হতো দন

0লগাবাচাদ মির

স্্ আত স্যুপ স্ম্যে

প্রথম শ্রকাশ ফাক্কন* ১৩৭১

প্রকাশক

মনোরঞ্জন মজুমদার

শজ্ধ প্রকাশন

+৯/১ বি, মহাত্সা গান্ধী বোভ কটিকাত7-৭০০2০০

মুদ্রাকর

শী/নিশিকাজ্ত হাটই তুষার প্রিন্টিং ওয্সাকস্‌ ২৬, বিধান সরণী ক'িকাত্তা- ০০ ০৬

প্রচ্ছদ শিল্পী সমীর মুখোপাধ্যাকস

সতাদাহ প্রথহ্ম পন প্রথম পরিচ্ছেদ

[ সতীদাহের একটি সাধারণ বূপ-__সতীদাহ-_-অনুমব্রণ, সহমরণ-__-উতপত্তি, --বৈদিক যুগে কি ভারতবর্ষে সতীদাহ অনুষ্ঠিত হত ?_-ণ্েদের একটি ক্লোকের পাঠান্তর বিষয়ে প্রখ্যাত অধ্যাপক এইচ. এইচ. উইলসন সাহেবের অভিমত-_এ প্রসঙ্গে রাজ। রাধাকান্ত দেবের পত্র (আত পধন্ত অনালোচিত) --এ প্লোক প্রসঙ্গে অধ্যাপক ম্যক্সমুলার সাহেবের মত--পৌবাণিক যুগে সতীদাহ অনুষ্ঠানের নিদশন_-( রামায়ণ, মহাভারত, বিষুপুরাণ, শ্রীম /গবত ইত্যাদির পাতা থেকে )--ভারতবর্ধে সতীদাহের উৎপত্তি সম্বন্ধে এতিহাসিকদের মতামত বিশ্লেষণ [কেউ বলেন পিথিয়া (3০5071212 ) জাতির প্রভাবে সতীদাহের উৎপত্তি ]-ইতিহ।সের পাতায় সতীদাহ অনুষ্ঠ।নের প্রথম বিবরণ (প্রসিদ্ধ গ্রীক এত্িহাসিক ডিওডোরাস সিকিউ- লাসের চোখে দেখ ঘটন। )-_অন্যান্ত এতিহাসিকের বিবরণ ] সতীদাহ--সতীকে দাহ কর হত যে অন্তষ্ঠানে। “সতী” শব্দটির উৎপত্তি “সং থেকে যে নারী ম্বামী ভিন্ন পরপুরুষের আসক্ত! নন, সাধারণ অর্থে আমরা তাকেই সতী বলেখাকি। আরও একট বিশদভাবে শাস্ত্রের ভাষায় বলা যায়--“আর্তাতে মুদিতা হাষ্টে প্রোষিতে মলিন। কশা মৃতে ঘ্রিয়তে যা পত্যে সা স্ত্রী জ্ঞেয়া পতিব্রতা ॥-_অর্থাৎ যে স্ত্রী স্বামীর ছু:বে ব্যথিতা, স্বামীর স্থখে হ্ৃষ্টা, স্ব'মী বিদেশে গেলে যিনি মলিনা রুশ! এবং স্বামীর মৃত্যুতে ধিনি মৃত্যুবরণ করেন, তিনিই সতী শ্বামীর মৃত্যুর পর তার জ্বলন্ত চিতায় জীবিতা স্ত্রীর আত্মাহুতি দেবার ঘটনা “সতীদাহ' বলে পরিচিত। নিজের সতীত্ব প্রমণ করার মানসে হাজার হাজার বছর ধরে অগণিত ভারতীয় হিন্দুনারী চিতার লেলিহান আগুনে প্রবেশ করেছেন- কোথাও শ্ষেচ্ছায়। কোথাও বা ভয়ে। স্বেচ্ছায় হলেও মানবতার বিচারে এই প্রথার পৃষ্ঠপোষকত। ভারতীয় মভ্যতার একটি অন্যতম কলঙ্ক-বিন্দু। দগ্দগে ঘামের মত যা ১০২৯ সাল্‌ প্বস্ত আমাদের সভ্যতার পুণ্য শরীরকে কলুষিত করেছে আজ থেকে ১১৫ বছর আগে আইন প্রয়োগের ওষুধে সে অন্তহিত-_নিমূল,» তথাপি এখনও মাঝে মধ্যে ংবাদপত্ররের পাতায় ছু'-একটি সতীদাহ অনুষ্ঠানের খবর চোখে পড়ে বইকি !

সতীদাহ

ত্বামীর মৃতদেহ চিতায় শ/ঘ়িত। নাপিত এসে বিধবা নারীর নখ কেটে দিয়ে গেলেন। শোকক্তন্ধা স্ত্রী হাতের শাখা ভেঙে চললেন স্নানে -_ শুচি সতদধ হবার ভন্য। আ্ানের পর চিতাবোহণের সাজ। আত্মীয়ার এগিয়ে এসে পরিয়ে দিলেন লাল চেলী, হাতে বেঁধে দিলেন রাঙা স্থতো। দিয়ে আলতা, গোট1 কপাল জুড়ে ল্েপে দিলেন টকটকে লাল সি দুর-_নিপুণ করে চড়ানো চুলে থরে থরে চিরুনির বাহার গোটা রেহছে মুল্যবান অলংকারের সমারোহ ্বামীহারা স্ত্রী দুফোটা চোখের ভল ফেলতেও বিশ্বত হয়েছেন-তিনি যেন সামাজিক আচার-অন্ুষ্ঠটানের হাতের পুতুল। কুশ হাতে নিয়ে পুবমুখী বসে আচমন করলেন নারী। হাতে নিলেন তিল, জল কুশনিমিত ত্রিপত্র উপস্থিত ব্রান্ধণগণ উচ্চারণ করলে-_গু তৎসং | ধ্বনিত হল বিধবাব নি্- কঠে_নমণ আজ অনুক মাসে, অমুক পক্ষে, অমুক তিথিতে, অমুক গোত্র শ্রী অমুকী দেবা বশিষ্ঠেব পত্রী অরুদ্ধতীর সমমর্ধাদায় স্বর্গে যাওয়াব জন্য, মানুষের শর!রে যত লোম আছে তত বছর অর্থাৎ তিনকোটি বছর স্বানীর সন্ধে স্বর্গত্থ উপভোগেব আশাব, মাত়কুল, পিতৃকুল পতিঝু'ল-তিন কুলকেই পবিত্র কবার অণ্ভপ্রায়ে, চতুর্দশ ইন্দ্রের রাজত্বকাঁল পর্স্ত স্ব্গম্তথ ভে।গেৰ কামনার এবং যদি স্বামী ত্রহ্মহত্যাকারা, কৃতত্ব মিত্রপ্বোহী হন, তাহলে তাঁকে পবিত্র করাব জন্য, আমি স্বামীর জলন্ত চিত|য় অধিরোহণ করছি”। “হে অছুলোকপালগণ, হে স্ব, চন্দ্র, বাবু, হে অগ্নি, আকাশ, ভূমি, ভল, হে অন্তযামিন আশ্মাপুরুষ, হে যম, দিন, রাত্রি, সন্ধ্যা, হে ধর্ম, আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন, আমি গুজ্ঞজলত চিতায় আরোহণ করে স্বামীর অন্ুগামিনা হচ্ছি। এরপর খই, খণ্ড কড়ি ত্বাচলে বেঁধে সতীনারীর চিতা প্রদক্ষিণের পালা__খার বার সাত্বার। ব্রাহ্মণ পুরোহিত ণ্ে প্রয়োজনীয় মন্ত্রাদি বিবৃত হবার পর বিধবা স্ত্রী স্বামীর পাশে চিতাশয্যা গ্রহণ করলেন আত্মীয়ন্বজনেরা মহোল্লাসে গাছের ছালের দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে চিতার সঙ্গে বাধলেন তাকে পুত্র বা নিকট কোন আত্মীয় এগিয়ে এলেন চিতায় অগ্নিমংযোগের জন্ত | উপস্থিত দর্শকবুন্দের পৈশ।চিক উল্ল।ম ঢাক-ঢোল, কাসরের প্রচণ্ড আর্তনাদ চত্ুর্দিক স্তস্তত। দাউ দাউ করে জলে উঠলে! চিতা তা'ও যেন আশ মেটে না প্ুণ্যার্থদের ! ঝুপঝাপ করে শর পাকাটির আটি ফেলতে লাগলেন সবাই চিতার আগুনে অগ্রিসংযে!গের পর পাছে সতীনারীর আরও কিছুদিন পৃথিবীর আলো-বাতাম ভোগের শখ হয় তাই চিতার পাশেই মোটা

সতীদাহ মোটা বাশ নিয়ে ধর্মসংস্থাপনাকাজ্ষীরা অপেক্ষমান বিধবা স্ত্রী বাচবার সামান্ততম চেষ্টা করলেই বাঁশের উপযূপরি আঘাতে তার ভবলীলা৷ সাঙ্গ কর! হত। কোন নারী দৈবক্রমে চিত থেকে পালিয়ে গেলে ক্ষুধার্ত নেকড়ের মত তার পিছু নিতেন অনুষ্ঠান কর্তা তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা, পলায়ঘান৷ নারীকে লজ্জাকরভাবে বাহুবলে পরাস্ত করে আবার চিতায় চাপল হত-_-না হলে ঘে বংশের মুখে চুনকালি পড়বে! সম্মিলিত প্রতিরোধের কাছে ফুৎখকারে নিভে যেত সতীনারার বাচার আশা ধরে ধীরে এক সময় নিভে যেত চিতার আগুন। কিন্তু তা" বলে পুরোহিতের বিআাম নেই! তিনি তখন শকুনির মত ঘেটে চলেছেন চিতার ছাই-ভম্ম--সতীর গাম্ের বু মূল্য অলংকাবগুলির বর্তমান মালিক তো! তিনিই! অন্যদিকে বংশগৌরুবের উজ্জ্বলতা বিচার করতে করতে ঘরে ফিরে চলছেন মুতের আম্মীয়ন্বজন-_চাদরের তলায় কর গুণে-গুণে হিসেব করছেন স্ত্রীর মৃত্যু হবার দরুণ মৃতের কতখানি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হলেন তারা অনেক ক্ষেত্রে দাহকাধের পূর্বে মদ, ভাঙ, ইত্যাদি উত্তেজক দ্রব্য খাইয়ে সতীনারীর মান্সিক ভারসাম্য নষ্ট ক'রে ফেলা হত। কি অপরিসীম মানসিক স্থ্র্ধের অধিকারিণী ছিলেন এই সতীনারীরা, ভাবলে বিম্ময় লাগে। এক অদ্ভুত অপাধিব স্থখথভোগের আশায়, স্বর্গ নামক এক অজ্ঞাত অথচ কল্পনাময় মনোহারী স্থানে মিষ্টিহ্খে স্বামী-সঙ্গ লাভের কামনায় তার। দলে দলে অবিচলভাবে হেঁটে গেছেন আগ্চনের কোলে_-শিকার হয়েছেন পৃথিবীর নৃশংসতম প্রথার কিন্তু এই প্রথ|র বিরুদ্ধে তর্জনী উত্তোলনের মত সাহসও কারুর ছিল না।

