হকি শ্পর্

কৃ ৩অশ্ন্ স্গাকাচস্সশ এন সুতি, কিিক্কান্চ 5 হু

প্রথম প্রকাশ, €চন্র ১৩৭১

_-সাত টাকা_

প্রচ্ছদপট : অস্কন--শ্রীগ্ঠামল চক্রবর্তী মুদ্রণ রিপ্রোডাক্শন সিণ্িকেট

মিত্র ঘোষ, গ্ঠামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাত) ১২ হুইতে এস. এন. রায় কর্তৃক প্রকাশিত ক্যাশ প্রেস, ৩৩।বি মদন মিআ লেন, কলিকাতা! হুইতে প্রগ্রভাতকুমার চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক মূ" /

উৎসর্গ

লৌহকপাটের অন্তরালে যারা শেষ নিঃশ্বাস রেখে গেল, সেইসব বিস্বত মানুষের উদ্দেশে

লেখকের অন্যান্য রচনা -__

€লৌহকপাঁট ১ম পব অনুবাদ- হিন্দী, মালয়ালাম, গুজ বাটা, মারাঠী €লৌহকপাট ২ক্স পর্ব অনুবাদ- হিন্দী, গুজরাটী

তোৌহকপাট ৩ক্স পর্ব

অনুবাদ -গুজবাটা লোৌহকপাট ৪র্থ পবৰ তামসী

অন্সবাদ-__হিন্নী, মালক্স।লাম হ্াসদ পাড়ি

অনুবাদ- হিন্দী আবরণ আঁশ্রক্স মসীরেখা! একুশ বছর ছাম্াততীর ছবি বন্তা মলিক। সপ্তবহ্ি এবাড়ী ওবাড়ী (নাটক ) পসারিনী

কিশোর সাহিতা ্ংচং গল্প লেখা হল না!

জব্যসক্গষের ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল জরাসন্ষের ছোটদের প্প্রিকস গল্প

€লাৌীহকখপা্ট

০২৮ স্শর্ব

এক্‌ সাধারণ ভাবে দেখতে গেলে, লেখক পাঠকেব মধ্যে যে সম্পর্ক, সেট। দাতা গ্রহীতার সম্পর্ক প্রথম জন দেয়, দ্বিতীয় জন নেয়। একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, সম্পর্কট! পারস্পরিক, যাঁকে বলে মিউচুয়াল। পাঠকও দেও, অনেক সময় অকাতরে, এবং লেখক সে প্রান অন্ঞাতসারে গ্রহণ করে।

নিতান্ত দৈবক্রমে সহসা যেদিন লেখকের ভূমিকায় নেমে পড়েছিলাম, তারপর থেকে বুঝেছি, অদৃশ্য হাত থেকে পাওয়া সেই অজানা! দানের দাম অনেক।

জানি, সকলে এ-মত মানতে চাইবেন না; বলবেন, লেখক যেখানে অষ্টা, তার স্থষ্টিই তে। তার মন ভরে দেয়। পাঠকের কাছ থেকে কি এল আব ন। এল, সে বিষয়ে সে উদাসীন

কথাট। আংশিক সত্য | 1নজেব স্থষ্টির মধ্যে এক ধরনের আনন্দ আছে। কিন্ত তাব গভীবতা থাকলেও স্থায়িত্ব বড় কম। খোঁল। পাত্রে রাখা কর্পুরের মত ছুদিনেই উবে যায়, যদি তার উপরে একটি আচ্ছাদন না থাকে সেই আচ্ছাদন হলে পাঠকের স্বীকৃতি

যে-আনন্দ শুধু আমার, যেখানে আপনার অংশ নেই, তার মধ্যে তৃপ্তি কোথায়? একা আমি য! পেলাম সেটা নিছক ভোগ, অন্তের সঙ্গে ভাগ করে যা পেলাম, সেট৷ উপভোগ

অনেক সময় দেখা গেছে, আমার কাছে আমার স্ঙটির কোন মূল্য নেই, কিন্ত আপনার কাছে আছে। আমি কিছুই পেলাম না, আপনি তাকে গ্রহণ করলেন সেখানে সেই গ্রহণই আমার পরম পাওয়া।

বিখ্যাত স্কটিশ লেখক এ. জে. ক্রোনিন যখন তার প্রথম উপন্তাস হ্যাটার্স্‌ ক্যাস্ল' লিখতে শুরু করেন, তখন তার বয়স তেত্রিশ। ডাক্তার মানুষ; লেখার নেশা কোনকালে ছিল না। সাহিত্যিক

£ লৌহকপাট

হবার ছরাঁশ। কোনদিন পোষণ করেন নি। দীর্ঘ রোগভোগের পর স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্যে হাইল্যাগ্ডসে ঘ্ুবছিলেন। হাতের কাছে আর কিছু না পেয়ে অগত্যা একদিন কালি-কলমের শরণ নিলেন। একখান। উপন্যাস একটু একটু করে এগুতে লাগলেন মাঝামাঝি পৌছে মনে হলো, কিছুই হয় নি, আগাগোড়। সবটাই পগুশ্রম। পাণ্লিপিখানা ছুড়ে ফেলে দিলেন ভাস্ট বিনএ। বাইরে তখন বৃষ্টি পড়ছে। তার মধ্যেই বেরিয়ে পড়লেন এক চাষী প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা। ডাক্তারকে সে ভালবাসত। অস্মুস্থ শরীরে জলে ভিজছেন দেখে অনুযোগ দিতে লাগল ক্রোনিন হয়তো বলতে চান নি; কিন্তু কথায় কথায় ভারাক্রান্ত মনের ব্যর্থতার ক্ষোভ আপন। থেকেই বেরিয়ে এল উপন্যাসের কাহিনীর একটা মোটামুটি খসড়াও জানিয়ে দিলেন সেই সঙ্গে

চাষীর সাহিত্যঙ্ঞান সামান্য কিন্তু অত দিন ধরে যত্ব করে গড়ে তোল। একটা জিনিস নিজের হাঁতে নষ্ট করার মধ্যে ষে বেদন। আছে, জেট! তার মনে লাগল হয়তে৷ সান্তবনাচ্ছলেই বলেছিল, বেশ তে হচ্ছিল লেখাটা ফেলে দ্বিলেন কেন ?

বেশ হচ্ছিল! একজন অজ্ঞ কৃষকের এই সামান্য স্বীকৃতি যেন এক আশ্চধ বল নিয়ে এল ক্রোনিনের প্রাণে তখনই বাড়ি ফিরে এলেন, ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করলেন জলে-ভেজ। কাগজগুলো, উন্ুনের ধারে শুকিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু করলেন লেখা বই যখন বেরোন, রাতারাতি বেস্ট -সেলার |

অকন্মাৎ জীবনের মোড় ফিরে গেল। স্টেথস্কোপ, ছেড়ে বরাবরের জন্যে লেখনী আশ্রয় করলেন এ. জে. ক্রোনিন। সার৷ পৃথিবীর এক বিপুল পাঠকসমাজ তাকে তার ডিস্পেনসারির অজ্ঞাত কোণ থেকে টেনে এনে ধসিয়ে দ্বিল সাহিততার আম-দরবারে

লেখকের ভাগ্যবিবর্তনে পাঠকের দান অপরিসীম

শোনা যায়, এর ঠিক উত্ল্টাটা ঘটেছিল হততাগ্য তরুণ কবি কীটস্-এব জীবনে উত্তবকালে ধার সম্বন্ধে প্রসিদ্ধ সমালোচকের৷

লৌহকপাট

বায় দিয়েছিলেন, বেঁচে থাকলে কবি শেক্সগীয়রকে ছাড়িয়ে যেত, ছাঁবিবশ বছর বয়সে ক্ষয় রোগে হলো তার জীবনাবসান দায়িত্বহীন সমালোচকেব তীক্ষ আঘাত ছাড়া সাধারণ পাঠকের কাছ থেকে কিছুই তিনি ".পয়ে যান নি। যদ্দি পেতেন, আমার মনে হয়, মে জীবন ধবনীকে তিনি অমন 'প্রগাটভাবে ভালবেসেছিলেন তার দ্বার থেকে হয়তে। তাকে মত শীঘ্র বিদায় নিহত হতো। না!

কিন্ত সন দেশেই একদল ব্যর্থ লেখক উন্নাজিক সমালোচক “সাধারণ-পাঠক'কে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে থাকেন। “জনপ্রিয়, শবট। উচ্চারণ কবতে গিয়ে তার মধ্যে বেশ খানিকটা শ্রেষ ন৷ মিশিয়ে ছাড়েন না। তাঁদের মতে যে-বন্ত্ব অনেকে পড়ে তার মধ্যে বস্তু নেই কে জানে, “অনেকের উপর এই অবজ্ঞার অস্তুর।লে কিঞ্চিৎ টক মাক্কুর'এর ক্ষোভ লুকিয়ে আছে কি না!

তারা যাই বলুন, এ-কথ। না৷ মেনে উপায় নেই, বৃহৎ পাঠক- গোষ্ঠীর সাগ্রহ দৃষ্টি যিনি লাভ করেছেন, সে লেখক পরম ভাগ্যবান যিনি শুধু “কীতৃহল জাগাতে পেরেছেন, তিনিও মন্দভাগ্য নন। যিনি তাও পাবেন নি, চারদিক থেকে পেয়েছেন শুধু গদাসীন্য, তার মত ছৃগাগণ আর নেই

মাজ থেকে দশ বছর আগে নিছক খেয়ালের বশে যেছিন “লেখনী-ধারণ করেছিলাম--কথাটা বোধহয় ঠিক হলো না, লেখনীকে চালন। করেছিলাম তার ন্বধর্ম থেকে পরধর্মে, '্রাফউ, নোটিং আর সিগনেচার'-এর বাঁধা পথ থেকে অজান। পথে, “সাহিত্য: নামক অন্ঞাত নিষিদ্ধ রাজ্যের সীমানায় সেদিন আমার মনশ্চক্ষে অনাগত পাঠকের যে-রূপটি ভেসে উঠেছিল, সেট উদ্দাসীনের রূপ, ইংরেজিতে যাঁকে বলে কোল্ড তোষ নয়, রোষও নয়, নিবিকার তাচ্ছিল্য তার বেশি আর কোন পুত্যাশ। আমার ছিল না। কেমন করে থাকবে? লেখক তে। রাতারাতি জন্মায় না। তার পিছনে দীর্ঘদিনের সাধন! চাই, চাই অবিশ্রান্ত অনুশীলন সেখানে একটি

লৌহকপাট

বৃহৎ শুন্য ছাড়! আর কোন মূলধন যাঁর নেই, পাঠক মহারাজের দৃষ্টি প্রসাদ দূরে থাক, দৃষ্টিপাতের সৌভাগ্যই বা আশা করবে সে কোন অধিকারে ?

