০০১৯০৪১৯7১৪

-পস্ৰি

বুচহ্যহতত্মস্য হেহহ্

রন্তু হত ৬, বংকিম চাট্ুত্দে ভ্বীট* কলিকাত।-১

প্রথম প্রকাশ দোলপুণিমা! ১৩৬৭

গ্রকাশ করেছেন চন্দন ঘোষ গ্দ্থ-গৃহ ৪৫এ, গড়পার রোড কলিকাত।-৯

ছেপেছেন কমল মুখোপাধ্যায় হিমৃস্থান প্রিণটার্ ৪২বি, রাজ! দীনেন্ত্র হট কলিকাতা-৯

গ্রচ্ছদপট একেছেম অমলেন্নু ঘোষ

দাম দুটা!

আুসাহিত্যিক সাংবাদিক

দক্ষিণারঞ্জন বস্ত্র পরম গ্রীতিভাজনেযু

তুক্খ গ্রী-_-ছুটি দেশকেই ডিডিয়ে আমরা অন্য দেশ দেখতে যাই। ভ্রমণ তালিকায় ছুটি দেশেরই নাম যায় বাদ --অথচ আজকের নব্য তৃকীঁকে দেখবার এবং বোঝবার আমাদের বড় প্রয়োজন ! তাছাড়া এশর্ষে গরীব কিন্তু এতিহো গরবী, ভাস্কর্ষে ভাস্বর--সভ্য গ্রীস আজও আমাদের দ্রষ্টব্য এমন ছুটি দেশের কথা নিয়েই এই বইখানি | “নব্য তুকর্ধ : সভ্য প্রীস'-এর রাজনৈতিক রথের চাকার আঁকা-বীক! ক্ষিপ্র গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়। আজ প্রায় অসম্ভব | কাজেই সে অপচেষ্টা না| করে তুকীঁ-প্রীকদের ঘরোয়! কাহিনী আর ছুই দেশে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতাই এই বইখানির মাপমশল। | কারণ আমরা, সাধারণ মানুষরা] জঙ্গী বোমা-বন্ুকের ঘটনার চাইতে ঘরের হাতা-খুস্তির গল্প পেলেই বেশি খুশি

তর্বা, “ষুগান্তরে' প্রকাশিত | গ্রীস 'যষ্টি-মধু'তে।

লেখকের অন্য বই

উপন্যাস || পণ্য, ভাঙাগড়া, সাগর-নগর, বিনোদিনী বোডিং হাউন

( ছায়াচিত্রে কপায়িত )

গল্প || ফাকিস্থান, কাঠের ঘোড়া

কবিতা || কটাক্ষ, নতুন মিছিল, ( সম্পাদন! ) সমকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ কবিতা, সেকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ কবিত।

অনুবাদ || সালোম, ভ্যাগাবওস, পংকিল, থেলমা, বেনছর

নাটক || চক্র, ম্যানিয়া, ফ্যাশন ট্রেনিং স্কুল, যম

রমারচন1 || যদি গদি পাই, স্বামী পালন পদ্ধতি

ভ্রমণকাহিনী !। ইংরেজের দেশে

প্রবন্ধ || ওগে৷ মেয়ে সাবধান

নবা তুকী £ সভা গ্রী্

আজও মনে মাছে, কুষ্টিয়ায় মামাবাডিতে দোতলার বারান্দায় ঝোলানো থাকতো একট যৃদ্ধের ছবি | ছবিতে কতকগুলি সৈনিক, মাথায় লাল ফেজ পরা, তাতে বীকা-টাদের চিহ্ন, ছু'চলো গোঁফ, গোলাপী রং গায়ের, খাপ-ছাঁড়। তলোয়ার হাতে আক্রমণ করচে তাদের শক্রপক্ষকে ঘোড়ার পিঠে চ'ড়ে। বাদামী রংয়ের ঘাড় বেকানো তেজী ঘোড়াগুলো। ল্যাজ তুলে সামনের পা উচিয়ে রয়েচে পরম বিক্রমে একটা ঘোড়ার পায়ের কাছে পড়ে আছে মুমূর্য এক শত্র-সৈনিক, আর একজন করচে যন্ত্রনায় আতণনাদ। লড়াইয়ের সেই বীভৎস ছবিখানি আমার কাচামনে এমন পাকা দাগ কেটেছিল যে আজও ভুলতে পারিনি মাকে জিগ্যেস করেছিলাম, ওর৷ কার! যুদ্ধ করচে ? জবাব পেয়েছিলাম, তৃকাঁ ওরা, দেখচে! না চাদ অাকা মাথায় লাল ফেজ। ভারি সাহসী ওরা সেই থেকে তুকাঁদের উপরে কেমন যেন একট! ভক্তির ভাব পোষণ করতাম মনে হ্যা, একট। লড়িয়ে জাত বটে ! তারপর কানে এসেচে 'তুকাঁ-লাফ' আর 'তুকাঁ-নাচন' -- ছুটিই অস্বাভাবিক আশ্চর্ষের বিষয়, এবং সেই সঙ্গে বাণ্ডতি মজা “টাকি-ফাউল” এর আন্বাদ (অবশ্য অধম সে রসে বঞ্চিত )। 'টাকিশ বাথ' সাবানও মেখেচি বন্ুৎ | অত এব তুকাঁদের বিষয়ে আরো চার ডিগ্রী শ্রদ্ধার পারা উপর দিকেই উঠে যাবার কথা : তারপর কিছুদিন তৃকার কথা ভূলে গেছলাম, নিজেই ছান্রাবস্থার তুকাঁ-নাচনে ব্যস্ত ছিলাম সে নাচনের প্রথমাংশ মানে স্কুলের নাচন যখন প্রায় শেষ ক'রে এনেচি, তখন কাগজে কাগজে খবর পাওয়া! গেল, তুকাঁদের নাকি নাচাচ্চে এক নতুন লোঁক-_কামাল পাশা, তুকাঁর দামাল ছেলে আর সে নাচে তৃকাঁরা নাকি খুশি, তাই

তাকে আদর ক'রে ডাকতে শুরু করেচে “আতাতুর্ক : তুকীঁ-পিতা৷ তারপর আমার নাঁচনের শেষাংশটুকু শেষ ক'রে যখন সংসারের তৃর্কাঁ- নাচনে সবে তাল দেওয়া শিখচি, তখন শোনা গেল, তৃকা্দের নতুন নাচের মাষ্টার সবাইকে আধুনিক কালের নতুন নাচের তালে তালে পা ফেল! শিখিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেচেন জন্মের মত | উনিশশে! আটতিরিশের নভেম্বরের কথা |

এর বছর খানেক পরেই সারা পৃথিবীতে প্রলয়-নাচন শুরু হ'লো। দেখ! গেল, তৃকাঁর৷ আগের যুদ্ধে যাদের হ'য়ে লড়াই করেছিল, এবার তাঁদের বিপক্ষে বল্-ডান্সে পার্টনার বদলায় জানি, তুকাঁও তার প্রলয় নাচে পার্টনার বদলালে। দেখলাম কেন? সে অনেক কথা, পলিটিক্স ওসব আমার মাথায় ঢোকে না ভাল, আর ঢুকলেও থাকে না বেশিক্ষণ সব চেয়ে বড় কথা, তুকাঁ দেখার সখ ছিল, দেখেচি এবং যা দেখেছি, তাই বরং শোনাই শোন

অদ্ভূত তু্কার অবস্থিতি £ পুব-পশ্চিমের ছু'নৌকোয় পা দিয়ে দাড়িয়ে আছে মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেচে বস্ফরাস্‌ প্রণালী £ কৃষ্ণ আর মধ্য-সাগরের হ্যাণ্ড-শেক। তুকীর আন্কোরা নতুন রাজধানী আন্কার৷ বস্ফরাসের পৃব তীরে এসিয়ায়, আর তার পুরাণো সহর নাম- করা ইস্তাম্বুল, প্রণালীর পশ্চিমে, ইয়োরোপে সহরটার সেকেলে নাম ছিল কনস্টান্টিনৌপল, যে নাম ঠিক টাইম মত ভূগোলের ক্লাসে মনে আসেনি বলে আমাদের বয়সী অনেকেই বেঞ্চে দাড়িয়েচে সন্দেহ নেই মাজকাল্‌ স্কুলে ধরণের শাস্তির বরাদ্দ নেই ছাত্রদের এবং তৃকার এই সহরের হালফ্যাসানের নামটির সঙ্গে আমাদের দেশী তান্ধুলের ভারি মিল থাকায়, এখনকার ছেলেরা তৃকাঁ ইস্তাম্থলের কথা ভোলে না সহজে, কাঁজেই মাষ্টারমশায় ভূগোল ক্লাসে জিগ্যেস করলে চট্‌ করে উঠে ফট করে ঠিক উত্তরটি দিয়ে আবার বসে বেঞ্চে