প্রাচ'ন ভারতবর্ষে সতীদাহ প্রথার ছু'টি ভিন্ন রূপ ছিল-_সহমরণ অন্ুমরণ। মহমরণ অনুষ্ঠানে পতিব্রত। ত্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে একই চিতায় দ্ধ হতেন। কোন কারণে স্বামীর দাহকাধের সময় স্ত্রী উপস্থিত না থাকলে, পরে স্বামীর কোন স্থৃতিচিহ্কের সঙ্গে স্ত্রী চিতানলে প্রবেশ করতেন নিয়ম ছিল,__“দেশান্তরে মতে পত্যে৷ সাধ্বী তৎপাদুকাঘয়ম্‌ নিধায়োরসি সংশুদধা প্রবিশেৎ জাতবেদসম্‌ (ব্রক্ষপুরাণ )- পতির মৃত্যু দেশাস্তরে হলে, সাধবী স্ত্রী স্বামীর পাছুকাদ্বয় বুকে করে শুচিশুদ্ধ অবস্থায় অগ্নি প্রবেশ করবেন। অবশ্ব স্বামীর মৃত্যু যদি এরকম কোন স্থানে হত যেখানে এক দিনেই যাওয়া সম্ভব এবং ষদি স্ত্রী সহমরণে কৃত- সংকল্প হন, তাহলে যতক্ষণ না সেখানে স্ত্রী এসে পৌছেন ততক্ষণ স্বামীর মৃতদেহ দাহ করা হতনা, স্ত্রী এলে উভয়কে একই চিতায় দাহ করা হত্__“দিনৈকগম্য

সতীদাহ

দেশস্থা সাধ্বী চে কৃতনির্ণয়া। দহেং স্বামিনস্তশ্তা যাবদাগমনং ভবেৎ ব্রা্ষণদের ক্ষেত্রে কিন্ত অনুমরণ প্রথা নিষিদ্ধ ছিল-_পৃথকচিতিং সমারুহ বিপ্রা গন্তমর্থতি। (স্বতি) ইচ্ছে থাকলেও সকল রমণীই সহমরণে যেতে পারতেন না। সেখানেও ছিল শান্ত্রীয় বিধিনিষেধের বেড়া কোন নারী গর্ভবতী বা শিশুসন্ত্ুনের জননী হলে কিংবা! রজন্বলা বা অদৃষ্টতু (যিনি এখণও রূজস্বল! হননি ) হলে তার সহমরণে বাধ ছিল-_বালাপত্যান্ধগন্ভিনে। হাদৃষ্টঝতবন্তথা রজন্বল! রাজস্থতে নারোইস্তি চিতাং শুভে ( কৃত্যত্তীার্ণবে বুহন্নারদীয়ম্‌)। কিন্ত বদি “ভৃতীয়েইহি উদক্যায়া মতে ভর্তরি বৈ দ্বিজাঃ। তশ্ঠান্ুগমনার্থায় স্থাপয়েদেকরাত্রম-_অর্থাৎ সাধ্বী নারীর রজসম্বলার তৃতীয় দিনে যদি স্বামীর মৃত্যু হয়, তবে মৃতদেহ একর[ত্রি রেখে দেওযা হত। সহমরণ অনুষ্ঠিত হত পরদিন। প্রাচীন রাজস্থানে আর এক ধরনের সতীদাহ প্রচলিত ছিল। স্বামীর মৃত্যুর আগেই, মৃত্যুর আশঙ্কায় অনেক স্ত্রী চিতার আগুনে প্রবেশ করতেন। এদের বলা হত “সোহাগুণ আর ধারা সহমরণে যেতেন রাজস্থানে তাদের বল। হত “দোহাগুণ

এখন প্রথ্থ যে প্রথার নামোচ্চারণে আধুনিক সভ্যতা দ্বণায় মুখ কেরায়, ভারতবর্ষে সেই নৃশংস সতীদাহ প্রথার উৎপত্তি কবে থেকে? বৈদিক যুগে কি আর্ধনারীরা মৃত ত্বামীর চিতায় অ|রোহণ করতেন? ছুঃখের বিষয়, বিশিষ্ট পণ্ডিতবর্গ আজও প্রশ্নে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেন নি, বোধহয় তা” সম্ভবও নয়। সাধারণভাবে আমরা জানি, বৈদিক যুগে কারও মৃত্যু হলে তার আম্মীরস্বজন নৃত্যগীতের মাধ্যমে আনন্দ-উচ্ছাস প্রকাশ করতেন-_প্রাঞ্চো অসার নৃতয়ে হগায়' ( ১০।১৮।৩-বখেদ )। সেক্ষেত্রে সহ- মরণের মত একটি বীভৎস নীচ প্রথা কিভাবে সেই আধপুরুষর। অনুমোদন করেছিলেন, আমাদের মনে সন্দেহ জাগে। যদিচ সতীদাহ প্রথাকে ধার! স্বামীহীনার শ্রেষ্ঠ পুণ্য কর্তব্য বলে মনে করতেন তারা৷ স্বকার্ধষের সমর্থনে প্রায়শই ঞথ্বেদের একটি শ্লোকের উদ্ধৃতি দিতেন। খণ্েদের দশম মগুলের অষ্টাদশ সুক্তের সেই গ্লোকটি হল-__

ছইম! নারীর বিধবাঃ স্থপতীরাপঞ্জনেন সপিষা সং বিশন্ত

অনশ্রবোইনমীবাঃ সরত্বাঃ আরে [হস্ত জনয়োযোনীমণ্ধে' (১০1১৮৭)

সহমরণ অনুষ্ঠানে বিধবা নারীর চিতা প্রবেশের পূর্বে ব্রাহ্মণ পুরোহিত এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করতেন। ্লোকটির অর্থ হুল--“এই সব নারীগণ ধারা

সতীদাহ

অবিধবা স্পত্বী, তারা অঞ্চন ঘি নিয়ে চিতায় প্রবেশ করুন। অশ্রশূন্যা ছুংখশুন্তা। সেই স্ত্রীগণ উত্তম রত্বভৃষিতা হয়ে অগ্নিতে আরোহণ করুন|” বহুদিন যাবৎ এই ক্লোকটি সতীদাহ প্রথা সমর্থকদের অন্যতম হাতিয়ার ছিল। যেহেতু ব্রাহ্মণ ভিন্ন অন্য কোন বর্ণের বেদপাঠে অধিকার ছিল ন। এবং অরিকাংশ ত্রাঙ্গণ ছিলেন নিরক্ষর, তাই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার প্রশ্থই ওঠে না! কিন্ত বেদ-সংহিতায় ক্রাঙ্মণদের এই একচেটিঘ্া অধিকার তো চিরদিন চলেনি; এদেশে ইংরেজ রাজত্ব স্ত্প্রতিষ্ঠিত হবার পর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস স্থির করলেন, ভারতবর্ষ শাসিত হবে এদেশেরই প্রাচীন আইনকান্থনে প্রয়োজনের তাগিদে হিন্দু আইনশাস্ত্রে বিদেশীরা প্রবেশাধিকার অর্জন করলেন। দায়ভাগ ব্যবস্থা, মিতাক্ষরা! ইত্যাদি অনুবাদের পথ ধবেই হঠাৎ একদিন ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির স্বর্ণদ্বার উন্মুক্ত হল বিদেশীদের কাছে, পরে এদেশীয়দের কাছেও এই স্থপ্রাচীন সভ্যতাকে জানবার স্পৃহা বাড়ল বিদেশী সংস্কতিবানদের মধ্যে বেদ-সংহিনাও আর অস্পৃশ্ত রইল না। বন বিদেশী এই,পরদেশী সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ে মহা মহা পণ্ডিতে পরিণত হলেন এরকম একজন হেন হোরেস হেম্যান উইলসন (১৭৮৬--১৮৭০)। পেশায় ছিলেন ডাক্তার ডাক্তার হিসেবেই ১০*৮ সালে তার ভারত আগমন কিন্তু চিকিৎসাবিগ্যার নীরস শাস্ত্রের পরিবর্তে সংস্কতভাষা আতত্ত করে সংস্কৃত সাহিত্যের রসাম্বাদনেই যেন বেশী মেতে উঠলেন। মেঘদূত বা অভিজ্ঞান- শকুস্তল! যেমন একদিকে তার অন্তরের কাব্যপিপাপা মেটাতো, তেমনই অন্যদিকে বিষুপুরাণ থেকে শুরু করে খণ্ে পর্যন্ত বিস্তৃত পথ পরিক্রমা! করেছিলেন ভারতবর্ষের ফেলে-আসা অতীতকে জানতে বুঝতে প্রাচ্যবিদ্যা অন্ধ্যানে তিনি ছিলেন উৎসগাঁকৃত প্র।ণ।

খণ্থেদের অন্থবাদ করার সময় সতীদাহ সম্পক্িত পূর্বোক্ত শ্লোকটির প্রতি স্বভাবতই তার দৃষ্টি আকবিত হয়। তিনি তখন দেশে কিরে গেছেন (প্রত্যাবর্তন কাল ১৮৩২ খ্রীঃ)। ১৮৫৪ সালে লগুনের রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় "অন দি সাপোজড, বৈদ্বিক অথরিটি ফর দি বারনিং অব হিন্দু উইডোজ আযাণ্ড অন দি ফিউনরল্‌ সেরিম্যানিজ অব দি হিন্দু, শীর্ষক আলোচনায় তিনি পূর্বোক্ত শ্লোকটি পুত্াহ্ুপুঙ্খ বিচার করলেন এবং অভিমত দিলেন-_-“ইম! নারীরবিধবাঃ....-যোনীমগ্নে যে গ্লোকটির উদ্ধৃতি দিয়ে গ্রমাণ করার চেষ্টা হয় বৈদিক যুগেও সহমরণ প্রচলিত ছিল, সে প্লোকটি

সতীদাহ

আদৌ সতীদাহ সমর্থক নয়। দরিদ্র নিরক্ষর দেশবাসীর মখো সতীদাহ প্রচলনের উদ্গেশ্রে ব্রাহ্মণগণ শ্লোকটির পাঠাস্তর ঘটিমেছেন। শ্লোকটির শ্ুন্ধরূপ হবে-_

ইমা নারীরবিধবাঃ স্থপত্বীরাঞধনেন সাঁপষ। সংবিশস্ত,

অনশ্রবোইনমীবাঃ স্থরত্বাঃ রোহস্ত জনয়ো যোনীমগ্রে'

অর্থাৎ পূর্বের “যোনীমগ্নের' পরিবর্তে “যোনীমগ্রে হবে। এবং অর্থ হবে__

“অবিধবা? অর্থাৎ সধবা! উত্তমপতিসম্পন্ধা এই নারীগণ ঘি অগ্রন নিয়ে ' প্রবেশ করুন। শোকহীনা, অশ্রুহীনা এইসব স্ত্রীগণ অগ্রে গৃহে আহ্ুন” ।- প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, উইলসন সাহেব খণ্েদের প্রথম অন্বাদক হলেও তার পূর্বে অপর একজন ভারতবিষ্ঠাবিদি হেনরী টমাস্‌ কোলক্রক (১৭৬৫-_-১৮৩৭) এশিয়াটিক রিসার্চেস্‌ পত্রিকায় ১৭৯৫ সালে “হিন্দু-বিধবার কর্তব্য' সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ লেখেন কিন্ত এই বিকৃতির ঘটনা ভার চোখে পড়েনি তিনি প্রচলিত “যোনীময়্ে' পাঠই গ্রহণ করেছিলেন। উইলসন তার আলোচনায় খণেদের দশম মণ্ডলের অষ্টাদণ সুক্তের সব ক'টি শ্লোকই অনুবাদ করেছিলেন বিতফিত শ্লোকটির পরবর্তী শ্লোকটি (৮ম ) হল-_