তাছাড়া, কী তার বিষয়বস্ত! রাজ-রাজড়ার গৌরব-কাহিনী, অভিজাত সমাজ বা মুখী সংসারে মধুর আলেখ্য, কিংব। বিশ্বনাথ কবিরাজ যাঁকে বলেছেন “ধীরোদাত্ত সুমহান” মানব-গোষ্ঠীর কীতিগাথা অথবা আধুনিক মতে “মেহনতী মানুষের জীধনযন্ত্রণা'__ এর কোনটাকে অবলম্বন করে মহৎ সাহিত্য রচনার আকাঙজ্জ। এবং উদ্দেশ্য নিয়ে সে আসে নি। সে স্থযোগ সামর্থ্য তার থাকলে তে।? লোকচক্ষুর মন্তরালে যে মসিলিপ্ত সঙ্কীর্ণ জীবনধার! যুগ যুগ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে, মানবতার প্রাথমিক স্বীকৃতি পর্যস্ত যেখানে গিয়ে পৌঁছয় নি, তারই ভিতর থেকে কয়েকটি খণ্ডচিত্র আহরণ করে, লৌহতোরণের একট! পাল্লা খুলে বাইরের পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছিল। তাঁর মধ্যে না ছিল চোখ-ধাধানে। বর্ণ-সম্ভার, না ছিল তাক-লাগানে। শিল্প-শৈলী। অত্যন্ত সাধারণ স্তরে বল। কতগুলে! অবাঞ্চিত মানুষের কলঙ্কের কথা। সংসারে কার তাতে কী প্রয়োজন? কোন্‌ কল্যাণ সে বয়ে আনবে সৎ সভ্য সমাজের দ্বারে? কে শুনবে সেকাহিনী? এই প্রশ্থটাই মনের মধ্যে মুখর হয়ে উঠেছিল

দীর্ঘ আট বছর পরে কী পেলাম আর ন্তায়ত কী আমার পাওনা ছিল, মনে-মনে তাৰ সালতামামির খসড়। করতে গিয়ে বারবার শুধু একটি কথাই মনে হচ্ছে__সংসারে প্রত্যাশা প্রাপ্তির মধ্যে কী হস্তর ব্যবধান! পাওয়। যে আমার প্রাপ্যকে এমন করে ছাড়িয়ে যাবে, কে ভেবেছিল ? বা পেয়েছি, তার মধ্যে কতট। প্রশস্তি আর কতটা দোষারোপ, সে প্রশ্ন আমার কাছে অবাস্তর। কারা খুশী হয়ে জিন্দাবাদ দিয়ে গেছে, আর কার! রুষ্ট হয়ে নিন্দাবাদ শুনিয়ে গেল, তার হিদাবও অর্থহীন। সাড়। যে মিলেছে, সেইটাই তো সবচেয়ে বড় পুরস্কার। দীর্ঘদিন ধরে আমি য। দেখেছি, তার কথ।

লৌহকপাট

যেমন করেই বলে থাকি না কেন, সে বল। একেবারে ব্যর্থ হয় নি, সাধারণ মানুষের সংবেদনশীল হৃদয়ের কাছে পৌছে দিতে পেরেছি, তার চেয়ে বড় গৌরব আর কী থাকতে পারে? আজ মুক্তকণ্ঠে কৃতজ্ঞ অন্তরে এই কথাটি বলে যেতে চাই

শুধু আমার খণন্বীকারের তাগিদ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছুট। জবাবদিহির দাঁয়। আমার পাঠক-পাঠিক।” নামক কঠোর মনিবের কাছে জবাবদিহি

কথাট। আর একটু খুলে বল৷ প্রয়োজন

যে সব খ্যাতনাম। ব্যক্তি লেখকদের কাছ থেকে ভুরি ভুরি বই উপহার পেয়ে থাকেন এবং প্রত্যুপহারন্বদপ দরাজ তস্তে প্রশংসা-পত্র বিতরণ করেন, আমি তাদের ক্কপা-লাভে বঞ্চিত রয়ে গেছি। স্মতরাং প্রসিদ্ধ মাসিক ব1 সাপ্তাহিকের পাতায় ক্ষুদ্র অক্ষরে মুদ্রিত বৃহৎ-বৃহৎ “অভিমত শোভিত বিজ্ঞাপন আমার ভাগ্যে জোটে নি। আমার যার! পাঠক, তাদের বেশির ভাগই খ্যাতি-প্রতিষ্ঠাহীন সামান্ত মানুষ বই তাদের অর্থমূল্যে সংগ্রহ করতে হয়, কাজেই না পড়ে ছাড়ে ন1। পড়ে, বন্ধুদের পড়ায় এবং ভাল-লাগ! মন্দ-লাগ। ছুটোকেই প্রচণ্ড ভাবে প্রকাশ করে। সাধারণত সে প্রকাশ-স্থল-_ ক্লাব, হস্টেল, কলেজের করিডোর, পাড়ার লাইব্রেরী, রেলের কামর! কিংবা মেস বা পারিবারিক খাবার ঘর। যাদের উৎসাহ কিঞ্চিৎ প্রবল, তার! আর একটু এগিয়ে যায়, অর্থাৎ কালি কলমের আশ্রয় নেয়। না, সাময়িক পত্রে প্রবন্ধ বা পত্রাঘাতের উদ্দেশ্যে নয়। ০সখানে প্রথম বাধা-তারা সম্পাদকের প্রিয়পাত্র বা পরিচিত নয়, দ্বিতীয় এবং দুর্জয় বাধ! রচনাটা যার সম্বন্ধে সে-লোকট কোন কাগজ-গোষ্ঠীর বশ্যতা স্বীকার করে নি, সুতরাং আন্গৃকুল্য বা অন্ুগ্রহও পায় নি। তখন এই সব উৎসাহী পাঠক-পাঠিকার সামনে একমাত্র খোলা পথ-_ তাদের মনের কথাটি সরাসরি লেখকের কাছে তুলে ধরা একখান! চিটি। তার মধ্যে নিন্দা প্রশংস। অনুকূল বা প্রতিকূল আলোচনা ষতটা থাকে, তার বেশি থাকে প্রশ্ন--এট। কেন হলো, ওটা কেন

লৌহকপাট

হলে! না? অমুকের উপর কি আপনি অবিচার করেন নি? তমুক কি' আর ফিরে আসবে না? ওর সঙ্গে তার মিলন ঘটালে কী দোষ হতো? যাই বলুন, নায়িকা চরিত্রের প্রথম দিকটার সঙ্গে শেষ দিকের সঙ্গতি-রক্ষা হয় নি, আপনি কী বলেন? ইত্যাদি

মাঝে মাঝে সেই বিচিত্র প্রশ্নে ভর! চিঠির ঝাঁপি যখন খুলে বসি, ভারী কৌতুক লাগে, তার সঙ্গে বিস্ময় ভেবে চিন্তে, গুছিয়ে, সাজিয়ে বলার যে মুন্সিয়ানা, তা কোথাও নেই কতগুলে। সরল নিরাভবণ আড়ম্বরহীন অন্তরঙ্গ ঘরোয়া উক্তি কিন্তু তার প্রতিটি ছত্রে “য আতন্তরিকত। সহজ রসানুভূতির স্পর্শ জড়িয়ে আছে, তার একট! কণাও কি পাওয়া! যায় নামজাদা সাময়িক পত্রের ভাড়াটে সমালোচকের গাল চিবিয়ে বল! ধোয়াটে কিংব! জটিল মুকবিবয়ানাব মধ্যে ?

পুরনে। চিঠির তাড়ার ভিতর থেকে কত অশ্রুত কণ্ঠ কানে আসছে কোনোটা! কোমল, কোনোটা কঠোর কারো স্তরে অভিভূতের উচ্ছাস, কারে কণ্ঠে বিচারকের তীক্ষতা। কিন্তু এক জায়গায় সকলেই এক সকলেরই কিছু জিজ্ঞাসা আছে

একটি প্রশ্ন দেখছি অনেকের | বারংবার এসেছে, নানা আকাবে এবং নানাজনের কাছ থেকে- জেলখানার লোক হয়ে জেলের দরজ। খুলে ধরলেন কোন্‌ সাহসে? “দরদ 'শ্্রীতি সহান্থৃভূতির দৃষ্টি দিয়ে যাদের দেখেছেন এবং দেখিয়েছেন, তাদের কঠোর শঙ্খলার নিগড়ে বেঁধে রাখাই তো ছিল আপনার সরকারী কর্তব্য ছুয়ের মধ্যে সামঞ্জশ্য রাখলেন ফেমন করে ? “আপনার সহকর্মী, অনুকর্মী এবং উপর মহল--কে কী ভাবে নিলেন আপনার সাহিত্য কর্ম ? “যে সব রূঢ় এবং স্পষ্ট কথ। লিখে গেছেন, তার জন্তে কোন অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল কি?