ভূগোলে তুরস্কের অবস্থিতিটা বেশ নতুন রকমের | তার এক পা

১৩

পুবে, আর এক পা! পশ্চিম ঘাটে, মাথার উপরে রাশিয়ার কমিউনিজ ম- এর রশি। পৃব পায়ের কাছে সিরিয়া, ইরাক, ইরান __ তিন মুস্লিম রাজ্য। তিন লক্ষ বর্গমাইলের দেশটায় লেক কিন্তু বেশি নেই, মাত্র হা'লক্ষ। অথচ দেশটায় সব আছে। ফল-ফলানে। নরম মাটি, ভয়- পাওয়ানো পাথরে মাটি, ঢাল। জায়গা, পাহাড়ে জায়গা, অনেকগুলি বন্দর, অনেকগুলি বড় ছো'ট মাঝারি সহর। রাজধানী আনকারা, ভারত- বর্ষের দিল্লী আর কি ! নতুন সহর, দেশের হতণ-কতণদের বাস। চণড। রাস্তা, বড় বড় বাড়ি, বিরাট ষোটর গাড়ি_-সব দেখলে মনে হয় বনেদী পরিবারের এক বিলেত-ঘোর৷ ছেলে ইস্তানুল কিন্তু কর্তার ব্যবসার গদীতে বসা বাধ্য ছেলেটি লোককে বশ করতে জানে, তাই রাজ্যের লোক ওখানে সরু গলি আ'র মাঝারি রাস্তা _ অথচ মোটরে গিজ- গিজ. করচে, তার মধ্যে একানি-ট্রামও চলেচে ঠং ঠং কারে | মাঝে মাঝে পার্ক, দোকান বাজারের হে চৈ, ছু'চলে। মীনারগলা সেকেলে সব মস্জিদ আর পথে একালের হালফ্যাসানের মেয়ে-পুরুষ। মস্জিদের আশে পাঁশে আচকাঁন পরা, ফেজ মাথায়, মুরওল মুসলমানদেরই মানায় ভালো, হ্যাট্‌-কোট-প্যান্ট পর1 গাউন পরা পুরুষ মেয়েদের নামাজ পড়! দেখলে খটকা লাগে না? তুরস্কে দৃশ্ঠ আকৃছার

তুরস্কের আহহাওয়াঁও বড় গোলমেলে। রাশিয়া থেকে উত্তরে হাঁওয়! এসে দেশের মাথায় কন্কনে শীত ধরিয়ে দেয় শীতকালে নীচের দিকে আরব মরুর হাল্ক1 হাওয়া এসে পা-টা পুড়িয়ে দ্বোর যৌগাড় আবার মধ্যসাগরের আরামের হাওয়া পাওয়া যায় দেশটার মধ্যাংশে | চারদিকের আবহাওয়ার সব কাণ্ড দেখে উপরের বৃষ্টি বলে, আমি আর বেশি নামবো না দেশে অতএব মালুম হচ্ছে বোধহয়, দেশটাঁয় শীতকালে দারুণ ঠাণ্ডা, আর গরম কালে ভীষণ গরম। কাজেই তুকীঁ-পরিবাঁরের পোষাক খরচটা ভাববার বিষয় শীত ঠেকাঁবার জন্যে-যত রকমের ধোঁকড়া পোষাক আছে সংসারে, তা

৯১

সবই প্রায় কিনে চাপাতে হয় দেহে আর শীতের হাওয়ার পালা শেষ হলে আসেন যখন হাল্কা হাঁওয়ী, তখন সে সব পোষাক খুলে ফেলে অঙ্গে দিতে হয় হাক্ক। জাম _- না দিতে পারলে আরো! ভালে তবে রক্ষে, ব্যবস্থা শুধু সুরে বাবুদের জন্যে মাঠের চাষী 'হামাল'রা ব৷ সৈনিকরা পরোয়া করে না এই মাবহাওয়ার চোখ-রাঙানিকে ! যার মোটা পোষাক আছে বা যার পাতলণ পোষাক আছে সে তাই পরেই কাটিয়ে দেয় শীত গরম, বছরের পর বছর কাজেই মাঠে যদি দেখো! কোনে হাঁলাম চাষ করচে কাঠফাট। রোদ্দ;রে তার ধোকড়1 পোষাক প'রে বা জমে যাওয়া শীতে তার পাতল। জাম পরে হী হয়ে যাবার কৌন কারণ নেই ওট1 অভ্যাস। আগে ধারণ ছিল, তৃকাঁ মানেই ছ'ফুট লঙ্কা, মাথায় ফেজ লাগিয়ে

আরে! ছ"ইঞ্চি উচু, গোলাপী রং, চাঁড়া দেওয়] গৌঁফ _- কিন্তু গিয়ে দেখি, হরি, যে জগা-খিচুড়ির ব্যাপার ! ছ'ফুটি তক আছে বটে, কিন্তু পাঁচ ফুটিও তো বহুৎ | গায়ের চামড়। বেশির ভাগই গোলাপী বটে, কিন্তু বাদামীও তো আছে নীল চোখও আছে, কালো চোখও আছে কেঠো মুখও আছে__মিষ্টি মুখও আছে তবে মেয়েদের রূপ! আহা হা, বুঝি তুলন! নেই তার ! অরপসিকেরও কবিতা লিখতে ইচ্ছে করবে পরে না বটে আগেকার সেই সিক্ক সালোয়ার পায়জামা, নেই বটে তার মাথায় রঙীন হাওয়ায় ওড়া ওড়না, লোটায় না আর সাপের মত লম্বা বেণী বুকের "পরে, পরে না আর কাজল তার কাজল-কালো চোখে, হাতে রঙীন সিরাজী নিয়ে আসে নী আর ডাকলে কাছে, কিন্তু হাতে ভ্যা নটি ব্যাগ, গাউন পরা, বব, করা চুল, জুতো পরা তুকাঁ মেয়ে _ খট্‌-খটিয়ে যাৰে যখন পাঁশ কাটিয়ে,

দোহাই তোমার, চেয়ে দেখো একটু নজর ক'রে

তাতেই ব্যস্‌, দেখবে তোমার মাথাই গেচে ঘুরে

প্রাণট। তখন তুকাঁ-নাচন হয়তো দেবে জুড়ে

আরে, কেশ-বেশ বদলালে কি হবে, রূপের রেশ তুকাঁ-তরুণীর মুখখানিতে মাখানো | লাবণ্য টল টল্‌ তাঁর ঢল ঢলে মুখে টিকালো৷ নাক, রসালে। ঠোট, আর বাঁক ভূরুর তলায় থাকা ছু'টি কালো-হরিণ চোখ অর্থাৎ__দেখবে ত.মি, সেই কটাক্ষ

আখির কোনে দিচ্চে সাক্ষ্য, ঠিক যেমনটি ছিল ওদের ঠাকুমাদের কালে

তুকীতে বহুরকম সৌন্দর্য নান। জায়গায় ছড়ানো, কিন্তু তুকাঁ-তরুণী হচ্চে সৌন্দর্যের রংয়ের তুরুপ

যাক্‌গে, ওসব মেয়েদের কথায় কাজ নেই, বরং কাঁজের কথ! বলা যাক। রূপ তো৷ আছেই ঘরে, বাইরে থেকে রূপেয়া আনবার উপায় কি তুকাদের, সেটাও দেখ! দরকার পেট ভরা থাকলে তবেই তো বিবি- জান্‌কে তুমি আমার পটের ছবি" বলে আদর করতে ইচ্ছে যায় তা তুকীর] ব্যবসার তুক-তাক্‌ ভাল ক'রেই জানে | তুকাঁ মেয়ের মত তুর মাটিও প্রশংসা পাবার যোগ্য মাটিতে ফল ফুল তো যথেষ্টুই হয়, তা'ছাড়। হয় তামাক, বাদাম, যষ্টি-মধু, তুলো আর ভেড়ার গায়ের লোম। সেইগুলি সময় মত বাইরে পাঠায় আর ঘরে আনে তুক-টাকা __কুরুশ। মাটির জিনিষ বাইরে পাঠিয়েই ওদের টাক, কলের তৈরি জিনিষ ক'রে বাইরে পাঠাবার যোগ্যতা এখনে। হয়নি ওদের, তবে চেষ্টায় আছে তাই তৈরি মালের জন্যে পশ্চিম আকাশের দিকে মুখ ক'রে থাকতে হয়। তবে পঞ্চ-বাঁধিকী পরিক লন ওদের আছে অনেক রকমের এবং ক্রমেই ত৷ বাস্তবে পরিণত করচে- খবর পেলাম আর দেখলামও

বর্তমানে তুকাঁর শাসন গণতান্ত্রিক মিথ্যে বলা হবে না, যদি বলি নামে গণতান্ত্রিক _-আসলে এক-নায়কত্বের ব্যাপার। কিন্তু তাতে ক্ষতি হয়নি, লাভই হয়েচে দেশের বরং ক্ষতি হ'ত যদি ঠিক তাল বুঝে

৬৩

কামাল পাশ! নিজের হাতে সব ভারটা না নিতেন। সেজন্যে তাকে অস্ত্রের সাহায্যও নিতে হয়েছিল; এবং পাশ! বরাবরই বলতেন, আমার মৃত্যুর পর আর এই এক-নাঁয়কত্বের দরকার হবে না। কারণ, তার মধ্যেই আমি দেশটাকে নিজের পায়ে দাড় করিয়ে যাবো, নিজেরাই তখন নিজেদের দেশ পরিচালন করতে পারবে পাশ! তার কথা রাখতে পেরেচেন।

