহা অন্গুমরণ করিয়া চলিলে হয়ত প্রকৃত সত্যের সন্ধান মিলিবে | এই গ্রন্থ যদি সেই বিষয়ে চা করে তাহা হইলেই আমার শ্রম সার্থক যনে করিব।

এই গ্রস্থের “শিল্প” অধ্যায় প্রণয়নে যত আমার বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের প্রণীত “বীকুড়ার মন্দির হইতে বন পাহছাধ্য পহ্িয়াছি। তিনি অনেকগুলি চিত্রের ফটোও দিয়াছেন এইজন্য তাঁহার প্রতি আমার রুতজ্ঞতা জানাইতেছি। আকিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টও বনু চিত্রের ফটো দিয্াছেন--ইহার জন্যু কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি স্থানাস্তরে কোন্‌ ফটোগুলি কাহার নিকট হইতে

গ্ত, তাহার উল্লেখ করিয়াছি

৮০০, বাংলায় মুসলমানদের শিল্প স্দ্ধে ঢাকা হইতে প্রকাশিত এ, এচ২ ধাঁনীর গ্রন্থ হইতে বহু লাহাধ্য পাইয়াছি। এই গ্রন্থে মুসলমানগণের বছুদংখ্যক সৌধের বিস্তৃত বিবরণ চিত্র আছে। হিন্দুদের, শিল্প স্বন্ধে এই শ্রেণীর কোন গ্রন্থ নাই--এবং হিন্দু মন্দিরগুলির চিত্র; 'সহজলভ্য [নছে। এই কারণে শিল্পের উৎকর্ষ হিলাবে মৃনলমান সৌধগুলি অধিকতর যৃল্যবান হইলেও হিন্দু মন্দিরের চিন্রগুলি বেশী সংখ্যায় এই গ্রন্থে সঙ্গিবিষ্ট হইয়াছে। .

পূর্বেই বলিয়াছি যে মধ্যযুগের বাংলার সর্ধা্মীণ ইতিহাস ইতিপূর্বে লিখিত

€:1%* )

ছুয় নাই। হৃতরাং আশ করি বিষয়ে এই প্রথম প্রয়াস বনু দোষক্রটি সন্ধে পাঠকদের সহাহভৃতি লাভ করিবে।

মধ্যযুগের ইতিহাসের আকর-গ্রন্থগুলিতে সাধারণত হিজরী অব ব্যবহৃত হইয়াছে। পাঠকগণের হৃবিধার জন্য এই অবগুলির সমকালীন স্রীষটায় অবের তারিখসমূহ পরিশিষ্টে দেওয়! হইয়াছে।

মধ্যযুগে বাংলাদেশে মুমলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরেও বহুকাল পর্যন্ত কয়েকটি স্বাধীন হিন্দুরাজ্য প্রাচীন সংস্কৃতি এতিহা রক্ষা) করিতে জমর্থ হইয়াছিল। ইহাদের মধ্যে ত্রিপুরা এবং কামতা-কোচবিহার এই ছুই রাজ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এক কালে ছুয়েরই আয়তন বেশ বিস্তৃত ছিল। উভয় রাজ্যেই শাসন কার্ষে বাংল! ভাষা ব্যস্ত হইত এবং বাংল! গাহিত্যের প্রভূত উন্নতি হইয়াছিল-_হিন্দু ধর্মের প্রীধান্তও অব্যাহত ছিল। ত্রিপুরার “রাজকীয় মুদ্রায় বাংলা, অক্ষরে রাজা ও. বাণী এবং তাহাদের ইষ্ট দেবতার নাঁম লিখিত হইত। মধাযুগে হিন্দুর রা্নৈতিক সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতীক ্বরূপ বাংলার ইতিহাষে। এই ছুই রাজ্যের বিশিষ্ট স্থান আছে। এই জন্য পরিশিষ্টে এই ছুই রাজ্য নন্বদ্ধে পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করিয়াছি। কলিকাতা বিশ্বরিষ্ঠালয়ের অধ্যাপক ডক্ীর অমরনাথ লাহিড়ী কোচবিহারের ত্রিপুরার মুদ্রার বিবরণী চিদ্র মংযোজন করিয়াছেন এজন্য আমি তাহাকে আস্তরিক ধ্বাদ জানাইতেছি। |

৪নংবিপিন পাল রোভ.. শ্রীরমেশচক্দ্রমভুমদার কলিকাতা ২৬

সুচীপত্র প্রথম পরিচ্ছেদ

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠা [ লেখক--ঞ্াহুধমর় মুখোপাধ্যায় ]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ বাংলায় মুসলমান রাজ্যের বিস্তার [ লেখক-_্রীন্খময় মুখোপাধ্যার় ] তৃতীয় পরিচ্ছেদ

বাংলার ত্বাধীন স্থলতানগণ--ইলিয়াস শাহী বংশ [ লেখক-_শ্রীহবখমর মুখোপাধ্যায় ]

চতুর্থ পরিচ্ছেদ রাজ] গণেশ তাহার বংশ [ লেখকস্স্জরীহ বময় মুখোপাধ্যার ] পঞ্চম পরিচ্ছেদ মাহমুদ শাহী বংশ হাবশী রাজত্ব [ লেখক_জ্ীহথমর় মুখোপাধ্যায় ] ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ হোনেন শাহী বংশ বাংলার মৃদলিম রাজত্বের প্রথম যুগের রাঁজাশালনবাবস্থ1 ( ১২০৪-১৫৩০ গ্রীঃ) [ লেখক-স্প্রীন্ব ধময় মুখোপাধ্যায় ] সপ্তম পরিচ্ছেদ হুমায়ুন আফগান রাজত্ব [ লেখক--জ্ীন্ুখমর় মুখোপাধ্যায় ] অষ্টম পরিচ্ছেদ মুঘল ('মোগল ) যুগ ['লেখক--ডঃ রষেশচজ্রা মজুমদার ] “নবম পরিচ্ছেদ নবাবী আমল চলেখক-্্ডঃ বমেশওজ মজুমদার ]

১৫

৩১

রা

& রা

৫৬

শ৪ ১৩৪

১১৪

১৩২

দশম পরিচ্ছেদ

'মুমলিম যুগের উত্তরার্ধের রাজ্যপীসনব্যবস্থা [ লেখক--ডঃ রমেশচন্্র মভুসদার ]

একাদশ পরিচ্ছেদ অর্থ নৈতিক স্মবস্থা

[লেখক_ডঃ রমেশচন্ত্র মজুমদার ]

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ ধর্ম সমাজ [ লেখক-ডঃ রঙেশচন্ত্র মজুমদার ২৫৩ পৃষ্ঠ! হইতে ২৬৮ পৃষ্ঠার ১৩ ছত্র পধস্ত লেখক--ডঃ সুরেশচন্্র বন্দ্যোপাধ্যায় ]

ভ্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

সংস্কৃত সাহিত্য [ লেখক--ডঃ সুরেশচশ্র বছেটাপাধ্যায় |

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ বাংল। সাহিত্য

[ লেখক-_্রীনুখময় মুখোপাধ্যায় ] চতুর্দশ পরিচ্ছেদ পরিশিষ্ট

সন

প্রীচীন বাংল গষ্ঠ

[ লেখক--ভঃ গর্গেশচা মঞজুমদার ] পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ শিল্প

[ লেখক-_ডঃ রেশচ্ত্র মজুমদার ]

পরিশিষ্ট কোচবিহার ত্রিপুরা [ প্লেখক--ডঃ রষেশচঞ্জা অজুষারার | কোচবিহারের মুদ্রা ত্রিপুরারাজ্যের মুদ্র] [ লেখক-+ডঃ অনরনাথ লাহিডী9] বাংলার সুলতান, শারক্‌১৩ নবাবদের কালানুক্তমিক তালিকা [ লেখক-_জীগুধমর মুখোপাব্ঠীয ] ্রঙ্ছপজী' - হিজরী সন্‌)৪ শ্টান্দের তুলনামূলক তালিকা নির্দেশিকা

২১

২২৭

২৪২

৩৫১.