এই জাতীয় প্রশ্থ ধারা করেছেন, বুঝতে পারি তারা অনেকেই 'আমার জন্যে উদ্বেগ বোধ করেছিলেন কেউ কেউ হয়তো! সরকারী

লৌহকপাট

অফিসের লোক, সুতরাং ভুক্তভোগী এদের কাছে আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে কিঞ্চিৎ বিব্রত বোধ করছি। সকলেই জানেন, সরকারী দপ্তরখানার সব অংশট! প্রকাশ্ঠ নয়। আজ যদিও তার আওতা থেকে দূরে সরে এসেছি, তবু যা গোপন, তাকে লোকচক্ষুর অন্তরালেই রাখতে চাই। তার দ্বারা হয়তো অনেক মুখরোচক তথ্যের স্বাদ থেকে পাঠককে বঞ্চিত করছি। কি করি; নিরুপায়

কারাপ্রাচীবের অন্তরালে ফে অলক্ষ্য জীবনআোত, আমার আগেও তার কিছু-কিছু অন্তরঙ্গ পরিচয় বাংল। সাহিত্যে রূপলাভ করেছে। তার মধ্যে অনবদ্য শিল্পস্থষটির অভাব নেই। ধার। লিখেছেন, তাদের বেশির ভাগই ছিলেন রাজনৈতিক বন্দী কারা- শাসনের সঙ্গে জড়িত আমিই বোধহয় প্রথম, যার মাথায় এই অদ্ভুত খেয়াল চেপেছিল। ছুঃসাহসের কাজ, সন্দেহ নেই এবং ছুঃসাহস মাত্রেরই ফলভোগ করতে হয়, আমাকেও হয়েছে তার অপ্প্রিয় অংশট। যথাসম্ভব বাদ দিয়ে সেইটুকু শুধু বলি, যার মধ্যে জিজ্ঞাসিত প্রসঙ্গের সঙ্গে হয়তো কিঞ্চিৎ কৌতুকরসের সন্ধান পাওয়া যাবে

সকালের “ডাক' এসে পৌছল। একরাশ বাদামী রঙের লম্বা লেফাফা “অন ইণ্ডিয়া গভর্ণমেন্ট, সাভিস'। তার আডাল থেকে উকি দিচ্ছে একখানি হাক্কা সবুজ চৌকো খাম, তার উপরে সুঠাম হস্তাক্ষর রাবীক্দ্িক ধাঁচের জঙ্গে মেয়েলি ঢংয়ের সংমিশ্রণ | মনটা প্রসন্ন হয়ে উঠল পাঠিকার চিঠি। এর আগে কষেকখান। মাত্র পেয়েছি। মোহ তখনে। কাটে নি। খুলতেই যেন ধাক্কা খেয়ে ব্বপ্নের জাল কেটে গেল। নিতান্ত অ-নারী সুলভ রূঢ় ভাষায় লিখেছেন জনৈকা কলেজের ছাত্রী-_“লৌহকপাট পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনি সন্দেহ ছিল, একজন জেল-কর্মচারীর কঙগম থেকে এমন সুন্দর সরস লেখা বেরোয় কি করে? পরে জেমেছি, আপনি একটি পাক তস্কর, আর এক নম্বর জালিয়াৎ। কইয়ের

১০ লৌহকপাট

একবর্ণও আপনার লেখা নয়। একজন রাজনৈতিক বন্দীর ভায়েরি থেকে হুবন্থু টুকে নিয়ে নিজের নামে ছেপে দিয়েছেন আমাদের বাংলার প্রফেসর মিস্--বলেছেন ক্লাসে তার ভাই জেলে চাঁকরি করেন, তার নিজের মুখ থেকে শোনা এ-কথা আপনি অস্বীকার করতে চান ?”

না, চাই না। কারণ, অস্বীকার করে লাভ নেই। একে অধ্যাপিকার উক্তি, তার উপর তার ভাইয়ের সাক্ষ্য, তিনি আবার জেলের লোক - একজন কলেজের ছাত্রীর পক্ষে ডবল বেদবাক্য। আমার প্রতিবাদ সেখানে দাড়াবে কিসের জোরে?

ঠিক এরই প্রতিধ্বনি শোন! গেল আমার এক পরম শুভানুধ্যায়ী প্রাক্তন মনিবের কাছে। পিঠের উপর প্রচণ্ড চপেটাঘাত করে বললেন, সাবাস! যেখানে যাই, শুধু তোমারি নাম, সেই সঙ্গে পয়সাও বেশ আসছে শুনলাম তা ( এবার গল। খাটে। করলেন ভূতপূর্ব মনিব ) ব্যাপারটা কা বল দ্রিকিন? রাতারাতি লেখক হয়ে পড়ালে কেমন করে? এসব মাল পেলে কোথায়?

এখানেও অস্বীকার কর! বৃথা তাই চোখে মুখে রহস্যময় খুশির হাসি ফুটিয়ে তুলে বললাম, পেয়েছি এক জায়গায়

_-“তাই বল”, ভীষণ 'খুশী” হলেন ভদ্রলোক পরক্ষণেই তার সার৷ মুখে ঘনিয়ে এল নৈরাশ্টের কালো ছায়া নিশ্বাস ফেলে বললেন, “কি জানো ? সবই হচ্ছে এই কপাল। তা না হলে আমি তো বলতে গেলে, সারা জীবন স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চেই কাটিয়ে এলাম। রাত জেগে এক গাদা ডেটিন্্যু আর স্টেট-প্রিজ. নারের খাত। সেন্সর করে করে মাথ। ধরাই সার হলো আগাগোড়া সবটাই রাজনীতির কচকচি। অমন মিষ্টি গল্প কি একটাও থাকতে নেই |”

একদিন শুনলাম, “লৌহকপাট'-এর আর একজন গ্রন্থকার আবিষ্কৃত হয়েছেন ডেটিনুযু বা পলিটিক্যাল প্রিজ.নার নয়, আমারই জনৈক প্রীতিভাজন সহকর্মী বন্ধু। এক সময়ে এখানে ওখানে হুচারক্টে গল্প, প্রবন্ধ লিখেছিলেন, ছবি আকেন, চমৎকার বক্ভৃত।

লৌহকপাট ১১

করতে পারেন। তার ফলে ডিপার্টমেণ্টের নীচের মহলে কিছু সংখ্যক ভক্ত লাভ করেছেন। তাদেরই একজন ছুটি নিয়ে গাটের পয়সায় রেল-ভাড়া দিয়ে তার কর্মস্থলে গিয়ে রকম “যুগাস্তকারী গ্রন্থ- বচনা"র জন্যে উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন জানিয়ে এসেছে বন্ধুটি রসিক ব্যক্তি “হা” “না” কিছুই ন। বলে মধুর হাসি দিয়ে ভক্তকে আপ্যায়িত করেছেন। তারপর আমার সঙ্গে যখন দেখা হলো ব্যাপাঁরটার সরস বর্ণন। দিয়ে ফোগ করলেন, “ছদ্ধনামের বিপদটা দেখলেন তো ? কার নৈবেছ্য কে পায় !”

ছল্মনাম নিয়ে একদিন কিন্তু সত্যিই এক “বিপদ” ঘটবার উপক্রম হলো আমার অফিসের এক কর্মীর সঙ্গে বন্ধুর আর এক ভক্তের তুমুল বিরোধ বেধে গেল। পক্ষেব হাঁতে অকাট্য প্রমাণ ছাপাখানা থেকে বাগ্ডিল বাণ্ডিল প্রুফ আসতে দেখেছে তাপ “সাহেবের নামে ও-পক্ষ তা শুনবে কেন? তার “হিরো” যে নিজে মুখে স্বীকার করেছেন, তিনিই গ্রন্থকার ( মৌন যে সম্মতির লক্ষণ, তার এমন নিদারুণ দৃষ্টাস্ত বোধহয় আর কখনো দেখ! যায় নি। ) বচসা যখন হাতাহাতির পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে, আশেপাশের লোকজন এসে ছাড়িয়ে দিল।

আমার চেয়ে কিছু সিনিয়র একজন “দাদা”-স্থানীয় সহকর্মী একদিন লোক মারফত একটি প্রস্তাব পাঠালেন, যাঁকে রীতিমত লোভনীয় বলা চলে বইয়ের দৌলতে আমি যে এরই মধ্যে “লাল, হয়ে গেছি, খবরটা” তখন বিভিন্ন জেলের অফিসপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে “দাদা” নিশ্চয়ই তার দ্বারা উদ্দ্ধ এবং কিঞ্চিৎ প্রলুব্ধ হয়ে থাকবেন। বলে পাঠালেন, আমি যা! জানি এবং লিখেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি চাঞ্চল্যকর মালমশল। তার ভাগারে সঞ্চিত আছে। ইচ্ছা করলেই তিনি যে কোন সময়ে সেগুলে। লিখে ছাপিয়ে ফেলতে পারেন এবং সে জিনিস হাতে পেলে আমার এই সব জ'লো কাহিনীর দিকে কেউ ফিরেও তাঁকাবে না। সেই জন্তেই সে “ইচ্ছা” সংবরণ করছেন অন্ুজ-স্থানীয় বন্ধুর কোন অনিষ্ট হয়

১২ লৌহকপাট

এটা তিনি চান না। মালগুলো তিনি আমাকে দিয়ে দিতে পারেন, অবশ্য কিঞ্চিৎ বাণিজ্যের বিনিমষে টারম্স্‌ আমারই অন্ুকুল__ ফিফ.টি ফিফটি

ভাবছি, সেদিন যদি সেই স্বর্ণ স্বযোগ গ্রহণ করতাম, "দাদার দ্াক্ষিণ্যে আজ আমি কোথায় !