তুকাঁ এখন তাই পাশার তৈরি “পিপলস্-পার্টি বা “গণ-দল'এর সাহায্যে শাসিত দলের লোকেরা নিজেদের মধ্যে সলা-পরামর্শ ক'রে দেশের উন্নতির চেষ্ট। করে | অন্যান্য গণতান্বিক দেশের মত, পাশা! তার জীবিতকালে একটি “বিপক্ষ-দল' বা অপোজিসন্‌ পার্টি খাড়া ক'রেছিলেন-_কিস্তু দেখ! গেল, তাতে হিতে-বিপরীত হ'লো।। বিপক্ষ- দল সরকারের বিপক্ষে দাড়িয়ে ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি, শেষে বিদ্রোহ ক'রে বদলো৷ | পাশা বুঝলেন, তুকারা এখনো বুঝতে শেখেনি যে বিপক্ষদলে থেকে সরকারকে দরকার হ'লে সমালোচনা করতে হয়, বিপদে সাহায্য করতে হয়। কাজেই তিনি বিপক্ষদল ভেডে দিয়ে শাসনের ভার দিলেন 'গণ-দল'কে- ১৯৪৫ এর ডিসেম্বরে আর তিনি হলেন সেই দলের প্রেসিডেন্ট ; তার মৃত্যুতে এখন ইসমেৎ ইনম্থু।

গণদল, সহরে সহরে 'হালকেভি' বা গণ-গৃহ বা 'পিপলস্হাউস্‌; এর ব্যবস্থ। করলেন সেখানে নিয়মিত রাজনীতির বিষয়ে আলোচনা, ভাষাঁ-শিক্ষা গান-বাঁজনারও আয়োজন করা হয় অশিক্ষিতদের পড়াবার ব্যবস্থাও আছে হালকেভিতে। হাঁলকেভির বাড়িগুলি চমতকার হাল-ফ্যাসানের, তাতে এঁ সব নানারকম অনুষ্ঠানের জন্যে হুল” আছে, লাইব্রেরি আছে। প্রত্যেক হালকেভিরও একটি ক'রে কত? থাকে, তাকেও প্রেসিডেন্ট বল! হয়, এবং সহরের কোন মান্য-গণ্য ব্যক্তিই এই পদটি পাঁন। তবে দেখা গেচে, ভাক্তাররাই এই কাম্য-পদ প্রাপ্ত হন কেন ? তার কারণ বলা শক্ত হয়তো তুকাঁদের ধারণা, ডাক্তাররা

১৪

দেহের রোগ সারাতে যখন পারে দেহ সর্বস্ব মানুষ চরাতেই বা পারবে না কেন? অতএব প্রেসিডেন্ট-ডাক্তারের তখন সকাল বেলাট! রোগীর জন্যে রেখে সন্ধ্েট। কাটাতে হয় বয়েজ-ক্লাবে বা মহিলা-সভায় সভাপতিত্ব ক'রে এবং কখনো! বা গান বাজনার আসরে অভিনয়ের মঞ্চে দারিয়ে বক্তৃতা দিয়ে এই যেমন অবস্থা আমাদের বাংল! দেশের প্রধান মন্ত্রী রায় মশায়ের !

তুকাঁতে ট্যাক্সের বহর কিন্তু খুব। আর সেই ট্যাক্স দিতে দিতে তুকাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত ট্যাক্সের বেশির ভাগই যায় সপাইদের তোয়াজে রাখতে বিশ বছরের তুকারি ঘরে থাকবার উপায় নেই, সেপাইদের তীবুতে যেতেই হবে তিন বছরের জন্যে মিলিটারী আদব. কায়দা শিখতে, বন্দুক চালনায় হাত রপ্ত করতে | যে সব তৃকাঁ যুবক শ-মুসলমান, তাদেরও জন্যে একই ব্যবস্থা, শুধু বন্দুক তার হাতে তুলে দেওয়া হয় না।

পুলিশী ব্যবস্থাও তুকীঁতে ভালোই। চেহারাগুলিও বেশ লম্বা-চওড!।

পোষাক গুলি জার্মানীর নাজী-অফিসারদের মত, মায় টুপি পর্যন্ত দেখলে ভয় হয়, ভক্তিও হয়। পথের মোড়ে মোড়ে ঈাড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে গাঁড়ি যাতায়াতের নিদেশি দেয় তবে পথের খবর জিগ্যেস করে দেখেচি, সবাই ঠিকমত পারে না বাতলে দিতে শুন্লাম, সাদা পোষাঁকেও নাকি বহু পুলিশ ঘোরাফেরা করে সহরের চারধারে। দশে স্থ-ব্যবস্থায় রাখতে গেলে গোপন ব্যবস্থাটি যে অপরিহার্ধ, বোঝা গেল, আধুনিক তুকার সরকারের সেটি অজানা নেই।

খবরের কাগজ বহু রকমের দেখা গেল ; এবং সেগুলি সচিত্র কাটুন-কণ্টকিত; বিশেষ ক'রে 'আমকা বে” “তম্বুল তেইজী? | তবে সরকারের বিরুদ্ধে এরা লেখে না বড়। আর লিখবেই বা কেন? গণদল সরকার এদের স্ুখ-স্থুবিধা-ন্বাচ্ছন্দ্য, আত্ম-সম্মান-জ্ঞান, স্বীধীনতা -- কী দেয় নি বলে? কাজেই দেশ-বিদেশের খবর আর হাসি-া্টার

১৫

ব্যাপারই থাকে বেশি কাগজে তাই কাটুন ছবির ভারি আদর তুকাঁতে। রামুজ আর নাদির খুব নাম করা কাটুরনিষ্ট ওদেশের, আমাদের দেশের কাফি খ| বা শংকরের মত, বিলেতের লে। বা ্রব-এর মত। ছোট ছোট সহরেও নিজস্ব খবরের কাগজ 'আছে--তবে একই ধাচের। তাছাড়া সরকারের রেডিও আছে, আন্কার। আর ইস্তাম্বুল থেকে প্রচার কর! হয় নানা! খবর, নানা রকমের গান-বাজনা, অভিনয়।

তুকাঁতে একট ভারি মজার গল্প আছে। তুকাঁ খোকা বা খুকু মায়ের কোলে ছু খেতে-খেতে শুনতে পায় এই গল্প-কাজেই সব তৃকীরি কাছেই এটি একটি প্রিয় গল্প গল্পটি যাকে নিয়ে, আমাদের কাছেও সে ভদ্রলোকটি অপরিচিত নয়। কাজেই শোনাই গল্পটা £

একদিন বিশ্ব-বিভীষিক! তৃকাঁ তৈমুর বসে আছেন তার সিংহাসনে, কাছে বসে তার প্রিয় অনুচর নাস্রেত্তিন হোকা। তার নিদে শমত কোন এক দেশের দূত দরবারে এলো এবং তাঁকে সসম্মীনে উপহার দিল একটি মুক্তা-খচিত আয়ন] এর আগে আয়না কি বস্তু, তৈমুরের তা জান] ছিল ন1। যখন শুনলেন, ওটিতে নিজের মুখ দেখা যায়, রাজা তে ভারি খুশি এবং আয়নাটি নিজের মুখের সামনে ধরতেই দেখ! গেল ক্বার মুখখানি ঝুলে গেচে। শুধু তাই নয়, একটু পরেই দেখ! গেল, ডাকাত তৈমুর কাদচেন রাজ! কাদচেন ! কাজেই সঙ্গে সঙ্গে তার প্রিয় অনুচর নাস্রেত্বিন হোকাও কাদতে শুরু করলেন। ছু'জনে অঝোরে খানিক- ক্ষণ কাদবার পর তৈমুর তার কান্না! থামালেন। দাড়ির মধ্যে ঘুসে যাওয়া চোখের জল মোছ! গেল না, তবে বাকিটুকু সিক্ষের রুমালে মুছে হোকাকে বললেন, ওঃ) বস্তুটিতে নিজের মুখ দেখে আমার কান্না পেয়ে গেছলো। কী কুৎসিত আমি দেখতে ! বাপস্,তৃমিও নিশ্চয়ই কাঁদছিলে আমারই দুঃখে ? তবে আমি কান্না থামালাম, অথচ তুমি দেখচি এখনো কেদে চলেচো ! ব্যাপার কি? শুনে হোক! ফৌস্‌ ফৌস্‌ ক'রে কাদতে কাদতে বললেন, হে রাজামশায়, আপনি তো যণচক্ষণ বন্তটিতে নিজের মুখ

১৬

দেখছিলেন, ততক্ষণই কাদছিলেন, কিন্ত আমাকে যে আজীবনই আপনার মুখখানি দেখতে হবে, আমি তাই ভেবেই কণদচি।

একথা শুনে তৈমুর হোকার কান্না সঙ্গে সঙ্গে শেষ ক'রে দিয়েছিলেন কিনা গল্পে সেকথা বলেনি আর বলেনি সেই দেশের দূতটির অবস্থা কি হ'লো ? দৃতটি ভারতবর্ষ থেকে গেছলো৷ কি?

