বাটি দ্বাশ়”

শক্তিপদ রাজগুরু

__ ঝানী

৭৩, মহাত্মা! গান্ধী রোড, কলিকাতা.৭১*৪০

প্রকাশক কান্তি রঞ্জন ঘোষ প্রচ্ছদ 2 পঞানন মালাকর

প্রকাশকাল £ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩

মুদ্রাকর £

নিউ বৈশাখী প্রেস শ্রীন্থুকুমার ঘোষ

৩৮ নং শিবনারায়ণ দাস লেন কলিকাতা-৬

অনুজ সাহিত্যিক -গাবিন্দ ব্ধণ ল্সেহাস্পদেষ্ু

মুরুং বেশ মন দিয়েই লক্ষ্য করেছিল ব্যাপারটা

ঘন শালবনের ফাক দিয়ে দুপুরের একফালি রোদ“লুকিয়ে ছাপিয়ে ষেন উঁকি দিচ্ছে। বনে সূর্যের আলো ঠিকমত ঢোকে না। নীচে গাছ-গাছালির ঝোপ, তাতে জড়িয়ে আছে চীহড় লতাপলাশের ঘন আলিঙ্গন। আর মাটিটা স্যাতসেতে।

বছরের পর বছর ওখানে ঝরা! পাতা পড়ে পচেছে--বর্ধার জল বয়ে গেছে ওর উপর দিয়ে। কুড়কি__কাড়ান, দুর্গ! ছাতুগুলো৷ সাদা বিরাট ফুলের মত ফুটে থাকে।

আর গাছগুলো! সিধে সোজা! উঠে গেছে।

ওদের কাণ্ডের বাকলগুলো মাঝে মাঝে কারা যেন টেনে তুলেছে, সেশুলে। শুকিয়ে ঝুলছে লম্বা সাপের মত। মুরুং জানে কুলা, গণেশ মহারাজের কাণ্ড ওসব। সারান্দার বনে বুনে! হাতির অভাব নেই। দলে দলে তারা ঘুরে বেড়ায় এই বনের সআাটের মতই মুরুং দেখেছে. ধান-পাকার সময় তাদের বসতিতে৪ আসে- ধানক্ষেতে নামে রাতের অন্ধকারে

বাতাসে ওঠে ওদের তীক্ষু চাৎকার।

তাদের বসতির মার সর্দার মতি কাকা- ডুংরির সকলে বের হয় মশাল জ্বেলে। ওরা ক্যানেন্তারা পিটিয়ে ছেলে মেয়ে মিলে চীৎকার করে।

অনেকে আবার কুলোয় ধান দিয়ে জমির এদিকে হাটু গেড়ে বসে কাত স্বরে বলে-_

_-বোডা-এ বাব! গণেশ বোঙা, মোর ক্ষেতির ধান না খা বাবা! সারা বরষ বাল-বাচ্চা-পোন। লিয়ে তুখা৷ মরবে বাবা

পৃজে৷ দিলম তুকে-_তু হুরুকে যা৷।

তাদের এই কাতর প্রার্ঘনা হয়তো বনচারী ওই বিরাট জীবগুলোর

কানে যায়। ওই প্রাণীগুলো শুঁড় তুলে বাতাসে কিসের ভ্রাণ নেয়,

আদিম আশ্রয়

বিরাট কান নেড়ে কি শোনার চেষ্টা করে। অনেক সময় ওদের অত্যাচার বন্ধ হয়ে যায়।

পাকা সোনা ধানের ক্ষেতে একপাল হাতি নেমে ফসল যা না খাঁর নষ্ট করে তার থেকে বেশী বিরাট পায়ের চাপে ধানগুলোকে মাড়িয়ে দেয়, জলে কাদায় পুতে দেয় পাকা ধানের রাশ।

ওদের প্রার্থনা হয়তে। বুঝতে পারে বন্ প্রাণীগুলো। মুরুং তখন কৈশোর ছাড়িয়ে যৌবনে পা দিচ্ছে__-তার সার! দেহে কি নেশা, বলিষ্ঠ দেহ_ কৌতুহলী চোখ মেলে দেখছে সে : কিন্ত মনে হয় ওই বিরাট জানোয়ার একটাকে তীরকাড় দিয়ে শেষ করে দেবে।

কিন্তু কুইলি বাধা দেয়__এ্যাই গণেশ ঠাকুর বটে। চুপযা!

কুইলিও এসেছে অন্ত মেয়েদের সঙ্গে

রাতের আবছা অন্ধকারে মশালের লাল আভা পড়েছে কুইলির মুখেচোখে, কি যেন ভয় জড়ানো। কুইলি হাত দিয়ে মুরু.-এর তীরটা ধরেছে। থেমে গেল মুরুং।

কুইলির কথা সে ফেলতে পারে না।

হাতিগুলোও আর এগোয় না। কি ভেবে দলপতি বিরাট দাতাল হাতিটা উপরের দিকে শুঁড়টা তুলে তীক্ষ চীৎকার করে_ হু-হু-স্‌*"* হাতির পাল পিছিয়ে যাচ্ছে ওর! চড়াই-এর উপর বনের দিকে চলে গেল।

.আজকের মত ফিরে গেল ওরা কি ভেবে।

মুরুং ছেলেবেলা থেকেই এই বনে জন্মেছে। বনের সীমানা কতদূর -তা জানে না, চারিদিকে দেখেছে আকাশছোয়া! পাহাড়, আর পাহাড়ের পর পাহাড়।

সেবার ছাতাপরবের সময় ওরা ছাতাবুরু পাহাড়ে উঠেছিল একেবারে মাথার উপর ঘন বন চীহড়লতা জড়াজড়ি করে পথ আটকে রেখেছে।

ভূংরির মুইয়া__কারো-_তামুহো- টুয়াই আরও অ্দকে রয়েছে। মেয়েরাশ্ড চলেছে ক'জন কুইলিও বলে- আমিও যাবো কে।

আদিম আশ্রয় গু

মুরুং ধমকে ওঠে_তু যাবি নাই। সাঙ্গীণ বন আর তেমনি খাড়াই বুর বটে!

কুইলি সোনাই মুগ্ডার মেয়ে। সোনাই ঘ্ুণ্ড এই ডুংরির নধ্যে সম্পন্ন গৃহস্থ তার গোয়ালে অনেক গরু, শুয়োরও পোষে, আর ক্ষেতি জমিও বেশী। গুয়ার হাটে তার ঘরের তৈরী ঘি, ছাগল বিক্রি করার জন্য পাইকেররা আসে

বনের কাঠমহাজনদের সঙ্গে সোনাই মুণ্ডার ভাব সাব খুব

ওর ঘরেই তারাও আসে

ক'বছুর ধরে ট্রাক আসছে বনে, শীতকালের ক'মাস ধরে ননের বিরাট কাঠ-লগগুলে। মহাজনর! গুয়া-মনোহরপুরে চালান দেয়।

সোনাই মুগ্ডার তাই চলতি অবস্থা

আর কুইলি তাই ডুংরিতে দাপিয়ে বেড়ায়। টয়াই হো! মেয়েটাকে দেখে বলে ওঠে মুরু-এর কথায়

_চল তু। মুরুং কে বটে হে যে না করবেক।

মুরুং কথাট! শুনে চুপ করে থাকে। কুইলি বুনো ময়ূরের মত গলাটা তুলে বুক চিতিয়ে চলেছে টুয়াই-এর সঙ্গে। যেন মুরুংকে এখন কেয়ার করে না। আর করবেই বা কেন!

বনের এপথে মানুষজন চলে না। পথও নেই। সঙ্গে হাতটাঙ্গি দিয়ে বপ ঝপ কোপ দিয়ে পথ করে চলেছে গাছে গাছে ঝুলছে পরগাছার জঙ্গল, নীচের প্রায়াঙ্ধকার বনরাজ্য দিয়ে ওরা চলেছে

ওদের গানের সুর ওঠে।

ছাতাপরবের জন্য ছুর্গম বনের থেকে ছাতা কাঠ কেটে আনবে ডুংরির জোয়ানরা। সঙ্গে নিয়েছে চাল রুটির পৌটলা নুন আর মরিচ।

ঝর্ণার জলের অভাব নেই।

মুরুং ওদের সাবধান করেছিল- হু'সিয়ার যাবি সাঙ্গীণ বন বটে। হম অরণ্য আদিম যুগ থেকে যেন নিজের স্তব্ধতার অতলে ডুবে ধাকে। দূরে দেখা যায় গুয়ার পাহাড়__ওদিকে নাকি পাহাড় পেরিয়ে গুয়ার কারখানা-হাট। তারও ওদিকে বড়জামদা-_বড়বিলে নোতুন

আদিম আশ্রয়

কল এসেছে! পাহাড় কেটে, ফাটিয়ে লোহা পাথর তুলছে রাতকে দিন করেছে, সেখানে বিজলি বাতি জলে

টুয়াই তাদের স্বজাতি হলেও সে সারান্দা বনের বাইরে পাহাড়ের ওদিকের ডুংরির ছেলে সোনাই মুণ্ডার এখানে কাজ করে। বন- মহাঁজনদের ট্রাকে করে গেছে দেখেছে, বাইরের জগংটাকে ওই গুঁয়া লায়মুণ্ডি সহরকেও।

ছায়ানিবিড় বনের বুক চিরে উঠছে তারা পাহাড়ের দিকে, সঙ্গে নিয়ে চলেছে চামড়ার ছাউনি করা বিরাট বাগ্ি, টাঁনাক, ধাম্সা চড়া, পেটির কুলকুলি। |

বনের গভীরে রেগড়। টামাক-এর বাগ্িটা গুম গুম আওয়াজ্ত তোলে _-ধামসা বাজছে।

_ভুঁড়ি ভুড়ি তাম্‌__বাস্‌কে পটম তাম্‌!