মার একজন বন্ধুও সত্যিকাব বন্ধুর কাজ করেছিলেন। একটা সাধারণ খাম খুলতেই বেরিয়ে পড়ল একখান পাঁচ টাকার নোট, সেই সঙ্গে বিরাট চিঠি। তার সারমম--আমার মত একজন প্রতিভাবান লেখককে লাভ করে সমস্ত কারা-বিভাগ গৌরবান্ধিত, এবং তার সহকর্মী হবার সৌভাগ্যে তিনিও গবিত। ছৃঃখের বিষয়, এখনে। আমার লেখার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ পরিচয় ঘটে নি। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও স্থানীয় কোন দোকানে আমার বই পাওয়া যায় নি। সেই জন্য পাঁচটি টাক পাঠালেন। বাকী প্রাপ্যের বিল সমেত ছুখণ্ড পুস্তক যেন অবিলম্বে তার নামে পার্সেল করা হয়।

আমি টাক! পাঁচটি মণিঅর্ডারে ফেরৎ দিয়ে সবিনয়ে জানালাম, আমার কোন বইয়ের দোকান নেই, সুতরাং টাকা গ্রহণে অক্ষম | বই দুখান! তার কাছে উপহার স্বরূপ পাঠাবার জন্তে কোলকাতায় প্রকাশককে নিদেশি দেওয়া! হলো

পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম, যে শহরে তিনি থাকতেন সেখানকার সবগুলে। বইয়ের দোকানেই বই বিক্রী হচ্ছিল। স্থানীয় পার্ক লাইবেরিও একাধিক কপি সংগ্রহ করেছিল।

পরের খবর বই উপহার পেয়ে বন্ধু যত্ব করে পড়েছিলেন এবং কতকগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গা লাল পেন্সিলে চিহিন্তি করে সোজ। গিয়ে হাজির হয়েছিলেন, এমন এক বৃহৎ ব্যক্তির দরবারে ধার হাতে আমাদের জীবনমরণের কলকাঠি। তাকে পরিষ্কার করে বুঝিয়েছিলেন, জেলখানার উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থেকেও এই দায়িদ্ব- জ্ঞানহীন লেখক যেখানে সেখানে যথেচ্ছভাবে প্রচলিত কারা-ব্যবস্থাঁর তীত্র সমালোচনা করেছে; বন্দীদের জন্যে যে-সব সংস্কারমূলক

লৌহকপাট ১৩

বিধি-বিধান সুযোগ-স্থবিধার প্রবর্তন কর! হয়েছে এবং হচ্ছে, তার উপর বক্র কটাক্ষ করেছে ; বিশ্বস্ত কর্মী এবং সরকার নিধুক্ত সম্মানিত জেল ভিজিটরদের সম্বন্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেছে; এবং চোর ডাকাত গুণ্ডা বদমাশদের উপর সস্তা দরদের ভান করে জেল-ডিসিপ্লিনের কোমর ভেঙে দিয়েছে- ইত্যাদি

কোন ব্যক্তিগত কারণে (সুতরাং অপ্রকাশ্য ) বৃহৎ ব্যক্তিটি মামার উপরে আগেই রুষ্ট হয়ে ছিলেন লালরেখাঙ্কিত লাইনগুলে সেখানে কিঞ্চিৎ ইন্ধনের কাজ করে থাকবে বন্ধু তার কাছ থেকে কী আশ্বাস নিয়ে ফিরেছিলেন, প্রকাশ পায় নি। তবে যে-রকম ব্যস্ততার সঙ্গে ছুটে এসে আমার আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত দিয়ে সবিস্তারে সমবেদন! জানিয়েছিলেন, তার থেকে অনুমান করি, তার দৌত্য একেবারে ব্যর্থ হয় নি।

প্রতিদিন নান। স্তত্র থেকে নানা রকম ভয়াবহ খবর কানে আসতে লাগল বোঝ। গেল, আমার মাথার উপরে উদ্যত খড়গ শাণিত হচ্ছে! কখন কি ভাবে এসে পড়ে তার জন্তে অপেক্ষা করে রইলাম। যখন সত্যি সত্যি এল, তার আকার ওজন দেখে আমার বন্ধু তাঁর দলবল তো! বটেই, আমিও হতাশ হলাম “টার্ম পুরো হবার আগেই আমাকে বড় জেল থেকে মফস্থলের ছোট জেলে বদলি করলেন কর্তৃপক্ষ হয়তো এটাকেই তারা “শাক্তি' বলে ধরে নিয়েছিলেন পদ্দ বা পকেটে হাত না পড়লেও, বৃহৎ দায়িত্ব থেকে ক্ষুদ্র দায়িত্বে অবতরণ। কিন্তু চাকরির দিক থেকে যেট। শাপ', অন্য দিকে আমি তাকে “বর' বলেই গ্রহণ করলাম যে ছৃষ্ষার্ধ ওর! বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, অপেক্ষাকৃত নিঝর্ঝাট পরিবেশে তারই খানিকট৷ বেশি স্থুযোঁগ পাঁওয়! গেল

পরে শুনেছিলাম, তোড়জোড় ষে ভাবে শুরু হয়েছিল, এত সহজে আমার নিষ্কৃতি পাবার কথা নয়। একজন ব্রিটিশ আমলের শ্ীতল- মস্তি ঝানু সিভিলিয়ান ক্রুদ্ধ মালিককে কিঞ্চিৎ বাস্তব জ্ঞান দান করাতে, ব্যাপারট। আর বেশীদূর গড়ায় নি। কোন্‌ আইনের কোন্‌

১৪ লৌহকপাট

ধারায় ফেলে বইটাকে বাজেয়াপ্ত এবং তাঁর লেখককে শায়েস্তা করা যায়, এই নিয়ে যখন গবেষণা চলছে, তখন ভদ্রলোক নাকি বলেছিলেন, “তা হয়তো যায় বেচ!রী আর কী করতে পারে? জলে বাস করে কুমীরের সঙ্গে লড়বে না। তবে আর একট দ্িক ভাববার আছে বইখানা যে রকম পপুলার হয়ে গেছে, ড্রাস্টিক্‌ কিছু করলে প্রেস্‌ আমাদের পেছনে লাগতে পারে ।:

এর পরে বৃহৎ ব্যক্তিটি আর অগ্রসর হন নি। হয়তো প্রেস নামক গোলমেলে জিনিসটাকে ঘটাতে যাওয়া সমীচীন মনে করেন নি, চক্ষুশুল লোকটাকে চোখের উপর থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েই বোধহয় আপাতত মনের ঝাল মিটিয়েছিলেন।

আর একজন কর্তাব্যক্তির সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করেই বর্তমান প্রসঙ্গে ধাড়ি টানতে চাই তিনি যে দরের এবং যে স্তরের লোক, স্বাভাবিক রাস্তায় অর্থাৎ যাকে বলে নরম্যাল কোর্স-এ তাকে আমাদের পাবার কথা নয়। কি করে পেলাম, সেই ক্ষুদ্র ইতিহাসটুকু বল! দরকার

শোন! যায়, তাকে নিয়ে ততট1 ন। হলেও, তার পাণ্ডিত্য নিয়ে মহাকরণের উচ্চমহল বড় বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন। পাণ্ডিত্য অনেকেরই থাকে, কিন্ত সরকারী ফাইলের যেখানে সেখানে ভার উগ্র প্রকাশ মন্ত্রী বিভাগীয় প্রধানদের ভাবিয়ে তুলেছিল

মফম্থলে পাঠিয়েও মহাসমন্তা যেখানে যে পদে যান, ছদ্দিন যেতে না যেতেই নীচের মহলে গণ্ডগোল দেখ! দেয় কোথায় নাকি কোন্‌ একজন কেরানীর গাফিলতি উপলক্ষ করে সমস্ত কেরানী- কুলকে ডেকে এনে উপদেশচ্ছলে এমন সব বাক্য প্রয়োগ করেছিলেন যে শেষ পর্যন্ত তার। দল বেঁধে তেড়ে এসেছিল 'পারিক*-হামল। তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে ধ্াড়িয়েছিল কোন্‌ এক জায়গায় একদল ধর্মঘটী মজুরের জমাঁয়েতে কার্ল মার্কস্‌, কেইন্স্‌ এবং হ্ারল্ড ল্যাস্কীর মতামত উদ্ধত করে এমন জ্ঞানগর্ড, দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যে কুলীগুলে। সেই ভয়েই, শুধু কাজ ছেড়ে নয়, ডের! ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল, এবং মালিকপক্ষ হেন বিদ্বান ব্যক্তির হাত থেকে রক্ষা

লৌহকপাট ১৫

পাবার আবেদন নিয়ে তখনই মোটর নিয়ে ছুটেছিলেন কলকাতায়।

এমনি করে নানা বিভাগে ঘুরবার পর ভদ্রলোক যখন সরকারের কাছে একটি ছুঃসাধ্য “প্রব্লেম” হয়ে উঠলেন তখন কোন সুরসিক উপরওয়ালার হঠাৎ মাথায় এল-_-লোকটাকে “জেলে পাঠিয়ে” দিলে কেমন হয়। যে কথ! সেই কাজ। এক সপ্তাহ না যেতেই তিনি অপ্রত্যাশিত ভাবে জেলের ঘাড়ে এসে চাপলেন।

এই যে ব্যবস্থা হলো, তার মধ্যে সরকারের কৌতুক বোধ যেমন আছে, কূটনীতিও কম নেই। কার! বিভাগ এমন একটি রাজ্য, সেখানে আর যাই হোক “পার্লিক' নামক কোন বস্তর মুখোমুখী হতে হবে না। বক্তৃতার পক্ষেও জেল অতি আদর্শ স্থান। আোতার৷ ঘুমিয়ে পড়তে পারে, কিন্তু পালিয়ে যেতে পারবে না।

মহাঁকরণ কর্তপক্ষ এতদিনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাচলেন।

কিন্ত সরকারী শাস্ত্রে এক্সপিরিয়েন্স বলে একট] বহু-ব্যঝহৃত শব আছে, চাকরির বেলায় বিদ্তা পাপ্ডিত্যের চেয়ে যাঁকে বেশী দাম দেওয়া হয়। আমাদের এই কর্তাব্যক্তিটি অন্য অনেক জায়গায় ঘুরলেও জেলের মুখ দেখেন নি। স্থতরাং নতুন তক্তে বসাবার আগে ভার জন্যে কয়েক-সপ্তাহ ব্যাপী একট। শিক্ষানবিসির ব্যবস্থা করতে হলে উদ্দেশ্ত--সেখানকার কাজকর্ম, রীতিনীতি এবং লোক-লম্কর সম্বন্ধে মোটামুটি জ্ঞানলাভের সুযোগ দেওয়া