উদীর্ঘ নাধ্যভি জীবলোকং গতাস্থমেতমুপ শেষ এহি,

হস্তগ্রাভশ্ত দিধিষোস্ত্রবেদং পত্যুর্জনিত্বমভি সংবভূথ

অর্থ-_“হে নারী ! ওঠো তুমি জীবিত মানুষের কাছে কিরে এসো তুমি

মৃতপতির কাছে শুয়ে আছ। তুমি তোমার পতির দ্বার সন্তান প্রসব করেছিলে স্থতরাং তোমার কর্তব্য শেষ হয়েছে, তুমি উঠে এসো” গ্লোকটির দ্বিতীয় চরণের আর একটি অর্থ--“তোমায় যিনি পুনর্বার বিবাহ করতে চান, তার স্ত্রী হবার যোগ্য তৃমি হয়েছে” শ্লোক-পরম্পর! থেকে সাধারণ পাঠকের মনে সপ্তম শ্লোকটির সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন জাগা ত্বাভাবিক। সপ্তম ক্লোকে যদি অনুমরণের বিধানই নির্দেশিত হত, তাহলে পরবর্তী ক্পলোকে কেন পার্থিব জগতে কিরে আসার জন্য বিধবাদের আহ্বান জানানে! হচ্ছে? উইলমনের বক্তব্য, প্রণিধানে সহায়তা হবে “আশা করে বিত্কিত শ্লোকটি খণ্ড খণ্ড ভাবে ভেঙে পাশে বাংল! অর্থ সাজিয়ে দিলাম ।' ইমা: _এই সব, নারীঃ নারী, অবিধবাঃ __বিধবানন্‌ ধাব্র! অর্থাৎ সধবা,সথপত্বী-_উত্তমপ তিস্‌ম্পন্না,আঞ্জনেন _য|তে অঞ্জন প্রস্তত হয়, সপিষা__ঘি সহ, সংবিশন্ত_ প্রবেশ করুন। অনশ্রবঃ __অশ্রপূন্তা, অনমীবা-_ছুঃখশৃন্য, হুরত্বাঃ _-মূল্যবান রত্ববুক্তা, রোহন্ত--আগমন করুন,

সতীদাহ

যোনিন্‌_গৃঙে, অগ্রেঅগে বা প্রথমে শ্লোক-বিরূতি প্রসক্ষে উইলসনের প্রথম যুক্তি_শ্লোকটিতে অবিধবা স্থপত্বীদের, প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধার! সরধবা উত্তমপতিসম্পন্না তাদের অঞ্জন ঘি নিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে ধারা সধবা তাদের সহমৃতা হবাব প্রয়োজন কি? স্থতরাং তারা৷ কেন অগ্নিতে প্রবেশ করবেন? স্পইতই বোঝা যাচ্ছে শুদ্ধপাঠ “যোনীমগ্রে_- ে(নামগ্রে বিকৃতরূপ তিনি লিখেছেন--62016 15100409006 1805০৮21 0796 006 19666 (90%17175 ) 15 006 ০০5০0 158.0176 006 0181 65 076 ০0060600206 0136 00810050005 200. 006 ৪094)০০ ০0 €1১০ 456৮2, 016 5150. 06 006 £01056) ০৪০ ০5 005 50181720108 61515 &15০ ০01010761098601 3.1)7১795100009611 2 81810029001 01506015159. 19010 2100 16210170176) আ1)0 ০801915 10 4521055/227% 17010101210 07419? 42407%07,711%--11506 টায় ০0106 150206 8756 06 81]. 40059855 2150 155097:65 0151605 0. 00০ 15115100 0৫ 01)৩ [717005--ল, [নু 11501), 1862, ৬০12, ৮7274) শ্নোকটির শেষ পযাস়্ের ব্যাখ্যায় সায়নাচায লিখেছিলেন__-“তা৷ অগ্রে সর্ব্বেষাৎ প্রথমত এব যোনিং গৃহমোরহন্ত। আগচ্হস্ত।' “অগ্রিরঁ উল্লেখ কোথায়? স্থতরাং “যোনিমগ্রে' পাঠের শুদ্ধতা সম্পর্কে আর কোন সন্দেহই থাকে না। উইলসনের তৃতীয় যুক্তি-_-ইম! নারীরবিধবাঃ.... *-র পরের শ্লোক “উদীঘ নাধ্যাভি-..” সন্তৃত। আশ্বলায়নের গৃহস্থত্রের নির্দেশবিধি উল্লেখ করে তি'ন নিখেছেন_হে নারী! ওঠো, তুমি জীবিত মানুষের কাছে কিরে এম "" ইত্যাদি" শ্লোকটি মুত স্বামীর চিতায় শায়িত বিখবাকে উদ্দেশ্ত করে তার দেওর বা পরিবারের কোন পুরাতণ ভূত্য উচ্চারণ করতেন। তারপর বিপবাকে নিয়ে ঘরে ফিরে আমতেন। হুতরাং খথেদ যে সহমরণের বিধান দেননি আশ্বলায়নীয় গৃহস্ত্রের নির্দেশ তার অতিরিক্ত প্রমাণ। যদিও উইলসন সাহেবের এই গ্লোকবিকৃতি আবিষ্কারের ২৫ বছর পূর্বে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ কর! হয়েছিল, তখাপি এদেশের রক্ষণশীল বুদ্ধিজীবিগণ তার বন্তব্য বিনা প্রতিবাদে মেনে নিতে রাজী হলেন না। এই বিশেষ শ্রেণীর শিরোমণি একীধারে অর্থবান জ্ঞানবান রাজা বাধাকান্ত দেব (১৭৮৪-__-১৮৬৭ )-_খণ্েদে সহম্রণের বিধি নেই-_এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে উইলসনকে দীর্ঘ পত্র লিখলেন। যথাযোগ্য ম্রধাদাসহ উইলমন এই পত্রটি,

সতীদাহ

১৮৫৯ সালের রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় প্রকাশ করেন। সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়াও মুত্রিত হয়

ভারতবর্ষে সতীদাহের উৎপত্তি সম্বন্ধে সঠিক ধারণা পেতে হলে, এই বা প্রতিবাদের খেলায় জয়ীপক্ষ কে তা চিনতে হবে উভয়েই জানতেন, ভারত- বর্ধের সামাজিক জীবনে এই বি্তির্ক নতুন কোন রেখাপাত করবে না, কারণ নিষিদ্ধকরণ আইন বহুদিন পূর্বেই চালু হয়েছে। তাই, বক্তব্য পেশের ধারায় উভয়েই খেলোয়াড়হ্ৃলভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন--পরম্পরের প্রতি অপ[ার শ্রদ্ধা টাল খায়নি কোথাও বাধাকান্ত দেব তিনটি পথে উইলসনের বক্তব্যকে আক্রমণ করেছিলেন; প্রথম-__সপ্তম শ্লোকের বিকৃতি প্রসঙ্গে উইলসনের যুক্তি খগ্ডন, দ্বিতীর_ আশ্বলায়নের গৃহৃস্থত্রের নিদর্শন দিরে উইলসন যে অষ্টম ক্লোকটিকে ( উদীর্ঘ নাধ্যাভি - ) সহমরণের পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন রাধাকান্ত কর্তৃক সেই শ্লেকটি সহমরণেরই আবশ্টিক যন্ত্র বলে প্রমাণ করতে চেষ্টা, তৃতীম্ব_নতুন শ্লোক উদ্ধৃতির সাহায্যে দিক যুগে সতীদাহের প্রচলন প্রম[ণ। বাধাকান্ত লিখেছিলেন--(১) “ইমা নারীর- বিধবা-*--**১ শ্রে।কে “অবিধবা' “মপত্রী” শব ব্যবহারের জন্য শুদ্ধপাঠ “যোনীমগ্রে হবে, উইলসনের সিদ্ধান্ত ভূল। কারণ সহমরণের সময় স্বামী- হারা সী সধবা-অবিধবার স|জেই চিতাগ্নিতেই প্রবেশ করতেন। তার কপাল জুড়ে লেপে দেওয়া হত এয়োতীর চিহ্ন সিন্দুর। স্থতরাং শ্লোকটিতে স্বামীহীনাদেরই সপ্জোধান করা হয়েছিল। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়। যাক রঘুনন্দন সপ্তম ক্লোেকে বিকৃতি ঘটিদ্দেছেন। কিন্তু আশ্বলারন ভরদ্বাজ স্থত্র পাঠে জানা যায় সপ্তম শ্লোকটির সঙ্গে সহমরণের কোন সম্পর্কই নেই, এটি ভিন্ন অনুষ্ঠানের মন্্।। মৃতদেছ দাহ করার পর দশমতম দিনে মুতের আম্মীয়ন্বক্তন কয়েকটি পারলৌকিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য সমবেত হতেন। এই অহ্ষ্ঠান শেৰে ব্রাঙ্ষণ পুরোহিত কুশের ভগায় ঘি নিয়ে উপস্থিত সধবাদের চোখে কাজলের মত লাগিরে দ্রিতেন, তারপর বিতক্কিত সপ্তম গ্লোকটি আবৃত্তি করতেন। রাধাকান্তের বক্তব্য-_“ম্থতরাং এই সপ্তম ক্লোকের উপর' ভিত্তি করে বৈদিক যুগে সহমরণ প্রচলিত ছিল না বলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার সলিল সমাধি ঘটলো” | কিন্ত কিভাবে? উইলসন বলেছিলেন, সপ্তষ গ্লোকের বিকৃতি ঘটিয়ে সতীদাহ সমর্থন করা হয়েছে, প্লোকটি সতীদাহ সমর্থক নয়। সায়নাচার্ধের ব্যাখ্যা স্থনিদিষ্টভাবে প্রমাণ করে ক্লোকটিতে