ওরা সারবন্দী চলেছে। ঝপাঝপ ধারাল কুঠারের কোপ পড়ছে লতা, ছোট গাছগুলোর উপর। পথ করে উ/ছে তার৷ পাহাড়ের মাথায়

টুয়াই দেখায়__উই বটে বড়জামদ! হে, উদ্দিকে ঠাকুরাইন পাহাড়:

ধোয়া উঠছেক উটো বটে নুয়ামুণ্ডি। ইদিকে ভাল্‌ স্টাড়া ঠ্যাক ঠ্যাকে পাহাড়।

অবাক হয়ে দেখছে যুরুং। চারিদিকে সারান্দার গতার সবুজ কালে অরণ্া--পর্ত যেন ঢেউ খেলানে।। যতদূর চোখ যায় চলে গেছে পাহাড়ের মীন! পার হয়ে। এদিকের পাহাড়শিরার মাথাটা যেন ধ্বসে পড়েছে-_বিরাট দেহটায় জঙ্গলের সবুজ ভাব নেই। লালচে মাটি-_কালচে পাথরগুলো দেখা যায়। বিশ্রী বেদনাদায়ক বোধহয় ওই দিকটা

কুৎসিত। মুরুং শুধোয়।

_উদ্িক এ্যামন কেনে হে? খাবলে খেয়ে ফেলালে! কে বটে?

হাসে টুয়াই। যুরং এই বাইরের জগৎকে দেখেনি, চেনেও না। তাই টুয়াই বলে।

আদিম আশ্রয়

__দিখুরা পাহাড় ফাটাই বন কাটি সাফ করি দিছে, ওই পাহাড়ের পাথর খুব দামী হে। ইয়া বড় বড় কল বসাই-_ খাবুলে পাথর তুল্ছে। উতে লোহ! হয়__বড় বড় কল বানালো টাটায়_লোহার কল!

মুরুং বুঝতে পারে না লোহার কল বসাবার জন্তে তাদের সুন্দর বন-পাহাড়গুলোকে এভাবে ঘুচিয়ে দেবে কেন?

ছুপুর হয়ে গেছে। যুরুং চুপ করে দেখছে দূরের উপত্যকার বিচিত্র রাজ্যের দিকে ওখানের আকাশ ধোঁয়ায় মলিন, সবুজ ওখানে নিঃশেষ প্রায় রোদের আলোয় দেখ। যায় টিনের লম্বা শেড-_ছোট-খাটে। বাড়ি আর একটা বিরাট কেঁচোর মত কি গড়িয়ে চলেছে

ট্য়াই বলে রেল বটে ! কলে চলে! লুহার লাইন বরাবর গড়- গড়িয়ে ছুটে যায়

সব কাঠ_-ওই পাথর ইসব লিয়ে যায় ইখান থেকে

মুরুং বিস্মিত চাহনি মেলে বহুদূর আকাশপথ থেকে দেখছে ওই জগৎকে যেখানে তাদের বনের সবকিছু চলে যায়।

এখানে অরণ্যের বুকে ছায়া নেমেছে, একটা বর্ণীর ধারে ওরা বসেছে। ডুংরি থেকে আনা শালপাতায় মোড়া দাকা পটম, উড়ু পট- মগ্ডলো বের করেছে সেই ভোরের আধারে 'ডুরখা! ইপিল" অর্থাৎ ওকতার৷ থাকতে থাকতে ওরা ডুংরি থেকে বের হয়েছে কালকের রাধা ভাত আর তরকারীর পুটুলি নিয়ে

এতক্ষণ ধরে বনে পাহাড়ে ঘুরে এবার খিদেও পেয়েছে।

মুরুং চুপ করে বসে আছে। কুইলিকে দেখছে! মেয়েটার কালো নিটোল মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠেছে, মুক্তোর মত টলটল করছে। ডাগর চোখে খুশার আবেশ।

কুইলি-টুলাই-মানু-দোকাই ওরা বসেছে ঝর্ণার ধারে পাথরে হাসে ওরা ওদের হাসির শব্ধ বনে সুর তুলেছে টুয়াই গান ধরেছে। চোখে মুখে বিশ্রী হাসিটা ফুটে ওঠে।

_উল বেল হরমে৷ তাম্‌ হোঁ_

বেল সিজে। তু-আ তাম্‌ হোঁ_

আদিম আশ্রয়

নো। হরমো- নো আ-তো। দে।

মুরুং চমকে উঠে চাইল ওদের দিকে ওই গান লোকালয়ে ওরা গায় না। গান যৌবনের উন্মাদনার গান। আর টুয়াই গান শোনাতে চায় কুইলিকে।

ওর অর্থ তোমার শরীরট। যেন পাকা আমের মত রসাল তোমার স্তন ছুটি পুরুণ্ট বেলের মত সুন্দর

হাসছে ওর! সকলেই।

কুইলি ঝর্ণার জল ছিটিয়ে হাসছে প্রমত্ত একটি ঝণী, যেন বনের গভীরে কলহাস্ত মুখর! রূপে বয়ে চলেছে। যুরুং চুপ করে থাকে। ওই গানটা তার ভাল লাগে ন1।

'-.হঠাৎ কান পেতে কিসের শব্দ শোনে সে।

বনের বাতাসে ওঠে মড় মড় শব্দ সাবধানী সন্তর্পনী ওই শব্দটা থামছে, আবার শোনা যায়। মুরুং ছেলেবেল! থেকে বনে বনে থুরেছে, অরণাই তাকে যুগিয়েছে অন্নজল। মাটির প্রাণীদের সে চেনে ওই পায়ের শব্ধ তার চেনা বাতাসে সে ত্রাণ পায় জানোয়ারদের

জলের ধারে বসে আছে তারা কোন বন্যপ্রাণী আসবে জল খেতে; কিন্তু তাদের দেখে সরে গেছে। মুরুং গাছের ফাঁক দিয়ে দেখছে দূরের পানে, গাছগুলো খাড়া দাড়িয়ে আছে-_-রোদে ছায়ায় ওদের নীচে অন্ধকার নেমেছে মুরুং ধন্ুকট। নামিয়ে একটা তীর বের করেছে।

হঠাৎ শীস্ত বনভূমি ছাপিয়ে একটা চাপা হুস্কার ওঠে।

ওদের কলরব_-গান থেমে যায়। কুইলি আর্তনাদ করে ওঠে। _বাঘ বটে গ।

ওদের আড্ড| ভেঙ্গে গেছে কে কোন দিকে ছিটিয়ে পড়তে চায়।

মুরুংগর্জন করে,_কেউ ভাগৰি নাই, ইদিকে আয়। এক ঠাই হবি। হ্থ'সিয়ার মরদ

ওদের হাতের টাঙ্গি_-ফরশা ভাল্লাগুলো সোজা হয়ে ওঠে। ভয়ে কাপছে কুইলি, টুয়াই !

আদিম আয় ৭,

টুয়াই ততক্ষণে সামনের শাল গাছটার ডাল ধরে লাফিয়ে উঠেছে ।,

কুইলির ব্যাকুল চীৎকার শোনার সময় তার নেই, ডাল ধরে উঠে চলেছে সে উপরের দ্রিকে।

বাঘটা সরে যাচ্ছে এদের চীৎকারে। মুরুং রুখে দাড়িয়েছে। ছ- চোখ জ্বলছে, তার হাতে উদ্যত তীর। কালো পেশীবহুল দেহটা কি এক তেজে ফুলে উঠেছে হঠাৎ পাতার উপর একট! শব্দ তুলে হলুদ একট প্রাণী সামনের ফাকা জায়গাটায় এসে পড়েছে-_ছ্ুচোখে তার ভয়। এদের দেখে ওখানেই শূন্যে লাফ দিয়ে উঠে পালাবার চেষ্টা করে; কিন্তু তার আগেই মুরুং-এর তীরট! গিয়ে শৃন্তেই ওই প্রাণীটার বুক ভেদ করেছে_ মাটিতে পড়বার আগেই দ্বিতীয় তীরটা কাধের কাছে বিধেছে।

সশব্দে মাটিতে, ঝোপ জঙ্গলের (উপর আছড়ে পড়ে বিরাট হরিণটা, বাঘের তাড়া খেয়ে এদিকেই আসছিল সে। বাঘটা এদের দেখে থেমে গেছে-_হরিণটা ভেবেছিল পালাতে পারবে।

কিন্ত তা হয়নি_ মুরুং-এর ছুই তীর বিধে পড়েছে সেটা এদের সামনেই!

ওরা সকলে এবার টাঙ্গির ঘায়ে শেষ করেছে প্রাণীটাকে।

বাঘটার মুখের শিকার কেড়ে নিয়েছে এরা ; তাই যেন চাপা গর্জন করছে সে দূর থেকে

মুরুং গজজায়__সামনে আর দেখবো হে।

কুইলি দেখছে মুরুংকে। কালে! নিটোল দেহে শুধু শক্তি-ই নয় মনের সাহস-__হাতের নিশানাও দেখেছে আজ বিপদের মুখে আজ এদের সকলকে রক্ষার জন্যে রুখে দীডিয়েছিল, আর সেই সাধ্য তার আছে এট। দেখেছে কুইলি।

টুয়াই, টুয়াই হে ! মান। মুণ্ডা হাকছে টুয়াইকে।

টুরাই প্রথম চোটেই ভয় পেয়েছিল বাঘের গর্জন শুনে, বাঘটা যেন এবার তাদের উপরই ঝশাপিয়ে পড়বে, তাই টুয়াই গাছে উঠে পড়েছিল, কিন্ত বাঘটা সরে গেছে মুখের শিকার ছেড়ে--আর সেই শিকার

আদিম আশ্রয়

ছিনিয়ে নিয়েছে মুরুং।

বিরাট হরিণটা এবার ওরা ডূংরিতে নিয়ে যাবার আয়োজন করছে।

টুয়াইও নিজের ভুলট। বুঝতে পেরে এবার সামাল দেবার চেষ্টা করে। বলে।

__দেখছিলাম বাঘটা কোন্দিকে গেল হে।

_ নেমে এসো! ডাকছে ওরা !