ব্যবস্থাট। নতুন নয়। ইংরেজ আমলেও দেখেছি তার আকার যেমন ব্যাপক, প্রকারও ছিল তেমনি সুু। জাদরেল জাদরেল সব মেজর, কর্নেল জেলের হাল ধরবার আগে সোজা গিয়ে ঢুকতেন সামান্য একজন ডেপুটি জেলরের ক্ষুত্র সেরেস্তায়। তার পাশে টুল পেতে বসে প্রথম পাঠ নিতেন তার আসিস্ট্যাপ্টের কাছে।

এই স্ত্রে আমাদের ত্বনামধন্য খালেকদার কথ। মনে পড়ল কিঞ্চিৎ মোড়ফের হলেও বলে ফেল। যাক।

প্রথম জীবনে অনেকের মত আমিও একদিন তার সাকরেছি করেছি। কিছু জানতে চাইলেই তিনি গম্ভীর ভাবে একটি প্রসিদ্ধ

১৬ লৌহকপাট

এঁতিহাসিক উক্তির পুনরাবৃত্তি করতেন- রিড, আযাণ্ড ইউ উইল নে বলে, পনেরো কুড়ি বছর আগেকার বিশাল বিশাল সাকুলার ফাইল পড়তে দিতেন। মই চডে ছাদ-সংলগ্ন র্যাকের উপর থেকে আধ ইঞ্চি পুরু ধূলোর স্তর ভেদ করে আমাদেরই সেগুলে। পেড়ে আনতে হতে।| এই জাতীয় কাজের জন্যে ছু'তিন জন কয়েদী মোতায়েন ছিল। দাদা তাদের সাহায্য নিতে দিতেন না। বলতেন, এটাও ট্রেনিং-এর অঙ্গ মই এবং ধূলোর ভয় করলে কাজ শেখা যায় না?

একবার একজন সগ্য-লড়াই-ফের আই. এম. এস. মেজরকে (যিনি ছুর্দিন পরে ওঁর “বস্ঃ হয়ে বসবেন ) খালেকদা একই আদেশ দিয়ে বসলেন। ভদ্রলোক পাঞ্জাবী, ছ'ফুটের উপর লম্বা! ; প্রস্থটাও সেই অনুপাতে উঠে গিয়ে চের! বাঁশের তৈরি নডবডে মইটাকে ধরে বাঁকানি দিতেই তার গোট। কয়েক ধাপ খুলে গেল। মুছ হেসে দাদার দিকে চেয়ে বললেন, এখুনি যে খুনের দায়ে পড়তে, বাবু।

একটা বোগ। মতন ছোকরা কয়েদী ছিল খালেকদার খাস বেয়ারা। অগত্যা তাকে দিয়েই বইগুলো নামিয়ে আনা হলো।। সাহেব একট। খণ্ড তুলে নিয়ে কিছুক্ষণ পাতা উল্টে বললেন, সব তো৷ দেখছি মান্ধাতার আমলের ব্যাপার। কোন কাজে লাগবে এগুলো ?

খালেকদ! দমবার পাত্র নন। বিজ্ঞের মত হাত মুখ নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন, “এই যে বাড়িটা দেখছ সাহেব, যখন তৈরি হয়, এর তলায় একট! ভিৎ গড়তে হয়েছিল এখন সেট! মাটির নীচে চাঁপা পড়ে গেছে, আমাদের কোনে কাজে লাগছে না আসলে কিন্ত তারই ওপর সব দাড়িয়ে আছে এগুলো হচ্ছে সেই ভিৎ।,

উনি তখন আড্মিশান ব্র্যাঞ্চ অর্থাৎ আমদানী সেরেস্তা”র ভার- প্রাপ্ত ডেপুটি জেলার সাহেব এসেছিলেন দেখতে, কি করে কয়েদী ভি কর! হয়, কি কি রেজিস্টার আছে তার জন্তে, কি সব তথ্য লেখ হয় সেখানে, কোনটার পর কি করণীয় ইত্যা্ি। খালেকদ।

লৌহকপাট ১৭

জেল কোড এর সংশ্লিষ্ট অধ্যাঁয়টি খুলে প্রথমেই তার শিরোনাম নিয়ে পড়লেন__আ্াডমিশান অফ প্রিজানার্স্‌; শুরু করলেন প্রিজনাব্স জন্মের আগের পর্ব থেকে, অর্থাৎ প্রিজ্‌ বস্তুটি কী, কী তার প্রয়োজন, কোথায় তার সার্থকতা যে-ভাষায় বলছিলেন সেটা ইংরেজি নিশ্চয়ই, তবে কিংস ইংলিশ-এর সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। ওর নিজন্ব স্যঙ্তি। আমরা বলতাম “খালেকদা'জ পেটেন্ট ইংলিশ”। আমাদের মত অন্তরঙ্গ সহচর ছাড়া বাইরের লোকের পক্ষে বোধগম্য হবার কথা নয়। মেজব সাহেব কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে ফ্যাল্‌ ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বললেন, এক্সকিউজ মি, আই ডোন্ট ফলো গ্রীক। বেটার স্পিক্‌ ইন্‌ বেঙ্গলি হামি কুছ কুছ বাংল! বুঝে।

যাক, য! বলছিলাম সরকারা আদেশে আমাদের এই জ্ঞানী ব্যক্তিটিও জেল-সম্পর্কে কিঞ্চিৎ “ট্রেনিং নিতে প্রথমেই আমার অফিসে পদার্পণ করলেন এবং গেট পেরিয়েই জেলখানার প্রবীণ অধ্যক্ষ থেকে গোট। স্টাফকে ট্রেন-আপ করতে শুরু করলেন। আমরা এতকাল ধরে য। কিছু করেছি, যে-পথে চলেছি, সব ভূল, সজোরে লবিস্তারে সেই কথাই প্রমাণ করে দিলেন। শেষের দ্রিকে যোগ করলেন, আমাদের মধ্যে যে সব হুর্নীতি, অনাচার অযোগ্যতা বাস! বেঁধে আছে, সেগুলো দূর করতেই সরকার তাকে বিশেষ ভাবে নিয়োজিত করেছেন। ( নিয়োগের আসল কারণট। যে আগেই ভিতরে ভিতরে রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিল, সে কথ। বোধহয় তার জান! ছিল না। ) আমার প্রায়-সাদ।-হয়ে-যাওয়। চুলগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে এবং কত বছর জেলে আছি, জেনে নিয়ে মন্তব্য করলেন, গভর্মেণ্টও হয়েছে তেমনি ; এক্সপিরিয়েন্দ আর এক্সপিরিয়েন্স ! ওটা যেন একট! ফেটিস্‌ হয়ে দাড়িয়েছে আমার তে মনে হয়, অনেক দিন একই জিনিস নিয়ে পড়ে থাক একট! ড্র-ব্যাক, আপনাদের সব ড্রাইভ চলে গেছে, ইনিশিয়েটিভ্‌ নেই, শুধু গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে চলছেন। আমাকে কিছু নিউ ব্লাড আমদানি করতে হবে

৮,

১৮ লৌহফপাট

দেখছি। চলুন, ভেতরটা! একবার দেখে আসি।

তার আগমন সংবাদ জেলের ভিতরে পৌছে গিয়েছিল শীতকাল। প্রচুর মবন্মী ফুল ফুটে আছে এখানে ওখানে একজন মাতববর গোছের হাজতী আসামা কতগুলো বড় বড় গাদ! তুলে বিশাল এক মাল। গেঁথে রেখেছে আমরা সদলবলে হাজত- ওআর্ডের বারান্দায় উঠতেই সে অভ্যর্থনার ভঙ্গিতে এগিয়ে এল উনি থমকে দাড়িয়ে কক্ষ স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, কতদিনের জেল তোমার?

_ আজ্ঞে, জেল নয়, আমি আগা রক্রায়াল।

__-কী কেস্-এ এসেছ ?

_ডাকাতি কেস্‌।

--আমি ভাকাঁতেব হাতের মালা নিই না।

মুহুর্তের জন্যে লোকটা যেন একটু ক্ষুপ্ন হলো। তারপরেই বেশ সপ্রতিভ হাসি হেসে বলল, ভূল করলেন, হুজুর আমি যে ডাকাত সেটা এখনে! প্রমাণ হয় নি। বলে, মালাট। হাতে জড়াতে জড়াতে গম্ভীর ভাবে নিজের জায়গায় গিয়ে দাড়াল। উনি আর এগোলেন না। একট! দৃপ্ত ভঙ্গি করে ফিরে এলেন। বাইরে এসে বললেন, লোকটা তে। ভারী পাঁজী দেখছি আমার মুখের ওপর জবাব করে! এই সব বদমাশগুলোকে কড়া শাসনে রাখা দরকাব। হ্যাড আই বিন ইউ, আমি ওটাকে এখনই সেল্-এ পাঠিয়ে দিতাম

ইঙ্গিতট। স্পষ্ট হলেও আমি যখন সেটা না| বোঝার ভান করে নিশ্চেষ্ট রইলাম, তিনি কিঞ্চিৎ শ্লেষের সুরে যোগ করলেন, আমার মনে হয় সফ্ট্নেস্‌ জিনিসটা সাহিত্যে হয়তো। চলে, কিন্তু আযড্মিনিল্টেশন-এর পক্ষে মারাত্মক কী বলেন?