৩৭৩

8৪8৫

৪৫০

5 ৭৮

৪৯২ ৪৯৪

১০ | ১১। ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ ১৭ | ১৮ | ১৯ ২০ | ২.১ | ই. | ২৩ ২৪ ২.৫ | ২৬

চিত্র-সুচি

আদিন। মসজিদ ( পাতুয়া সাধারণ দৃশ্য আদিন। মসজিদ-_বাঁদশাহ-ক1-তক্ত আদিনা মসজিদ--বড় মিহ.রাঁব

আদিন| মসজিদ-_বড মিহরাঁবের কারুকার্ধ আদিনা মসজিদ-_-ছোট মিহ.রাঁবের ইমউকনিমিত কারুকার্ধ একলাখী সমাধি-ভবন (পাতুয়। )

নতুন মসজিদ (গৌড় )

নত্তন মসজিদ ( গৌড় )-_পার্শের দৃশ্য নত্তন মসজিদ (গৌড় )-_অভ্যন্তরের দৃস্থয তাতিপাঁড়। মজিদ গৌড় )

বাবছুয়ারী মসজিদ ( গৌড় )

কদম বসুল গৌড় )

কুতৃবশাহী মসজিদ ( পাওুয়া )

কুতুবশাহী মসজিদ ( পাওয়া )

দাখিল দরওয়াজ। গৌড় )

দাখিল দরওয়াজা ( গৌড় )

গুমতি দরওয়াজ গৌড )

গুমতি দরওয়াজা গৌড় )

ফিরোজ মিনার ( গৌড় )

সিদ্ধেশ্বর মন্দির ( বছলাড়। )

হাভমাসড়ার মন্দির

ধরাপাঁটের মন্দির

বাশবেড়িয়ার হংসেশ্বরীর মন্দির

পাটপুরের মন্দির

জোঁড়বাংল৷ মন্দির ( বিঞু্পুর )

লালজীর মন্দির (বিঞুঃপুর ).

৩৯ ৮০ ৪১ পি ৪৩ ৪৪

3৫.

5৪ ক।

৪৭

৪৮

|

|

(1৮০ )

কালাচাদ মন্দির ( বিএুইপুব )

বাপাশ্যানমর মন্দির ( বিএপুর )

রাধাবিনোদ মন্দিল (বিপুব 9

নন্দছুলালের মন্দিব ( শিখুতপুর )

মদনমোহন মন্দির (বিখ্ুতুগর )

মুরলী-মাহন মন্দির ( [াখুঃপুর )

জোড। মন্দির ( বিথুতপুব )

রাপামাধদের মন্দির ( বিপুএপুব )

স্যামণায়ের মন্দির (পিখুপুর )

গোকুলটাদের মন্দির

মলেখরের মন্দির (শিখুতপুর

রাঁসমঞ্চ ( বিখুইপুর )

ইঈ্টকনিমি রথ (রাঁধাগোবিন্দ মন্দির, বিনুঃপুধ ) ছর্গ তোধণ €(বিখুঃপুর

রাষচন্দ্রের মন্দির গুপ্প্িপাঁড়। )

বামচন্দ্রের মন্দির (গুপ্তিপাড়| )-বাভিরের কাক্কার বুন্দাবনচন্দ্রের মন্দির €( গুপ্তিপাড। )

কৃষ্তচত্রের মন্দির €(গুপ্পিপাড। 9

আনন্দ? রবের মন্দির ( সোমড়। সুখড়িয়। ) সোৌমড়া সুখড়িয়ার আনন্বমভৈরবীর মন্দিরের ভাক্কধ কান্তনগবের মন্দির €(দিশাজপুধ )

রেখ দেউল (বান্দা )

১৩ ২নং বেগুনিয়ার মন্দির (বরাকর )

৪৯ ক। শিকার দৃশ্য-_জোড়াঁবাংলার মন্দির €( বিঞ্ু্পুর )

৭৯ খ। টিয়াপাখী- শ্রীধবর মান্দির

৪৯ গ। হংসলতা-_মদনমোহন মন্দির বিঝ্ু্পুর )

«০ ক। ব্বাসলীল। (বাঁশবেডিয়ার বাসুদেব মন্দিরের ভাস্কর্ধ ) ৫০ খ্ব নৌকাবিলাস--( বাঁকুড়ার মন্দিরের ভাস্কর্য )

৫১

বাকুড়ার বিভিন্ন মন্দিরের পোড়ামাটির অলঙ্কার

( 115০ )

৫২ ক। বাকুডার মন্দিরের গ্োভামাটিব ক্ষণ ৫২ খ। বাঁকুডার মন্দিরের ভাঙ্কগ ₹৩। যুদ্ধচিত্র _জোড়াবাংল| মন্দির ( পিধুপুর ) :৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮ ত্রিবেণী হিন্নু মন্দিরের ফলক ₹৯ | কাঠ খোদাইয়ের শিদর্শন ( বাকুড়। )

ম।নচিত্র

১। মধাযুগে কোচবিহার রাজা ২। মধাযুগে ত্রিপুর! রাজা ৩। মধ্যযুগে কামতা রাজা

মুদ্র।"চিত্র

১। কোচবিহারের মুদ্রা ২। ত্রিপুরার মুদ্রা

| কৃতজ্ঞতা-জ্বীকাত

চিত্র-সৃচির ১, ২, ৩, ৪, &, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০,১৯১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪8৪, ৪৬, ৪8৭, ৪৮, ৫৪, ৫, ৫৬, ৫৭ ৫৮ সংখ্যক চিন্নের ফটো ভারতীয় প্রত্নতত্ব সংস্থা (পৃবগ্চিল) এবং ২০, ২১, ২২, ২৬, ৩৬, ৪৫, ৪৫ক, ৪৯ক, খ, গ, ৫০ক, খ, ৫১, ৫২ক, খ, ৫৩ ৫৯ সংখ্যক চিন্রের ফটো শ্রীযুক্ত বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের সৌজন্যে প্রাপ্ত

প্রথজ পাতিচ্ছেদ বাংলায় সুসালম আধিকারেন্র প্রতিষ্টা

১। ইখতিয়ারুদ্দবীন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী

১৯৯৩ খ্রীষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়ী হইয়া মুহম্মদ ঘোরী সর্বপ্রথম আর্ীবর্তে মুনলিম রাজ্য প্রতিষ্টা কবেন। তাহার মাত্র কয়েক বতসর পরে গর্মসীরের অধিবানী অনমসাহসী ভাগ্যান্বেধী ইখভিয়ারুদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী অতকিতভাবে পূর্ব ভাঁরতে অভিযান চালাইয়' প্রথমে দক্ষিণ বিহার এবং পরে পশ্চিম উত্তর বঙ্গের অনেকাংশ জয় করিয়া এই অঞ্চলে প্রথম মুসলিম অধিকার স্থাপন করিলেন। বখতিয়ার প্রথমে “নোদীয়হঞ অর্থাৎ নদীয়? ( নবদ্ীপ ) এবং পরে “লখনৌতি” অর্থাৎ লক্ষ্ণাবতী বা গৌড জয় করেন। মীনহাঁজ-ই-সিরাজের “তবকাঁংই-নাঁসিরী” গ্রন্থে বখতিয়ারের নবদ্বীপ জয়ের বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে বর্তমান গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে বিবরণের সৎক্ষিপ্তসার দেওয়া! হইয়াছে এবং তাহার যাথার্থ্য সম্বন্ধে আলোচনা কর! হইয়াছে

বখতিয়ারের নবদ্বীপ বিজয় তথা বাংলাদেশে প্রথম মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠা কোন্‌ বৎসরে হইয়াছিল, সে সম্বন্ধে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে মীনহাঁজ- ই-সিরাজ লিখিয়াছেন যে বিহার ছূর্গ অর্জাৎ ওরন্তপুরী বিহার ধ্বংস করার অব্যবহিত পরে বখতিয়ার বদায়ুনে গিয়া কুতবুদ্দীন আইবকের সহিত সাক্ষাঁৎ করেন এবং তীঁহাকে নাঁনা উপঢৌকন দিয়া প্রতিদানে তীহাঁর নিকট হইতে খিলাৎ লাভ করেন ; কুত্বুদ্দীনের কাছ হইতে ফিরিয়া! বখতিয়ার আবাঁর বিহার অভিমুখে অভিযান করেন এবং ইহার পরের বংসর তিনি “নোদীয়হ,” আক্রমণ করিয়া জয় করেন। কুত্বুদ্দীনের সভাসদ হাঁসাঁন নিজামীব “তাঁজ-উল- মাঁসির' গ্রন্থ হইতে জাঁনা যাঁর যে ১২০৩ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে কুত্বুদ্দীন কালিগ্র দুর্গ জয় করেন, এবং কালিগুর হইতে তিনি সরাসরি বদায়ুনে চলিয়া আঁসেন ; তীহাঁর বদায়নে আগমনের পরেই “ইথতিয়ারুদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার উদন্দ-বিহাঁর ( অর্থাৎ ওরস্তপুরী বিহার ) হইতে তাহার কাছে আঁসিয়া উপস্থিত হইলেন” এবং তীঁহাকে কুড়িটি হাঁতী, নানারকমের রত্ব বহু অর্থ উপচৌকন

বাংলা দেশের ইতিহাস

স্বরূপ দ্রিলেন। সুতরাং বখতিয়ার ১২০৩ শ্রীষ্টাব্ষের পরের বৎসর অর্থাৎ ১২০৪ ্রষ্টান্ধে নবদ্বীপ জয় করিয়াছিলেন, এইরূপ ধারণ| করাই সঙ্গত।