সতীদাহ

বিরতি ঘটানো হয়েছিল-_রাধাকান্ত কিন্তু সবচতুরভাবে এরসঙ্গ (বা যুক্তিটি ) এড়িয়ে গেছেন, পরিবর্তে তব পত্রে এমন একটা ধারণার স্্টি করেছেন ঘেন তর্কের খাতিরেই তিনি উইলসনের বক্তব্য মেনে নিক্ছেন। তাছাড়া, আলোচ্য শ্লেকটি ভিন্ন অনুষ্ঠানে মন্ত্র-এই তথ্য আবিষ্কারেও বা কি সুবিধা হল? বরং এই তথ্য সরবরাহে সতীদাহ প্রথার বিরোধী-গোঠীই উল্লসিত হবেন। এই আবিষ্কর, দ্ধার্থহীনভাবে প্রমাণ করল পণ্ডিত বঘুনন্দন তার “শুদ্ধিতত্বম” গ্রন্থে ইম। নারীরবিধবা".... ক্লোকটির শুধু বিকৃতিই ঘটাননি, অপপ্রয়োগও করেছিলেন উদ্দেশ্য জোর করে সতীদাহের প্রচলন ঘটানো ব্রাহ্ষণদের পক্ষে ওকাণতি করতে গিরে তাদের আরও ফাদে ফেললেন ব[ধ।কান্ত দেব স্বয্ং। উইলসন তার প্রতিক্রিয়ায় ( পরবর্তী পর্যায়ে বার বিস্তৃত উল্লেখ করেছি) কিন্তু এই যুক্তির অবতারণা করেন নি, হয়তো তার নজর এড়িয়ে গেছে (২) এবর অষ্ম শ্লেক প্রসঙ্গে রাধাকান্ত বললেন, স্থত্রকার- গণ বিধান দিয়েছেন উৎসগ্গাঁকৃত বাসনপত্রের মত বিধবা স্ত্রীকেও মৃতম্বামীর চিতায় শুতে বাধ্য করানো হবে। তারপর তার দেওর বা অন্য কেউ আহ্বান জানাবেন_-হে নারী! ওঠো তুমি জীবিত মানুষের কাছে এস. ইত্যাদি” | বিধব। নারী সহমরণে স্থিরনিশ্চয় হলে স্ই অ.্বান প্রত্যাখ্যান করে অগ্রিতে প্রবেশ করবেন, নতুবা এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চিতা ত্যাগ করবেন। রাধাকান্তের অভিমত, বিষয়ে বৈদিক নির্দেশ ন। থকলে স্ুত্রকারগণ কখনই বিধ[ন দিতেন না তার বিচারে পুর্বোন্ত আহ্বান জান[নোর অর্থ ধিধবাকে ভাগ্য নির্ধারণের স্ৃযোগ দেওয়া কারণ-__শাস্ত্রে আছে--“চিতাত্রষ্। তু বা নারী মোহাদিচালিতা ভবেৎ। প্রাজাপত্যেন শুধ্যেতু তন্মাদ্ধি পাপ কর্ণ £ 0 কোন নারা মে?হবশতঃ জলন্ত চিতাভ্ষ্ট হলে তা গহিত পাপকর্ণ বলে “বিবেচিত হত এবং কঠিন প্রাজাপত্য ত্রত পালনের ছার! শুদ্ধ হলে, তবেই তিনি গৃহ- প্রবেশ করতে পারবেন। সুতরাং অষ্টম শ্লোকটি সহমরণ বিরোধী নয়, সহ- মরণ অনুষ্ঠানের আবশ্ঠিক মন্ত্র। (৩) বৈদিক যুগে যে সতীদাহ প্রচলিত ছিল রাধাকান্তের মতে নিম়োক্ত শ্লোক ছু'টি তার স্চেযে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রথম স্সেকটি হল--এঅগ্নে ব্রতানাং ব্রতপতিরসি পত্যান্গগমব্রতং চরিস্তামি তচ্ছকেয়ং তম্মেরাধ্যতাম' দ্বিতীয়টি__

ইহত্বা অগ্নে নমসা বিধেয় স্তবর্গস্ত লোকন্ত সমেত্যে |

জুষানো৷ অস্ত হবিষ1 জাতবেদে। বিশানি ত্বা সত্যতো৷ নয় মা পত়্যুরগ্রে'

১০ সতীদাহ

রাধাকান্তের ভাষায়_শ্লোক ছু"টি তৈত্তিরীয় সংহিতার অক্ষশাখার, নারায়ণ উপনিষদের ৮৪তম স্তবকে যেগুলির উদ্ধৃতি রয়েছে প্রথম শ্লোকটির অর্থ__-“হে অগ্নি, সমন্ত ব্রতের অধিপতি! তুমি ব্রতপতি! আমি ম্বামীর অন্থগমন ব্রত পালন করব। এই ব্রত পালনে তৃমি আমার সহায় হও | দ্বিতীয়টির অর্থ-__“হে অশ্নি। এই ব্রতে আমি তোমায় প্রণাম করি, স্ব্গ-সদন লাভের কামনায় আমি তোমার মধ্যে প্রবেশ করছি হে জাতবেদ (সমস্ত বেদের উৎস)! অমধপ্রদত্ত ্বতাহুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে তুমি আমায় অনুপ্রাণিত কর, আমাকে প্রভুর (স্বামীর ) কাছে নিয়ে চল" আত্মোত্সর্গের এই শ্লোক ছু'টি নতুন চিন্তার খোরাক ফোগায় সন্দেহ নাই। এখন, উইলসনের কি প্রতি- ক্রিয়া হয়েছিল, দেখ! যাক

রাজা রাধাকান্তের পত্র অধ্যাপক উইলসনকে স্বমত থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করতে পারেনি রাধাকান্তের পত্রের জবাব দিতে গিয়ে অধ্যাপক রাজার বক্তব্যের মূল ধরেই সজোরে টান দিলেন। পাঠকগণ নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, রাধাকান্তের (১) (২) চিহ্নিত যুক্তিগুলি মূলতঃ ভরদ্বাজ আশ্বলয়ন ইত্যাদি সত্রকারগণের ব্যাখ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত উইলসন বললেন, এর] যে সতীদাহের বিধান দিয়েছেন তা তর্কাতীত কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রে পারক্গষম সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, উল্লিখিত স্ুত্রগুলি সবই বৈদ্িককালের বনু পরের রচনা এই স্ত্রগুলি, সুতরাং, কিছুই প্রমাণ করে না। কারণ, শাস্ত্রে সতীদাহের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে কিনা মূল প্রশ্ন তা ছিল না। প্রশ্ন ছিল' বেদ-সংহিতায় সতীদাহের বিধান মেলে কিনা সংস্কত সাহিত্যের ইতিহাস সম্বন্ধে ধার! ওয়াকিবহাল তার! উইলপনের বক্তব্য বিনাবাক্যে মেনে নেবেন। উইলসন আরও বলেছিলেন, থ্থেদের অনুবাদের জন্য সামবেদ যভুর্বেদীয় বাজসানেয়ী সংহিতা তাকে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু কোথাও সতীদাহ সম্পর্কে কোন নির্দেশ তার চোখে পড়েনি বাকি রইল কষ্*যজুর্বেদীয় তৈত্তিরীয় সংহিতা এই সংহিতার যে প্রামাণ্য অংশটুকু এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশ করেছেন সেখানেও সতীদাহ প্রসঙ্দ অনুপস্থিত। অর্থাৎ বিতফিত অষ্টম শ্লোকটি সহমরণের মন্ত্রবএরকম নির্দেশ কোন সংহিতায় নেই। অগ্নির উদ্দেশে নিবেদিত গ্সোক ছৃ'টি প্রসঙ্গে উইলসন লিখেছেন --ঙ্সোক ছু'টি তৈতিবায় সংহিতার অক্ষশাখায় আছে'একথা! বলেও রাধাকান্ত সংহিতা থেকে উদ্ধৃতি দেননি নারায়ণ উপনিষদের আশ্রয় নিয়েছেন। অর্থাৎ গ্পোক ছু'টি উপদ্ধ! তর

সতীদাহ ১১

উদ্ধাতি। সকলেই জানেন বেদবিচারে ধরনের উদ্ধতির উদ্ধতি সাধারণতঃ বিশ্বাসযোগ্য হয় না। উইলসন এটুকু বলেই থেমেছেন, আমার অতিরিক্ত প্রশ্ন রাধাকাস্ত যদি তৈত্তিরীয় সংহিতার অক্ষশাখায় শ্লোক দু'টির সত্যই সন্ধান পেতেন, তাহলে কেন নারায়ণ উপনিষদের দ্বারস্থ হলেন উইলসনের পরবর্তী আপত্তি নারাধণ উপনিষদের রচনাকাল নিয়ে। সাধারণভাবে উপনিষদের সংখ্যা অনেক এব" এগুলি কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে রচিত হয়নি বহুবছর ধরে বিভিন্ন কলমে এগুলি লেখা নারায়ণ উপনিষদেও ব্যতিক্রম নয় | তদুপরি সায়নাচার্ধ শ্বয়ং এই উপনিষদকে তৈত্তিরীয় আরণ্যকের “খিলরূপ, বলেছেন, অর্থাৎ এটি পরবর্তীকালে সযোজিত হয়েছে শ্ুতবাং কালের বিচারে সতীদাহ বিষয়ে আলোচ্য প্রশ্নে নারায়ণ টপনিষদের োন মূল্য নেই। লগুনের ইগ্ডিয়। হাউস লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাতুলিপি ঘটলে আরও বিপাকে পড়তে হয়। মুল এবং ব্যাখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই যেখানে মাত্র ৬৪টি স্তবক রয়েছে, সেক্ষেত্রে রাধাকান্ত ৮৪তম স্তবক থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সায়ন যদিও বলেছেন সঠিক ব্যাখ্যার সংখ্যা একাধিক এবং দ্রাবিড়ে ৬৪টি, অন্ধে ৮০টি, কর্ণাটকে ৭৪টি অন্যত্র ৮৯টি স্তবক আছে তথাপি তিনি দ্রাবিড় বূপকেই অন্থসরণ করেছেন, যাতে স্তবক সংখ্যা ৬৪। তাহলে পগ্ডিতেরা ৮৪তম শ্লেরকের ব্যাখ্যা কোঁথা থেকে পেলেন? জিজ্ঞাসার সন্তেষজনক উত্তর তাদেরই দিতে হবে। অবশ্য উত্তর পেলেও প্রমাণিত হবে না মূল তৈত্তিরীয় সংহিতায় বিধব|দের পুড়িয়ে মারার বিরান আছে রাধাকান্তের তরক থেকে উইলসনের জবাবের কোন প্রত্যুত্তর আসেনি। প্রত্যুত্তর দেবার মত কোন ছিদ্র উইলসনের জবাবে ছিল না অনেক শ্রুতকাঁতি লেখক কিন্তু রাধাকান্তের পত্রধানা পড়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বৈদিক যুগে ভারতবর্ষে সহমরণ প্রচলিত ছিল। যেমন বিখ্যাত “বিশ্বকোষ' প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বস্থ তিনি উইলসনের জবাব পড়ার দরকার মনে করেননি

এই গ্লোকবিকৃতি বিতর্কে প্রত্যক্ষভাবে যোগদান না করলেও প্রখ্যাত জার্মান মনীষী ম্যাক্সমূলার, কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ই. বি. কাউমেল বিশিষ্ট বাঙ্গালী বেদ-অনুবাদক রমেশচন্দ্র দত্ত উইলসনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। অধ্যাপক ম্যাক্সমূলার তাঁর “সিলেকটিভ এসেজ অন ল্যাংগুয়েজ” মিথলজি আযাণ্ড রিলিজিয়ন' ( ১৮৮১) গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে পৃবোক্ত পাঠান্তরের ঘটনাকে তীব্র ধিক্কার জ।নিয়ে লিখেছেন, “বিবেকহীন পুরো হিত সম্প্রদায় কি