টুয়াই এবার বিপদে পড়েছে যতখানি শক্তি নিয়ে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গাছে উঠেছিল প্রাণের ভয়ে, এবার নামবার সময় সেই উদ্চম ফুরিয়ে গেছে। নীচের দিকে চেয়ে ভয় পায় টুয়াই।

বলে-_নামছি হে। যা পিছল-_হড়কে না যাই হে।

কুইলি দেখছে ওই প্রাণীটিকে | ওর সুখচোখে ফুটে উঠেছে বিরক্তির কাঠিন্য।

ঝপ্‌ ঝপ্‌ কোপ পড়ছে মাঝারি একটা শালগাছে, ওরা গাছট। কেটে ফেলে হরিণটার সামনের ছুপা-_-আর পিছনের পা! ছুটো৷ লতা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ওই গাছ পুরে কাধে নিয়ে যাবার আয়োজন করছে।

কুইলি দেখছে টুয়াইকে।

গাছ থেকে ওকে ধরে নামিয়ে এনেছে মানা মুণ্ড ! টুয়াই-এর বিশেষ সঙ্গী সে। লাল পি'পড়েতে কামড়েছে ট্য়াইকে ঝাড়তে বাড়তে টুয়াই এগিয়ে এসে কুইলির দিকে চেয়ে হাসলো

মেয়েটা ফু'সে ওঠে সথরুকে যা ডরপোক্‌ তু-_মাদীটো!। কেনে পালাইলি?

টুয়াই একট্র অবাক হয়। তবু পকেট থেকে ওকে খুশী করার জন্যে একটা সিগারেট বের করে এগিয়ে দেয়।

_লে।

মুরুং দেখছে ব্যাপারটা

কুইলি ফুঁসে ওঠে _সিগ্রাট না খাবো

ওর সঙ্গীদের বলে-_চল রে!

আদিম আশ্রয়

হাসে টুয়াই! নিজেই সিগারেটটা মুখে নিয়ে দেশলাই জেলে সিগারেটট! ধরিয়ে জ্বলস্ত কাঠিট। শুকনে। পাতার ওপর ফেলে এগিয়ে যাবে, হঠাৎ মুরু-এর ডাকে চাইল মুরুং বলে ওঠে।

_ইটা কি রে? বনে বাস করে বনকে জ্বালাইৰি নাকি? লিভোও ইটাকে।

পা দিয়ে জলন্ত পাতাগুলোকে নিভিয়ে ওর মুখ থেকে সিগারেটট' ফেলে দেয় ঝর্ণার জলে। তখন গ্রীষ্মকাল

এখন বনে ঝরাপাতার রাজ্য, সব যেন বারুদের মত দাহা হয়ে আছে। সামান্ত আগুনের ফিন্কিতে সারা বনে ছড়িয়ে পড়বে ওই আগুন।

মুরু-এর ধমকে টুয়াই থেমে গেল।

আজ যুরু-এর কাছে কোথায় নিদারুণ ভাবে হেরে গেছে টুয়াই !

ওরা এবার শোভাযাত্রা করে ফিরে আজ মুরু-এর মনে বিচিত্র একটা সুর ওঠে ছায়ানামা বনে মুরুং হঠাৎ চাইতে দেখে কুইলির ডাগর ছুটো৷ চোখের চাহনি নিবদ্ধ রয়েছে তার দিকে

নীরব চাহনীতে ফুটে উঠেছে বিচিত্র বিস্ময়-__আরও কিছু।

দলর্বেধে এই অরণাভ্রমণ__এই গহন বন আর প্রকৃতিকে চেনাঁ_ কঠিন দুর্গসতার মাঝে জীবনকে দেখা! যেন যৌবনের ধর্ম এখানের মানুষের জীবনযাত্রার আদিম পদ্ধতি

ডুংরির ছেলেমেয়ের এভাবে কোন পরব উপলক্ষ্যে বের হয় বন ভ্রমণে

তাদের একঘেয়ে জীবন “বচিত্রয আনে, নিজেদের শক্তি সাহসটাকেও যাচাই করে নেয় তারা |

সোনাই মুণ্ডা জঙ্গলের আদিবাসী ক'টা গীয়ের মধ্যে প্রভাবশালী লোক এখন এদিকের মান্ুষ্ড যেন বদলাচ্ছে জোট বেঁধে তারাও আগেকার বনের মাঝের নিঃসঙ্গ নির্জন জীবনযাত্রাটাকে বদলাতে চায়।

সোনাই-এর জমিতে__-তার কাঠের কারবারে ছুচার জন কাজ করে। মুনিমজীকে সোনাই মুণ্ডা এনেছে বড়জামদা! থেকে কাজকারবার

১৩ আদিম আশ্রয়

করতে হয় তাই পড়া লিখা জানা আদমীর তার দরকার মুনিমজীর শীর্ন পাকানো চেহারা-লোকটাকে বমতির একদিকে কাঠের গুঁড়ির টাল, কেন্দ্রপাতার আড়তের পাশে একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছে। মুনিমজীও কানে খাকের কলম গুঁজে এসে হাজির হয় সোনাই-যুগ্ডার বাড়ির বাইরের উঠোনে

সোনাই-মুণ্ডা বোরাই সর্দারকে দেখে চাইল। বৈকালের আলো নেমেছে বনে পাহাড়ে। বুড়ো হয়ে গেছে বোরাই, মুখের চামড়াগুলোয় বয়সের ছাপ আকা সারা দেহের চামড়৷ কুচকে গেছে দীর্ঘ বলিষ্ঠ দেহট1 এখন নুয়ে পড়েছে, তবু সরজম দারু। শালগাছে ঘুণ ধরে না বোরাই সর্দার জন্মসূত্রে এই অরণ্যভুমির ভূমিজ সর্দার।

__অতীতের মুণ্ডারা এই অরণারাজোর ছিল সর্বজন সম্মত শাসক তাদের বিধানই ছিল চর*। এখনও গভীর অরণো দেখ যায় পাথরের তৈরি গুহাগুলে।। এখন সেখানে মানুষ যায় ন|।

গভীর অরণ/ নীচে লিগিরদার জলা'__জায়গাট। হয়ে উঠেছে বনের হাতি, বুনো মোষ, বারোশিঙ্গ। হরিণ-সম্ভরদের আস্তানা

চারিদিকে ঘন বন ওই গুহারাজাকে আজ যেন মানুষের দৃষ্টির বাইরে সঙ্গোপনে লুকিয়ে রেখেছে আর সেখানের বড় ব্ড গুহাগুলোয় আশ্রর নেয় বনের প্রাণীরা | |

ববাকালে অরণ্যে মেঘগুলে। পৰতকন্দরে-_দীখ গাছগুলোর মধ্যে আটকে গিয়ে সব বৃষ্টিটুকু নিঃশেষ করে। বধা নামে এই অরণ্যে তখন বাইরের জগতের সঙ্গে এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর সেই মেঘঢাক! বিদ্যুৎ চমকানো! পরিবেশে এই বনরাজ্য আদিমতায় ভরে ওঠে বোরাই এই অরণোর সেই বিস্মৃত যুগের নায়ক।

বাঘ অরণ্যের সুখী প্রাণী তার গায়ে বৃষ্টির জল লাগলে সে বিরক্ত হয়, পায়ে গায়ে ছোয়া! লাগলে চেটেপুটে সাফ না করে থামবে না! বাঘও ওই গুহায় আশ্রয় নেয় সেই বর্ধায়। সেইদিনের আদি- বাসীদের প্রাসাদ আজ পরিত্যক্ত। |

বোরাই যুণ্ডাকে দেখে ভক্তিভরে জ্রোহার করে অনেকেই সোনার

আদিম আশ্রয় ১১

মুণ্ডা মাথাটা তেমন নোয়ায় না। আজ সোনাই মুণ্ড জানে বোরাই সর্দারের মূল্য কতটুকু। অতীতের অরণ্যজগতের ধ্বংসতৃপ মাত্র। আর লোকটার জনিজারাতও কিছু নেই। তার বংশও ফৌত।

ভাই বাছুমুণ্ডার ঘরে একট। চালায় পড়ে থাকে, টুকটাক জড়িবুড়ির ওষুধপত্র দেয় আর মাদন। কুদ্‌রো৷ টাঁড়াবারো৷ এই দেবতাদের কথা৷ বলে, মাটিতে ভর দিয়ে ওর নুয়ে পড়া দেহটা টেনে টেনে বলে, যেন একটা বাজপড়া শালগাছ--খোলসটাই দাড়িয়ে আছে। ভিতরে ওটা ফৌঁপর। হয়ে গেছে। একটা দমকা ঝড়ে যে কোন মুহুর্তে উপড়ে পড়বে।

বোরাই সর্দারও জানে সোনাই-এর টাকার গরমের কথা আর বাইরের দিখুদের সঙ্গে ওর মেলামেশার কথাও শুনেছে কে একটা বাবুই দড়ির বোন। মালি এগিয়ে দিয়ে বলে__

বোসো সর্দার

বোরাই শুধোয়_ পোলাগুলান ফিরেছে ধন থেকে?