ধরণের মজার গল্প তৃকাঁদের পেটে বনুৎ জমা করা আড্ডায় বসে এক একটি ছাঁড়ে আর হাসির হুল্লোড় পড়ে যায়। ভারি বৈঠকী জাত এই তুকীঁ।

বইয়ের দৌকানও দেখলাম অনেক দামও এমন বেশি নয় | তা ছাড়া বিদেশী বইও আছে __ তুকাঁ-ভাষাস্তরিত করা বিশেষ ক'রে বিদেশী সিনেমার ভাল গল্প পেলে তো কথাই নেই। আতাতুর্ক তো মাত্তর বিশ বছর হ'লে! পুরোন তৃকাঁ ভাষাকে ঢেলে সোজ। ক'রে সেজে দিয়েচেন, _- তুকাঁজন যাহে আনন্দে করিবে পান তৃকী-স্ুধা বারি কিন্তু এরই মধ্যে দেশের বহু পুরোন বই আবার ছাপ! হয়েছে, হয়েছে নতুন বইয়ের স্থষ্টি। তবে উল্লেখযোগা সাহিত্যের স্ষ্টি হয়নি এখনো | তুকাঁর বীরত্ব আছে, সাহিত্য নেই।

সুপুরুষ তৃকীঁদের চোদ্দ-পুরুষের হিসেব দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন। তবে যেটুকু কষ্ট ক'রে উদ্ধার করেচি, সেটুকু জানিয়ে নিজের পাণ্ডিত্যট। প্রচার করবার লৌভট। আর সামলানো গেল ন1। তুক্দের আদিপুরুষরা এসেছিল ইউদ্রাটিস্‌ টাইগ্রীস্‌ নদীর ধার থেকে | সেখানে নদীর ধারে একদল সভ্যজাত বাস করতো, জানতো তারা লোহার ব্যবহার সে প্রায় যীশু জন্মাবার ছ'হাজার বছর আগের কথা এতিহাসিকরা এদের নাম দিয়েচেন 'হিত্তাইত+। এই হিত্তীইতদের একট! দল এঁ নদীর ধার থেকে চলে যায় তুকীস্থানে __ এখন যেখানে আনকারা, তারই কাছে বোয়াজ-কোয় নামে এক জায়গায় কেন

১৭

চলে যায়, ত৷ জিগ্যেস করলে বলতে পারবো না। হয়তো অন্যদলের সঙ্গে মন কবাকধি হ'য়েছিল, বা ঝগড়া-ঝাটি হয়েছিল কিংবা গেছলো ভাগ্য অন্বেষণে কারণ, এসব মানসিক বা অর্থ-নৈতিক ব্যাপারগুলো একালের মত সেকালেও ছিল বোযাঁজ-কোয়তে নিজেরা বেশ গুছিয়ে- গাছিয়ে নিলো, আত্মরক্ষার জন্যে অস্ত্রপাতি, সৈন্যসামন্ত, দূর্গ ইত্যাদি সব তৈরি করলো বহুৎ। কিন্তু দেখ। গেল, তাদের জ্বালাতন করতে কেউই এলো না সেই সময় তুকাঁতে এক রাজ-বংশের উত্তব হয়েছিল, তাদের বল। হ'তে। “সেলজুক বংশ" সেলজুক রাজার তাবে অত সৈন্য অত অস্ত্রপাতি -- কাজেই মেজাজটাও বেশ টন্টনে। অতএব দেখলো যখন সেপাইগুলো। কেবল হাই তুলচে আর মরচে পড়া ঘলোয়ারে ঝামা-তেল ঘস্চে, তখন একদিন ঠিক ক'রলো রাজ্য জয়ে বেরুনোযাক।

দক্ষিণে পায়ের কাছেই রয়েচে মুসলিম রাজ্য, কাজেই পা বাড়ানো গেল দিকেই ইতিপূর্বে মহম্মদের কৌরাণ প'ড়ে তৃকর। নিজেরাই তার চেল বনেছিল, কিন্ত গুরুভাইদের দিকে খোলা তলোয়ার নিয়ে এগুতে একটুও দ্বিধা করলো ন1। ধর্ম ঘরের, কিন্তু সাআ্রাজ্য বাইরের সম্পদ কেন, যুগে দেখচো ন1 ? যীশুপ্রীষ্টের চেলারা কেমন এ-ওর মাথার খুলি উড়িয়ে দিচ্চে ! অথচ উনি তো বলে গেচেন, প্রতিবেশীদের ভালবেসে! শুধু তাই নয়, কেউ যদি তোমার গালে চড় মারে, তবে গালটাও বাড়িয়ে দিয়ো তার দিকে আর ওদের দেশে যত বাইবেল পড়া হয় আর বিলি কর! হয়, তেমনটি আর কোথায় কোন ধর্ম পুস্তকের ভাগ্যে জোটে কিনা সন্দেহ কাজেই মুসলিম তুকাঁরা মুসলিম আরব- রাজ্যের দিকে ধাওয়া করেছিল বলে হা" হ'য়ে যাবার কোন কারণ নেই। তুকাঁ সেনাপতি তুরগুল বে এপিয়া মাইনরের উপর সসৈন্যে ঝঁখপিয়ে পড়ে কাপিয়ে তুললে দেশটাকে সেটি জয় করবার পর ্রীষ্টান রাজ্য বাইজানটিয়ানও বাদ গেল না শেষ পর্যন্ত জেরুজেলাম।

বধু লোককে তার। কলম। পড়িয়ে নিজের জাতে তুললো, এমন ধর্ম-

১৮

প্রীতিও দেখা গেল বহু জায়গায় | শুধু তাই নয়, রষ্টানদের তীর্থস্থান জেরুজালেমে শ্রীষ্ঠানদের “প্রবেশ নিষেধ' হুকুম-জারী ক'রে দেওয়। হলো কোন জিনিষেরই বেশি বাড়াবাড়ি ভাল নয়। ক্ষেত্রেও হ'ল তাই ইয়োরোপে খ্রীষ্টানরা গেল ক্ষেপে তবে রে! সবাই জোট বেঁধে আক্রমণ ক'রলো মুসলিম দেশকে সেই থেকে ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে “কুশেড'-এর পরিচ্ছেদ

এই ঘটনার প্রায় ছু'শো। বছর পরে তুকীতে দেখা দিল আর এক পরাক্রান্ত রাজ! _'ওসমান। নিজেকে তিনি ওটোমান তুকাঁ নামে জাহির করতেন এবং হুকুম জারি ক'রে দিলেন, এবার থেকে তুকাঁ রাজাঁদের বল! হবে “ম্থলতান'। এরপর থেকে সুুলতানরা একটানা ছঃশো! বছরের উপর তৃকীঁ-গদীতে বসে গেচেন এবং এই বংশেরই সুলতান-_. ন্থলেমান দি ম্যাগনিফিসিয়েপ্ট ব। জাক-জমকী সুলেমান তু ইতিহাসের এক মহাঁ-পুরুষ। এর সময়ে তৃকীরা। সাম্রাজ্য বাড়িয়েছিল বুদাপেষ্টু থেকে মক! পর্ধস্ত আর ওদিকে উত্তর মিশর থেকে কৃ্ণ- সাগর পর্যন্ত ব্যাপ।র দেখে খ্রীষ্টান ইয়োরোপ ভয় পেয়ে গেছলে!। তুকাঁ ইতিহাসের এই পাতাগুলে। সোনার জলে লেখা

এবার তুকীলাফ মেরে, আসা যাক প্রথম মহাযুদ্ধের যবনিকা পতনের পরে তুকীঁ, জান্মীনীর হ'য়ে লড়েছিল ইংরেজ-আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই যুদ্ধাঙ্কের শেষ দৃশ্যে দেখা গেল বজয়-লক্ষ্মী ই্গ-মার্কিনী গলায় মালা পরালেন, যা করেচেন এবারও কাজেই শত্রুপক্ষের দেশ, তুকীদের হাত থেকে বহু দেশ কেডে নেওয়া হ'লো, রইলে! তাদের ভাগে। আনাতোলিয়৷ মাত্র অটোমান সাম্রাজ্য নস্তাৎ হ'য়ে গেল। ব্রিটিশ, কনস্টান্টিনোপল হাত করলে? গ্রীকরা' স্মার্ণা; ইতালীর৷ আত্তালিয়া, আর ফরাসীর। সাইলিসিয়া সবাই দেশটাকে ভাগাভাগি ক'রে নিয়ে ভাবলো, ওঃ খুব জব্দ কর! গেচে তুকাঁদের কিন্তু ওদিকে