“নোদীয়হত জয়ের পরে মীনহাজ-ই-সিরাজের মতে “নোদীয়হ” “লখনৌতি” জয়ের পরে বখতিয়ার লখনৌতিতে রাজধানী স্থাপন করিয়াছিলেন কিন্তু বখতিয়ারের জীবদ্দশায় এবং তাহার মৃত্যুর প্রায় কুড়ি বৎসর পর পর্যন্ত বর্তমান দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত দেবকোট (আধুনিক নাম গঙ্গারামপুর ) বাংলাঁর মুসলিম শক্তির প্রধান কর্মকেন্দ্র ছিল

নদীয়া লখনৌতি জয়ের পরে বখতিয়াৰ একটি রাঁজ্যের কার্যত স্বাধীন অধীশ্বর হইলেন। কিন্তু মনে রাখিতে হইবে যে বখতিয়ার বাংল দেশের অধিকাংশই জয় করিতে পারেন নাই তাহার নদীয়া লক্ষণাবতী বিজয়ের পরেও পূর্ববঙ্গে লক্ষ্পণসেনের অধিকার অক্ষুগ্ন ছিল, লক্ষ্মণসেন যে ১২০৬ খ্রীষ্টাব্দে জীবিত সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাহার প্রমাণ আছে। লক্ষ্মণসেনের মৃত্যুর পরে তাহার বংশধরর1 এবং দেব বংশের রাজার! পূর্ববঙ্গ শাসন করিয়াছিলেন। ১২৬০ গ্রীষ্টান্দে মীনহাঁজ-ই-সিরাঁজ তাহার “তবকাৎই-নাসিরী” গ্রন্থ সম্পূর্ণ করেন। তিনি লিখিয়াছেন যে তখনও পর্যস্ত লক্ষ্মণসেনের বংশধরর] পূর্ববঙ্গে রাজত্ব করিতেছিলেন। ১২৮২ খ্রীষ্টাব্দেও মধুসেন নামে একজন রাঁজার রাজত্ব করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দশকের আগে মুসলমানরা পূর্ববঙ্গের কোন অঞ্চল জয় করিতে পারেন নাই। দক্ষিণবঙ্গের কোন অঞ্চলও মুসলমানদের দ্বারা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বিজিত হয় নাই। স্থতরাং বখতিয়ারকে “বঙ্গবিজেতা+ বল! সঙ্গত হয় না। তিনি পশ্চিমবঙ্গ উত্তরবঙ্গের কতকাংশ জয় করিয়! বাংলাদেশে মুপলিম শাসনের প্রথম স্ুচন1! করিয়াছিলেন, ইহাই তাহার কীতি। ত্রয়োদশ শতীব্দীর মুসলিম এঁতিহাসিকরাঁও বখতিয়ারকে “বঙ্গবিজেতা” বলেন নাই ; তীহারা বখতিয়ার তাহার উত্তরাঁধিকারীদের অধিকৃত অঞ্চলকে “লখমৌতি রাজ্য বলিয়াছেন, “বাংল! রাজ্য বলেন নাই।

বখতিয়ারের নদীয়া বিজয় হইতে সুরু করিয়া তাজুদ্বীন অর্গলানের হাতে ইজ্ছুদ্দীন বলবন মুজবকীর পরাজয় পতন পর্যস্ত লখনৌতি রাজ্যের ইতিহাঁদ একমাত্র মীনহাঁজ-ই-সিরাজের “তবকাৎ-ই-নাসিরী” হইতে জানা যায়। নীচে এই গ্রন্থ অবলম্বনে এই সময়কার ইতিহাসের সংক্ষিচদার লিপিবদ্ধ হইল।

নদীয়া লখনৌতি বিজয়ের পরে প্রায় ছুই বৎসর বখতিয়ার আর কোন

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠ।

ভিযানে বাহির হন নাই। এই সময়ে তিনি পরিপূর্ণভাবে অধিকৃত অঞ্চলের শাসনে মনোনিবেশ করেন সমগ্র অঞ্চলটিকে তিনি কয়েকটি বিভাগে বিতক্ত করিলেন এবং তাহার সহযোগী বিভিন্ন সেনানায়ককে তিনি বিভিন্ন বিভাগের শাসনকর্তা নিযুক্ত করিলেন। ইহার! মকলেই ছিলেন হয় তৃবীঁ না হয় খিলজী জাতীয়। রাঁজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে বখতিয়ার আলী মর্দান, মুহম্মদ শিরান, হসামুদ্দীন ইউয়জ প্রভৃতি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করিলেন। বখতিয়ার তীহার রাজ্যে অনেকগুলি মসজিদ, মাদ্রাসা খান্কা প্রতিষ্টা করিলেন। হিন্দুদের বহু মন্দির তিনি ভাঙিয়! ফেলিলেন এবং বহু হিন্দুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করিলেন |

লখনৌতি জয়ের প্রায় ছুই বৎসর পরে বখতিয়ার তিব্বত জয়ের সঙ্কল্প করিয়া অভিযাঁনে বাহির হইলেন লখনৌতি হিমালয়ের মধ্যবর্তী প্রদেশে কোচ, মেচ থারু নামে তিনটি জাতির লোঁক বাস করিত। মেচ জাতির একজন সর্দার একবার বখতিয়ারের হাঁতে পড়িয়াছিল, বখতিয়ার তাহাকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করিয়া আলী নাম রাঁখিয়াছিলেন। এই আলী বখতিয়ারের পথ- প্রদর্শক হইল। বখতিয়ার দশ সহস্র সৈন্য লইয়া তিব্বত অভিমুখে যাত্র! করিলেন। আলী মেচ তীহাঁকে কাঁমরূপ রাজ্যের অভ্যন্তরে বেগমতী নদীর তীরে বর্ধন নামে একটি নগরে আনিয়া হাজির করিল। বেগমতী বর্ধনের অবস্থান সম্বন্ধে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে বখতিয়।র বেগমতীর তীরে তীরে দশ দিন গিয়া একটি পাথরের সেতু দেখিতে পাইলেন, তাহাতে বারোটি খিলান ছিল। একজন তুকাঁ একজন খিলজী আমীরকে সেতু পাহার1 দ্বার জন্য রাঁখিয়! বখতিয়ার অবশিষ্ট সৈন্য লইয়! সেতু পার হইলেন।

এদিকে কামরূপের রাজা বখতিয়ারকে দূতমুখে জানাইলেন যে এঁ সময় তিব্বত আক্রমণের উপযুক্ত নয়; পরের বৎসর যদি বখতিয়ার তিব্বত আক্রমণ করেন, তাহা হইলে তিনিও তাহার সৈন্যবাহিনী লইয়া অভিযানে যোগ দিবেন। বখতিয়ার কামবূপরাজের কথায় কর্ণপাত না! করিয়া তিব্বতের দিকে অগ্রসর হইলেন। পূর্বোক্ত সেতুটি পার হইবার পর বখতিয়ার পনেরো দিন পার্বত্য পথে চলিয়া ষোড়শ দিবমে এক উপত্যকায় পৌঁছিলেন এবং লেখানে লুঠন সরু করিলেন ; এই স্থানে একটি দুর্েছ্য দুর্গ ছিল। এই ছুর্গ তাহার আশপাশ হইতে অনেক সৈম্য বাহির হইয়! বখতিয়ারের সৈন্দলকে আক্রমণ

বাংল! দেশের ইতিহাস

করিল। ইহাদ্রের কয়েকজন বখতিয়ারের বাহিনীর হাঁতে বন্দী হইল। তাহাদের; কাছে বখতিয়ার জানিতে পারিলেন যে স্থান হইতে প্রায় পঞ্চাশ মাইল দুরে করমপত্তন বা করারপত্তন নামে একটি স্থানে পধ্চাশ হাজার অশ্বারোহী সৈন্ত আছে। ইহা শুনিয়া বখতিয়ার আর অগ্রসর হইতে সাহস করিলেন ন1।

কিন্তু প্রত্যাবর্তন করাও তাহার পক্ষে সহজ হইল না। তীহার শক্রপক্ষ &ঁ এলাকার সমস্ত লোকজন সরাইয়| যাবতীয় খাদ্যশস্য নষ্ট করিয়া! দিয়াছিল। বখতিয়ারের সৈন্যের! তখন নিজেদের ঘোঁড়াগুলির মাংস খাইতে লাগিল এইভাবে অশেষ কষ্ট সহা করিয়া বখতিয়ার কোন রকমে কামরূপে পৌছিলেন।