সোনাই মুণ্ড! প্রথম থেকেই চটেছিল, সে দিনভোর ওই ছেলেদের কাজ কামাই করে বনে বনে ঘোরাট। পছন্দ করে না তার অনেক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে বোরাই সর্দার বলে__-বনে বাস করবি, ইখাঁনে মানুষ হবি ইখানের বনকে চিনবি নাই তুরা; কতো! বুর-__কতো বোঙা তাদের জোহার করধি নাই ; ছাতা নামবেক, বস্ুমতী শেতলা হবেক।

সোনাই মুণ্ডা কিছু বলার আগেই এখানের মানুষজন বৃদ্ধা তোকি বুড়িও স্বীকার করে

_হ্যা। ঠিক কথা।

তাদের কাছে এই অরণ্য পৰত দেবতাবিশেষ

বোর়াই বুরু অতীত আরণ্যক জীবনের প্রতীক

এখন হবার ঝড়ে কাপে এই অরণা, বজাঘাতে যেন পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে াবে-বুষ্টির কালে! মেঘ মাধার করে তোলে বনরাজাকে। বনে ওঠে যত বাঘের হুঙ্কার, ধানক্ষেতে নামে অরণে।র কালে। যমদূতের মত্ত বুনো হাতির পাল ওদের মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নেয় _-জানে-

১২ আদিম আশ্রয়

প্রাণে শেষ করে দেয় সেই অশুভ আরণ্যক শক্তি !

তাকে আজও মানে- ভয় করে এরা

তাই বোরাই সর্দারের কথায় ডুংরির সকলেই বলে-_

_যাঁবেক গ! বনে যাবেক উরা।

সোনাই যুণ্ডা প্রতিবাদ করতে গিয়েও থেমে গেল।

জানে ওর প্রতিবাদ এরা মানবে নাঁ'

তাই বলে ওঠে সোনাই মুণ্ডা।_তবু যেয়ে কি ভবেক ? বনে বনে কেনে ঘুরবেক 1

বোরাই-এর জীর্ণ দেহখানা কিপে ওঠে। লাল সিন্দুরমাথা কপালটা শক্ত হয়ে ওঠে ওই প্রতিবাদে

বোরাই-এর গলাটা ভারি হয়ে ওঠে এমনি প্রতিবাদ শোন! তার অভ্যাস নেই। এতকাল বোঙার থানে নসে যা বলেছে সে-_এখানের মানুষ তাই শুনেছে মুখবুজে।

আজ বোরাই দেখেছে সোনাই মুণ্ডার মুখচোখে কি জ্বালা

বোরাই সর্দার বলে-__য! বলছি কর তুবো। দিখুদের সাথে ভাব করে তু পয়সার লালচ দেখেছিস সোনাই ইটা ভালো লয় হে। বনে বাস করে বনের কানুন মানতে হবেক |

সোনাই চুপ করে থাকে।

ডুংরির ছেলেদের তাই আর বাধা দেয়নি সোনাই তবে রেগেছিল আরও তার মেয়ে কুইলিকেও ওদের সঙ্গে যেতে। অবশ্য মেয়েদের অনেকেই গেছে-_কুইলিকে তবু যেতে দিতে চায়নি সোনাই তবু গেছে সে, আর তার রাগটা সেই কারণেই।

বৈকালে বোরাই সর্দারকে এসে হাজির হতে দেখে চাইল সোনাই

বোরাই তালাস নেয়__উরো ফিরলো! নাই ইখনও ?

সোনাই বলে--তাই ভাবছি।

বৈকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। পাহাড়ঘের! উপত্যকার বনে বনে আধার জমেছে। অরণ্যভূমি তখন ভয়াল হয়ে ওঠে গ্রামবসতটুকু হারিয়ে যায় সেই তমসায়। আদিম অরণ্য স্বতন্ত্র রূপ নিয়ে জেগে ওঠে।

আদিম আশ্রয় ১৩

ভাবনায় পড়ে সোনাই মুণ্ডা

কয়েকদিন আগেই একটা দলছুট হাতিকে দেখা গেছে বনে বনে বুরতে শয়তান বুনো মোষ আছে--আর আছে ভালুক। মাঝে নাঝে হ-একজন মারা পড়ে ওদের আক্রমণে

বোরাই সর্দার বলে--ভাবনার কি আছে হে? এত গুলান জায়ান রইছে. মুরংও সাথে গেছে। হ্যা মরদ বটে উ! কুন ডর নাই।

সোনাই মুণ্ডা গজে ওঠে_মুরুং কি করবে হে?

হাসে বোরাই সর্দার-লড়বে বটে। উর তীর ভাল্লাকে সবাই ঢরানে। এসে পড়বে ইবার ! ছাতা বুরু তো ঢেক পথ

তুহাত তুলে বোরাই সর্দার ছাতাবুরুর দেবতার উদ্দেশ্যে জোহার জানায়

সোনাই বলে-_

_আর ইসব চলবেক নাই সদর, ছাতাবুরুর দফাও এবার শেষ করবেক ওই কোম্পানী। ওখানে নাকি লোহা-পাথর পেয়েছে। ওখানে বেলাসটিং হবেক

চমকে ওঠে বোরাই সার-_হাতাবুরুর বোঙা ইসব সইবে নাই গ। দেখে লিও তুমরা

অন্ধকার স্তব্ধ বনে বনে ধামসা, রেগড়া, টামাক, কুলকুলির শব্দ ওঠে।

ডেন্‌ সা পটম্_দ্রাম্‌ গিড়গিড়।

ডেন্‌ সা পটম্_ দ্রাম্‌ গিড়গিড়__

ওই গুরুগন্ভীর শব্ট| ছাপিয়ে বুনো মোষের শিঙের তৈরী শিঙ্গারে তীব্র স্বর ওঠে ডুংরিতে কলরব ওঠে, ঘর থেকে মেয়ে মদ্দ বের হয়__আইছে গো- আইছে উরা।

আধার বন ফুড়ে মশালের আভা ওঠে। সেই আদিম লালাভ আলোয় দেখা যায় বলিষ্ঠ মুরুকে। হাতে ভল্লা-_ওদের কাধে ঝোলানো বিরাট হরিণটা। পদশ্রমে ক্লাস্ত তবু মুখে ওদের জয়ের মানন্দ। মেয়েরা কলকলিয়ে ওঠে সেই বিশাল হরিণটাকে নামানো

১৪ আদিম আশ্রয়

হল। ছাতাবুরুর প্রসাদ ওটা ডুংরির সকলেই বের হয়ে আসে

আর মুরুং আজকের নবনায়ক।

সোনাই মুগ্ডার চোখ দুটো! জ্বলে ওঠে। টুয়াই এতক্ষণ চুপকরে আসছিল ওদের সঙ্গে। এবার মালিকের কাছে এসে দীড়ায়। সোনাই দেখছে ডুংরির বীর গানুবগুলে। বোরাই সর্দারের ভাইপো মুরংকে লিয়ে পড়েছে.

বোরাই সর্দারের চোখগুলে। কি আনন্দে ঝক্ঝকিয়ে ওঠে বুড়োর কেউ নেই তার +ংশের একমাত্র টিকে আছে ওই ভাইপো মুরু-_তার ভবিষ্যৎ বংশধর, সর্দার বশ। ধনের আদিবাসীদের কাছে ওরা পুজ্য। আজ মুরুংই তার গান রেখেছে।

মুরকে ঝুকে জড়িয়ে ধরে বোরাই সর্দার।

টুয়াই এক ফাকে সরে যায়। তার ননের গভারে জ্বালাট। তীব্রতর হয়ে ওঠে। আজ ওকে এরা কেউ ছেপে না। কুইলিও সারা পথ তার সঙ্গে কথা বলেনি এডিয়ে গেছে তাকে কুইলি ফু'সছিল।

_মরদ ! উটা একটা শিয়াল!

কুইলিও সারা নন বিরক্তিতে ভরে ওঠে টুয়।ই-এর উপর

টয়াইকে ওই মেয়েট। সহ্য করতে পারে না। তার বাবা সোনাই মুণ্ডা যে কেন ওই ছেলেটাকে এত আস্কারা দেয় তা জানে না।

টুয়াই তাদের বসতির কেউ নয়। পাহাড়ের ওদিকে দিখুদের বসতি ওপাশে টুয়াইদের ঘর। ছেলেটা বড়জামদার ইন্কুলে পড়েছিল হিসাব কিতাবও জানে আর তাই সোনাই মুণ্তা গুয়ার হাটে গিয়ে ওকে দেখেশুনে নিয়ে আসে এখানে

টুয়াই ক্রমশঃ এখানে মানুষদের উপরও তন্থি চালায়

সোনাই মুগ্ডাকে কাঠের কারবারে নামিয়েছে টুয়াই। আর মাঝে মানে ঘোড়ায় চড়ে, নাহয় কাঠমহাজনদের দ্্রীকে গুয়া_ বড়জামদায় যায়। বাবার পাওন! টাকা-কড়িও আদায় করে আনে। কুইলির উপগন গ্ভাই যেন ওর দাধী আছে। তাই জালাতন করে প্রায়।

আদিম আশ্রয় ১৫

সেদিন টুয়াই ওকে খুঁজছে

কুইলি জানে ছেলেটার মতলব ভালে! নয়। পুরুষের চোখের হনি দেখে কুইলি বুঝতে পারে ওর মনের ভাবগতিক টুয়াইকে চাই এড়িয়ে চলে মেয়েট!।

সেদিন বর্ষা নেমেছে মাঝে মাঝে এক একটা কালে! মেঘের গাছগাছালি ছেয়ে নেমে আসে, পাহাড়ের উপর সেই সাদ মেঘ- লো ধৌয়। “ধোয়। পুঞ্জের মত এসে জনে গাছের ভিড়ে_বৃষ্টি নামে ারিদিকে আধার করে।