১২ সতীদাহ

করতে পারে এই বিকৃতির ঘটনা তার দ্বপ্যতম দৃষ্টান্ত একটি গ্লোকের বিকৃত অপ্রযুক্ত অপব্যাখ্যার সহায়তায় হাজার হাজার প্রাণ বলি হয়েছে_ ধর্মীয় বিদ্রোহের ভয় দেখানে! হয়েছে সে সময়ে যদি কোন ব্যক্তি গ্পোকের সত্যতা যাচাই করতে সক্ষম হতেন তাহলে ব্রাহ্মণের! নিজেদের অস্ত্রেই প্রহত হতেন, অধিকন্তু সমাজে তাদের যাজকীয় সম্মানও হয়তো নড়বড়ে হয়ে পড়তো" ( অন্ুবদ-__লেখককৃত্ত, পৃঃ--৩৩৫)। প্রাচীন ভারতবর্ষে বিধবার কর্তব্য কি ছিল ভাষাতত্বের দিক দিয়ে তিনি তা? নির্ণয় করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। তার মতে সংস্কৃত ভাষায় “বিধবা” শব্দটির অস্তিত্বই প্রমাণ করে, সেযুগে স্বামীহীন। নারীর সহমৃতা৷ হবার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। বৈদ্দিক যুগে যে ভারতবর্ষে বিধবা-বিবাহ প্রচলিত ছিল, সে বিষয়ে মূল্যবান প্রমাণ খুঁজে পাই প্রাচ্যবিদ্যাবিদ্‌ বাজেন্দ্রল[ল মিত্রের লেখায়। “ভারতবর্ষে বৈদ্দিকযুগে বিধবা-বিবাহ একটি জাতীয় প্রথা ছিল_-এ উক্তির সমর্থনে বিভিন্ন তথ্যাদি সহজেই পেশ করা যায়। অতিত প্রাচীন কাল থেকে সংস্কৃত ভাষায় প্রবিষ্ট নিষ্নলিখিত শব্দগুলি আমার উক্তির যথার্থতা প্রমাণে যথেষ্ট-_দিধীযু-_যে ব্যক্তি বিধবা নারীকে বিবাহ করেছেন, পরপূর্ব1-যে নারী দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করেছেন, পেণর্ভর__কোন নারীর দ্বিতীয় স্বামীর গুঁরসজাত সন্তান ( অন্থবাদ লেখককৃত )। আলোচ্য উদ্ধৃতিটি বমেশচন্দ্র দত্ত মহাঁশয় তার “এ হিস্ট্রি অক সিভিলাইজেশন ইন এনসেণ্ট ইগ্ডিয়া' গ্রন্থে অধ্যাপক উইলসনের বক্তব্য সমর্থনকালে ব্যবহার করেছেন (পৃঃ--১১*)। প্রসিদ্ধ এতিহাসিক মাউন্ট- স্টয়| এলফিন্স্টোনের “হিস্ট্রি অব ই্ডিয়া” গ্রন্থের সম্পাদনায় অধ্যক্ষ ই. বি. কাউয়েল 'যোনীমগ্লে পাঠের কোন ভিত্তি নেই বলে অভিমত দিয়েছিলেন তৈত্তিরীয় আরণ্যকের প্রপাঠেকের ছু"টি ক্লোক নিঃসংশয়ে প্রমাণ করে», বৈদ্দিক যুগে ভারতীয় বিধবা নারীর! পুনরায় বিয়ের পিড়িতে বসতেন। শ্লেইকগু(ল হল-__ ইয়ং নারী পতিলোকং বুণানা নিপদ্ত উপ ত্বা মত্ত্য প্রেতং। বিশ্বং পুর/ণমন্থ পালয়ন্তী তন্তৈ প্রজাং দ্রবিণঞ্চেহ ধেহি ॥" (৬1১।১৩) ৯১৩ 'উদদীর্ঘ নাধ্যাভি জীবলোকমিতাস্থমেতমুপশেষ এহি হস্তগ্রাভন্য দিধিষোস্তমেতৎ পত্যুর্জনিত্বমভিসম্বভূব (৬1১১৪) গ্রথম শ্লোকটিতে মৃত ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে, “তোমার ভার্ধী?

সভীদাহ ১৩ এই নারী পতিলোক কামনা করে মৃত তোমাকে পেয়েছেন। তিনি চিরকাল আদর্শ স্ত্রীর ধর্ম পালন করেছেন। তাঁকে ইহলোকে থাকবার জন্য অনুমতি প্রদান করে প্রজা ধন দ1ও।, দ্বিতীয় শ্লোকের আভাষ, “হে নারা তুমি মৃত পতির কাছে শুয়ে আছ; তুমি জীবিতদের কাছে এস। তোমায় যিনি পুনর্বার বিবাহ করতে চান তার সম্যকরূপে জায় হও | কিন্তু দেখ! যাচ্ছে বিধব। বিবাহের বিধান থাকলেও,» স্বামহানাকে মৃত পতির চিতায় শয়ন করতে হত কিন্ত কেন? বিশ্বকোষ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের সম্পার্দকদ্বয় শ্রীত্রেলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় এরঙ্গলাল মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের অনুমান, এই প্রথা পালন আমলে নিয়মরক্ষা মাত্র। (€বিশ্বকোষের দ্বিতীয় খণ্ড থেকে নগেন্দ্রনাথ বস্তু সংকলনের ভার নেন)। বেমন প্রাচীনকালে পৈতে হবার পর ত্র্ধচারা গৃহত্যাগী হয়ে গুপ্র আশ্রমে চলে যেতেন। আজ আর এই প্রথা প।লিত হয় না-_তবে নকল এখনও রয়েছে এধুগে তের পর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ভান করে ব্রদ্ষচারী কয়েক এগিয়ে যান। তারপর তার মা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সম্পাদকঘ্বয়ের মতে বৈদ্িক-পৃধ যুগে লোকে অত্যন্ত অসভ্য ছিল এবং তখন সতীদাহের প্রচলন ছিল। বৈদিক যুগে ধর্মের নির্মল জ্যেতিতে আলোকিত আর্গণ এই নুশংস প্রথা মেনে নিতে পারেননি «কিন্ত একটা প্রথা দেশে অনেকদিন চলিয়া আফিলে একেবারে তাহা উঠাইয়। দেওয়া যায় না”। স্থতরাং শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার জন্য বিধবার মৃত স্বামার চিতায় শয়ন করতেন। এই অন্থমান মনোহারী হলেও, সত্য বলে মনে হয় না। আমার অনুমান_সে যুগে স্বামাই ছিলেন সধবার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান, আশা-ভরসা সব। তাইস্বামীর মৃত্যু তার পক্ষে সহ করা সম্ভব ছিল না। এহেন অবস্থায় তিনি শোকে বাহজ্ঞনশূন্তা ! গৃহের অভ্যন্তরেই হোক বা চিতার ডপর শ[ঘ়িত অবস্থাতেই হোক ম্বামাসঙ্গ থেকে বঞ্চিত হতে চাইতেন ন। রোকুদ্যমানা নারী চিতার উপরই স্বামীকে জড়িয়ে ধরে তিনি অশ্রবিসঞ্জন করতেন (নিয়মরক্ষার জন্য নয়)। তখন তাকে পাধিব জগতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার'জন্তই ১০।১৮1৮ খং মন্ত্রটি উচ্চারিত হত ্তত্তিরায় আরণ্যকের ৬।১।১৩ লোকটি উচ্চারিত হত স্ত্রীর মনে এই ধারণা স্ষ্টির জন্য বা মাত্বনা দেওয়ার জন্য যে, স্বামী তাকে ইহলোকে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। কারণ চিরদিন তিনি ম্বামীকেই তো প্রথম আজ্ঞাকারী গুরুজন বলে মান্ত করে এসেছেন।

বেদ-পরবর্তী যুগে ভারতবর্ষে যে সতীদাহের প্রচলন ছিল সে বিষয়ে অবশ্ত

১3 সতীদাহ

কোন মতদৈধ নেই। ভরদ্বাজ, আশ্বলায়ন প্রভৃতি বিভিন্ন সুত্রকারগণের ব্যাখ্যাই তার প্রকুষ্ট প্রমাণ। রামায়ণ মহাভারতের পাতায় বেশ কয়েকটি সতীদাহ অনুষ্ঠানের সন্ধান মেলে বাল্মীকি রামায়ণের অযোধ্য। কাণ্ডে দেখি, রাজ দশরথের মৃত্যুর পর রামের মা কৌশল্যা দ্রেবী সহমৃতা৷ হবার অভিলাষ ব্যক্ত করেছিলেন

কৌশল্যারাষপপূর্ণাক্ষী বিবিধং শোককষিতা

উপগৃহা শিরোরাজ্ঞঃ টককেয়ীঃ প্রত্যভাষত

সাহমদৈব দৃষ্টান্তং গমিস্যামি পতিব্রতা

ইদং শরীরমালিঙ্গ্য গরবেক্ষ্যামি হুতাশনম্‌॥

(ষঠ_যষ্ঠীতম সর্গ) শোককৃষা কৌশল্যা দেবী রাজা দশরথের মাথা কোলে নিয়ে অশ্রপূর্ণ

চোখে ( অন্তান্ত কথার পর) বললেন-_“পাতিত্রত্য ব্রত পালনের জন্ত আমি প্রাণত্যাগ করব। ম্বামীর শরীর আলিঙ্গন করে আমি অগ্ত্রিতে আরোহণ করব। “অবশ্য এই ছুর্ভাগ্যজনক ঘটন। অনুষ্ঠিত হয়নি মহৰি বশিষ্ঠের নির্দেশে রাজা দশরথের স্বৃতদেহ তখন দাহ ন| করে পুত্র ভরতের অপেক্ষায় ততলকটাহে রক্ষিত হয় এবং রানী কৌশল্য। অগ্তান্য পুরনারীগণ কর্তৃক স্থানান্তরিতা হন আদর্শস্বরূপা সীতা দেবীও রামের অন্থগামিনী হতে চেপ্লেছিলেন। তিনি তখন অশোকবনে বন্দিনী। বাবণ কর্তৃক রামের মায়ামুণ্ড প্রদণিত হলে সীতা দেবী দশাননকে অনুরোধ করেছিলেন__“রাবণ, তুমি আমাকে হত্যা করে রামের উপর স্থাপন কর। দশানন ! পতি-পত্বীর এই মিলন তুমি সম্পন্ন কর। তুমি বাঘবের দেহে আমার দেহ, তার মন্তকে আমার মস্তক সংযেজন কর। তাহলে আমি স্বামীর অন্ুগামিনী হয়ে সদ্গতি লাভ করব ।, (লঙ্ককাণ্ড, দ্বাত্রিংশ সর্গ, ২০।৩২ শ্লোক) রাবণ যে সীতা দেবীর এই অনুরোধ রক্ষা করেননি বল। বাহুল্য রামায়ণ পাঠে দেখা যায় কেটি প্রধান স্ত্রীচরিত্র সতী হবার বামন! প্রকাশ করলেও ত। কাধে রূপান্তরিত হয়নি। বাল্মীকি রামায়ণের উত্তর খণ্ডের সপ্তদশ সর্গে অবশ্ঠ অতীতে অনুষ্ঠিত একটি সহমরণের সংবাদ রয়েছে ব্রাঙ্ষণ-কন্তা বেদবতী রাবণকে তার মার সহমৃতা হবার ঘটন। বিবৃত করছেন বেদবতীর পিতার ইচ্ছা ছিল ত্রিভৃবনপতি বিষু তার জামাতা হন। খবরে দৈত্যরাজ শস্তু ক্রোধান্থিত হয়ে রাত্রে শয়নাবস্থায় বেদবতীর পিতাকে হত্যা করেন। বেদবতীর হতভাগিনী মা তখন ম্বামীর শরীর আলিঙ্গন করে