কিন্তু কামরূপে পৌছিয়! বখতিয়ার দেখিলেন পূর্বোক্ত সেতুটির দুইটি খিলান তাঁডা$ যে ছুইজন আমীরকে তিনি সেতু পাহাঁর! দিতে রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাঁহাঁরা বিবাঁদ করিয়া স্থান ছাড়িয়া গিয়াছিল, ইত্যবসরে কামরূপের লোকেরা আসিয়া! এই ছুঈটি খিলান ভাডিয়া দেয়। বখতিয়ার তখন নদীর তীরে তাবু ফেলিয়! নদী পার হইবার জন্য নৌকা ভেল] নির্ধাণের চেষ্ট! করিতে লাগিলেন কিস্তু সে চেষ্টা সফল হইল না। তখন বখতিয়ার নিকটবর্তী একটি দেবমন্দিরে সসৈন্তে আশ্রয় গ্রহণ করিলেন। কিন্তু কামরূপের রাজা এই সময় বখতিয়ারের ত্বপক্ষ হইতে বিপক্ষে চলিয়া গেলেন। (€ বোধহয় মুসলমানরা দেবমন্দিরে প্রবেশ করায় তিনি ক্রুদ্ধ হইয়ীছিলেন।) তাহার সেনারা আসিয়া দেবমন্দির ঘিরিয়? ফেলিল এবং মন্দিরটির চারিদিকে বাশ দিয়! প্রাচীর খাঁড়া করিল। বখতিয়ারের সৈন্যের চারিদিক বন্ধ দেখিয়া মরিঘ্না হইয়া প্রাচীরের একদিক ভাড়িয়া ফেলিল এবং তাহাদের মধ্যে দুই একজন অশ্বীরোহী অশ্ব লইয়া নদীর ভিতরে কিছুদূর গমন করিল। তীরের লোকেরা! পাস্তা মিলিয়াছে” বলিয়! চীৎকার করায় বখতিয়ারের সমস্ত সৈন্য জলে নামিল। কিন্তু সামনে গভীর জল ছিল, তাহাতে বখতিয়ার এবং অল্প কয়েকজন অশ্বারোহী ব্যতীত আঁর সকলেই ডূবিয়া মরিল। বখতিয়ার হতাবশিষ্ট অশ্বারোহীদের লইয়া কৌনক্রমে নদীর ওপারে পৌছিয়া আলী মেচের আত্মীয়ম্বজনকে প্রতীক্ষারত দেখিতে পাইলেন। তাহাদের পাহায্যে তিনি অতিকষ্টে দেবকোটে পৌছিলেন।

দ্বেবকোটে পৌছিয়া বখতিয়ার সাংঘাতিক রকম অনুস্থ হইয়া পড়িলেন।

বাংলায় সুসল্গিম অধিকারের প্রতিষ্ঠা

ইহার অল্পদিন পরেই তিনি পরলোকগমন করিলেন (৬০২ হিঃ. ১২০৫-০৬ খ্রীঃ ) কেহ কেহ বলেন যে বখতিয়ারের অন্ুচর নাঁরান-কোই-র শাসনকর্তা আলী মর্দান তাহাকে হত্যা করেন। তিব্বত অভিযানের মত অসম্ভব কাঁজে হাত ন1 দিলে হয়ত এত শীঘ্র বখতিয়ারের এবপ পরিণতি হইত ন]।

২। ইজ্জুদ্দীন মুহম্মদ শিরান খিলজী

ইজ্জুদ্বীন মুহম্মদ শিরাঁন খিলজী তাহার ভ্রাতা আহমদ শিরান বখতিয়ার খিলজীর অন্ুচর ছিলেন। বখতিয়ার তিব্বত অভিযানে যাত্রা! করিবার পূর্বে এই ছুই ভ্রাতাকে লখনোর জাজনগর আক্রমণ করিতে পাঠাইয়াছিলেন। তিব্বত হইতে বখতিয়ারের প্রত্যাবর্তনের সময় মুহম্মদ শিরান জাজনগরে ছিলেন। বখতিয়ারের তিব্বত অভিযানের ব্যর্থতার কথা শুনিয়া তিনি দেবকোটে প্রত্যাবর্তন করিলেন ইতিমধ্যে বখতিয়ার পরলোকগমন করিয়াছিলেন তখন মুহম্মদ শিরান প্রথমে নারান-কোই আক্রমণ করিয়া আলী মর্দীনকে পরাস্ত বন্দী করিলেন এবং দেবকোটে ফিরিয়া আঁপিয়। নিজেকে বখতিয়ারের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করিলেন এদিকে আলী মর্দান কারাগার হইতে পলায়ন করিয়! দিল্লীতে সুলতান কুত্বুদ্দীন আঁইবকের শরণাপন্ন হইলেন কায়েমাজ রুমী নামে কুত্বুদ্দীনের জনৈক সেনাপতি এই সময়ে অযোধ্যায় ছিলেন, তাহাকে কুতবুদ্দীন লখনৌতি আক্রমণ করিতে বলিলেন। কায়েমীজ লখনৌতি বাঁজ্যে পৌছিয়া অনেক খিলজী আমীরকে হাত করিয়! ফেলিলেন। বখতিয়ারের বিশিষ্ট অশ্নুচর, গাঙ্গুরীর জায়গীরদার হসামুদ্দীন 'ইউয়জ অগ্রসর হইয়া! কায়েমাজকে স্বাগত জানাইলেন এবং তাঁহাকে সঙ্গে করিয়া দেবকোটে লইয়া গেলেন। মুহম্মৰ শিরাঁন তখন কায়েমাজের সহিত যুদ্ধ না করিয়া দেবকোট হুইতে পলাইয়া গেলেন। অতঃপর কায়েমাজ হসামুদ্দীনকে দেবকোটের কর্তৃত্ব দান করিলেন। কিন্তু কায়েমাজ অযৌধ্যায় প্রত্যাবর্তন করিলে মুহম্মদ শিরান এবং তাহার দলতৃক্ত খিলজী আমীরর! দেবকোট আক্রমণের উদ্যোগ করিতে লাগিলেন

এই 'সংবাদ পাইয়া! কায়েমাজ আবার কিরিয়া আসিলেন। তখন তাহার সহিত মুহম্মদ শিরান তীহাঁর অনুচরদের যুদ্ধ হইল। এই যুদ্ধে মুহম্মদ শিরান «ও তাহার দলের লোকেরা পরাজিত হইয়া মক্সদ1! এবং সন্তোষের দিকে পলায়ন

বাংল। দেশের ইতিহাস

করিলেন। পলায়নের সময় তীহীদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ হইল এবং এই; বিবাঁদের ফলে মুহম্মদ শিরান নিহত হইলেন

৩। আলী মর্দীন (আলাউদ্দীন )

আলী মর্দান কিছুকাল দিল্লীতেই রহিলেন। কুতবুদ্দীন আইবক যখন' গজনীতে যুদ্ধ করিতে গেলেন, তখন তিনি আলী মর্দানকে সঙ্গে লইয়া গেলেন। গজনীতে আলী মর্দান তুকাদের হাতে বন্দী হইলেন। কিছুদিন বন্দিদশায় থাকিবার পর আলী মর্দান মুক্তি লাভ করিয়া দিল্লীতে ফিরিয়৷ আদিলেন। তখন কুৎবুদ্দীন তাহাকে লখনৌতির শাঁসনকর্তার পদে নিযুক্ত করিলেন। আলী মর্দান দেবকোঁটে আসিলে হসামুদ্ীন ইউয়জ তাহাকে অভ্যর্থনা জানাইলেন এবং আলী মর্দান নিবিবাদে লখনৌতির শাসনভার গ্রহণ করিলেন ( আঃ ১২১০ খ্রীঃ )।

কুতবুদ্বীন যতদিন জীবিত ছিলেন, ততধিন আলী মর্দীন দিল্লীর অধীনতা স্বীকাঁর করিয়া চলিয়াছিলেন। কিন্তু কুংবুদ্দীন পরলোকগমন করিলে (১২১১ শ্রী) আলী মর্দান স্বাধীনতা ঘোষণা করিলেন এবং আলাউদ্দীন নাম লইয়া স্থলতাঁন হইলেন তাহার পর তিনি চারিদিকে সৈন্য পাঠাইয়া বহু খিলজী আমীরকে বধ করিলেন তাহাঁর অত্যাচার ক্রমে ক্রমে চরমে উঠ্িল। তিনি বহু লোককে বধ করিলেন এবং নিরীহ দরিদ্র লোকদের দুর্দশার একশেষ করিলেন। অবশেষে তাহার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হইয়া বহু খিলজী আমীর ষড়যন্ত্র করিয়া আলী মর্দানকে হত্যা করিলেন। ইহার পর তাহারা হসামুদ্দীন ইউয়জকে লখনৌতির স্থলতান নিবাচিত করিলেন হপামুদ্দীন ইউয়জ গিয়াঙ্থদ্দীন ইউয়জ শাহ নাম গ্রহণ করিয়া! সিংহাসনে বসিলেন (১২১২ ঘ্রীঃ)।

৪। গিয়াসুদ্দীন ইউয়জ শাহ

গিয়ান্থদ্দীন ইউয়জ শীহ ১৫ বৎসর রাজত্ব করেন তিনি প্রিয়দর্শন, দয়ালু.