১০

যে একটি লোক আবার দেশ গড়বার কাজে লেগে গেচে _- তা তারা দেখেও দেখলো না লোকটি হচ্ছে মুস্তাক! কামাল পাশ! পাশা ছিলেন যুদ্ধের সময়ে এক সামান্য সৈম্যাধ্যক্ষ। যুদ্ধের শেষে ইংরেজদের হাতের পুতুল সুলতান, পাশাকে হুকুম দিলেন __ সৈন্যদের সব ছুটি দিতে। আর কেন? যা হবার তো৷ হ'লোই কিন্তু পাশ! অন্ত চাল চাললেন। সৈন্াদের সব জড়ো! করলেন আনাতোলিয়ায় এবং কাছেই আনকার৷ সহরে গর্যাট হ'য়ে ব'সে জানালেন, যে পর্যস্ত ন। তৃকরট আবার স্বাধীন হচ্চে, আমি এখান থেকে 'পাদমেকং গচ্ছামি' | দেশের ছেলেদেরও নাচিয়ে দিলেন তিনি শেষে দেখা গেল, তৃকাঁ মাত্রই তার কথায় উঠচে বসচে নেতিয়ে-পড়া তৃকাঁর। হাতের কাছে একটা নেতা পেয়ে বেঁচে গেল যেন তা ছাড় স্থলতাঁনের আমলে দেশের লোকের! ভেড়া ছাগলের মত ব্যবহার পেয়ে এসেচে, এবার নতুন আশ নিয়ে জেগে উঠলে পাশার সঙ্গে রণক্লাস্ত ইংরেজের দল দেখলো, আরে, এতো! মহ! ফ্যাসাদ হ'লো। ! অথচ আবার যে নতুন করে হা-রে-রে-রে ক'রে লড়াইয়ে নামবে, সে উৎসাহও নেই তা ছাড় নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সবাই ব্যস্ত কাজেই সবাই ঢোক গিলে চেয়ে রইলো পাশার দিকে পাশা রব তুললেন, তৃকাঁ আমাদের, ফেরৎ চাই। কিন্তু কথায় আছে, 'সফরি ফরফরায়তে, | পুঁটি গ্রীস ভেংচে বললে, দীড়।ও, দিচ্চি ফেরৎ। তেড়ে পাশার দিকে পেছনে ইংরেজদল বললে “বাক আপ, বাক আপ? পাশ। ভয় পেলেন না _- বুক ফুলিয়ে দাড়ালেন তার পাশে দাড়ালে। তুকাঁ ছেলে-বুড়ো৷ সব'ই | লড়াই হলো পুরো তিনটি সপ্তাহ ধরে | কিন্তু শেষ পর্যস্ত থোতা মুখ ভোতা। ক'রে হঠে আসতে

হ'লে গ্রীনকে সবাই হৈ হৈ ক'রে উঠলে। £ কামাল চারি জয়। সব ১৯২২ সালের আগস্টের ঘটনা দেশ পাশাকে সম্মান দিলো __ গাজী-বিজয়ী। সারা বিশ্বে প্রচার

ন্৬

হ'য়ে গেল তার নাম আগে স্থুলতানদের পদবী ছিল -_ “সাহানসা' ভূ-বিধাতা, এসিয়া-ইয়োরোপ-আফ্রিকার মালিক, ছুই সমুদ্রের অধীশ্বর, আশ্রিতের ভরসা, আল্লার প্রতিবিস্ব ইত্যাদি। এগুলি নেহাৎ হাস্যকর বলে মনে হলো তুকাঁদের কাছে। পাশা এই বছরেই 'ম্থুলতানী” উঠিয়ে দিলেন পরের বছরে ২৯শে অক্টোবরে পাশা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করলেন দেশে এবং তিনি হলেন তার সবপ্রথম প্রেসিডেন্ট

এইবার দেশ গড়ার কাজ ছেলে খেলার ব্যাপার নয় দেশট! এত দিন অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে ছিল। শিক্ষা বলতে 'হোকৃজা রা কোরাণ- এর কবিতা মুখস্থ করাতে। ছেলেদের কাজেই ছুটি সমস্তা দেখা দিল, একটি জন সাঁধারণকে শিক্ষা দেওয়া এবং আর একটি শিক্ষা দেবার জন্যে শিক্ষক তৈরি করা কাজে এগুতে গিয়ে দেখা গেল আর এক বাধা তুকীঁ ভাষা সব আরবি বর্ণমালায় লেখা -_ সাধারণ লোকদের অক্ষর চিনতে চিনতেই বাজি ভোর হয়ে যায়। কিন্ত পাশা দমলেন না। আরবি বর্ণম।লা উঠিয়ে দিয়ে রোমান বর্ণমালার ব্যবস্থা করলেন। শেষ পর্যন্ত নিজে বেরুলেন চক খড়ি হাতে গ্রামে গ্রামে, বোঝাতে লাগলেন গ্রামবাসীদের নতুন বর্ণমালা_-বোঝাঁতে লাগলেন এই নতুন বর্ণমালায় সুবিধা শেখবার। পরে নির্দেশ দিলেন সববাইকে স্কুলে যেতে হবে এ, বি, সি, ডি পড়তে , লেখাপড়া শিখতে শুধু তাই নয়,তিনি নিজে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই -- যে কোন স্কুলে গিয়ে ক্লাসে পরীক্ষা নিতে লাগলেন, দেখতে লাগলেন, কাজ কতদূর এগিয়েচে সবাই তটস্থ হয়ে রইল

তারপর নজর দিলেন তিনি ভাষার উপর তার কারণ ছিল অটোমান সুল্তাঁনদের আমলে তৃকাঁ ভাষাটা ছিল আরবি আর ফারসী ভাষার জগা-খিচুড়ি | তাছাড়া বৃ আজে বাজে বাড়তি কথা ছিল যা এযুগে অচল আনকারায় এক কমিটি বসিয়ে সে সব তিনি

২৯

ছাটলেন, ভাষায় আনলেন রোমানঅক্ষরে বিশুদ্ধ তুকাঁ বুলি

এবার পাশার কাজ হ'ল দেশের লোকের মন থেকে কুসংস্কার সরানো। এই পরিকল্পনার প্রথম কাজ, লোকের মাথা থেকে বহুপুরোন ফেন্ধ ছাড়ানো | বললেন সবাইকে, জিনিষটা এসেচে অীকদের হেলমেট থেকে, ওটি ছাড়তে হবে এবং এবার থেকে পরতে হবে হ্যাট কথাটা শুনে অনেকেই মুছ মাথা চাড়া দিয়েছিল, কিন্তু শেষে দেখা গেল্‌ সবাই মাথা পেতে তার নিদেশ মেনে নিয়েছে, মাথায় পরচে হ্যাট। অবশ্য গিয়ে দেখলাম, ওটি বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই | খালি মাথায় অনেক লোক পথে চলাফেরা করচে, যেমন দেখেচি কন্টিনেন্টে এবং গোঁড়া ইংলগ্ডে। ফেজ ছাড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পাশা তার দেশবাসী সবাইকে পুরোন আমলের দেশী পোষাক ছাড়িয়ে বললেন কোট প্যাণ্ট পরতে ফেজই যখন ছাড়তে হলো, দেশী পোষাক ছাড়তে আপত্তি করলো না কেউ। তবে গ্রামে চাষীর পরণে আজও দেখা যায় সেই পুরেন দিনের দেশী পোষেক।

এবার ধমে আঘাত দিলেন পাঁশা বরাবরই পাশার ধারণ! ছিল, ধমের গৌড়ামিই হচ্ছে, উন্নতির একমাত্র বাঁধা তিনি ইসলামকে আর জাতীয় ধর্ম বা ষ্টেট-রিলিজিয়ন ব'লে মানলেন না বললেন, ধর্ম হচ্ছে হাড়ির ব্যাপার. সরকারী ব্যাপারে ওর কোন হাত নেই | লোকে সরকারী চাকরি পাবে যোগ্যতা হিসেবে, কোরাণ পড়ে ব'লে নয়। এমনকি দেশেব আইন-কানুনও আর ইসলামের নিরেশানুষায়ী রইলো না, সুইজারল্যাণ্ডের আধুনিক কানুন দেখা দিল তুকীঁতে এসব করতে পাশীকে বেগ পেতে হয়েছিল গোড়া ইসলামীরা রীতিমত মাথা নাঁড়া দিয়েছিল কিন্তু পাঁশা তার পেশী-বহুল হাতে তাদের শিং ধরে মাথা নাড়া বন্ধ করায় আর নাঁড়তে সাহস করেনি।

আর একটি বড় কাজ পাশা করেচেন, তার মা-বোনদের মুক্তি দিয়ে। বোরখা -প্রথা উঠিয়ে দেওয়ায় তৃকাঁ মেয়েরা খোলা হাওয়ায়

খ্

নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচলো ছ'হাত তুলে আশীবণদ করলো পাশীকে। তুকাঁ মেয়েদের রূপের স্ততিগান গাইতে পারতাম না, যদি না পাশ! তাদের ঘোমটাগুলি খুলে দিতেন আগে থেকেই পুরুষদের উপরও নিরেশি হ'লো, একটি ছাড়া বিবি রাখ! চ'লবে না। বহু পুরুষের যুখ ঝুলে গেছলো নিশ্চয়ই, কিন্তু বিবির সবাই পাশাকে আবার জানালো আস্তরিক শুভেচ্ছা তুকীঁ মেয়েরা এখন তাদের পাশ্চাত্য বহিনগুলির মতই স্বাধীন অনেকেই সরকারী ব্যাপারে লিপ্ত।