বুঝলাম, আমার “অপকর্মের খবরট। আগেই ওঁর কানে পৌঁছে গেছে এবং তাতে করে আর যাই হোক, আমার সম্বন্ধে তার মনোভাবট! অনুকূল হয় নি। কয়েকদিন পরে সেটা আরো স্পষ্ট হলো ট্রেনিং পর্ব (কাগজে কলমে তার, কিন্ত আমলে আমান )

লৌহুকপাট ১৯

যেদ্দিন শেষ হল, চলে যাবার মুখে ফিরে দাড়িয়ে বললেন, ভালো অফিসার বলে আপনার স্থনাম আছে শুনেছি, কদিনে আমার ইম্প্রেশানও নট্‌ ব্যাড ; কিন্ত এসব কী করছেন ?

বক্তব্যট হঠাৎ ধরতে না পেরে একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে মুখের দিকে তাকাতেই যোগ করলেন, এরকম একটা বদ নেশা জোটালেন কোথেকে ! না না; ওসব ছাড়ুন সেন্টিমেন্টাল সিনেমার গল্প ন। লিখে কাজকর্মের দিকে মন দিন

একটু মজা করবার লোভ হলো।। আনন্দে বিগলিত হয়ে বললাম, আমার লেখ! আপনি পড়েছেন হ্যার ?

-আমি !_-এমন ভাবে আমার দিকে তাকালেন, যেন এর চেয়ে মান্হানিকর অভিযোগ আর হতে পারে না। তারপর দৃঢ় কণ্ে বললেন, আপনি ভূলে যাচ্ছেন, আমার সময়ের দাম আছে।

রীতিমত ক্রুদ্ধ হয়েছেন দেখে আর এক ধাপ এগিয়ে গেলাম ছল্স নৈরাশ্যের গ্রে বললাম, আমি ভেবেছিলাম পড়ে থাকবেন হয়তো তা না হলে সিনেমার গল্প লিখি জানলেন কেমন করে?

_- কেন? আপনার কী একট। বই নাকি ছবি হয়েছে শুনলাম। একেবারে হিট পিকচার !

কথা নয়, একরাশ গ্লেষ অবজ্ঞা ছু'ড়ে দিলেন আমার মুখের উপর। তার ফলে আমার ভিতরে আরে খানিকট৷ কৌতুক রস উথলে উঠল মাথ! নীচু করে ঘাড় চুলকে সবিনয়ে নিবেদন করলাম, তার থেকে যদি বলেন, আমি সিনেমার গল্প লিখি, তাহলে কিন্তু, স্যার, সেক্সগীয়র, টলষ্টয়, ডিকেন্স, রবীন্দ্রনাথ, ডষ্টয়ভূস্কি এবং নানা দেশের সব বড় বড় নোবেল প্রাইজ উইনার্সও সকলেই আমার দলে পড়বেন।

আমার দিকে একট! জলস্ত ভ্রকুটি নিক্ষেপ করে ভত্রলোক গট্‌ গটু করে বেরিয়ে গেলেন। চোখের দৃষ্টি এবং গমনভঙ্গি হুইই এত সুস্পষ্ট যে তার অর্থ বুঝতে কিছুমাত্র অস্থুবিধ। হয় নি। এও বুঝেছিলাম, সেইখানেই শেষ নয়, জের অনেকদূর চলবে তাই

১. লৌহকপাট

চলেছিল। শুনছি নাকি, আমার বেরিয়ে আসবার পরেও চলছে আমার এই বিদ্ঘুটে নামট। কিংব। সেই “সেন্টিমেণ্টাল সিনেমার গল্প” যখনই তার নজরে পড়ে, বিশেষ করে, জেল-লাইব্রেরির বইয়ে তালিকার কোনে। কোণে_ আশেপাশের সকলকে ইষ্টনাম জপতে হয়। এগুলো যেন প্রাণী বিশেষের কাছে লাল ন্যাকড়া ব1 রেড র্যাগ।

আর একটা মজার ঘটন। কানে এসেছে বড় বড় জেলেব কয়েদীরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে বাইরে থেকে ফিল্ম আনিয়ে জেলে বসে সিনেমা! দেখতে পায় কোন্‌ জেল নাকি ছুঃসাহসভরে সে রেড-র্যাগ-চিহিন্ত ছবিখানা (যাঁকে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন হিট পিকচার ) আনাবার ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। শেষ মুহতে খবর পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং শুনেছি, বিষয়ে যার। উদ্যোক্তা তাদেরও একহাত নিতে ছাড়েন নি।

প্রশ্নকর্তাদের কাছে আমার সশ্রদ্ধ নিবেদন, এসব যা বলছি, তাকে যেন তাবা খেদোক্তি বলে মনে না করেন আমার সামান্ সাহিত্য-কর্মের উপর মুষ্টিমেয়ের এই রোষদৃষ্টি আমি সানন্দে উপভোগ করেছি এদের বাইরে ধারা, লেখার জগতে এসে ধানের পেলাম, তাদের কথ! বলছি না, কর্মী হিসাবে ধাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সর্বোচ্চ থেকে জর্ধনিয়স্তর, বুজনের কাছে যে জন্সেহ প্রসঙ্গ দৃষ্টি লাভ করেছি, তার কথাই মনে রয়ে গেছে। এক দিক দিয়ে ক্ষোভের কারণ যদি কিছু ঘটেও থাকে, আরেক দিকের প্রাপ্তি তার সবটুকু ধুয়ে মুছে দিয়ে গেছে। মানুষের জীবন তে। একট৷ নিস্তরঙ্গ জলাধার নয়। সে নদীর আ্োতের মত গতিময় ক্ষণেকের তরে কোন আবিলত। যর্দি আসেও, গতি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যে মান্থষ জীবন্ত, তার পথ একটানা। মস্থণ নয়, উত্থান-পতনে বন্ধুর তার একদিকে যেমন অভিঘাত, আরেক দিকে তেমনি অভিনন্দন

জেল-পরিধির বাইরেও একট বিরাট সরকারী মহল আছে

লৌহকপাট ২১

সেখানে কি প্রতিক্রিয়া হলো, সেটাও অনেকে জানতে চেয়েছেন। নে সম্বন্ধে বিশেষ করে বলবার মত কিছু দেখছি না। এইটুকু শুধু বলতে পারি, সেখানকার ছ-একজন হোমরা চোমর! প্রথম প্রথম আমাকে যে দৃষ্টিতে দেখেছিলেন, তাকে ঠিক প্রসন্ন দৃষ্টি বল! চলে না। বড় শহরের ভিড়ের মধ্যে হয়তো। আমার উপর তাদের নজর পড়ত না। কিন্তু থাকি মফন্বলে, তার উপর সাহিত্য করি এখানে ওখানে সভা-সমিতিতে ডাক পড়ে। সভাপতিত্ব কিংব। প্রধান অতিথির প্রাধান্যও মাঝে মাঝে জুটে যায়। তার আগে জাতীয় সম্মানে একচ্ছত্র অধিকার ছিল সরকারী বড় কর্তাদের স্বাধীনতার পরে সাধারণের চোখে তাদের সে জমক নেই তা ছাড় ইতিমধ্যে জনজীবনের আনাচে কানাচে সংস্কৃতি নামক একটি নতুন বস্তুর আবির্ভাব ঘটেছে, প্রাহুর্ভাব বলাই উচিত। তাকে বাদ দিয়ে কোন জমায়েত জমে না তারই সূত্র ধরে সভা মণ্ডপের উচ্চমঞ্চে রাজপুরুষের বদলে ট।ন পড়ছে সাহিত্যিকের সাহিত্যিক যেখানে বাইরে থেকে আমদানি, তাকে উপেক্ষা করা চলে কিন্তু ক্ষেত্রে গোল বাঁধল _-সে যে তাদেরই একজন। সুতরাং সরকারী কর্তৃমহলে সে প্রথমে চাঁপ। কটাক্ষ ক্রমশ প্রকাশ্য ব্যঙ্গ-বিদ্রপের বিষয় হয়ে ধাড়াল। প্রথমটা একটু ক্ষুন্ধ হলেও পরে বুঝলাম এইটাই স্বাভাবিক আমার অপরাধ তে। একটি নয়। অফিসারস্‌ ক্লাবে টাদ! দিই, কিন্তু ধরন। দিই না, কর্তাব্যক্তিরা যখন স-পারিষদ আসর জাকিয়ে বসে রাজা-উজির বধ করেন, মাথ। নাড়ার দলে আমাকে পাওয়া যায় না) সন্ধ্যার পর তাস ন! পিটে “অন্ধকার মাঠে ঘুরে বেড়াই কিংবা! ঘরের কোণে বসে লিখি সবটাই বাড়াবাড়ি সুতরাং ক্লাবে লাইব্রেরির বাৎসরিক “পারচেজ'-এর সময় কয়েকজন তরুণ মেম্বার যখন “লৌহকপাট”-এর নাম করে বসল, প্রবীণ সিনিয়ারদের কাছ থেকে এল এক দুর্জয় ধমক--কী আছে জেলের কেচ্ছায়? আবার একট। বই নাকি ! নবীন সভ্যরা কিন্ত অত সহজে হঠতে চাইল ন1। বেশির ভাখই সগ্ভ বেরিয়েছে কলেজ থেকে, চাকরির অহিফেনে

২২ লৌহকপাট

ধাতস্থ হয়ে ওঠে নি। তখন রফা হলো- বিন! পয়সায় পেলে আপত্তি নেই। কেউ কেউ অভিযোগ করলেন, লেখক যখন ক্লাবের মেম্বার, তারই উচিত ছিল ছু এক খণ্ড বই লাইব্রেরিকে প্রেজেন্ট করা।

কদিন পরে ক্লাবে যেতেই কতৃস্থানীয় এক ব্যক্তি সেই ওচিত্যের কথাট1 আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন বললেন, এই যে ! আপনাকে তো আজকাল দেখাই যায় না। হ্যা, শুনুন, আপনাব নাকি একখানা কি বই আছে?