ধর্মপ্রাণ ছিলেন। আলিম, ফকীর সৈয়দদ্র তিনি বৃত্তি দান করিতেন ঘুর দেশ হইতেও বছ মুসলমান অর্থের প্রত্যাশী হইয়া তাহার কাছে আসিত এবং সন্তষ্ট হুইয়া ফিরিয়া যাইত। বহু মসজিদও তিনি নির্মাণ করাইয়াছিলেন

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠা

গিয়ান্ুদ্দীনের শাঁপনকাঁলে দেবকোটের প্রাধান্য হাঁস পাঁয় এবং লখনৌতি পুরাপুরি রাজধানী হইয়া উঠে। গিধাস্দ্দীনের আর একটি বিশেষ কীতি দেবকোটি হইতে লখনোর বা রাজনগর (বর্তমান বীরভূম জেলার অন্তর্গত ) পর্যন্ত একটি সুদীর্ঘ উচ্চ রাজপথ নির্মাণ করা এই রাজপথটির কিছু চিহ্ন পঞ্চাশ বছর আঁগেও বর্তমান ছিল। গিয়াস্নদ্দীন বসকেটি বা বসনকোট নামক স্থানে একটি দুর্গ নির্মাণ করাইয়াছিলেন। বাঁগদাদের খলিফা অন্নাসিরোলেদীন ইল্লাহের নিকট হইতে গিয়াম্দ্দীনা তাহার রাঁজ-মর্ধাদা স্বীকারস্থচক পত্র আনান। গিয়াস্থাদ্দীনের অনেকগুলি মুদ্রা পাওয়! গিয়াছে। তাহাদের কয়েকটিতে খলিফার নাম আছে।

কিন্তু ১৫ বৎসর রাজত্ব করিবার পব গিয়াঙ্থদ্দীন ইউয়জ শাহের অৃষ্টে ছুদিন ঘনাইয়! আপিল। দিল্লীর স্বলতাঁন ইলতুতমিস ১২২৫ গ্রীষ্টাবে গিয়াহ্থদ্দীন ইউয়জ শাহকে দমন করিয়া লখনৌতি রাজ্য জয় করিবার জন্য যুদ্ধযাত্রা করিলেন। ইলতুংমিস বিহার হইতে লখনৌতির দিকে রওনা হইলে গিয়ানুদ্রীন তাহাকে বাধা দিবার জন্য এক নৌবাহিনী পাঠালেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ইলতৃৎমিসের নামে মুদ্রা উৎকীর্ণ করিতে খুতবা পাঠ করিতে স্বীকৃত হইয়া এবং অনেক টাঁকা হাতী উপঢৌকন দিয়া ইলতুৎমিসের সহিত সন্ধি করিলেন। ইলতুৎমিদ তখন ইজ্জ্বদ্দীন জাঁনী নামে এক ব্যক্তিকে বিহারের শাসনকর্তা নিধুক্ত *করিয়! দিললীতে ফিরিয়া গেলেন। কিন্তু ইলতুতমিসের প্রত্যাবর্তনের অল্পকাঁল পরেই গিয়াস্দ্দীন ইজ্ছুদ্দীন জাঁনীকে পরাজিত বিতাঁড়িত করিয়া ধিহার অধিকার করিলেন। ইজ্ুদ্দীন তখন ইলতুৎমিসের জোষ্ঠ পুত্র নামিরুদ্দীন মাহ-আুদের কাছে গিয় সমস্ত কথা জানাইলেন এবং তাঁহার অঙ্থুরোৌধে নাসিরুদ্দীন মাহখ্দ লখনৌতি আক্রমণ করিলেন এই সময়ে গিয়াস্থদ্দীন ইউয়জ পূর্ববন্ধ এবং কামরূপ জয় করিবার জন্য ুদ্ধধাত্রা করিয়াছিলেন, সুতরাং নাপিরুদ্দীন অনায়াদেই লখনৌতি অধিকার করিলেন। গিয়াস্দ্বীন এই সংবাদ পাইয়া ফিরিয়া আঁসিলেন এবং নাসিরুদ্দীনের সহিত যুদ্ধ করিলেন। কিন্তু যুদ্ধে তাহার পরাজয় হইল এবং তিনি সমস্ত খিলজী আমীরের সহিত বন্দী হইলেন। অতঃপর গিয়াহুদ্দীনের প্রাণবধ করা হইল (১২২৭ খ্রীঃ )।

বাংলা দেশের ইতিহাস

৫। নাসিরুদ্দীন মাহমুদ

গিয়াস্থদ্দীন ইউয়জ শাহের পরাজয় পতনের ফলে লখনৌতি রাজ্য সম্পূর্ণ ভাবে দিলীর সুলতানের অধীনে আসিল। দিল্লীর সুলতান ইলতুৎমিস প্রথমে নাসিরুত্বীন মাহত্দকেই লখনৌতির শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত করিলেন। নাসিরুদ্দীন মাহমুদ সুলতান গাঁরি নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি লখনোৌতি অধিকার করার পর দিল্লী অন্যান্য বিশিষ্ট নগরের আলিম, সৈয়দ এবং অন্তান্য ধামিক ব্যক্তিদের কাঁছে বহু অর্থ পাঠাইয়াছিলেন। নাসিরুদ্দীন অত্যন্ত যোগ্য নানাগুণে ভূষিত ছিলেন। তাহার পিতা ইলতুৎমিসের নিকট একবার বাগদাদের খলিফার নিকট হইতে খিলাৎ আসিয়াছিল, ইলতুৃৎ্মিস তাঁহার মধ্য হইতে একটি খিলাঁৎ একটি লাল চন্দ্রাতপ লখনৌতিতে পুত্রের কাছে পাঠাইয়া দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র দেড় বসর লখনৌতি শাসন করিবার পরেই নাসিরুদ্দীন মাহ্দ রোগাক্রাস্ত হইয়া পরলোৌকগমন করেন। তাহার মৃতদেহ লখনৌতি হইতে দিলীতে লইয়া গিয়া সমাধিস্থ করা হয়।

নাসিরুদ্দীন মাহমুদ পিতার অধীনস্থ শাসনকর্তা হিসাবে লখনৌতি শাসন করিলে পিতার অন্থমৌদনক্রমে নিজের নামে মুদ্রা প্রকাশ করিয়াছিলেন। তাহার কোন কোন মুদ্রায় বাগদাদের খলিফার নাম দেখিতে পাওয়া যায়।

৬। ইখতিয়ারুদ্বীন মালিক বলকা

নাসিরুদ্দীন মাহমুদের শাঁসনকালে হসামুদ্দীন ইউয়জের পুত্র ইখতিয়ারুদ্দীন দৌলৎ শাহ-ই-বলকা! আমীরের পদ লাভ করিয়াছিলেন। নামিরুদ্দীনের মৃত্যুর পর তিনি বিদ্রোহী হইলেন এবং লখনৌতি রাজ্য অধিকাঁর করিলেন। তখন ইলতুৎ্মিস তাহাকে দমন করিতে সপৈন্তে লখনৌতি আঁমিলেন এবং তাঁহাকে পরাজিত বিতাঁড়িত করিয়! আলাউদ্দীন জানী নামে তুকীন্তানের রাজবংশসম্ভৃত এক ব্যক্তিকে লখনৌতির শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত করিয়া দিল্লীতে প্রত্যাবর্তন করিলেন।

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠ।

৭। আলাউদ্দীন জানী, সৈফুদ্দীন আইবক যগানতত আওর খান

আলাউদ্দীন জানী অল্লদিন লখনৌতি শাসন করিবার পরে ইলতুৎমিস কর্তৃক পদচ্যুত হন এবং সৈফুদ্দীন আইবক নামে আর এক ব্যক্তি তাহার স্থানে শিযুক্ত হন। পৈফুদ্দীন আইবক অনেকগুলি হাঁতী ধরিয়া ইলতুৎমিপকে পাঠাইয়া ছিলেন, এজন্য ইলতুৎ্মিস তাহাকে 'য়গানতঙ্" উপাধি দিয়াছিলেন। ছুই তিন বৎসর শাসনকর্তার পদে অধিষ্ঠিত থাকার পর সৈফুদ্দীন আইবক য়গাঁনতৎ পরলোক- গমন করেন। প্রায় একই সময়ে দিলীতে ইলতৃত্মিসও পরলোকগমন করিলেন ( ১২৩৬ খ্বীঃ )।