এই যে সব ওলোট পালোট ক'রে দেওয়া-_-এতে সাহস শক্তি ছু য়েরই দরকাঁর। ছুটি জিনিষেই তৈরি পাশ! হটেননি তাই কোন কাজেই ? একট! পেছিয়ে পড়া দেশকে তিনি মাত্তর দশ বারো বছরের মধ্যে জগৎ-সভায় প্রথম বেঞ্চে বসিয়ে দিলেন দেশের কাছে পাশা আবার একটা নৃতুন খেতাব পেলেন, আতাতুর্ক--তৃকাঁ পিতা ! বইতে প্রথম ভাগে লেখা হলো £ কামাল আতাতুর্ক আমাদের জাতীয় পিতা, তিনি ছোটদের স্নেহ করেন, আমরা ছোটরা তাকে ভালবাসি আতাতুর্ক দীর্ঘজীবি হোন

দেশ নিজের পায়ের ওপর দীড়িয়েচে দেখে আতাতুর্ক হাসিমুখে বিদায় নিলেন দেশের কাছে, ১৯৩৮ এর .১ই নভেম্বরে দেশ কেঁদে ভাঁসিয়ে দিল | তাদের অশ্রু জমাট হ'য়ে তৈরি হ'লো আতাতুর্কের স্মৃতি-স্তস্ত _- ইস্তাম্বুলে, আনকারায় পাঁশার অন্তরঙ্গ কর্মী ইসমেৎ ইনন্থু বসলেন তার ফেলে যাওয়া প্রেসিডেন্টের শুন্য চেয়ারে। দেশ চোখ মুছে আবার কাজে মন দিল।

অটোমান স্বলতাঁনদের সময় সন্বোধনের ঘটাঘটি ছিল ব্হুৎ।গীয়ের মোড়লকে এক রকম বলতে হতো, বিচারককে আর এক রকম, অফিসের বড়বাবুকে অন্যরকম, ভাক্তার, ইমাম, হোফজা, এদের জন্যেও যথা

২৩

যোগ্য সম্বোধনের ভাষা থাকতো জিয়োনো | আবার তাদেরও অন্য ভাষায় জানাতে হ'তো এসব সম্বোধন গুলির স্বীকৃতি | মানে, রীতিমত গুপলেট হ'য়ে যাবার দাখিল হ'তো প্রায়ই আর এর সম্বোধনটা ওর ঘাড়ে গিয়ে পড়লে হয় তার মুখ ভারি হ'তো, নয়তো৷ চোখ রাডিয়ে উঠতো অর্থাৎ সম্বোধন মুখস্থ করতে এবং সেগুলি পাত্রস্থ করতে রীতিমত 'নরঃ নরৌ নরা% মত সফালে উঠে ধাতস্থ করতে হ'তো বোধকরি আতাতুর্ক সেগুলিকে সব ঝে'টিয়ে বিদায় করেচেন এবং এখন যেসব কথাগুলি আছে তা ছোট্ট, সহজ এবং অল্প

আজকাল একজন তৃকীরি সঙ্গে দিনে তার পরিচিত কারোর দেখা হ'য়ে গেলে বলবে, গুণেদিন্‌ মানে, দিনটা তোমার ভালয় যাক | তেমনি সন্ধ্যায় দেখা হ'লে বলবে, তুনেদিন্‌। ইংরেজীর গুড মনিং, গুড ইভনিং আর কি! তবে চাষীরা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আজো সেই পুরোন আরবি সম্বেধনটাই ব্যবহার করে £ মারহাববা অর্থাৎ স্বাগতম্‌. যদিও ঠিক আরবি মানে হচ্চে, আরামে বসো তবে আর একটি খুব চলিত শুভেচ্ছ৷ বাণী শোনা যায় প্রায়ই £ সবা শের-ইফ লারিনিজ. হাইয়ার উলসান্‌। মানে, তোমার দিন আজ মঙ্গলময় হোক। রাত্রে কথাটি বদলে গিয়ে হবে £ গেজিনিজ, হায়ার উলসান্‌। আবার তরুণদের মুখে ফরাসী “ব জোয়া” এবং ইংরেজী “বাই-বাই'-ও শুনেচি। তবে বিদেশী বুলি- গুলি ছেলে ছোকরাদের মুখেই শোন! যায়, বাপ-খুড়োদের মুখে নয়। ওগুলি বিদেশী সিনেমা প্রাপ্ত বুলি।

তারপর ধরো? তুমি হয়তো তৃকীঁ বাড়ীতে নেমন্তন্নে গেছ। তুকী- কত তোমাকে দেখেই বলবে, সাফ! গেল্দিনিজ, কিংবা হজ. গেল্‌- দিনিজ.। ছু'টি তুকাঁ কথা মানে, স্বাগতম্‌। উত্তরে চুপ ক'রে থাকলে অভদ্রতা। তোমাকে বলতে হবে, হজ, বাল্দাক্‌। তারপরে তোমার খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেল, এবার বাড়ি যাঁবে। শ্রেফ কেটে পড়লে চলবে ন1। বলতে হবে, আল্লাহ ইস্মার.লাদিক্‌। অর্থাৎ ঈশ্বর তোমার মঙ্গল

২৪

করুন। তখন কত তোমায় বলবে, “গুলে-গুলে' | মানে, হাসতে হাসতে বাড়ি যান। অবশ্য কথাঁট। শুনলে হাসি পাবারই কথা ! তাছাড়া এই “গুলে-গুলে' কথাটি গোলমেলেও বটে কারণ ওটির আর একটি মানে হচ্চে, তোমার শাস্তি হোক

আবার হঠাৎ এক বন্ধুর সঙ্গে দেখ। হয়েচে তোমার পথে দেখলে, বন্ধুর মুখ শুকনো! “কি হয়েচে রে? সে বললে তার হুঃখের কথা তখন তুমি কি বলবে ? বলবে, "গেজ মিজ উল্সান্ঃ | মানে, যেতে দাও। গ্রামাঞ্চলে “মাজাল্লা, কথাটিও খুব চলে অর্থাৎ ভগবানের কি ইচ্ছা, কেজানে ! ধরে গ্রামে এক চাষীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েচ চাষীর খোকা হয়েচে সম্প্রতি একগাল হেসে খোকাকে নিয়ে এসে দেখালো তোমাকে অন্ত কারোর কুতৃষ্টি যাতে খোকাটির উপর না পড়ে, সেজন্যে বারবার তোমাকে “মাজাল্লা” কথাটা বলতে হবে এবং তার গায়ে মাঝে মাঝে সামান্ থুতু ছিটোতে হবে। দেখবে, সরল চাষীর প্রাণখোলা হাঁসি।

স্বলতানী আমলে ইসলাম যখন ছিল তৃঁকীঁদের সরকারী ধর্ম, তখন প্রায়ই লেগে থাকতো বারো মাসে তেরো পার্বন | এখন ধর্মের পরব, তথ। ছুটিছাটা বহুৎ কমিয়ে দিয়েচে তুকীঁ সরকার এখন যে সব ছুটি- ছাট! হয়, তাকে তিনটে ভাগে ভাগ করা যায় এক হচ্ছে, দেশের উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্তে ছুটি; আর একটি হচ্চে, ধর্মগত পরবে ছুটি, যা সরকার মেনে নিয়েচেন এবং তৃতীয়টি হচ্চে ঘরোয়া পরৰ --. অর্থাৎ যে সব তুকাঁ এখনও সেই পুরোন আমলের ধর্মগত পরব মানেন ।তারা নিজেদের বাড়িতে সেটি পালন ক'রে থাকেন এবং নিজেদের দোকান- পাট যদি থাকে, তা বন্ধ রাখেন।

ধর্মগত পরবের মধ্যে রমজানটাই বড পরব এবং সরকার পরব মেনে নিয়েচেন আগেকার দিনে খুবই ঘট ক'রে এই পরব হ'তো এবং পয়সাঁওল! লোকেদের দ্বার থাকতো! অবারিত, গরীবদের জন্যে আগে সারা মাসটায় যে পয়সা বা “ত্রা" জমা হ'তো, সেটা রমজান