বনে কাড়ান, কুড়কি, ছুর্গা গাতু গজায়। সবুজ লালচে মাটিতে 77: ধপধপে ওই ছাত্নগুলে। পদ্মধুলের নত ফুটে ওঠে। কুইলি, সতির আরও ক'জন ণেধে বের হয়েছিল ছাতু তুলতে বুনো আনও এখনও ফুরোর নি। নিশ কালো খিরাট গাছগুলোর ডালে ডালে সই কাচ। আনগুলে। বতাসে দাল খায়। ওদের পাথরের ঘায়ে ছিটকে পড়ে।

কুইলি দলছুট হরে ছাতু তুলছে, ,ঝ,রাটার লালচে মাটি ধোয়। জল নামেঃ শিজন বনে ওই জলধারার সুর ওঠে। তখনও থমথম করছে কালে। আকাশ সবুজ ঘন শাল--ধ-আসানগাছের পাতায় জমে থাক। জলকণাগ্ুলে। টুপটাপ শব্দ তুলে বনের এঁকাতানে একটি রেশ এনেছে, ধধার রেশ একটা পাহাড়ী ময়না কোথায় যেন ডেকে চলেছে।

কুইলি মুগ্ধ দৃষ্টিতে অরণোর এই ছায়াঘন রূপের অতলে হারিয়ে গেছে। হঠাৎ সামনে টুয়াইকে দেখে চাইল।

টুয়াই-এর পরনে দিখুদের মত প্যান্ট, পা ছুটো হাটু অবধি গুটিয়ে তোলা। টুয়াই বলে।

_-কতে। খজলম তোকে গ্যাখ গুয়ার হাট থেকে কি এনেছি ব্টে।

টুয়াইকে এখানে দেখে ঘাবড়ে গেছে মেয়েটা। আশেপাশে 1

১৬ আদিম আঁশ

টুয়াই পকেট থেকে একটা সাদা বডদান! পুণতিরমালা! বের করে এগিয়ে আসে, বলে চলেছে-_খাসা সোন্দর মানাবে তুকে।

খপ. করে টুয়াই ওর হাতট। ধরে এক ঝটকায় কাছে টেনে নেয়, কুইলি এমনি আক্রমণের জন্য তৈরি ছিল না। অতঞ্কিত টানে ওর গায়ে পড়েছে, ছোট কাপড়খানা সরে গেছে, শালবনের ফাক দিয়ে লুকিয়ে ছাপিয়ে আসা একফালি আলোর ওর নিঢোল অনাবৃত ভরাট দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর টুয়াইও বনের ক্ষ্যাপা জানোয়ারের মত ওকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে__যেন পিষে ফেলতে চায় তাকে। ছিটকে পড়বে কুইলি আর ওই তুবুক্ষু জানোয়ারট1 গর বেবশ দেহটার উপর ঝাপিয়ে সবকিছু লুটে নেবে ?

কুইলি চমকে উঠেছে--এ্যাই টুয়াই-্য়াই !

ছেলেটা যেন এক জানোয়ারের মত রক্তলোভী হয়ে উঠেছে। কুইলির সারা দেহ অবশ হয়ে আসছে, প্রাণপণ শক্তিতে মেয়েটা রুখে দীড়াবার চেষ্টা করে, পাহাড়ের গায়ে হাত দিয়ে অবলম্বন খুঁজছে, হঠাৎ বৃষ্টির জলে আলগা হয়ে যাওয়া একটা পাথরের টকরো ভাতে পড়তে সেটাকে ছাড়িয়ে নিয়ে সবশক্তি দিয়ে কুইলি আঘাত করে টুয়াই-এর কপালে, পর পর আঘাত করেছে_হাতে ভিজে রক্ত লাগে মেয়েটা ওই রক্তের ছোয়ায় যেন ক্ষেপে উঠেছে !

টুর়াইও এই আঘাতের জন্য তৈরি ছিল শা; কপালেই লেগেছে পাথরটি--রক্ত গড়িয়ে পড়ে। চোখটা যেন ঢেকে আসছে ওর হাতের বাধন শিথিল হয়ে যেতেই লাফ দিয়ে সরে যার কুইলি।

বনের ঢালু পাহাড়ী পথে তাড়া খাওয়। হরিণীর মত ছুটছে মেয়েটা

'-"সেই ঘটনাটা আজ মনে পড়ে কুইলির। টুয়াই অবশ্য বসতিতে কিছু বলেনি। কুইলিও সেদিন চেপে গেছল ব্যাপারটা কিন্ত সেদিন থেকেই মেয়েটা বদলে গেছে। মে দেখেছে বসতির অন্যান্য ছেলেদের মুরুংকেও দেখেছে।

বলিষ্ঠ সতেজ সারজম দার-_শালগাছের মত খু দেহ। বোরাই সর্দারের ভাইপো ওই ছেলেটাকে দেখে মনে হয়, টুয়াই-এর থেকে

চি

আদিম আশ্রয় ১৭

অনেক ফারাক! এত লোভী-_নীচ নয় ওই মুরুং |

আজ ছাতাবুরুতে দেখেছিল ওই ছেলেটির বলিষ্ঠতা। মরদের মত রুখে দাড়িয়েছিল ভল্লাহাতে দলের নিরাপত্তার জন্য, আব ওই লোভী টুয়াই তখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে গাছে উঠেছিল।

..."রেগড়া টামাকে স্থুর ওঠে কুলকুলিট। চড়া সুরে বাজছে। রাতের অন্ধকার অরণোর নাঝে মাদলের ড্রিম দ্রিম শব ওঠে। বোডার থানে ছাতাপরবের নাচ গান শুরু হয়েছে।

তাদের উৎসবের পবিভ্রতামণ্ডিত সুরে টেমকি বাজছে দান্সা পটম্‌, তাম গুড় গুড় !

ডু'রির ছেলেমেয়েদের যেন ডাকছে ওই মাদলের শব্দ, বাঁশীর সুর

কোন্‌ আদিন আরণাক জীবনে যৌবনের প্রতিষ্ঠার সুর নিয়ে ওই শব্ট] প্রকৃতির নির্জন অসীমে ছড়িয়ে পড়ছে

গহণ অরণ্য, শাল তামাল মহুয়! গাছের জটলা, অন্ধকার ঘনতর হয়ে ওঠে পাহাড় বনে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে কটরা-_সম্ভরের ডাক।

বোঙার থানে কয়েকটা তেলের মশাল পৌতা হয়েছে লালচে আলোর আভা ওঠে, কাল্চে ধোয়া, ওই আলোর আভায় দেখা যায় সারবন্দী ছেলেমেয়েদের মাঝখানে মাদল বাজাচ্ছে কালে পাথরকু'দ। দেহ নিয়ে মুরুং। মশালের আলোর সঙ্গের পাথরের মতি দলে মনেহয়।

ননের কলাগাছ, শালকাঠ পুড়িয়ে ক্ষার তৈরি করে তাই দিয়ে কাপড় কাচে এরা সাদা শাড়িতে বলিষ্ঠ দেহের রেখাগুলো। সোচ্চ।র | নাচের তালে তালে কাপছে ওর দেহ মাথায় গুজেছে কৃচি__বনগুলঞ্চ- লালবরণ ফুলের থোকা

রাতেব অন্ধকারে ওদের সুরট। কেঁপে কেপে ওঠে নিজন বনরাঁজ্যো

নিত পউড়ি তাড়াম্‌ তাড়াম্‌।

বার পউড়ি তাড়াম্‌ রে

তায়ম সেতেন ক্যাস্থ রুসাদ

চেলে চেলেকো মেন! কাতাম প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমিকা গৃহত্যাগ করছে। রাত্রির *অন্ধকার

১৮ আদিম আশ্রয়

নেমেছে প্রেমিকা একবার সামনে আবার পিছনের দিকে চাইছে, তবু কি নায়া কাটানে। দায়। এক পা! সামনের দিকে চলেছে_ অন্ত পা যেন পেছনের দিকে তাকে টানছে।

তাদের যৌবনের কামনার গান

প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শে তাদের জীবন কাটে অরণ্যের নিজনে তাদের দিনগুলো আসে শৈশবে, কৈশোরে-_কৈশোর থেকে মত্ত যৌবন নিয়ে। -প্রকৃতির বুকেও আসে নব কিশলয়ের জন্ম-_-একটা গাছ ধারে ধীরে বেড়ে ওঠে। তার শৈশব-কৈশোর থেকে আসে যৌণন। পাতা ঝরে আবার নতুন পাতা আসে তাদের কাণ্ডের গভীরে এই বর্ষ- চক্রের চরণচিহ্ছ অ:ক। হয়ে যায়। ক্রনশ; সেই ছোট গাছটা সতেজ দীঘল কাণ্ড নিয়ে মুক্ত আকাশে মাথ। তোলে, বনস্পতিতে পরিণত হয়। তাদের শাখায় শাখার আশ্রয় নেয় পাখীর দল গান গায়-_ পেন নিবেদন করে, বংশবৃদ্ধি করে তার!