ইলতুত্মিসের মৃত্যুর পরে তাহার উত্তরাধিকা রীদের দুর্বলতার স্থযোগ লইয়া প্রাদেশিক শাসনকতারা স্বাধীন রাজার মত আচরণ করিতে লাগিলেন। এই সময়ে আওর খাঁন নামে একজন তুকাঁ লখনৌতি লখনোর অধিকাঁর করিয়া বসিলেন। বিহারের শাসনকর্তা তুগরল তুগান খানের সহিত ভীহার বিবাদ বাধিল এবং তুগান খান লখনৌতি আক্রমণ করিলেন। লখনৌতি নগর বসনকোট দুর্গের মধ্যবর্তী স্থানে তুগান খান আওর খানের সহিত যুদ্ধ করিয়া তাঁহাকে পরাজিত নিহত করিলেন। ফলে লখনোর হইতে বসনকোট পর্যস্ত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন তুগান খানের হস্তে আসিল।

৮। তুগরল তুগান খান

তুগাঁন খানের শাসনকালে সুলতান৷ রাজিয়! দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাহার অভিষেকের সময়ে তুগান খান দিল্লীতে কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠাইয়াছিলেন। রাজিয়া তুগাঁন খানকে একটি ধ্বজ কয়েকটি চন্দ্রাতপ উপহার দিয়াছিলেন। তুগাঁন খান স্থুলতান! রাজিয়ার নামে লখনৌতির টাকশালে মুদ্রাও উৎকীর্ণ করাইয়াছিলেন। রাজিয়ার সিংহাসন্চ্যুতির পরে তুগান খান অযোধ্যা, কড় মাঁনিকপুর প্রভৃতি অঞ্চল অধিকার করিয়া বসিলেন।

এই সময়ে “তবকাৎ্ই-নাঁসিরী'র লেখক মীনহাজ-ই-সিরাজ অযোধ্যায় ছিলেন। তুগরল তুগান খানের লহিত মীনহাজের পরিচয় হুইয়াছিল। তুগান খান

১০ বাংল! দেশের ইতিহাস

মীনহাজকে বাংলাদেশে লইয়া আসেন মীনহাজ প্রায় তিন বৎসর এদেশে ছিলেন এবং এই সময়কার ঘটনাবলী তিনি ব্বচক্ষে দেখিয়! তাহার গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন

তুগান খানের শাসনকালে জাজনগরের ( উড়িস্যা ) রাজা লখনৌতি আক্রমণ করেন। উড়িস্তার শিলালিপির সাক্ষ্য হইতে জানা যায় যে, এই জাজনগররাজ উড়িষ্যার গঙ্গবংশীয় রাজা প্রথম নরসিংহদেব | তুগরল তুগাঁন খাঁন তাহার আক্রমণ প্রতিহত করিয়া পাল্টা আক্রমণ চাঁলান এবং জাজনগর অভিমুখে অভিযান করেন ( ১২৪৩ খ্রীঃ )। মীনহাঁজ-ই-পিরাজ এই অভিযানে তুগাঁন খানের সহিত গিয়া" ছিলেন। তুগান খান জাজনগর রাঁজ্যের সীমান্তে অবস্থিত কটাসিন দূর্গ অধিকার করিয়া লইলেন। কিন্তু দুর্গ জয়ের পর যখন তীহার সৈন্যের বিশ্রাম আহারাঁদি করিতেছিল, তখন জাজনগররাজের সৈন্যেরা অকম্মাৎ পিছন হইতে তাহাদের আক্রমণ করিল। ফলে তুগাঁন খান পরাজিত হইয়া লখনৌতিতে প্রত্যাবর্তন করিতে বাঁধ্য হইলেন। ইহার পর তিনি তীহার ছুইজন মন্ত্রী শফুলমুল্ক্‌ আশারী কাজী জলালুদ্দীন কাঁসানীকে দিলীর স্থলতান আলাউদ্দীন মন্দ শাহের কাছে পাঁঠাইয়া তাহার সাহাধ্য প্রার্থনী করিলেন। আলাউদ্দীন তখন অযোধ্যার শাঁননকর্তা কমরুদ্দীন তমুর খান-ই-কিরানকে তুগান খানের সহায়তা করিবার আদেশ িলেন। ইতিমধ্যে জাজনগরের রাজা আবার বাংলাদেশ আক্রমণ করিলেন। তিনি প্রথয়ে লখনৌর আক্রমণ করিলেন এবং সেখানকার শাসনকর্তা ফথ রু-উল্-মুল্ক্‌ করিমুদ্দীন লাগ.রিকে পরাজিত নিহত করিয়া স্থান দখল করিয়া লইলেন। তাঁহার পর তিনি লখনৌতি অবরোধ করিলেন। অবরোধের ফলে তুগান খাঁনের খুবই অস্থবিধা হইয়াছিল, কিন্তু অবরোধের দ্বিতীয় দিনে অযোধ্যার শাসনকর্তা তমুর খান তাহার সৈন্তবাহিনী লইয়া উপস্থিত হইলেন। তখন জাজনগররাজ লখনৌতি পরিত্যাগ করিয়৷ স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিলেন

কিন্ত জাজনগররাঁজের বিদায়ের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তুগরল তুগান খান তমূর খানের মধ্যে নিবাদ বাধিল এবং বিবাদ যুদ্ধে পরিণত হইল সারাদিন"যুদ্ধ চলিবাঁর পর অবশেষে সন্ধ্যায় কয়েক ব্যক্তি মধ্যস্থ হইয়া যুদ্ধ বন্ধ করিলেন। যুদ্ধের শেষে তুগান খান নিজের আবাসে ফিরিয়া গেলেন। তাহার আবাদ ছিল নগরের প্রধান ঘারের সামনে এবং সেখানে তিনি দেদিন একাই ছিলেন.। তৃমুর খান

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠা ১১

এই সুযোগে বিশ্বীঘঘাতকতা৷ করিয়া তুগান খানের আবাস আক্রমণ করিলেন। তখন তুগাঁন খান পলাইতে বাধ্য হইলেন। অতঃপর তিনি মীনহাজ-ই-সিরাজকে তমুর খানের কাছে পাঠাইলেন এবং মীনহাঁজের দৌত্যের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হইল। সন্ধির সর্ত অনুসারে তমুর খান লখনৌতির অধিকার- প্রাপ্ত হইলেন এবং তুগাঁন খাঁন তাহার অন্থচরবর্গ, অর্থভাগার এবং হাতীগুলি লইয়! দিল্লীতে গমন করিলেন দিল্লীর দুর্বল স্থলতান আলাউদ্দীন মস্থ্দ শাহ তুগান খানের উপর তঁমুর খানের এই অত্যাচারের কোনই প্রতিবিধান করিতে পাঁরিলেন না। তুগান খান অতঃপর আউধের শাসনভার প্রাপ্ত হইলেন।

৯। কমরুদ্দীন তমুর খান-ই-কিরান জলালুদ্দীন মন্দ জানী

তমুর খান দিল্লীর স্থলতাঁনের কর্তৃত্ব অস্বীকারপূর্বক ছুই বৎসর লখনৌতি শাসন করিয়া পরলোকগমন করিলেন ( ১২৪৬-৪৭ থ্রীঃ)। ঘটনাচক্রে তিনি তুগরল তুগাঁন খান একই রাত্রিতে শেষ নিংশ্বাস ত্যাগ করেন। তাহার পর আলাউদ্দীন জানীর পুত্র জলালুদ্দীম মন্দ জানী বিহার লখনৌতির শাদনকর্তা নিষুক্ত হন। ইনি “মালিক-উশ২শর্ক” “শাহ” উপাধি গ্রহণ করিয়াছিলেন প্রায় চারি বৎসর তিনি দুইটি প্রদেশ শাসন করিয়াছিলেন

১০। ইখতিয়ারুদ্দীন যুজবক তুগরল খান ( মুগীসুদ্দীন ুজবক শাহ ) জলালুদ্দীন মন্দ জানীর পরে যিনি লখনৌতির শীনকর্তা নিযুক্ত হইলেন,

তাহার নীম মালিক ইখতিয়াকুদ্দীন যুজবক তুগরল খান। ইনি প্রথমে আউধের শাসনকর্তা এবং পরে লখনৌতির শাঁসনকর্তীর পদে নিযুক্ত হন। ইহার পূর্বে

ইনি ছুইবাঁর দিল্লীর তৎকালীন স্থলতাঁন নাঁসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়াছিলেন, কিন্তু দুইবারই উজীর উলুগ খান বলবনের হস্তক্ষেপের ফলে

ইনি সুলতানের মার্জনা লাভ করেন। ইহার শাসনকালে জাজনগরের সহিত লখনোৌতির আবার যুদ্ধ বাধিয়াছিল। তিনবার যুদ্ধ হয়, প্রথম দুইবার জাজনগরের,