সতীদাহ |] ১৫

চিতায় প্রবেশ করেছিলেন। *শভুর্নাম ততো রাজা দৈত্যানাং কুপিতোহ- ভবেৎ। তেন রাত্রৌ শয়ানো যে পিতা পাপেরহিংসিতঃ ততো! যে জননী দীন। তচ্ছরীরং পরতুর্মম। পরিখজ্য মহাভাগা প্রবিষ্টা হব্যবাহনম্‌ ॥' রাবণের উদ্দেশ্ট ছিল বেদবতীকে সন্তোগ করা। তিনি বহুভাবে বেদবতীকে প্রলুন্ধ করতে চেষ্টা! করেন বেদবতী পূর্ব ঘটন! বলে রাবণকে সাবধান করে দেন-_ ভগবান বিষুই তার কাম্য কিন্তু “চোরা শুনে ধর্মের কাহিনী" রাবণ বলপ্রপ্নোগ করতে চান-বেদবতী তৎক্ষণাৎ জলন্ত অগ্রিতে প্রবেশ করেন। মহাভারতে কিন্তু সতীদাহের ছড়াছড়ি মর্ার/জ৷ পাও্ুর মৃত্যুর পর স্ত্রী মা্রী দেবী শ্বামীর সহগামিনী হদেছিলেন। পতিতব্রতা কুন্তীও সহমরণে যেতে চেয়েছিলেন কিন্ত মাত্রীর অশবোধে শেষ পবস্ত সে ইচ্ছ! পরিত্যাগ করেন (আদিপর্ব)। শ্রীকৃষ্ণের মৃতুর পর তার পিতা বন্থদেব যোগালম্বন-পূর্বক আত্মহত্য। করলে, তার চার পত্বী দেবকী, ভদ্রা, রোহিণী মদির1 শ্বামীর জলন্ত চিতায় আরোহণ করেছিলেন। দাহকার্য সম্পন্ন করেছিলেন তৃতীয় পাগ্ডব অর্ভ্ন। (যৌষল পর্ব) মহাভারতে তে? নির্দেশই আছে

অব্মত্য যাঃ পূর্বং পতিং দুষ্টেন চেতস|।

বন্তন্থে যাশ্চ সততং ভত্বণাং প্রতিকূলতঃ

ভত্রন্গমরণং কালে যাঃ কুবন্থি তথাবধ|ঃ।

কামাং ক্রোধান্তয়ান্মোহাৎ সর্বাঃ পৃতাঃ ভ'ন্তক তাঃ

“যে সকল স্ত্রী প্রথমে পিকে ঘ্বণার সহিত দশন করে, অথবা যাহারা পির প্রতিকূলে বর্তমান হয়, তাহার] সকলেও যদ্দি যথাসময়, কামবশেই হউক, ক্রোধবশেই হউক বা ভয়েতেই হউক মহমরণ করে, তাহলেও পবিত্র হয়।”

( অন্ুবাদ-_হাষীকেশ শাস্ত্রী ) শ্ীমপ্তাগবত পড়লে আরও কয়েকজন সতী নারীর সাক্ষাৎ মেলে। এরকম একজন হলেন স্বায়স্তব মন্ুর বংশধর রাজ পৃথুর সাধবী স্ত্রী অচিদেবী। পৃথু রাজার নামানুসারে “পৃথিবী” নামের উৎপত্তি “দেহং"বিপন্নাখিলচেতনাদিকং পতুযুঃ পৃথিব্য। 'য়িতন্ চাজ্মনঃ। আলক্ষা কিঞ্চিচ্চ বিলপ্য সতী চিতামথারোপয়দদ্রিসান্থনি বিধায় কৃত্যং হদিনীতালাপ্ুতা দত্তোদকং ভর্ভ,রদার কর্্বণঃ। নতা! দিধিস্থাং ভ্্িদশাংস্ত্িঃ পরীত্য বিবেশ বন্ধিং ধ্যায়তী ভত্পাদম্‌।” অচি' দ্রেবী যখন দেখলেন স্বামীর দেহ চেতনাহীন অর্থাৎ প্রাণহীন,

১৬ সতাদাহ

তখন কিছুক্ষণ বিলাপ করার পর পর্বতের সাহ্ছদেশে চিতাসজ্জী তৈরী করে স্বামীকে তার উপর শুইয়ে দিলেন। তারপর অন্তান্ত পারলৌকিক ক্রিস সম্পন্ন করার পর নদীর জলে স্নান করে তিনি স্বামীর উদ্দেশে তর্পণ করলেন। তর্পণ শেষে দেবতাগণকে প্রণাম নিবেদন করে তিনবার চিতা প্রদক্ষিণের পর অচি দেবা অগ্রিতে প্রবেশ করলেন। তা' দেখে স্ববগস্থ দেবপত্বীগণ দেবগণের সঙ্গে সহশ্রবার স্তব করতে লাগলেন শ্রীকুষ্ের মৃত্যুতে তার কুক্সিণী প্রভৃতি স্বীগণও চিতাগ্নিতে আল্মবিসর্জন দিঘ্সেছিলেন। সগর রাজার নাম আমাদের পরিচিত। সগর রাজার পিতা রাজা বাহু শক্র-কর্তৃক স্বর।জ্য থেকে বিতাড়িত হলে বনবসে যান, সঙ্গে ছিলেন গর্ভবতী রাজমহিষী | বনেই রাজ! বাহুর মৃত্ু হয়। তখন গর্ভবতী রাজমহিষী আত্মাহুতি দেবার জন্ত প্রস্তত হন। নিকটেই ছিল কর্বধষির আশ্রম | ত্রিকালদশী' এই পুরুষ তখন রাজমহিষীকে বলেন-__“হে সাধ্ব, আপনি এই কাজ কেন করছেন ? আপনার জঠরে অখিল ভূমগ্ডলপন্ি, রাজচক্রব্তাঁ, অতি পরাক্রমশালী, বনু যজ্ঞকর্তা, শক্রবিজয়ী এক মহীপতি অবস্থান করছেন, আপনি এরকম সাহস করবেন না।” খধির কথা শুনে রাঞ্জমহিষী সহমরণ থেকে নিবৃত্ত হন। পুত্রই হলেন সগর রাভা1। ( বিষুপুরাণ )

পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা উল্টোলে প্রপিদ্ধ গ্রীক এতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলামের লেখার ভারতবর্ষের সতীদাহ অনুষ্ঠানের প্রথম বিবরণ চোখে পড়ে ১০৬ অলিম্পিয়াড বা খ্রীষ্টপূর্ব ৩১৪ সালে আলেকজাগারের ভারত আক্রমণের সময় কাথি জাতির মধ্যে সহমরণের প্রচলন ছিল। ডিওডোরাম লিখেছেন--“তারপর আলেকজাগ্ডার কাথি রাজ্যে প্রবেশ করলেন, যেখানে আইনের সাহায্যে বিধবা নারীদের মৃতশ্বামীর জলন্ত চিতায় পুড়িয়ে মারা হত। কোন এক নারীর বিশ্বাসঘাতকতার জন্ত, যে তার স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছিল, এই প্রথার উদ্ভব হয়*। (জে. বুথের ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীতং ২য় খণ্ড, পৃ ২৩৩, মুল গ্রীকভাষায় ১৭তম গ্রন্থ, ১*ম অধ্যায়_যূল গ্রীক থেকে বাংলায় অন্ুবাদ লেখক কৃত )। ১৯তম গ্রন্থে ইউমেনিসের সেনাবাহিনীতে অনুষ্ঠিত একটি সতীদাহের সুন্দর ধারাবাহিক বিবরণী পাওয়া যায়। পার্টেসেনীতে আর্টিগোনাস ইউমেনিসের মধ্যে যুদ্ধে ইউমেনিসের সেনাবাহিনীর একজন বিশিষ্ট সেনাপতি সিটিরামের মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন ভারতীয় সৈন্বাহিনীর প্রধান। : সিটিয়াসের মৃত্যুতে তার

সতীদাহ ১৭

হই স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া বেধে যায় কে স্বামীর চিতাসঙ্গিণী হবেন। দু'জনেই আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য আগ্রহান্থিত। এই ঝগড়া মীমাংসার জন্র উচ্চতর সেনাপতিকে সালিশী মান! হয়। ছোট বৌ-এর বক্তব্য ছিল যেহেতু বড় বৌ- এর শিশু সন্তান আছে স্ৃতরাৎ নিয়মানুষায়ী বড় বৌ সতী হতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত এই কারণেই কনিষ্ঠার জয় হয়-তিনিই আম্মবিসর্জন দেবার অন্থমতি পান। চীৎকার করে কেঁদে ওঠেন বড় বৌ-_দু'হাতে নিজেরই চুল ছি'ড়তে থাকেন, যেন এক ভীষণ দুঃসংবাদ তাঁকে দেওয়া হয়েছে অন্যদিন ছোট বৌ তো৷ আহ্লাদে আটখানা। ছুটতে ছুটতে একেবারে চিতার কাছে হাদ্জির। পরিবারের অন্যান্যর! ছোট বৌকে পরিয়ে দিলেন আলখাল্লার মত এক বহু মূলা বহিরাবরণ। সর্বাঙ্গে দামী দামী অলঙ্কারের সাজ-__যেন বিবে করতে চলেছেন আম্মীয়ারা ছোট বৌ-এর প্রশংসস্চক গান গাইতে গাইতে চিতার দিকে এগিয়ে চললেন চিতার কাছে পৌছে ছোট বে খুলে কেললেন আলখাল্লা, বিলিযে দিলেন উপস্থিত আত্মীয়ন্বজন চাকর-বাকরদের মধ্যে যেন তারা এই পোশাকের অংশ তার স্ৃতিচিহ্ন হিসেবে সযত্বে রেখে দেন। ছোট বৌ-এর মাথা থেকে ফুলঝুবির যত ঝুলছে সোনার ছোট ছোট তারা, মধ্যে মধ্যে ঝকমক করছে বি“্ভন্ন ধরনের দুর্লও মণিমুক্তো৷ | গলাব শোভা পাচ্ছে বু ছোটবড় বত্বখচিত কহার। আম্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চিরবিদায় নেবার পর ছোট বৌ-এর ভাই তীক্ে চিতায় শুইয়ে দিয়ে এলেন। সৈন্যদল অস্ত্বশস্সহ সশ্রদ্ধভাবে তিনবার চিত প্রদক্ষিণ করল প্রচ্জলিত হল সিটিয়াসের চিতা পুড়ে মরলেন তার ছোট কৌ।

আলেকজাগ্ডারের ভারত আক্রমণের সময় এদেশে যে সতীদাহের প্রচলন ছিল অভিযানের সঙ্গী আযরিস্টোবিউলাসের সাক্ষ্যেও তার প্রমাণ মেলে। ্ট্যাবো লিখছেন--“তিনি ( আয।রিস্টোবিউলাস ) কয়েকট অদ্ভুত সামাজিক প্রথার উল্লেখ করেছিলেন ( তক্ষশিল। সম্পর্কে )। যেমন যেসব পিতামাতা দারিদ্র্যের জন্যে কন্যার বিবাহ দিতে পারতেন না, তারা যুবতী মেয়েদের প্রকাশ্ট বাজারে বিক্রির জন্য হাজির করতেন। শী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে লোক জড়ো করা হত। ইচ্ছুক ক্রেতা প্রথমে মেয়েটির দেহ পেছন দ্দিক থেকে কাধ পর্যন্ত আবরণহীন করে পর্যবেক্ষণ করতেন, তারপর উন্মুক্ত কর হুত সামনের দিকের কিছুটা অংশ পছন্দ হলে, দ্র-দামে পোষালে মেয়েটিকে

কিনে ফেলতেন তিনি ।.""এদেশে বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। কয়েকজনের