আমি মাথা নাড়লাম, আছে।

__ছাপানো বই ?

কথাট। ঠিক ধরতে পারলাম না। বই তো ছাপানোই হয়ে থাকে। তিনি কি মনে করেছেন হাতে লেখা তালপাতার পুথি? জিজ্ঞাসা করব ভাবছিলাম তার আগে অর্থট। তিনিই পরিক্ষা করে দিলেন, “মানে, বইটা কি পাবলিশ ড. হয়েছে ?

-আজ্ হ্যা।

_আপনি নিজেই বুঝি পাবলিশার ?

--আজ্রে না।

_-তবে?

পাবলিশারের নাম করলাম।

--ও, তাই নাকি ! বেশ, বেশ। তা কই, এখানে তো৷ দেখছি না আপনার বই আমাদের লাইব্রেরিতে ছু-একখান! দেবেন তো ? মানে, যাকে বলে প্রেজণ্টেশান

প্রশ্ব প্রস্তাবের ধরনে আমার মাথায় হয়তো কিঞ্চিৎ হুষ্ট বুদ্ধির উদ্নয় হয়ে থাঁকবে। সবিনয়ে উত্তর দিলাম, দেখুন, ছু রকমের লেখক বই প্রেজেন্ট করে থাকেন। এক, ধার! অন্ুগ্রাহক, মনে মনে বলেন, আমার বই পড়ে তোমর। কৃতার্থ হও ছুই, ধারা অনুগ্রহপ্রার্থী, তার৷ বলেন__আমার বই পড়ে আমাকে কৃতার্থকর। আমি এর কোন দলেই পড়ি না। অতএব মাপ করবেন।

ছুই

প্রথমটা চিনতে পারিনি একটু ঠাহর করে দেখতেই মুখ থেকে অজ্ঞাতসারে বেরিয়ে এল, আপনি !

_-ভাবছেন, এতদিন পরে খোজ পেলাম কি করে?

সে প্রশ্মের উত্তর না দিয়ে বললাম, আপনার কি কোন অন্ুখ করেছিল ?

_ অসুখ? হ্যা, তা বলতে পারেন। করেছিল নয়, বছৰ সাতেক ধরে চলছে

-বলেন কি! কী অন্থুখ?

_ রিটায়ারমেন্ট ; আপনারা যাকে বলেন, অবসর-গ্রহণ বলে, হেসে উঠলেন ভূতপূর্ব ভূতনাথ দারোগা! সেই আগেকার মত পিলে চমকানে। ঝড়ো হাসি, শুধু তার বেগটা পড়ে গেছে। তারপর বললেন, চেহার। জিনিসটা দাড়িয়ে থাকে কিসেব ওপর জানেন? আপনি বলবেন ভালো স্বাস্থ্য, ভালো খাবার দাবার, যত্ব আত্তি, এই সব। “অন্যের বেলায় হয়তো তাই কিন্তু পুলিসের বেলায়-__ পোশাক। সেই খোলসট। যেদিন ছেড়েছি, সেদিন থেকে শাসও শুকোতে শুর করেছে যাক সে কথা এট! নিশ্চয়ই আপনার কা ?

হাতে ছিল একট খাকী কাগজে মোড়া প্যাকেট এতক্ষণ লক্ষ্য করি নি। মোড়ক খুলে ভেতরকার বস্তটি সামনে ধরতেই আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল আমার সাহিত্যিক অপচেষ্টার এই নিদারুণ চিহ্নটি ভূতনাথ দারোগার নজরে পড়ে যাবে, স্বপ্পেও কি কোনদিন ভেবেছিলাম? এর ভিতরে ওর যে রূপটি ফুটে উঠেছে, তাকে মধুর বলা চলে না। কে জানে তার কোন্‌ রেখা ফৌজদারি আইনের কোন্‌ মারাত্মক ধারা শু'ড় তুলে দাড়িয়ে আছে? ঘাড়ের উপর লাফিয়ে পড়ে বলবে, দাও দশ হাজার টাকার ড্যামেজ, কিংব। মানহানির দ্বায়ে চল শ্রীঘর |

২৪ লৌহকপাট

না, ভূতনাথবাবু সেদিক দিয়ে গেলেন ন।। খুশির সুরে বললেন, কদিন আগে পুলিস-ক্লাবে গিয়েছিলাম পুরনে। আমলের জনকতক অফিসার এখনো আছে। মাঝে মাঝে গিয়ে বসি তাদের কাছে। মনট। ভালো থাকে হাল আমলের ছোকরারাও খাতির যত করে। তাদেরই একজন সেদিন একট বই নিয়ে এসে বলল, “এর থেকে আপনার সম্বন্ধে অনেক কথ। জানা গেল ।” আমার সম্বন্ধে! আমি তে। অবাক। আমাকে নিয়ে আবার বই লিখল কে? ছাপিয়ে বের করবার মত এমন কী কীতি রেখে এলাম? তবে অনেক গরম গরম স্বদেশী-ওয়ালাকে ঠাণ্ডা করতে হয়েছে তারই মধ্যে কেউ বোধহয় ঝাল ঝেড়ে থাকবে বললাম, পড় তে। শুনি খানিকট। শুনেই বুঝলাম, আপনি অনেকদিন এক স্টেশনে ছিলাম, এক সঙ্গে উঠেছি, বসেছি কই, এসব বিগ্ভা আছে বলে তো টের পাই নি। আপনি তো সাংঘাতিক লোক মশাই

ভয় কেটে গেল, কিন্তু বিস্ময় রয়ে গেল য! লিখেছি, তাতে করে এতট। খুশী হবার কথ। নয় বললাম, আমার কিন্ত আশঙ্কা ছিল, আপনি রাগ করবেন

--বাগ করব! কেন?

--আপনার সম্বন্ধে ভালে৷ কথ তো৷ কোনোটাই লিখি নি।

--আপনি হাসালেন দেখছি। আমি যা, তাই তে। লিখবেন বানিয়ে বানিয়ে ভালে। ভালো কথ। লিখলে খুশী হতাম ভাবছেন ? না। ভূতনাথ দ্রারোগ! ভূতনাথ দ্বারোগাই থাকতে চায়। নব্যতস্ত্রের বাবুদের মত মহাপুরুষ হতে চায় না। জানেন ? দেশ স্বাধীন হবার পর পুলিস অফিসার মানে এক একটি খুদে মহাত্মা বিষ তো৷ গেছেই, ফণা পর্যস্ত নেই। সব টৌড়া সাপ। আমার সেই মুষ্টিযোগগুলো ভুলেও কেউ ব্যবহার করে না। সেগাট্স্‌ নেই কারো। অথচ, আপনি তো জানেন, তার প্রত্যেকটা থেকে কী অব্যর্থ ফলটাই ন। পেয়েছি সেদিন

কথাটা ঠিক। সাক্ষী তৈরী করা কিংবা কনফেশান আদায়

লৌহকপাট ২৫ করবার যে কটি পেটেন্ট ওষুধ তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, ফলের দিক দিয়ে দেখতে গেলে, স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডের রীতি পদ্ধতি তার কাছেও ঘষতে পারে না। প্রয়োগ দূরে থাক, অনেক সময় নাম শুনিয়ে কার্ষোদ্ধার হতো! নামকরণের মধ্যেও রীতিমত প্রতিভাব পরিচয় পাওয়া যায়। বৃহত-যষ্টি-মধু-চুর্ণ ; তাতে যদি কাজ না হয়, দাও ডোজ কয়েক গুন্ফোৎপাটন রসায়ন কিংব। শ্বশ্রুছেদন বটিকা, স্থান কাল বুঝে কোথাও কোথাও মহানিমজ্জনী ধা, চপেটাঘাঁত সহ সেব্য।

চোখের দিকে চেয়ে মনে হলো, ভূতনাথবাবু বোধহয় তাঁর অতীত কীতির গৌরবময় স্মৃতির মধ্যে ডুবে গেছেন। কিছুক্ষণ পরে নিশ্বাস ফেলে গভীর সুরে বললেন, সারাজীবন ধরে এত যে করলাম, কা পেলাম তাঁর বদলে! একদিন হয়তো নামগুলোও লুপ্ত হয়ে যেত। সেই পরিণাম থেকে আপনি আমাকে বাচিয়েছেন, মিস্টার চৌধুরী প্রকৃত বন্ধুর কাজ করেছেন।

হঠাৎ মুন্সীর কথ! মনে পড়ল। বললাম, বদরুদ্দিন মুব্দীকে আপনার মনে আছে?

__নেই আবার! একট। লোক ছাড়া ভূতনাথ ঘোষাল সান্থা জীবনে কারো কাছে হার মানে নি। একবার নয়, বার বার। বড় আশ! ছিল ব্যাটাকে ফাসি কাঠে ঝোলাতে পারবে।। সে স্থযোগ আর দিলে না। মুখের ওপর যেন থাবড়। মেরে চলে গেল। বাহাছর বটে! মরে তো সবাই, অমন মরার মত মরতে পারে কজন ?

একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম বহুদিনের ওপার হতে বদর মুন্সীর মরণাহত বীভৎস মুখখান। বিস্মৃতির পরদ। ঠেলে চোখের উপর এসে দাড়িয়ে ছিল, ভেমে আসছিল তার সেই ভাঙাগলার আর্তনাদ -আমার সর্বস্ব দিয়েও কি তাকে বাঁচাবার উপায় নেই, হুজুর ?

ভূতনাথবাবুর কথ! কানে যেতেই যেন সম্বিৎ ফিরে পেলাম উনি বললেন, আর একট! লোককেও আমি মরদের মত মরতে দেখেছি তবে তার ব্যাপারটা একেবারে আলাদ!।

--বলুন নাঃ শুনি

২৬ লৌহকপাট

ভূতনাথ হেসে বললেন, ও-ও, নতুন খোরাকের গন্ধ পেলেন বুঝি ? কিন্তু যা ভাবছেন, তা নয়। তাকে দিয়ে আপনার বিশেষ স্বাবিধে হবে না। আপনার! যাঁকে বলেন ড্রামাটিক, তেমন কিছু সে করে নি। কোনে। মহত্বটহত্বও দেখায় নিঃ যে আপনার গল্প লেখার মশল। হবে।

চা এসে পড়েছিল সে্দিকট। দেখিয়ে বললাম, তা না হোক, চ1-এর সঙ্গে কিঞ্চিৎ ন্যাক্স্-এর কাজ করবে তো?