২৫

উৎসবের দ্রিনে মসজিদের কতর্ণদের হাতে দেওয়া! হ'তে! কাঙ্গালী ভোজনের জন্তে এখনও কাগজে কাগজে আবেদন ছাপিয়ে “ফিত্রা' জমা হয়, তবে খরচ হয় দেশের বিমান-বাহিনীর বা “হাবা-কুরুমু'র উন্নতিকল্পলে রমজান মাসে দিনের শেষে তোপ দেগে জানানো হয়, উপবাস ভঙ্গের সময় হ'লেো৷ আর তখনই চারধারে পড়ে যায় হৈ চে ব্যাপার কাফেগুলি ভতি হয়ে যায়, ফুটপাথ দিয়ে চল। দায় হয়, সিনেমার সামনে ভিড় বাড়ে অনেকে উপবাসও করে না, তবে কাফে- সিনেমায় ভিড় করে আর সবাইয়ের মত। রমজান পরব বা 'বেইরাম”-এ সার! মাসটায় মসজিদগুলে! সাজানো থাকে নানা রংয়ের আলোয় রমজান বেইরামের তিন দিন পরেই শেকের বেইরাম | সময় তুকাঁরা ভাল পোষাক পরে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দেখা করতে যায়, নানারকম খাবার মিষ্টি দিয়ে আসে তাঁদের বাড়ির ঝি-চাকরদের তখন বকশিস্‌ মেলবার সময্ম রমজানের ছু'মাস দশদিন পরে হয় কুরবান- বেইরাম। সময় ছাগল, ভেড়া-_ আর ভেড়া না পেলে পুংজাতীয় উট বলি দেওয়া হয় ভেড়া বলির চলনই বেশি | সহরে ভেড়ার বাজার বসে যায় দেখবে সবাই প্রায় দড়ি বেঁধে ভেড়া টেনে নিয়ে যাচ্চে কিংবা হামালের ঘাড়ে চড়িয়ে এক একটি ভেড়ার দাম কিন্ত কম নয়। প্রায় ত্রিশ তুকাঁ পাউগ্ড, মানে আমাদের ৬৫২ টাকা কাজেই অনেকে চাদা ক'রেও ভেড়া কেনে এই কুরবানী ক'রবার নিয়ম আছে। হাঁড়কাঠে গল। বাধিয়ে আমরা যেমন “জয় মা কালী” ব'লে খাঁড়া বসিয়ে দিই__ সে রকম চলবে না এখানে ভেড়ার মাথায় ব্যাণ্ডেজ বাঁধতে হবে, পরে সামনের ডান পায়ের সঙ্গে পেছনের ঝ। পা-টিও বেঁধে দিতে হবে। তার পর মক্কায় গিয়ে হজ ক'রেচেন এমন কোন ব্যক্তি এসে দেখিয়ে দেবেন যখন কোথায় কোপ বসাতে হবে-. তখন বলির ব্যবস্থা। আবার খেয়াল রাখতে হবে রক্ত যেন মাটিতে পড়ে ঠিকমত এই সময় যদি বৃষ্টি পড়ে, গৌড়! ইস্লামী বলে, বৃষ্টি আল্লা দিয়েচেন পথের রক্ত ধুয়ে ফেলবার

১৬

জন্যে কুরবানী হবার পর, যার ভেড়া সে পায় সিকি ভাগ, -- বাঁকি- টুকু বিতরণ করা হয়। সময় থলে কীধে ভিক্ষুকরা ঘোরে বাঁড়ি বাড়ি মাংস পাবার লোভে কুরবানীর এই মাংসের জন্তে হৈ-হল্লাও কম হয় না সময়তেই কাগজে কাগজে আবেদন বেরোয়, ভেড়ার চামড়া সরকারে জমা দেবার জন্যে, যাতে বিক্রী ক'রে হাবা-কুরুমুর জন্যে টাকার ব্যবস্থা করা যায়। আর, এই শেকের-বেইরামে অনেক তরুণ তাদের প্রণয়িনীর জন্যে ভেড়। উপহার দিয়ে থাকে, ভেড়াটির শিংডে এবং হুস্বায় মেহেদী রং লাগিয়ে তাতে বোঝা যায়, হ্যা, প্রণয়ী তার শাসালো৷।

ইস্তান্ুলে স্থলতান আমায়েৎ মস্জিদ, ওসমানিয়া মস্জিদং স্থলেমানিয়া মস্জিদ১ আন সোফিয়া মস্জিদ্‌ ( আগে এটি খ্রীষ্টান গির্জা ছিল ) ইত্যাদি সাজানো হয় এই সময় নানা রডের আলো আর ফুলে। রাত্রে আলোর ছায়া খন গোল্ডেন হর্ণ বস্ফরাস্‌ প্রণালীর নীল জলে প'ডে থর থর কাপতে থাকে -_ অতিবড় নাস্তিক তুকাঁরও মন নরমে আসে; বলে, আহা, মরি-মরি ! বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাটও দিন হয়ে যায় আলোয় আলোয়।

দেশের উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্তে ষে সব পরব বা বেইরাম হয়, তার মধ্যে সর্বপ্রধান হচ্চে, স্ুমহারিয়েত বেইরাম _- মানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা-দিবস। প্রতি বছরে ২৯শে অক্টোবরে এই বেইরাম | দিন প্রতি গৃহে, পথের 'পরে দেখা যায় তুকাঁর জাতীয় পতাকা অনেক জায়গায় বড় বড় প্লাকার্ডে লেখা আছে £ এগোও, নইলে পতন। কোথাও বা লেখ। আছে £ আমাদের তুলনা আমরাই প্রায় সব সহরেই বেল! সাড়ে দশটায় মঞ্চে দাড়িয়ে হীলকেভির প্রেসিডেণ্ট মশায় একটা কড়া গোছের বড়। বক্তৃতা দিয়ে দেন। মিছিলও বা'র হয়। তাতে জাতীয় পতাকা হাতে ছেলে বুড়ো সবাই থাকে ব্যাণ্ডের তালে তালে মার্চ ক'রে যাওয়া সুসজ্জিত তৃকা তরুণ তরুণীদের দর্পময় ভঙ্গী দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নত ন! হ'য়ে উপায় নেই “কী হবে ওসব ক'রে' ব'লে ঘরে

২৭

বসে থাকে না কেউ মিছিল এসে থামে আতাতুর্কের স্মৃতি-স্তাস্তের তলায়, দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি, পরে তুকীরি সুগন্ভীর জাতীয় সঙ্গীত কাঁপিয়ে তোলে আকাশ বতাস।

পরে বিকেলে শুরু হয় স্পোর্টস্‌, কন্সার্ট, অভিনয় আন্কারা রেডিয়োয় সারাদিন বাজতে থাকে ব্যাণ্ড। সন্ধ্যায় সাজানে। সব কাফেতে ভোজন-পর্ব বড় বড় হোটেলে বাড়তি প্রোগ্রাম, বল্-নাচ | মদ্যপান তে। আছেই বিলিতি মদের পাঁশে দেশী মদের বোতলও স্থান পায়। তুকীর আঙুর ব1 ডুমুর থেকে তৈরি সুরা 'রাকি'র বোতল খোলা হয়, খোল হয় সিরিয়ার আরক, মিশরের জিবিব। সার! তুকা রাত ভোর বিভোর হয়ে থাকে আনন্দে বিলিতি নাচের সঙ্গে স্ুবিখ্যাত তুক- নাচনও বাদ যায় না। ওকে বলে “জেবেক' নাচ দেখলাম, নাচটি বড় সোজা নয় __ রীতিমত ব্যালান্সের দরকার | “বেক” নাঁচট। ইজমীর ( আগেকার স্মার্ন-র ) একচেটিয়া জিনিষ | একজন বা অনেকেই নাচতে থাকে আর দর্শকরা! তালে তালে দেয় হাত তালি। ছাড়াও হাত ধরাধরি ক'রে রুমাল নিয়ে 'লাজ' নাচও দেখবার মত। নাচগুলি অতি অল্প জায়গার মধ্যে হয় আর বাদ্ির ঘটাঘটি নেই | আনন্দে মস্গুল তুকাঁরা সেদিন সারা দেশটাকে গুলজার ক'রে রাখে

নববর্ষের প্রথম দরিনটিও তুকারি একটি নীমকরা' বেইরাম, তবে গণতন্ত্র গ্রতিষ্ঠা দিবসের মত অত জ্জীক-জমকের নয়। ছাড়া ঘরোয়। পরব অনেক আছে, তা নিয়ে যাদের মাথ! ঘামাবার, তারাই ঘামায়, সবাই নয়।

কোন দেশে গিয়ে সেখানকার রাজধানীর ঢালাই ফুটপাথে ঘুরে বেড়ালে কিংবা ট্রামে বাঁসে খাঁনিকট! এদিক-ওদিক ক'রলে-_কিছু যে দেখলে না, তা নয়; তবে দেশটাকে যে চিনলে না, এটা ঠিকই। সহরের বড় বড় রাস্তা, ভারি ভারি দোকান, ঠং ঠংয়ে ট্রাম, দৌতল! নব বাস, গই্ট-মটানো। লোক; ঠোঁট রাঙানো মেয়ে--ও প্রায় সব দেশেই সমান

আমাদের এস্প্লানেডেও যা, লগ্ুনের পিকাডিলীতেও তাই'আর প্যারীর শা ইলিজেও তখৈবচ। তফাৎ উনিশ-বিশের। কিন্তু সর থেকে একটু দূরে মাটির পথে প1 দিলেই পাবে আসল লোকের, আসল দেশের পরিচয়। সহরে যারা ঘুরে বেড়ায়, ওরা তো সব অভিনেতা-অভিনেত্রী। পুরুষদের মুখোস পরা, মেয়েদের মুখে পেণ্ট কর! মুখে বলে মুখস্থ বুলি, প্রাণের বুলি নয় | কাজেই যেখানেই যাও, মাথা খাও, গীয়ে যেয়ো