1&. গৈন্ঘবাছিনী পরাজিত হয়, কিন্ত তৃতীয়বার তাহীরাই মুজবক তৃগরল খানের,

৮২ : বাংল! দেশের ইতিহাস

বাহিনীকে পরাজিত করে এবং মুজবকের একটি বনুমূল্য শ্বেতহস্তীকে জাজনগরের সৈন্তেরা লইয়া যায়। ইহার পরের বৎসর মুজবক উমর্দন রাজ্য * আক্রমণ করেন। অলক্ষিতভাঁবে অগ্রসর হইয়া তিনি এর রাজ্যের রাজধানীতে উপস্থিত হুইলেন ) তখন সেখানকার রাজা রাজধানী ছাড়িয়া পলায়ন করিলেন এবং তীহার অর্থ, 'হত্তী, পরিবার, অন্ুচরবর্গ--সমস্তই যুজবকের দখলে আমিল।

উমর্দন রাজ্য জয় করিবার পর যুজবক খুবই গবিত হুইয়| উঠিলেন এবং আঁউধের রাজধানী অধিকার করিলেন। ইহার পর তিনি: স্বাধীনতা ঘোঁষণ। করিয়া স্থলতান মৃগীঙ্বদ্দীন নাম গ্রহণ করিলেন। কিন্ত আউধে এক পক্ষ কাল অবস্থান করিবার পর তিনি যখন শুনিলেন যে তাহার বিরুদ্ধে প্রেরিত সম্রাটের সৈন্তবাহিনী অদূরে আসিয়া পড়িয়াছে, তখন তিনি নৌকাযোগে লখনৌতিতে পলাইয়া আদিলেন। মুজবক স্বাধীনতা ঘোষণা করায় ভারতের হিন্কু মুসলমান সকলেই তাহার বিরূপ সমালোচনা করিতে লাগিলেন

লখনৌতিতে পৌছিবার পর যুজবক কামরূপ রাজ্য আক্রমণ কর্িলেন। কামরূপরাঁজের 'সৈম্তবল বেশী ছিল না বলিয়া তিনি প্রথমে যুদ্ধ না করিয়া পিছু হটিয়া গেলেন। মুজবক তখন কামরূপের প্রধান নগর জয় করিয়া প্রচুর ধনরত্ব হস্তগত করিলেন। কাঁমরূপরাজ যুজবকের কাছে সন্ধির প্রন্তাব করিয়া দূত পাঠীইলেন। তিনি যুজবকের সামন্ত হিসাবে কামরূপ শাসন করিতে এবং তাহাকে প্রতি বতমর হস্তীও স্বর্ণ পাঠাইতে স্বীকৃত হইয়াছিলেন। যুজবক এই প্রস্তাবে সম্মত হন নাই। কিন্তু যুজবক একটা ভূল করিয়াছিলেন। কামরূপের শস্তসম্পদ খুব বেশী ছিল বলিয়! যুজবক নিজের বাহিনীর আহারের 'জন্য শস্ত সঞ্চয় করিয়া রাখার প্রয়োজন বোধ করেন নাই। কামরূপের রাজা ইহার হ্যোগ লইয়া তীহাঁর প্রজাদের দিয়া সমস্ত শশ্য কিনিয়া 'লওয়াইলেন এবং তাহার পর তাহাদের দিয়া সমস্ত পয়ঃপ্রণালীর মুখ খুলিয়! দেওয়াইলেন। ইহার ফলে যুজবকের অধিকৃত সমস্ত ভূমি জলমগ্র হইয়া! পড়িল এবং তাহার খাগ্চভাগ্তার শূন্য 'হইয়। পড়িল। তখন তিনি লখনৌতিতে ফিরিবার চেষ্টা করিলেন। কিন্তু ফিরিবার পথও জলে ডূবিয়৷ গিয়াছিল। হ্ুৃতরাং স্ুজবকের বাহিনী অগ্রসর হইতে পারিল না ইহা ব্যতীত অল্প সময়ের মধ্যেই ক্তাহাদের সম্মুখ পশ্চাৎ হইতে কামরূপরাজের বাহিনী আসিয়া ঘিরিয়৷ ধরিল।

* এই রাজের অবস্থান সম্বন্ধে পণ্ডিতদ্দের মধ্যে মততেদ আছে।

বাংলায় মুসলিম অধিকারের প্রতিষ্ঠা ১৩

তখন পর্বতমালাবোষ্টিত একটি সন্কীর্ণ স্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হইল। এই যুদ্ধে মুজবক পরাজিত হইয়া বন্দী হইলেন এবং বন্দিদশাতেই তিনি পরলোৌকগমন করিলেন

মুগীহ্ুদ্দীন মুজবক শাহের সমস্ত মুদ্রায় লেখা আছে ষে এগুলি “নদীয়া অর্জ বদন €(?)-এর ভূমি-রাজন্ব হইতে প্রস্তর্ত' হইয়াছিল। কোন কোন এতিহাসিক ভ্রমবশত এগুলিকে নদীয়া “অর্জ 'বদন” বিজয়ের স্মারক-মুদ্রা বলিয়া মনে করিয়াঁছেন।' কিন্তু নদীয়া বা নবদ্বীপ যুজবকের বহু পূর্বে বখতিয়ার খিলজী জয় .করিয়াছিলেন। বল! বাহুল্য, ষুজবকের এই মুদ্রাগুলি হইতে কথা বুঝায় না যে মুজবকের রাঁজত্বকাঁলেই নদীয়া, অর্জ বদন (?) প্রথম বিজিত হইয়াছিল “অর্জ বদন*-কে কেহ ববর্ধনকোঁটের, কেহ বিধমানের, কেহ 'উমর্দনে'ৰ বিরত রূপ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন

১১। জলালুদ্দীন মন্দ জানী, ইজ্জুদ্দীন বলবন যুজবকী তাজুদ্দীন অস'লান খান

যুজবকের মৃত্যুর পরে লখনৌতি রাজ্য আবার দিল্লীর সম্রাটের অধীনে আসে, কারণ ৬৫৫ হিজরাঁয় ( ১২৫৭-৫৮ খ্রীঃ ) লখনৌতির টাঁকশাল হইতে দ্িল্ীর স্বলতান নীসিরুদ্দীন মাহ শাহের নাঁমাঙ্ষিত মুদ্রী উৎকীর্ণ হইয়াছিল। কিন্তু সময়ে লখনৌতির শাসনকর্তা কে ছিলেন, তাহা জান! যায় না। ৬৫৬ হিজরাঁয় জলালুদ্ধীন মহ্দ জানী দ্বিতীয়বার লখনৌতির শাসনকর্তা নিযুক্ত হন কিন্তু ৬৫ হিজরাঁর মধ্যেই তিনি পদচ্যুত বা পরলৌকগত হন, কারণ ৬৫৭ হিজরা যখন কড়াঁর শাসনকর্তা তাঁজুদ্দীন অর্সলান খাঁন লখনৌতি আক্রমণ করেন, তখন ইজ্জন্দীন বলবন যুজবকী নাঁমে এক ব্যক্তি লখনৌতি শাসন করিতেছিলেন। ইজ্জুদ্দীন বলবন মুজবকী লখনৌতি অরক্ষিত অবস্থায় রাখিয়া পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করিতে গিয়াছিলেন। সেই সুযোগে তাজুদ্দীন অঞ্লান খান মাঁলব কালিগ্তর আক্রমণ করিবার ছলে লখনৌতি আক্রমণ করেন। লখনৌতি নগরের অধিবাসীর! তিনদিন তাহার সহিত যুদ্ধ করিয়া অবশেষে আত্মসমর্পণ করিল। অর্গলনি খান নগর অধিকার করিয়া লু্ন করিতে লাগিলেন ত্বাহার আক্রমণের খবর পাইয়' ই্জুন্দীন বলবন ফিরিয়া আসিলেন, কিন্তু তিনি অরলান খানের সহিত যুদ্ধ করিয়া!