এই মাটিতেও আসে শস্তের ইশারা__পুনতার ইঙ্গিত। গ্রীষ্মের জাবদাহের পর নামে কালে। মেঘের দল আকাশ ছেরে ছেরে আবার বৃষ্টিতে ধরণী হয় উবর।_খতুনতী। আসে ফসল বোনার পাল।।

-এখানের যৌবনও তাই নিজেকে ছড়িরে দিতে চায় নারী পুরুষের মন জানাজাশির পালা বংশ বুদ্ধির পপ্প জাগে ওদের মনে প্রকৃতির নিয়মে গর! তাই জেগে ওঠে।

দ্রিম ড্রিম _মাদল বাজে ঝড়ে কাপা শালবনের মত যৌবনোদ্ধ ময়েরা ওর কোমর ধরে নাচছে, মাদলের তেহাই-এ ওদের ঘা পিছলে হেলে গিয়ে উদ্ধত নিটোল বুকের রেখাগুলে৷ ছুবার হয়ে ওঠে

ওই নাচের মন্ততা় ওরা আদিম রাত্রির অন্ধকারে মাতন এনেছে

পাহাড় বনে রাত্রি ঘনিয়ে আসে, ক্রান্ত পরিশ্রান্ত ছেলেমেয়েদে; মানষগ্চলোর সার। মনে নদের জড়তা ওদিকে গাছের ডালে টাঙ্গানে ছিল বিরাট হরিণের দেহটা-নীচে আগুন জ্বেলে ওটাকে ঝলসানো হরেছিল, সবটাই করিয়ে গেছে, পাঁ-টা ঝুলছে গাছের ডালে-_নীচেকার কাগের আগুনও নিভে গেছে। শুধু কামনার উত্তাপ নিয়ে গন

আদিম আশ্রয় ১৯

করছে কাঠকয়লার নিভু নিভু আগুন। মদের হাড়িগুলো শুন্ত এখানে-ওখানে গড়িয়ে পড়েছে নিদ্রামগ্ন কিছু বেবশ মানুষ, হু-একজন তখনও গাছে হেলান দিয়ে বিমুচ্ছে। মুরুং আর কুইলি ফিরছে ঘরের দিকে কুইলিকে পৌছে দিয়ে মুরুং ঝোরার ধারে তার নিজেদের ঝুপড়ির দিকে যাবে। কুইলির ছুচোখে নেশার জড়তা ওর প্রচণ্ড দেহণনে কি সাড়। জাগে। মুর দেখছে ওকে

_-আাই। কুইলির বেবশ দেহে কি উত্তেজনার সাড়া

কুইলি যেন চলতে পারে না। মুরু-এর নিটোল দেহটাকে জড়িয়ে গলেছে সে। মুরুং-এর সারা দেহ মনে যেন ঝড় উঠেতে ওই উত্তপ্ত ছোর1-_কুইলির মাতল।কর। ভাসি এই নিজনরাত্রির পরিবেশে মুরু-এর সব চেতনাকে যেন বিভ্রান্ত করেছে।

কিন্ত মুরুং জানে কুইলির বাবা সোনাই মুণ্ড। দ্রিগরের নস্ত লোক। তার তুলনায় মুরু-এব কিছুই নাই। দিনমজুরিও করতে হয় তাকে ওই সোনাই মুণ্ডার জমিতে-_-কাঠের কাজে। নিজেদের বংশের নামটাই আছে বোরাই সর্দারের ভাতিজা সর্দারের বংশ

একদিন এই অরণ্য পৰতে তাদের পুর্ব পুরুষেরাই রাজা ছিল আজ সন হারিয়ে গেছে তাদের নতুন দিন বদলের পালা বনের ভিতরেও এসেছে চুপে চুপে সোনাই সেখানের প্রথম পুরুষ। এদের কোন পরিচয় প্রতিষ্ঠা আজ নেই।

মুরু-এর কাছে ওটা যেন একটা পরিহাসের ব্যাপারই বলে বোধহয়। তাই কুইলির দিকে এগোতে চায়নি সে।

বাধা দেয়-_এ্যাই কুইলি? না-নারে : ঠিক লয়।

গোড়াবুরুর শালবনের মাথার আকাশে চাদ ঢলে পড়েছে। তারাগুলে। সব স্থির হয়ে যায়। রাতের বাতাসে ভেসে আসে কটরা হরিণের ডাক, কোথায় হাড়গুরম পাখী ককিয়ে উঠলো কুইলি দুহাত দিয়ে মুরুংকে কাছে টেনে নিয়ে ওর দেহটাকে নিবিড়ভাবে ছুয়ে বলে, _ডরে যি সিটিয়ে গেলি মরদ? তখন তো! বনের বাঘকে হাকড়ে

২০ আদিম আশ্রয়

উঠলি, এখন? এত ডর্‌ তুর!

মুরুং দেখছে কুইলিকে। ওর ছুচোখে তারার ঝিলিক। যৌবন- মদির দেহের উত্তাপ মুরু-এর বলিষ্ঠ দেহে মাতন এনেছে। ওর সারা দেতে একটা তীব্র মাদকতা-_মনে হয়, কঠিন নিম্পেষণে মেয়েটাকে সে গ্রাস করবে।

তবু মুরুং মনের অদম্য কামনাটা চেপে থাকে সে ভয়ও করে তাকে কুইলি নয়__সামনে যেন সারান্দার কোন বাঘিনীকেই দেখছে সে।

কুইলির সারা অগুপরমাণুতে চাঞ্চল্য জাগে, সগ্ভজাগর নারীমন আজ এই রাতনিজন প্রকৃতির উদার শুব্ধতায় নিজেকে পেতে চায়, পেতে চায় অনেক কিছু

মুরুং বলে__রাত শেষ হয়ে আসছে ডুরখা ইপিল উঠলো রে। ঘরকে যা।

শুকতারা উঠেছে আকাশে কুইলি আজ যেন বদলে গেছে! ওকে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে বলে ওঠে গেয়েটা

__ওই ডুরখা ইপিল সাক্ষী থাকলে! মুরু-আমি তকে ভালোবাসলম, তু আমার জামরাগ বটিস্‌ হে। ধরম সাক্ষী__

চমকে ওঠে মুর কুইলি? কি বলছিস?

..”কুইলির ছৃহাতের বাঁধনে আজ যেন চিরদিনের জন্য বন্দী হয়ে গেছে মুরু-এর নলিষ্ঠ দেহটা শিশির-ভেজা ঝরাপাতার বুকে ওদের যৌবনমন্ত দেহ ছুটো৷ এক হয়ে গেছে। টুপটাপ শিশিরবিন্দু ঝরার নিঃসঙ্গ শব্দ ওঠে বনরাজ্য--বাতাসের স্থুরে মিশছে ছুটি মানুষের বুকভতরা তৃপ্তির নিঃশ্বাস। কি পূর্ণতার গভীরে হারিয়ে গেছে ছুটি মানবিক সত্বা প্রকৃতির এই অখণ্ড বৈচিত্র্যভরা স্তব্ধতার রাজ্যে ছুটি চেতন] কোন গভীরে অবলুপ্ত হয়েছে

'."টুয়াই চমকে ওঠে। ওদের কথা শুনে

তার চোখের সামনে ফুটে ওঠে ওই দৃশ্যট!। তারার আব্ছা আলোয় ট্রয়াই জেগেছিল। ওই নাচের আসরে সে যায়নি, সন্ধ্যার

আদিম আশ্রয় ২১

পর নিজের ঝুপড়িতেই বসেছিল, অবশ্য টুয়াই শুধু শুধু বসে থাকেনি চোলাই মদের অভাব ভার নেই। তাই গিলেছে।

বাইরে ওই বোঙার থান-এর দিক থেকে মাদলের শব্দ ভেসে আসে, ওদের গান শুরু হয়েছে দেখেছে টুয়াই কুইলিকেও সারি-সোরীদের সঙ্গে সেজে বের হয়ে যেতে।

টুয়াই-এর দিকে চাইল ন|। কুইলি যেন চেনে না ওকে। টয়াইও গুম হয়ে বসে থাকে, মনের রাগট। চেপে সোনাই মুণ্ডাকেও দেখেছে টুয়াই !

লোকটা চায়নি কুইলি যাক ওই আসরে, কিন্ধ বোঙার দোহাই একেবারে উডিয়ে দিতে পারেনি বোরাই সর্দারকে না মানলেও তাকে অগ্রাহ্া করতে পারে না সোনাই মুণ্ডা তার সব প্রতিষ্ঠা দিয়েও: ট্য়াই আনে এসব খবর |

তাই মুরুকেও সোনাই মুণ্ডা দেখতে পারে না। টুঁপকরে সহ্য করে তাকে।

"বাত নেনেছে।

টুরাই-এর সারা দেহদনে এদের নেশ। কি তীব্র জ্বাল! ধরিয়েছে

বুম আসে না টুয়াই বের হয়ে আসে

চারিদিকে সত অরণ্য। আধার নানবে অরণাভূমিতে। টুয়াই সুঁড়ি পথ ধরে এগিয়ে ঘায়--বোডার থানের দিকে। ভিজে ভিজে গন্ধ জাগে বাতাসে একটা খরগোস ওকে দেখে লাফ হিয়ে বনে ঢুকে গেল। স্তধতা নেমেছে

ওদের গান থেমে গেছে। 'পাঙার খানে পড়ে আছে কয়েকজন, নেশার ঘোরে অচৈতন্ত ন1 ঘুমুচ্ছে ঠিক বোঝা যায় না।

মুরু-কুইলির দেখ! নেই, টুয়াই অবাক হয়! ফিরছে সে, হঠাৎ ঝোপের ধারে কাদের কথা শুনে চাইল, ছুচোখ রগড়ে নিয়ে চনকে ওঠে টুয়াই।

আবছ। অন্ধকারে এই শিয়াল যেন ঝোপের আড়াল থেকে চেয়ে দেখছে ওদের! টয়াই-এর দুচোখ জ্বলে ওঠে কি প্রতিহিংসার জবালায়।

২২ আদিম আশ্রয়

কুইলির উছল হাসির শব্দ শুনেছে, দেখেছে তার দৃচোখ কি বাঁধন- হারা মন্ততা। মুরু-এর বলিষ্ঠ দেহটাকে ঘিরে আজ মেতে উঠেছে মেয়েটা-যেন বাতির আগুনে ঝাপ দিয়ে পড়েছে একটা রঙিন প্রজাপতি কি ছুবার কামনার জ্বালায়

ছুটে! দেহ এক হয়ে যায়, ভিজে ঝরাপাতার বুকে ওঠে তুপ্তির শিহর। টুয়াই তার নিজের সবনাশটাকে ন্বচক্ষে দেখেছে মনে হয় লাফ দিয়ে পড়বে, দুহাত দিয়ে মুর-এর কণ্ঠনালী টিপে ধরে ওকে শেষ করে দেবে।