-_-তা করতে পারে।

--তাহলে শুর করুন।

ভূতনাথবাবু পেয়ালাট। তুলে নিয়ে বললেন, বি. এ. পাস করে ল' কলেজে ঢুকেছিলেন নিশ্চয়ই ?

_মআজ্রে না। ওদিকট! আর মাড়াই নি।

_-বলেন কি! ছুপুরে এম. সকালে ল'_-আমাদের কালে এইটাই তে' ছিল সাধারণ রেওয়াজ

- আমাদেরও তাই আমি কোনো রকমে এড়িয়ে গেছি।

_-তাই আপনার চুলগুলো এখনো কিছু কাচা আছে। মহমেডান্‌ ল-এর সাক্‌্সেশন চ্যাপ্টার মুখস্থ করতে হলে দশ বছর আগেই আমার দশ! হতো !

-_কেন, খুব জটিল ব্যাপার বুঝি ?

__জটিল মানে? বাড়ির মুরগিটা পর্যস্ত ওয়ারিস ; তারও একট ভাগ মাছে। একবার কোনো মিঞা চোখ বুজলে হলো ; সঙ্গে সঙ্গে চল্লিশ জন দাবিদার। তিন চারটে বিবি, তাদের তিন ডজন ছেলেমেয়ে, বোন, ভাগনে, শালা, যে যেখানে আছে তারপর শুরু হলে মামলা ছুনম্বর দেওয়ানি তো পাঁচ নম্বর ফৌজদারি খুন, জখম, দাঙ্গ।। তার জের যে কোথায় গিয়ে থামবে, কেউ বলতে পারে না। অঞ্চলের কথা বলছি, সারা জীবন যাদের মধো কাটিয়ে এলাম আপনিও তো! বেশ কিছুদিন ছিলেন। অন্য দশ জায়গায়ও ঘুরতে হয়েছে রকমট। দেখেছেন কোথাও ?

স্বীকার কক্সলাম, দেখি নি। মামলা মোকদ্দম! সব দেশের

লৌহকপাট ২৭

লোকেই করে। সাধারণত তাদের দৌড় আদালত পর্যস্ত। সেখানেই শেষ ফয়সালা কিন্তু ভূতনাথবাবুর দীর্ঘ চাকরি-জীবন এবং আমারও অনেকগুলো বছর এমন কতগুলে। মানুষের মধ্যে কাটাতে হয়েছিল যাদের অভিধানে “হার মানা” বলে কোন শব্দ নেই, প্রতিশোধ যাদের নিত্য ধর্ম, এবং আক্রোশ মেটাবার কোনো পম্থাকেই যারা হীন ব। অন্যায় মনে করে না। সে বিষয়ে তাদের উদ্ভাবনী শক্তিও অসামান্য

একটা অভিনব খুনের মামলা মনে পড়ল অতিশয় হুশিয়ার ব্যক্তি তোরাপ গাজী। বাড়িতে দোনল বন্দুক। লোক লাঠি ছাড়া বাইরে বেবোয় না। দারুণ গ্রীষ্মেও জানালা খুলে শোয় না। সেদিন সদর থেকে মামল1 জিতে খোস মেজাজে বাড়ি ফিরে পাল্লা ছটোয় খিল আটতে বোধহয় ভূলে গিয়েছিল। গভীর রাত্রে বিকট চিৎকার “ইয়া আল্লা ! ঠিক বুকের উপর ফণ। তুলেছে কাল কেউটে লাফিয়ে উঠবার আগেই বসিয়ে দিল মোক্ষম ছোবল। “বেলে বেলে জ্যোৎস্সায়” চোখে পড়ল, জানাল। থেকে নিঃশব্দে সরে যাচ্ছে একট। লম্বা বাঁশের চোঙা বোঝ। গেল সাপ উড়ে আসে নি, ছাদ থেকেও পড়ে নি। এসেছে বাঁশের ফোকর আশ্রয় করে। তার মধ্যেও ইচ্ছে করে ঢোকে নি নিশ্চয়ই অনেক কৌশল করে বু সাবধানে চরম বিপদের ঝুঁকি নিয়ে একজন কেউ তাকে ঢুকিয়েছে। যাকে বলে সাক্ষাৎ যম নিয়ে খেলা। ভিতরকার মনোভাব হলো।--ঘে কোন উপায়ে শত্রতা-সাধন শক্রর প্রাণ নিতে গিয়ে নিজের প্রাণট। যদি যায়, ক্ষতি নেই সে জন্যে তারা ভাবে না। একে শুধু রিভেঞ্জ, ব। প্রতিশোধ বলে ছোট করে দেখলে ভূল হবে। এ.এক উচুদরের জীবনদর্শন। হায়ার ফিলজফি অব. লাইফ, সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে যা বোঝা যায় না। মনে হয়, অবাস্তব, অসম্ভব

আরেকজন মামলাবাজ গ্রাম্য মাতববরের কথা শুনেছিলাম অন্ধকার রাত্রে ঘরের বাইরে লোকের সাড়া পেয়ে চোর চোর+ বলে লাঠি হাতে ছুটে ধেরিয়েই “মাগো? বলে এক লাফ এবং তারপরেই

২৮ লৌহকপাট

“বাবাগেো? বলে বসে পড়া সঙ্গে সঙ্গে গগন-ভেদী আর্তনাদ। “কী তলো৷ গো” বলে দৌড়ে এলেন গৃহিণী এবং উঃ?” বলে পা ধরে বসে পড়লেন চৌকাঠের উপর। ছেলে ছিল পাশের ঘরে বুদ্ধি করে একট টর্চ নিয়ে বেরিয়েছিল। দেখল, বাবা মায়ের ঘরের ঠিক সামনে সাবি সারি পৌত1 আছে মোটা মোটা খেজুরের কাটা, ছু'চলে। মাথাটা! উপবের দিকে তারই ছুটে! বিধে আছে তার বাবার পায়ের তলায় এবং ধপ করে বমে পড়ার ফলে গোট। তিনেক তার পরনের ধুতি ভেদ করে ইঞ্চিখানেক ভিতরে ঢুকে গেছে। চৌকাঠের আশ্রয় না জুটলে মায়ের অবস্থাও মন্ুবপ হতো। তার খোচাট। মাপাততঃ শুধু পায়ের উপর দিয়ে গেছে। যারা এসেছিল, তারা যে নিপুণ শিল্পী, কাটাগুলে। বসাবার মধ্যেই তাব পরিচয় পাওয়। গেল। ছুরি” নামক হেয় কর্মের মতলব নিয়ে তারা আসে নি, তাও বোঝা গেল গুহিণীর পায়ের কাট৷ খুলে দেবার পর তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, রান্না ঘরের তালাটা ভাঙা ছেলের সাহায্যে খোড়াতে খোড়াতে গিয়ে দেখলেন, বাসন পত্র যেমন ছিল তেমনি পড়ে আছে। হাড়িতে কিছু পাস্তীভাত এবং কড়াতে কয়েক টুকরো ইলিশ মাছ ভাজ রেখেছিলেন, পরদিন প্রাতরাশের জন্য অতিথিরা সেগুলে। তাদের নৈশ ভোজনের কাজে লাগিয়েছে কাটা-রোপণে সময় কম লাগে নি, অনেকটা মেহনংও হয়ে থাকবে ক্ষুধার উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক। সেট! সঙ্গে সঙ্গে মেটাবার জন্যেই রান্নাঘরে ঢুকবার প্রয়োজন »য়েছিল। যাবার সময় সাড়া-শব্দট। ইচ্ছাকৃত। কর্তা- গিন্নী চোর মনে করে ব্যস্ত ভাবে ছুটে বেরোবে, এবং তারপর-_- | এই ধরনের ব্যাপার আমি আর কতগুলে। জানি? ভূতনাথ- বাবুর ভাগ্ডারে ছুচার দশট। জড়ো হয়ে থাঁকবে। তারই 'একটা ঝাড়বার আয়োজন করলেন। চায়ের পেয়ালায় কয়েকট। দীর্ঘ চুমুক দিয়ে বললেন, রহমৎগঞ্জের জববার মোল্লাকে ভোলেন নি আশা করি? --কানা জব্বার ?

লৌহকপাট ২৯

--“কানা কি বলছেন! ব্যাটা এক চোখে যা দেখত, দেবরাজ ইন্দ্র তার সহত্র চক্ষু দিয়ে তাব চেয়ে একচুল বেশি দেখতেন কিনা, আমাব সন্দেহ আছে। জারাট! জীবন পুলিসকে নাস্তানাবুদ কবে একদিন সে পটল তুলল সেদিন জোভাখাসির ফিষ্টি হলো আমাদের ক্লাবে। সারারাত ধরে ডজন ডজন বোতল উড়ে গেল। সকালে গেলাম কণ্তোলেন্স জানাতে শুনলাম, সোন। দান। টাক। কড়ি বিশেষ কিছু না থাকলেও জমিজম। অনেক বেখে গেছে। স্বনামে বেনামে গোটা চরটাই প্রায় তাব।

বললাম, হবে না? ডাকাতি তো একট] ছুটে! করে নি। আমাব আমলেই তো-_

_-ভুল করলেন, বাধা দিয়ে বললেন ভূতনাথবাবু। ওর এক ছটাঁকও ডাকাতিব বোজগাব নয়। কিছুটা পৈতৃক আর বেশির ভাগ মামলা! মোকদ্দম। কবে জ্ঞাতিদেেব কাছ থেকে বাগিয়ে নেওয়া। ডাকাতিট। ছিল শখ তার পেছনে বরং