১৮ সতীদাহ

মুখে তিনি শুনেছেন যে মৃত ম্বামীর চিতায় পত্ীগণ জবলন্ত“দগ্ধ হতেন এবং তা হাসিমুখে যে সবনারী আত্মাহুতি দিতে অস্বীকার করতেন, তাদের হেনস্তার-অন্ত ছিল না। নানা উপায়ে তাদের অপমানিত কর! হত' (১৫তম গ্রন্থ, ১ম অধ্যায়, ৬২তম শাখা, ইংরেজী অনুবাদ ম্যাকক্রিগুল সাহেব_বাংলা অনুবাদ লেখকরুত )। সিসিরো"র বিখ্যাত "টাসকিউলিয়ান ডিসপিউটেশনে" ্ুটার্কের “নীতিমালা” গ্রন্থে ভারতীয় সতীদাহের উল্লেখ রয়েছে আজ থেকে প্রায় ছু'হাজার বছর আগে বিখ্যাত গ্রীক কবি প্রোপাসিয়াসের চোখে ভারতীয় সতীনারী সতত। বিশ্বস্ততার প্রতীকরূপে প্রতিভাত হয়েছিলেন। ইংরেজ কবি বয়েশেস অনুদিত কবিতাটি-_

[7905 6152 19৬45 01880 11 00093 2 01110795 906811

৬৬12০ 006 011516 1001101105 :০900015 911 01)6 10091)

11616) »/12150,6] 0102 108005% 1)0908150 0163

410 02 006 0186721 ০0001) ০6060 1163,

[715 91615001 1৬০5 81:00180 60০ 502106 89621,

৬৬10) 00100005 01259 210 ৪. 61:10101918210 21] :

ঢা01 02100651010 1 02900) 20010101005 36152

এবার বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদির রচনাকাল সম্বন্ধে দু-এক কথা বলা যাক। টৈদ্িকযুগের শুরু শেষ সম্বন্ধে নানা মুশির নানা মত নিদিষ্ট ভাবে কালনি্ণয় করতে কেউই সক্ষম হননি। পণ্ডিতদের নিণীতকালের মধ্যে হাজার হাজার বছরের কারাক, বেদসংহিতার প্রাগৈতিহাসিক প্রাচ!নতা সম্পর্কে অবশ্ঠ কেউই প্রশ্ন তোলেন নি। কয়েকজন বেদজ্ঞ ব্যক্তির অভিমত উদ্ধৃত করলে অনেকেই বিচলিত হবেন সন্দেহ নেই। জার্মন মনীষী ম্যাক্সমূলার সাহেব মনে করেন যীশুধীষ্টের জন্মের প্রায় ১২* বছর আগে সংহিত। রচিত হয়েছিল। অপর জার্ধান পণ্ডিত জ্যাকবি বলেছেন বেদ খ্রীষ্পূর্ব ৬*** সালের রচনা ভারতীয় বেদজ্ঞ আর. জি. ভাগারকারের মতে বেদের রচনাকাল আনুমানিক ২৫০০ খ্রষটপর্বাব্দ। বিশিষ্ট পণ্ডিত অধ্যাপক উইন্টারনিটজ মত দিয়েছেন, খ্রষ্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ২*০* সালের মধ্যে বৈদিকযুগের শুরু এবং শেষ খ্রীঃ পৃঃ ৭৫* থেকে ৫** সালের মধ্যে। সবাইকে ভিডিয়ে গেছেন আমাদের তিলক মহারাজ লোকমান্ত তিলক বলেছেন শ্রীষ্ইজন্মের ৬*** বছর আগে বেদ রচিত হয়। প্রত্যেকেই বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বেদের

সতীদাহ ১৯

কালবিচার করেছেন এবং সর্বাগ্রে অপরের মত অগ্রাহ করেছেন উপহাসের পাত্র কিন্ত কেউই নন্‌। যাই হোক আলোচনায় উইনটারনিটজের মতকেই গ্রহণ কর] হয়েছে রামায়ণ মহাভারতের কাল সম্বন্ধে উইনটারনিটজের মত পর্যালোচনা! করলে যে সিদ্ধান্তে পৌছানো যায়, তা' হল মহাভারতের “নিউক্লিয়াস রামায়ণের নিউক্লিয়াসের" পূর্বে বচিত। কিন্ত মহাভারতের বর্তমান রূপধারণের বহু আগেই সমগ্র রামায়ণ : প্রথম সপ্ধম কাণ্ড সহ, যা পরবর্তী কালের স'যোজন ) ভারতীয় জনমানসে পরিচিতি লাভ করেছিল। ্রী্টপূর্ব চতুর্থ শতান্দীর পূর্বে মহাভারত মহাকাব্যের কাঠামে। পায় নি এবং সেই কাঠামোয় বর্তমান রঙের পৌচ পড়ে গ্রীষ্টপরবর্তী চতুর্থ শতকের মধ্যে মূল রামায়ণ আনুমানিক শ্রীঃ পৃঃ তৃতীর শতাব্দীতে রচিত হয়, আধুনিক র|মায়ণ খীঃ পরবর্তা ২য় শতকেই সম্পূর্ণ হয়েছিল (ইত্ডিয়ান ল্টারেচর, প্রথম খণ্ড, প্রথম অংশ দ্বিতীয অংশ )।

' সতীদাহ সন্বপ্ধে আপাততঃ যা আলোচনা কর হয়েছে তার সংক্ষিপ্তসার হল £ (১) খ্রীঃ পৃঃ ৫০ অব্দের পর ভারতবর্ষের সমাজজীবনে সতীদাহ প্রথার মৃহু অস্তিত্ব অন্থভৃত হয়। (২) আলেকজাগারের ভারত আক্রমণের সময় ( খ্রীঃ পৃঃ ৩১৪ সালে) ভারতবর্ষের নামখাত্র ২১টি দেশীয় রাজ্যে সতীদাহ প্রচলিত ছিল। (৩) রামায়ণ-মহাভারতের কালে সতীদাহপ্রথা বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করেছিল।

সতীদাহ প্রথা কি ভারতবর্ষের নিজন্ব ? না, বিদেশ থেকে আমদানী করা ? কোন কোন এঁতিহামিক মনে করেন মধ্য এশিয়া থেকে ভারতবর্ষে এই প্রথার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল আলেকজাগারের ভারত অভিযানের সময় তক্ষশিলায় সতীঘদাাহের প্রচলন দেখে বিশিষ্ট ইতিহাসবেত্ত! ভিনসেপ্ট শ্মিথ মনে করেছেন, সতীদাহ বোধহয় একটি “সিথিয়ান” প্রথা (অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইগ্ডয়া)। তার এই অন্মানের কারণ তক্ষশিলাবাসীদের মধ্যে সিথিয়! গোষ্ঠীর মানুষও ছিলেন এবং সেই গোষ্ঠী সহম্রণ প্রথা পালন করতে।। ইংরেজী ভাষায় সতীদাহ বিষয়ে একমাত্র গ্রন্থ-প্রণেতা এডওয়ার্ড টমসন্‌ কিন্ত সিথিয়। জাতির অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার পরিবর্তে থে জাতির মৃতসৎকারের সঙ্গে ভারতীয় সতীদাহের অধিক সাদৃশ্ত খুঁজে পেয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসের জনক' গ্রীক এঁতিহামিক হিরোভোটাস (জন্ম ঘর; পূর্ব ৪৮* থেকে ৪৯* সালের মধ্যে) তীর গ্রন্থ লিখেছেন-_'থে জাত্তির পুক্রষর! বহুবিবাহে অভ্যন্ত ছিলেন এবং কোন

২5 সতীদাহ

ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার স্ত্রীদের মধ্যে প্রবল বাক-বিতগ্ড শুরু হয়ে যেত কা'কে ্বামী সবচেয়ে বেশী ভালোবাসতেন, কারণ তিনিই স্বামীর সঙ্গে কবরে যাবার সম্মান পাবেন। যেক্ত্রী এই সম্মানের অধিলারিণী হতেন, তাকে তার নিকটতম আত্মীয় কবরের উপর হত্যা করতেন এবং পরে শ্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে তাকে সমাহিত করা হ'ত (ইংরেজী অনুবাদ জে. রাউলিনসন্‌, ৫ম খণ্ড টমসন উদ্ধীত হিরোডোটাসের বক্তব্যে ভারতীয় সতীদাছের সাদৃশ্ঠ দেখ! যায় একমাত্র সতীনদের পারম্পরিক ঝগড়ার মধ্যে সিথিয়ান সহমরণের সঙ্গে ভারতীয় সতীদাহের প্রভেদ আরও বেশী। সিঘিয়ান জাতিতৃক্ত কেউ মার! গেলে, বিভিন্ন পচনরোধী পদার্থ দ্বারা মৃতদেহ অন্থলেপনের পর, সেটি পশুচালিত গাড়ির ওপর স্থাপন করা হত। শোকাভিভূত আত্মীয়স্বজন ক্রন্দনরত অবস্থায় ছু'হাতে চুল ছি ড়তে ছি ড়তে ছিন্নভিন্ন পোশাকে সেই গাড়ির পিছু নিতেন। মৃতদেহ সমেত গাড়িটি চল্লিশ দিন ধরে মৃত ব্যক্তির জমিদারীতে ঘোরানো হত। জমিজমা না থাকলে মৃতদেহাটি আত্মীয়-কুটুশ্বের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত। ৪০তম দিনে অনুমরণকারীরা গোরস্থানে মৃতদেহ নিয়ে হাজির হতেন সেখানে মৃতের একজন স্ত্রী, প্রধান ভূত্যগণ কয়েকটি মজবুত ঘোড়াকে হত্যা করার পর মুতব্যক্তিকে প্রধান কবরে শায়িত করা হত, উৎসর্গারৃত দেহগুলি সমাহিত করা হত পাশের কবরে বার! শ্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করতেন, মৃত্যুর পূর্বে তারা৷ সকলেই স্বন্দরতম পোশাক অলংকারে সজ্জিত হতেন। ইহলোকের অতি 'প্রয় জিনিসগুলি কবরে নিয়ে যেতে ভুলতেন না। এডওয়ার্ড টমনের গ্রন্থে সিথিয়ান জাতির সহমরণের বর্ণনা পড়ার স্থযোগ নেই। টমসন যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন তা” হল নরবলি অন্ান্ত আদিম নৃশংস প্রথার মত সতীদাহও সম্পূর্ণ এদেশীয় আর্যগণ যখন ভারতবর্ষে এসেছিলেন তখন তারা ম্ধ্যভারতের অসভ্য গোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রথার প্রচলন লক্ষ্য করেছিলেন এই গোষ্ঠীর কা থেকেই আর্ধর! পরে মা-কালীর পৃজাচার অন্তান্ত ক্ষতিকর কুসংস্কার গ্রহণ করেছিলেন এবং এই সব প্রথায় অভ্যস্ত মান্ুষদেরও হিন্দৃধর্ে ৬বেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল পরবর্তাকালে মধ্য এশিয়া থেকে একাধিক আক্রমণের ফলন্বরূপ হয়তো! সতীদাহ পুনরায় চালু হয়। রাজপুতগণ ধারা ভয়াবহুভাবে “জহরব্রত' পালন করতেন, তার। অন্যান্তদের চেয়ে বেশী দেরিতে 'অনিচ্ছাকৃতভাবে এই প্রথার উচ্ছেদ মেনে নেয়। তীর ক্রীতদাসদেরও জলন্ত দগ্ধ করতেন। এই ঘটনা গ্রতিপন্জ করে, আর্ধদের বহু পরে বর্বরতর কোন

সতীদাহ ২১

জাতির কাছ থেকে এই প্রথার আমদানী হয়েছিল। চার্সস এলিয়ট . “হিন্ছুইজম্‌ আযাও বুডইজম্‌ গ্রন্থে যা লিখেছিলেন টমসনের অভিমত তারই প্রতিধ্বনি মান ডাঃ 12 006 ড5010 28০ 012 00560101990 022 015601001)060 89 10981021005. 9306 ০০ 2: 01১০ 0০1100 0009০ ড৮1)0 010 1806 00110” 0১০ ৬০৫1০ ০0056010) 1085 19৮০1011160 10055 10) 0061 10050281705 7 2100 12661 0106 11৬ 90015 6010 €(0217081 4৯518. 0:01620]15 £6160:০90. 0106 85862. (৮০1-2১ 0 168 ).