কিন্তু পারে নাঁ_মুরকে আজ ভয় করে সে। জানে ওর শক্তির পরিচয়। টুয়াই সরে এল

তখন কি উত্তেজনায় কাপছে ওর সার৷ দেহ। একটা ধূর্ত শিয়াল যেন বাঘের শিকার ধরা দেখে ভয়ে পালিয়ে এসেছে

ঘুমোয়নি সোনাইমুণ্ডা |

আজকের ওই বোরাই সর্দারের ব্যাপার তার অনুশাসনটাকে মানতে চাম্বনি সোনাই। আজ তার দিন বদলাচ্ছে, দেখেছে ওই সর্দার বোঙা আর কিছু মানুষ কোন অজান। ভয় দেখিয়ে এই আদি- বাসীদের পদে পদে বাধা দিয়েছে এগিয়ে যেতে ওদের অন্ধকারেই রেখেছে নিজেদের কুসংস্কারের গণ্তীর মধ্যে, সোনাই-এর প্রতিষ্ঠা সেখানে বাধ। পেয়েছে

সোনাই মুণ্ড চেয়েছিল এই বাধাগুলোকে ভাঙ্গতে আর নিজের স্বার্থে ওই মানুষগুলোকে তার পায়ে মাথ। নীচু করাতে নতুন এক প্রয়োজনের চেতনাকোধ দিয়ে। সেট। হচ্ছে টাকা, কিছু পাবার লোভ। সেই লোভে ওর। সোনাইকে শ্রদ্ধা জানাবে।

সোনাই মুগ্ডা বনের সীমানার বাইরে বড়জামদ'?, বড়বিল, গুয়।- ছু, একবার চাইবাসা সহরেও গেছে। দেখেছে অথের প্রাচুষ একশ্রেণীর লোক সেখানের অনেক কিছু লুটে নিচ্ছে।

তার মহাজন বিমলপ্রসাদজীকেও দেখেছে লোকটা দেখতে

আদিম আশ্রয় ২৩

দেখতে যেন ফুলে ফেঁপে টাকার কুমীর হয়ে উঠেছে। পাহাড় ফাটিয়ে লোহাপাথর তুলছে-_-বনের তামাম লগ. কাঠ নিয়ে গিয়ে ট্রেনে চালান দিচ্ছে, বিরাট প্রাসাদই তুলেছে প্রসাদজী-_গাড়ী-ট্রাক__বাড়িতে, বাতাসে গান ভেসে আসে, যন্ত্রে স্থুর বাঁজে ওর বাড়িতে সোনাই-'এর মনে ওই সব পাবার স্ব জাগে

বিমলপ্রসাদজী বলে __রুপেয়া সোনাই, রুপেয়া কামাই করে! দেখবে সবকোই তুমাকে পচাহান্বে, মানবে জামানা বদল গিরা আি।

সোনাইও ভেবেছিল টাকার লোভে সকলেই আসবে তার কাছে। বনের সব কিছুর নায়ক হবে সে।

ডর ধনের আরও বসতির সবাই তাকে মানবে তাই সোনাই এখানে লোক লাগিয়ে বনের কেন্দুপাতা তোলার ইজার। নিয়েছে কাঠমহাজনদের কাজের লোক যোগান দেয়, বনবিভাগ থেকে ব্যবস্থ। করে নিয়েছে জমিজারাত। কিন্ত তবু দেখেছে এখানের মানুষগুলো যেন কোথায় আদিন, বন্যই রয়ে গেছে।

হাড়িযা পেলে সেদিন বেদম গিলে পড়ে থাকে ঝুপড়িতে, কাজেও যাবে না মুনিমজী বকাঝকা করে-_তামাম পাত্ত পড়। হ্যায়, খারাপ হো যায়েগ|।

ওর কোন্‌ পরবের গন্ধ পেয়ে বেহু'স হয়ে পড়েছে মদের ঘোরে, তাই জবাব দেযু__নাই যাবে৷ গ!

ওদের পরনে একটু মাত্র কাপড়, আর খাবার বলতে ওই ভাত, সঙ্গে নুন, ঘরের গাছের কীচা-লঙ্ক।। তার বেশ আর প্রয়োজন নেই। তাই ওরা স্বাধীন।

সোনাইও জানে সেই স্বাধীনভাবেই থাকতে চায় তারা

টুয়াইকে তাই রেখেছে সে যেন ওই আপনভোলা৷ অল্নে তৃপ্ত অদিবাসীদের সামনে বিলাসময় জীবনের ইঙ্গিত হিসেবে। টুয়াই প্যান্ট জাখা পরে, জুতা পরে মশমশিয়ে হাটে-__সিগারেট খায়। আর দাপটের সঙ্গেই চল! ফেরা করে। যাতে ডুংরির ছেলেদের ওই জীবনে মোহ আসে।

২৪ আদিম আশ্রয়

কিন্ত তাতে ওই বোরাই সর্দার বলেছিল; বস্থুমতীর বুকে চামের লাথি মারবা নাই হে ছুকরা। উসব ঝলর-মলর পুষাক কি পরো ইখানে ? সোনাই সেখানেও বার্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে তাদের সামাজিক ব্যাপারেও তার কোন নির্দেশই ওর! মানে না

সেদিন গিরি হো সোম কৌটা নয়াবসতির কানাই- এর সঙ্গে ভেগে গেল। কানাইটাকে কাজ দিয়েছিল সোনাই মুণ্ডা। টুয়াইকে সেও মানতো |

ওদের পালানো নিয়ে হৈ চৈ হয়ে গেল ডুংরিতে। সোনাই বলে, _-কি এমন খারাপ কাজ করেছে কানাই ? উরা ফিরে আইল, বিহাসাদী দিয়ে দে।

গর্জে উঠে বোরাই সর্দার। সমবেত হয়েছে তারা বুদ্ধবটের নীচে ওই প্রশ্নের বিচির করতে গিরি হো অভিধোগ এনেছে _-কানাই জোর করে মেয়ের ধরম লিছে। একজনের ঘর ভাঙ্গিছে, উর বিচের হবেক।

খানিকট। তাই-ই ঘটেছে কানাই মদ খেয়ে সেদিন মেয়েটাকে এক পেরে কাগুট1 বাধিয়ে তাকে কাঠের ট্রাকে তুলে ফু'সলে নিয়ে যায়। ক'দিন পর ফিরেছে।

কাদছে মেয়েটা সমবেত জনতাও এটাকে ঠিক সহজে মেনে নেয় নি! কিন্ত সোনাই সুণ্ডার আশ্রিত ওই কানাই তাই সোনাই মুণ্ড বলে_ বিহাসাদী ভোক। আমি পাঁচগণ্ডা টাকা দিব। গিরি উকে ছেড়ে দিক

স্তব্ধত। নানে বুদ্ধবটের নীচে। কালো পাথরগুলে। মাথা তুলেছে এখানে বসতির বৌ-ঝির। সশাঝপিদীন জ্বেলে যায়। পবিত্র এক বনস্পতির এই মাটি পাথর স্পর্শ করে ওদের জীবন বয়ে যায়। মৃত্ার দিনেও এই মুন্তিকায় অভিষেক করে ওর। শেষকৃতা করে। তাদের পরন তীর্থ__ওই বৃক্ষ তাদের দেবতা বহু ঝুরি নেমেছে, ওগুলে। থেন সাজের শাসন-বন্ধনের প্রতীক ওর উপরই এই কাণ্ট।-_-ওই ছায়াঘন বনস্পতিসপী হো- মুগ্ডাসমাজের মূল গভীরে প্রোথিত

আদিম আশ্রয় যুগ

এর নীচে ওরা! সমবেত হয়েছে

সোনাই মুণ্ডা যেন এখানের প্রধান এবং প্রথম ব্যক্তি। তার ওই বিধান শুনে এরা ঠিক খুশী হতে পারেনি কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহসও এদের নেই।

হঠাৎ বোরাই সর্দার বলে_ইটি ক্যামন হলো? ঘরের বৌ মেয়ের ধরম লিবেক, আর জোর করে বিহা করবেক, তিন মাস পর ছেড়ে দিয়ে বেওরা করে দিবেক, সাতাশীর ইকি বিচের হে?

সকলেই এবার সমর্থন জানায় সর্দারকে কথ! বলতে দেখে_-লায্য কথা বটে !

তোকি বুড়িও বসেছিল একপাশে এই ডুংরিতে তার দীর্ঘ বাট- সন্তর বছরের জীবন কেটেছে সে দেখেছে তখন চারপাশে গহন বন, দিনের বেলাতেই আধার ছম ছম করতো, বুনো হাতি, ভালুক দেখা মেতে। আশপাশে, তার মরদটাকে বুনো! দাতাল হাতিতে নেরেছিল তোকি বুড়ি দেখেছে এখানের সমাজ, এখানের সেই আদিম জীবন আর মানুষগুলোকে

আজ সে জানে ছাতাবুরু--তাদের বার বোডা, ফসলের রাজ।

ওই মাদন। বোা, কুদ্‌রো বোঙা, তাদের রক্ষক ! এই আদিম বট- বক্ষমূলে আছে তাদের শিকারের দেবতা

আহার যোগান তিনি, বস্ুমতী শেতল! হয় ঝর্ণার ক্গীরধার। বয় ওদেরই দয়ায়। ধরম বোঙার দয়ায় তাদের জীবনে শান্তি নামে। তাই আইন-সংস্কার ধরম মানতেই হবে।

তোকে বুড়ি এবার বলে- হায় হায়, ইট! কি বলছিস সোনাই ? একজনের ঘর ভাঙ্গবেক, বৌ মাইয়ার ধরম লিবেক__তু বলিস বিহা দে! এখনও আত দিন হচ্ছে, ঝোরার ধারা বইছে-_বসুুমতী ফল ফসল দিছে, ধরম মানব নাই গ? ইবাবাগ?