১৪ বাংল। দেশের ইতিহাস

পরাঁজিত নিহত হইলেন। ইজ্জুদ্দীন বলবনের শাসনকালের আর কোন ঘটনার কথা জানা যায় না, তবে ৬৫৭ হিজরায় লখনৌতি হইতে দিল্লীতে ছুইটি হস্তী কিঞিৎ অর্থ প্রেরিত হইয়াছিল-_এইটুকু জানা! গিয়াছে। ইজ্জুন্দীন বলবনকে নিহত করিয়া তাজুদ্দীন অর্ণলান খান লখনৌতি রাজ্যের অধিপতি হইলেন।

১২। তাতার খান শের খান

ইহাঁর পরবর্তী কয় বংসরের ইতিহাস একাস্ত অল্পষ্ট। তাঁজুদ্দীন অর্গলান খাঁনের পরে তাঁতার থান শের খান নামে বাংলার দুইজন শাসনকর্তার নাম পাঁওয়া যাঁয়, কিন্তু তাহাদের সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যাঁয় ন1।

ঘিতীয় পরিচ্ছেদ

বাংলায় মুসলমান ব্রাজ্যেন্ন বিস্তান্ত ১। আমিন খান তুগরল খান

১২৭১ ঘ্রীঃর কাছাকাছি সময়ে দিল্লীর স্থলতাঁন বলবন আমিন খান তুগরল খাঁনকে যথাক্রমে লখনৌতির শাসনকর্তা নহকারী শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। তুণরল বলবনের বিশেষ গ্রীতিভাজন ছিলেন। লখনৌতির সহকারী শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত হইয়! তুগরল জীবনে পর্বপ্রথম একটি গুরুদায়িত্পূর্ণ কাজের ভার প্রাপ্ত হইলেন। আমিন খান নামেই বাংলার শাসনকর্তা রহিলেন। তুগরলই সর্বেদর্বা হইয়া উঠিলেন।

জিয়াউদ্দীন বারশির “তারিখ-ই-ফিরোজ শাহী" গ্রন্থ হইতে জান! যাঁয় যে তুগরল “অনেক অলমসাহসিক কঠিন কর্ম” করিয়াছিলেন 'তারিখ-ই-মুবারক শাহী'তে লেখা আছে যে, তুগরল সোনারগীওয়ের নিকটে একটি বিরাট দুর্তেদ্য দুর্গ নির্মাণ করিয়াছিলেন, তাহা “কিলা"ই-তুগরল' নামে পরিচিত ছিল। এই তুর্গ সম্ভবত ঢাঁকার ২৫ মাইল দক্ষিণে নরকিল1 ( লোরিকল ) নামক স্থানে অবস্থিত ছিল। মোটের উপর, তুগরল যে পূর্ববঙ্গে অনেক দুর পর্যন্ত মুসলিম রাজত্ব বিস্তার করিয়াছিলেন, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। ত্রিপুরার রাজাদের ইতিবৃত্ত 'রাজমালা*য় লেখ! আছে যে, ত্রিপুরার বর্তমান রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রত্ব-ফা যখন তাহার জ্ঞোষ্ট ভ্রাতা রাজা-ফাকে উচ্ছেদ করিয়! ত্রিপুরার সিংহাসন অধিকার করেন, তখন তিনি গৌড়ের “তরু নৃপতি”র সাহায্য চাহেন, “তুরু্ষ নৃপতি” তখন ত্রিপুরা আক্রমণ করিলেন রাজা-কাকে বিতাড়িত করিয়া রত্ু-ফাকে সিংহাসনে বসাইলেন; রাজা তাহাকে একটি কনুমূল্য রত্ব উপহার দিলেন “তুরত্ষ নৃপত্তি” রত্বফাকে “মাণিকা” উপাধি দিলেন; এই উপাধি এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরার রাজাদের নামের সঙ্গে যুক্ত হইয়া আসিতেছে অনেকের মতে এই “তুরুফ নৃপতি* তৃগরল। বারণির গ্রন্থ হইতে জানা যায় যে, তুগরল জাজনগর (উড়িত্তা) রাজ্যও আক্রমণ করিয়াছিলেন। সময়ে রাচের নিষধার্ধ অর্থাৎ বর্তমান মেদিনীপুর জেলার সমগ্র অংশ এবং বীরভূম, বর্ধমান, বাকুড়া হুগলী

১৬ বাংল। দেশের ইতিহাস

জেলার অনেকাঁংশ জাঁজনগর রাজ্যের অন্ততূর্ত ছিল। তুগরল জাজনগর আক্রমণ করিয়া লুষ্ঠন চালাইলেন এবং প্রচর ধনরত্ব হৃস্তী লাভ করিয়া ফিরিয়া আমিলেন।

জিয়াউদ্দীন বাঁরনির গ্রন্থ হইতে ইহার পরবর্তী ঘটন! সম্বন্ধে যাহা! জানা যায়, তাহার সারমর্ম নীচে প্রদত্ত হইল। জাজনগর-অভিযাঁন হইতে প্রত্যাবর্তনের পর তুগরল নানা! প্রকারে দিল্লীর কর্তৃত্ব অস্বীকার করিলেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এই অভিযানের লুষ্ঠনলন্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ দিল্লীতে প্রেরণ করিবার কথা, কিন্তু তুগরল তাহা করিলেন না। বলবন এতদিন পাঞ্জাবে মঙ্গোলদের সহিত যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন বলিয়া বাংলার ব্যাপারে মন দিতে পাঁরেশ নাই। এই সময় তিনি আবার লাহোরে সাংঘাতিক অন্ুস্থ হইয়া পড়িলেন। স্থলতান দীর্ঘকাল গ্রকাঁস্টে বাহির হইতে ন! পারায় ক্রমশ গুজব রটিল তিনি মারা গিয়াছেন। এই গুজব বাংলাদেশেও পৌছিল। তখন তুগরল স্বাধীন হইবার স্ুবর্ণস্থযোগ দেখিয়া! আমিন খানের সহিত শক্রতাঁয় লিপ্ত হইলেন; অবশেষে লখনৌতি নগরের উপকণ্ঠে উভয়ের মধ্যে এক যুদ্ধ হইল। তাহাতে আমিন খাঁন পরাজিত হুইলেন।

এদ্রিকে বলবন স্থস্থ হইয়া উঠিলেন এবং দিল্লীতে আসিয়া পৌছিলেন। তাহার অনুস্থ থাকার সময়ে তুগরল যাহা করিয়াছিলেন, সে জন্য তিনি তুগরলকে শাস্তি দিতে চাঁহেন নাই তিনি তুগরলকে এক ফরমাঁন পাঠাইয়া বলিলেন, তীহার রোগমুক্তি ষেন তুগরল যথাযোগ্যভাবে উদ্যাপন করেন। কিন্তু তুগরল তখন পুরাপুরিভাবে বিদ্রোহী হইয়া গিয়াছেন। তিনি স্থলতাঁনের ফরমান আসার অব্যবহিত পরেই এক বিপুল সৈম্যলমাবেশ করিয়া! বিহার আক্রমণ করিলেন বলবনের রাঁজত্বকালেই বিহার লখনৌতি হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া স্বতন্ত্র প্রদেশে পরিণত হইয়াছিল। ইহার পর তুগরল মুগীন্দ্দীন নাম গ্রহণ করিয়1 স্থলতাঁন হইলেন এবং নিজের নামে মুদ্রা প্রকাঁশ খুব! পাঠ করাইলেন (১২৭৪ শ্বীঃ )। তাহার দরবারের জকজমক দিল্লীর দরবারকেও হাঁর মাঁনহিল !

বাংলাদেশে তুগরল বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াঁছিলেন। তাহার প্রকৃতি ছিল উদার। দানেও তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। দরবেশদের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়নির্বাহের জন্য তিনি একবার পাঁচ মণ স্বর্ণ দান করিয়াছিলেন, দিল্লীতেও তিনি | দানন্বর্ূপ অনেক অর্থ সামগ্রী পাঠাইয়াছিলেন। বলবনের কঠোর স্বভাবের

বাংলায় মুসলমান রাজ্যের বিস্তার ১৭

জন্য তাঁহাকে সকলেই ভয় করিত, প্রায় কেহই ভালবাদিত ন! স্ৃতরাঁৎ বলবনের বিরুদ্ধে ঈাড়াইয়! তুগরল সমুদয় অমাত্য, সৈন্য প্রজার সমর্থন পাইলেন।

তুগরলের বিদ্রোহের খবর পাইয়া! বলবন প্রায় আহার-নিদ্রা ত্যাগ করিলেন। তুগরলকে দমন করিবার জন্য তিনি আউধের শাঁননকর্ত1 মালিক তুরমতীর অধীনে একদল সৈন্য পাঁঠাইলেন, এই সৈন্যদলের সহিত তমর খান শামসী মালিক তাজুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন আর একদল সৈন্য যৌগ দিল। তুগরলের সৈম্তবাহিনীর লোকবল এই মিলিত বাহিনীর চেয়ে অনেক বেশী ছিল, তাহাতে অনেক হাঁতী এবং পাইক ( হিন্দু পদাতিক সৈন্য ) থাকায় বলবনের বাহিনীর নায়কের! তাহাকে সহজে আক্রমণ করিতেও পাঁরিলেন না। ছুই বাহিনী পরম্পরের সম্মুখীন হইয়া কিছুদিন রহিল, ইতিমধ্যে তুগরল শক্রবাহিনীর অনেক সেনাধ্যক্ষকে অর্থ দ্বারা হস্তগত করিয়া ফেলিলেন। অবশেষে যুদ্ধ হইল এবং তাহাতে মালিক তুরমতী শোঁচনীয়তাঁবে পরাজিত হইলেন। তাহার বাহিনী ছত্রভঙ্গ হইয়া পলাইতে লাগিল, কিন্তু তাহাদের যথাঁপর্বন্ব হিন্দুরা লুঠ করিয়া লইল এবং অনেক সৈন্য __ফিরিয়া গেলে বলবন পাছে শান্তি দেন, এই ভয়ে তুগরলের দলে যোগ