অর্থাৎ টমসন এলিয়ট ভিনস্ণ্ে স্মিথের সিথিয়া তত্বকেই গ্রহণ করেছেন তবে ভিন্ন দরজ। দিয়ে

“সিথিয়া” শবটির সঙ্গে অধিকাংশ পাঠকেরই হয়তো! পরিচয় নেই কিন্তু শকজাতি বললে একডাকে তারা চিনবেন- “এই ভারতের মহামানবের সাগর তীরে-"শক হৃণদল পাঠান মোগল একদেহে হল লীন" পাশ্চাত্যে ষে গোষ্ঠী “সিথিয়া' নামে অভিহিত, ভারতবর্ষে তাদের বলা হয় “শক'। কারও মতে «শক' বললে সমগ্র সিথিয়া জাতিকেই বোঝায়, কেউ বলেন সিথিয়া জাতির একটি অংশমাত্র “শক' নামে পরিচিত ছিল। শকজ।তি ছিল অনেকটা যাষাবর গোষ্ঠীর মত। তাদের নিদিষ্ট কোন বাসস্থান বোধহয় ছিল না এখানে-ওখানে তারা ঘুরে বেড়াত তাই শকজাতির ইতিহাস একটি অত্যন্ত বিতক্কিত বিষয় শকজাতির আদি বাসস্থান কোথায়, কোথায় তার! «াজত্ব ফেঁদেছিল, কোন্‌ সময় ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছিল- প্রত্যেকটি প্রশ্নেই পণ্ডিতদের মধ্যে প্রচুর মতপার্থক্য রয়েছে শকজাতির ভারতবর্ষে আগমন অবস্থান সম্পর্কে আমাদের দেশে একমাত্র প্রামাণ্য গ্রন্থখানি লিখেছেন শ্রদ্ধেয় শ্রীহধাকর চট্টোপাধ্যায় ১৯১৯ সালে বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত বইটিতে স্থধাকরবাবু প্রচুর শ্রম আন্তরিক নিষ্ঠায় বিস্তৃত মতবিরোধের বিচার করে শকজাতির ভারত আগমন সম্বন্ধে বন্দর যুক্তিসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন 15৩ 99155, 20 [00--112121213 00016 ০: 0056 9০5 010121 6০0০1, 11560 01151159115 10 0102 ড211255 ০: 006 (005 8170. 0১০ 0939816655) 2%6621001796 85 2:85 09০ 1115050108016 0806 01 79810511, 161০ 1081) 085 60 05100 10810 10017800160: 1815 0216 250156106, 706 0০:০2 1165 10 012০ 50000 00 05:0116

0806 06 [15018 আ106:০ 006 16209 2. 00001) 29516 112 2100 15 আও

২২ সতীদাহ

00০৮ 08001810086 16 60: 50105 68501) 0: 00১6৫ 01১০ 99198 ০010 1292 01611 09006119170 2170. 9621: 10 52210 0: ৪. 16 15000, 01365 খম010 2 ৪6৮:8০66৫ €০৬৪:৫5 [0170158. এই সম্ভাবনাই সত্য হয়েছিল। বহিরাক্রমণে শকজাতি মাতৃভূমি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। চীন দেশের ইতিহাসে আছে মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে হান রাজ্যের সীমান্তের সংযোগস্থলে যুয়ে-চি (1) নামে এক মানবগোষ্ঠী বাম করত। ঘ্ীঃ পূর্ব ১৭৬ ১৬১ অবেের মধ্যে কোন এক সময় হান সম্রাট চি-মু প্রচণ্ড যুদ্ধে তাদের পরাজিত করেন। যুয়ে-চি গোষ্ঠীর রাজাও নিহত হন তখন তারা দিশেহারা! হয়ে পশ্চিমদ্দিকে পালিয়ে যায় এবং এই পলায়মান গোষ্ঠী শকস্থানে শকজাতির ওপর "আঘাত হানে। এর ফলে সাই-ওয়াৎ (চীনদেশে শক'র। “সাই' নামে পরিচিত, ওয়াং অর্থে বোধহয় র|জা ) দক্ষিণমুখী অগ্রসর হন এবং কি-পিন নামে এক স্থানে পুনরায় রাজত্ব স্থাপন করেন শক গোঠীর অন্তান্তরা ইতত্ততঃ ছড়িয়ে পড়ে পরবর্তীকালে কয়েকটি জায়গায় বাজত্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয় কি-পিন জায়গাটি কোথায় ? বিভিন্ন চীনা পু খিপত্র অধ্যয়নের পর চভন্নেস্‌ (01:9৮80969 ) অভিমত দিয়েছেন, সাই-ওয়াং যে পথে পালিয়েছিলেন সেই পথপরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় হান-যুগের কি-পিন বর্তমান ভারতবর্ষের কাশ্মীর রাজ্য (পাঞ্াৰের কিছু অংশ সমেত)। স্থতরাং দেখা যাচ্ছে, শকজাতির একটি অংশ ১৭৬ ১৬১ শ্রী: পূর্বাবের মধ্যবর্তী কোন সময়ে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছিল। ভারতবর্ষে বসবাসকারী শকজাতির মুদ্রায় এবং অন্যত্র পার্থেনীয় সংস্কৃতির প্রভাব দেখে স্বধাকরবাবু অনুমান করেছেন মুয়ে-চি'র আক্রমণে শকজাতির অপর যে অংশ পরস্পর- বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তাদের একটি অংশ পূর্ব ইরানের দিকে অগ্রসর হয় এবং উদীয়মান পাথেনীয় সভ্যতার সংস্পর্শে আসে। শেষে পার্থেণীয় সম্রাট দ্বিতীয় মিথিডেটেসের আক্রমণে পরুদন্ত হয়ে বোলান পান বা মূল! পাস দিয়ে তারা ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। স্থধাকরবাবু অন্থমানের স্বপক্ষে তথ্যগত যুক্তিও পেশ করেছেন। হ্থাতরাং শকজাতির ছুটি অংশ পৃথকভাবে ভার তবর্ষে প্রবেশ করেছিল এবং প্রবেশকাল আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ছিতীয় শতাবী। ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্যে বা শাস্ত্রের মধ্যে পাতগ্রলির মহাভাস্তে প্রথম শকজাতির উল্লেখ নজরে আসে। এই ভাস্ত ১৫০ শ্রী: পূর্বান্ধে রচিত হয়েছিল শকেরা যে তখন ভারতবর্ষে নবাগত বুঝতে অস্থবিধা হয় না। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য»

সতীদাহ ২৩

কর্নেল টড রাজস্থানের ইতিহাসে লিখেছেন শকজাতি শ্রী: পৃঃ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। উক্তি মনগড়া, ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কহীন।

উইলসন-রাধাকান্ত শাস্ত্রীয় বিতর্ক আলোচনায় দেখেছি আশ্বলায়ন ভরদ্বাজের গৃহ্স্থত্রে সতীদাহের উল্লেখ রয়েছে শকজাতি তখনও ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশ করে ণি। তাই সতীদাহ যে সপ্পূর্ণ এদেশীয় সন্দেহ নেই। সাহিত্য সমাজের দর্পণ। শক জাতির ভারত প্রবেশ রাজত্ব স্থাপনের সময় রামায়ণ- মহাভারত ধারে ধারে পল্লবিত হয়ে বর্তমান রূপ নিচ্ছে। শকভাতির প্রভাবে ভারতীয় হিন্দুমমাজ যে ক্রমে সতীদাহ প্রথায় আস্থাবান হয়ে উঠঠে তারই নিদর্শন রয়েছে রমায়ণ-মহাভারতে অনুষ্ঠিত করেকটি সতাঁদাহ ঘটনায় সুতরাং সতীদাহ প্রথা ভারতীয় হলেও শক জাতির প্রভাবেই এই এথা ভারতবর্ষে প্রচলিত হয়েছে-_এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসঙ্গত নয়।

শাস্ত্রীয় বিতর্কের জট ছাড়িয়ে, পৃথিবার ইতিহাস উল্টে-পাল্টে ভারতবর্ষে সতীদাহ প্রথ|র উৎপত্তি সম্পর্কে আপাততঃ যে সিন্ধান্তে উপনীত হওঘা গেল, সাম্প্রতিক এক প্রত্বতাত্বিক খননকাধের ফল বিশ্লেষণের পরে সে বিষয়ে সন্দেহ জাগে। বেদশাস্ত্রে €বদিকযুগে সতীদাহ প্রচলনের উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া ন। গেলেও বেদ পূর্ববতীধুগে সিন্ধু-সভ্যতার কালে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে যে সহমরণ (সতীদাহ নয়) চালু ছিল পূর্বোক্ত প্রত্বতাত্বিক আবিষ্কার তা নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে। ১৯৪৭ সালে ভারতবিভাগের ফলে মহেঞ্জোদড়ে। হ্রগ্লা পাকিস্তানের অন্তভূক্ত হওয়ায় আধুনিক ভারতবর্ষের মাটির নীচে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়ার জন্য ভারতীয় প্রত্বতাত্বিক বিভাগে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। এস. আর. রাও, এর নেতৃত্বে ১৯৫৩ সালে কাথিয়াড় (80718: ) উপদ্বীপের দক্ষিণে রঙ্গপুরে এরকম একটি প্রত্বতা ত্বিক অনুসন্ধান কার্য চালানো হয়। আবিষ্কৃত হয় স্থদূর দক্ষিণে কাখিয়াড়েও সিন্ধু সভ্যত। বিস্তার লাভ করেছিল। এই আবিষ্কারে উৎসাহিত হয়ে রাও সাহেব ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত কাখিয়াড়ের চারিদিকে গুজরাট সহ বিস্তৃত অঞ্চলে খননকার্ধ পরিচালনা কবেন। ১৯৫৪ সাঞ্জের নভেম্বর মাসে সবরমতী নদীর মোহনায় একটি প্রাচীন ভন্তুপ আবিষ্কৃত হয়। এটি বর্তমানে 'জোথাল' ([,00১81) নামে পরিচিত। এরপরে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছরের অনুসন্ধানে জানা যায়, লোথাল ছিল সিন্ধু আমলের সমৃদ্ধিশ[লী বন্দর-নগরী লোথালের অবস্থিতি আমেদাবাদ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ৮* কিলোমিটার দুরে?

২৪ সতীদাহ

সেখানে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে পাক সড়কের ব্যবস্থা আছে। লোথাল সম্বন্ধে এখনও গবেষণার অন্ত নেই। প্রায় প্রতি বছরই প্রাচীন লোখালের ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট, পয়:প্রণালী ইত্যাদি নগর-সভ্যতার নিদর্শন পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। কয়েকটি সমাবিক্ষেত্রও উদ্ধার কর। সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, সে যুগে মৃতদেহ দাহ করবার প্রথাই ছিল সার্বজনীন, তাহলে সমাধির অস্তিত্ব পাওয়া গেল কি ভাবে? খননকার্ষে আবিফ্ৃত হয়েছে, প্রাচীন লোথালবাসীরা অপেক্ষাকৃত অন্পবয়স্কদের