সোনাই মুণ্ডা দেখছে তার কথা ওরা মানতে রাজী নয়।

সেই অন্ধকার যুগের প্রতিভূ যেন ওই বোরাই সর্দার! কপালে লালদাটির প্রলেপ, জীর্ণ ভ'জপড়া মুখে বয়সের চিহ্ন, চোখছুটো তবু

২৬ আদিম আশ্রয়

কি তেজে জ্বলছে বোরাই সর্দার বলে ওঠে,

_-কানাইকে দণ্ড দিতে হবেক।

সমবেত জনতাও সমর্থন করে_ হ-হ গো।

সোনাই ষুগ্ডার যুখের উপর বোরাই সর্দার ঘোষণ। করে সাতাশীর সামনে তার বিধান

_তিন মাস ডুংরীতে ঢুকতে পাঁবেক নাই। হঠা বাহার থাকবেক ইদিকে। কারে। সাথে উর লাগাড় থাকবেক নাই

সোনাই মুগ্ডাকেই ওরা যেন এই নিবাসন দণ্ড দিল। সমবেত জনতা বলে-__

ঠিক কথা হে, হঠাও ওই বুনসেগোটাকে এদের সমাজে অনাচারী অত্যাচারীর ঠাই নেই।

এই কথাটাই ওর! ঘোষণা করে সোনাই মুণ্ডার উপর। ওর! জানিয়ে দেয় সোনাই মুণ্ডা টাকার জোরে তাদের এই স্বাধীনতা- সংস্কার তাদের প্রতিষ্ঠাকে হঠাতে পারবে না। সমাজের অনুশাসনের কাছে তার এই প্রতিষ্ঠার দাম নেই। ওর! অগ্রান্া করে সোনাইকে সোনাই গুম হয়ে রইল বিচারের রায় শুনে।

সোনাই মুণ্ডা সেদিন থেকেই মনে মনে কঠিন হয়ে উঠেছে, ওই সমাজের জীর্ণ কাঠামোটা_ওদের এই আরণ্যক জীবন ব্দলাবেই। সেইই আঘাত হানবে।

সোনাই মুণ্ডা ওদের ওই কাজ, ওই নীতি, সংস্কার মায় স্বাভাবিক দিনযাপনের অনুষ্ঠানগুলোকেও সহ্য করতে পারে না।

ওই ছাতাপরবের অনুষ্ঠানে নিজের মেয়ে কুইলিকেও ওদের সঙ্গে সানিল হতে দেখে তাই চটে উঠেছিল, রাঁগটা প্রকাশ করতে গিয়েও, পারেনি। তবু মনে মনে জ্বলছে সোনাই মুগ্তা। আজ সেই রাগট। বেড়ে উঠেছে।

ওই বোরাই সর্দারের ভাইপোটাকে দেখতে পারে না সোনাই মুরুং যেন নীরব একটা প্রতিবাদ সোনাই মুণ্ডার ক্ষেতের চাষীদের ধান মকাই-এর ভাগ নিয়ে এবার মুরুংই গোল বাঁধিয়েছিল। ওরা

আদম আশ্রয় ২৭

একজোট হয়ে প্রতিবাদ করে।

_তিন ভাগের এক ভাগ ফসল চাই হে। নাহলে চষবই নাই কুন জমি

সোনাই রাগে জ্বলে ওঠে ।-_দিব নাই।

কিন্তু বাধ্য হয়েই সোনাইকে তাই দিতে হয়েছিল

সেই তেজী ছেলেটা! ধীরে ধীরে মাথা তুলেছে, তার কাজের প্রতিবাদ করছে ওরা মুরুং-এর সমর্থনে ওই বোরাই সর্দার-__মুরু তার প্রতিপক্ষ সোনাইকে হার মানতে হয়েছে ওদের কাছে।

“সানাই ঘ্বুণ্ডা ধীরে ধীরে এবার তৈরি হচ্ছে ওদের এসব কাক্তেরই জবাব সে দেবে।

কুইলি এখনও ফেরেনি সোনাই মুণ্ডা জেগে আছে, পরবতলায় ওদের গানের সুর থেমে আছে, তখনও ফেরেনি মেয়েটা সোনাই নীরব রাগে ফুলে ওঠে তার বোনই এখন সংসারের কত্রী, সোনাই মুণ্ডার স্ী গত হয়েছে বছর ছুয়েক হ'ল, ওই একমাত্র মেয়ে কুইলিই এখন তার সব।

গেয়েটাকে সে এখানের বাইরে পাঠিয়ে লেখাপড়া শেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু বোনের প্রতিবাদেই পারেনি

সোনাই-এর দিদি মিতিনই নিষেধ করেছিল-_ একটা মেয়ে তাকেও ছেড়ে থাকবি তু? পাঠাই দিবি দ্িখুদের উখানে ? বোরাই সার বলে_ বোঙার শাপ লাগবেক মেয়েটোকা উখানে পাঠালে ?

সোনাই ধোরাই সারের কথা উঠতে জ্বালাভরা স্বরে প্রতিবাদ করে!

_চুপদে। বোরাই সর্দার ইখানে কথা বলে কেনে? আমার বিটির ভালোমন্দ আমি বুঝবো

কিন্তু গিতিন তবু জানায়_-ঘরটে। খালি হই যাবেক! কি লিয়ে, কাকে লিয়ে থাকবি তু বল? তারপর দিখুদের উখানে যেয়ে মেয়েটো যদি বিগড়াই যাই-_-আর আসবেক ইখানে ? এই বনে? বল!

২৮ আদিম আশ্রয়

কথাটা ভেবেছে সোনাই। কুইলিকে বাইরের তার আত্মীয়দের কাছে রেখে পড়ালেখ। শেখাার ইচ্ছাটাকে আপাততঃ চেপে রেখেছিল কিন্তু কুইলি এখানে ওই বন্যজীবনেই মিশে থাকতে চায়।

আর তার কারণ) অনুমান করেছে সানাই | আজ যেন তেমনি কিছু দেখেছিল সোনাই

কুইলি এখনও ফেরেনি রব্লাত অনেক হয়ে গেছে। নির্জীন অন্ধকারে সোনাই-এর মনে হয় যেন একটা চক্রান্ত চলেছে তাকেই চরম আঘাত হানার জন্তে। ওদের কিছুই নেই-_-সোনাই এখানে অনেক পেয়েছে। তাই তার লালসা লোভও বেড়েছে কুইলির ব্যবহারেও চটেছে সে।

সোনাই মুগ্ডার বয়সও তেমন বেশী নয়, আর শক্ত সমর্থ, কঠিন বৌও মারা গেছে ক'ব্ছর, বিয়েখাও করেনি আর সোনাই

হঠাৎ কার হাসির শব্দে চাইল সোনাই

অন্ধকারে কার পায়ের শব্দ ওসে। কাঠালগাছে মুচি এসেছে। কাঠাল ফলের তীব্র সুবাস রাতের ভিজে বাতাসকে ভারি করে তুলেছে, তার সঙ্গে গিশেছে লাণ্টানা_ বনটটাপা ফুলের খোসবু। তারাগুলো৷ ঝকমক করে, বহু দূর দিগন্তে আকাশছোয়! পাহাডসীনায় গুয়াখনির একট আলোর আভা দেখ। ঘায়। ওই তাদের সভাজগতের আলোর নিশানা_কি নির্নন চাহনি নিয়ে আদিন দিগন্ত বিঞত বনরাজোর দিকে চেয়ে আছে অনেকটা স্তব্ধ চাহনি মেলে

.-গই পায়ের শব্দ ওই ভাসিটা চেনে সোনাই মুণ্ডা। কত বিশিদ্র রাতে ওই হাসি তার সারা ননে ঝড় তুলেছে মাতন এনেছে সোনাই বলিচ্চ দেহে ছু রাতের শমৈরিণা সোয়ী।

চাইল “সানাই, এগিয়ে আসে সোয়ী !

তারার আলোর দেখা যায় ওকে যৌবন পার হযে গেলেও এখনও সেটাকে ধরে রেখেছে নেয়েট। | কালো পাথরকৌদা নিটোল দেহ. নতি মুগ্ডার বৌ সোয়া-_ নামেই বৌ। মতিও সেট! জানে

লোকট। রোগে ভুগে ভূগে জীর্ণ হয়ে গেছে। সেবার ভালুকের

আদি আশ্রয় ২৯

হাতে পড়েছিল মতি। ভালুকের থাবায় মতির গালের একটা দিক ঝলে পড়েছে, হাতটা পদ্দু। মতির বৌ সোরী বলে ওকে-__দানো রে তুই !

এককালে মতি দানোই ছিল, এখন তার কন্কাল মাত্র। সোনাই মুণ্ডার দয়ায় তার ক্ষেতে পাহারা দেয়। ধানের ক্ষেতে টিয়ার দল নামে সেইই পাখী তাড়ায়।! আর রাতের বেলায় গাছের টং-এর কুশড়েতে বসে পাহাড় বন থেকে নেমে আস। হাতির পাল দেখলে কাানেস্তারা বাজিয়ে মশাল জ্বেলে চীৎকার করে গ্রামবসতে খবর দেয় ভে হো হোই হাথি বটে ভে

..আর সোয়ী, বলিষ্ঠ মাতাল করা নেয়েটা_তখন রাতের অন্ধকারে সোনাই মুণ্ডার বিছানার কবোষু পরিবেশে এসে ঢোকে ' ওর কঠিন দেহটা তখন সোন1ই-এর নিব