তুকাঁ আমাদেরই মত চাষীর দেশ | তবে আমরা, ভদ্রলোকেরা যেমন লাঙলের কথ! ভাবতেও পারিনে, কিন্তু তুকাঁর পয়সাওলা লোকেরাও জমিজমা রাখে, চাষআবাদের খেয়াল রাখে, নিজেদের “চাষী” ঝ'লে পরিচয় দিতেও মুখ-চোখ-কান লাল করে ন। লজ্জায়।

অবশ্য গ্রামের অবস্থা ভাল নয় এখনোও কাঠের আর পাথরের তৈরি চাষীর জীর্ণ বাড়িগুলে৷ দেখলেই মালুম হয় তার হাঁড়ির খবর। বিশেষ ক'রে আনাতোলিয়ার মাটি এমন পাথুরে যে, চাষীকে যাকে বলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তবে ধরিত্রীর কাছ থেকে কিছু আদায় করতে হয়। চাষী-গিন্নিও কর্তার সঙ্গে মাঠে বেরিয়ে লাঙল ঠেলতে শুরু করে, তাই তুকাঁচাষধীর উৎসাহ বোধহয় আরো বাড়ে।

তুকাঁ মেয়ের! শুধু চাঁষে নয়, বাইরের সব কাজেই নাঁক গলিয়েচে যেমন, তেমনি ঘাড় পাততেও পেছ্‌-পা হয় নি। তাই আনকারায় আতাতুর্কের স্মৃতিস্তস্তের একপাশে দেখা যায় কামানের গোল কাধে এক চাষী-রমণীর মর্সর মৃতি আতাতুর্ক এত ক'রেচেন, কিন্তু গাঁয়ের চাঁষী-বুড়ির মাথা! থেকে ঘোমটা খুলতে পারেননি কাজেই, একেলে গায়ের সেকেলে বুড়ির মাথায় সেকেলে বোরখা আজও চাপানো এমনকি চাষীর বাড়িতে কোন পুরুষ অতিথি এলে তার সামনে আসাও নিষেধ কফি খানাতেও চাষী-বুড়ি যায় না, তার কর্তার মাথায় একেলে সখ চাপলেও নয় আর সময়ই বাকৈ ? ঘরে স্থির কাজ

ন্ ৯৯

পড়ে আছে না? গরু-ঘোড়াগলোর দানা-পানি দিতে হবে; মুরগী- ভেড়াগুলোকে ঘরে তুলতে হবে ; নাতি-নাতনীদের ছুধ খাওয়াবে কে, তাদের রূপকথার গল্প শুনিয়ে? কাজেই চাষীকে একলাই যেতে হয় কফিখানায় এবং সেখানে আড্ডা জমায় অনেক রাত অবধি।

তুকাঁ চাষীর নতুন লোক বা বিদেশীদের সহজে পাত্তা দিতে চায় না। কিন্তু যদি দেয়, তবেশ্তার জন্যে যেন সব উজাড় ক'রে দিতে পাঁরলে বাচে কী ক'রে তাকে যত্ব করবে, সেই ভাবনাই তখন বেশি তার। খবর যায় গায়ের মোড়ল “মোহ তার”এর কাছে, তার উপরেই পড়ে অতিথি সংকারের ভার। অবশ্য প্রায় সব গাঁয়েই আছে একটি আস্তান। --অতিথি-শালা। সেখানে তাকে আনা হয় এবং সে খবর সঙ্গে সঙ্গে তড়িতবং সারা গাঁয়ে রাষ্ট্র হ'য়ে যায়।

সব দেশের মতই তৃকীতেও মেয়েদের কৌতুহল বেশি | কাজেই নিজেদের মধ্যে শুরু হ'য়ে যায় আলোচনা £ কেরে? কেন এসেচে রে? কোথাকার লোক রে? ইত্যাদি কিন্তু আসল কাজ ভোলে না কেউ। যথারীতি “মোহ তার'এর নিরেশিমত কোন বাড়ি থেকে আসে অতিথির বিছানাপত্তর, কোন বাড়ি থেকে আসে খাবার, কোন বাড়ি থেকে আসে গরম জল, গামছা, যা! দরকার | গাঁয়ে তৃকাঁর অতিথি কারে। একলার'নয়, সার! গায়ের

তুর্কী গায়ের “মোহ তার'রা হ'চ্চে এক একটি ক্ষুদে হিটলার। তাদের কথায় গায়ের সবাই ওঠে, বসে মাইনে পায়না এক পয়সাও, মান কিন্তু খুব তবে গাঁয়ের কাউকে সার্টিফিকেট দিতে হ'লে কিংবা! রেশন খাতায় সহি করলে এবং বিয়ে-থাওয়ার ব্যাপারে, বাঁধ' প্রাপ্য আছে কিছু তা ছাড়া জমির ফল তো আছেই | তা চলে যায় “মোহ তার'এর ভালই।

তু চাষীদের জাতীয় পৌধাকগুলি চমংকার সহরে আসে যখন,

৩৪

কোি-প্যান্ট পরে আসে, আর মেয়েরা গাউন | তখন মনে হয় যেন মযুর তার পালক খুলে দীড়কাকের দলে মিশলো৷। ঈশপের গল্পের উল্টে ব্যাপার গণয়ে চাষী পুরুষ বা! মেয়েরা পরে টিলে পায়জাম!__ শীলোয়ার। মেয়ের! গায়ে দেয় রডীন ব্লাউজ আর পুরুষেরা ব্লাউজের মতই প্রায় দেখতে “মিনতান্?। তার উপর কোমরে জড়ায় রততীন কাপড় কয়েক পাক __ ওটি মেয়ে পুরুষের একই সাজ তবে পুরুষ গৌঁজে তাতে একট! ছোর। আর মেয়ের! মাথায় পরে ওড়না। এই ওড়না দেখে চিনতে হয়, মেয়েটি কুমারী, ন! কারোর ঘর্ণী। ক'টি ছেলে-মেয়ের মা, তাও চেনা যায় এই ওড়নার রং আর ডিজাইন দেখে তবে সে সব চেনা তোমার আমার মত বিদেশীর পক্ষে রীতিমত না হোক, একটু শক্ত

চাষীদের খাওয়াট। কিন্তু খুব খারাপ নয়। আমাদের চাষীদের মত পাস্তাভাত, নুন আর মাছ বা শাক-চচ্চড়ি নয়। আটার মোট। রুটি, চীজ, ছুধ, দই, ভাত প্রায় সব চাষীর হেঁসেলেই থাকে | পেট ভরবার জিনিষ আছে যেমন ওদের, মন ভরবার জিনিষেরও আর অভাব রাখচে ন! তুকর সরকার। স্কুল আছে সব গায়েই। চাষী নিজেও পড়ে সেখানে, তাঁর ছেলেমেয়েরাও | গায়ে খবরের কাগজ পড়ার খুব উৎসাহ পুরোন খবরের কাগজ ? তাই সই। প্রায় দেখা যায় গ'য়ের বুড়ো বুড়ির গোল হ'য়ে বসেচে, আর তাদের পামনে কোন স্কুলের ছেলে, হয়তো বা ওদেরই কারে। নাতি চেঁচিয়ে প'ড়ে শোনাচ্চে খবরের কাগজ সহরে এমন অনেক ছেলে দেখেচি, লোকেদের কাছ থেকে পুরোন খবরের কাগজ ভিক্ষে ক'রে বেড়াচ্চে। প্রথম প্রথম মনে হ'তো। বুঝি পয়সা! চাইচে আমাদের চোখ পয়সার ভিথিরী দেখতেই অভ্যস্ত, জ্ঞানের ভিথিরী প্রথম দেখলাম তৃকাতে।

তুকাঁ ধন-ধান্ত-পুষ্পে ভরা! নয়। আনাতোলিয়ায় পাথুরে মাটি তে৷ আছেই আর শাতের সময় উত্তর তুকাঁ বরফে ঢেকে যায় অনেক গরু মীরা পড়ে সে সময়; তারপর নেকড়ের উৎপাত কৃষ্ণ সাগরের আশে

৩১

পাশেই তুকীঁর যা কিছু বসতি, যা কিছু সম্পদ মাটিতেই ফলে ফল তুলো, তামাক-_য বেচে তুকীরি পয়সা আমাদের বাংলার মাটির মত নরম মাটি তুকাঁ নয়। বাংলার আছুরে চাষী বৃষ্টি পড়লে হাড় জির জিরে গরু আর ভাঙা লাঙ্গল নিয়ে ছু'চারবার মাটি চড়ে, বীজ ছড়িয়ে দাওয়ায় বসে দাকাটা তামীক টানে _ গুড়ক গুড়ক। জানে মাটি ফুঁড়ে ধান হবে, পাট হবে | না হয়তো খোদাকে গালাগালি দেবে। তুকাঁ চাষা জানে -_ তাদের শক্ত মা-টি তাই আপ্রাণ খাটতে হয়, জঙ্গ টেনে টেনে দিতে হয় চাষে | তাদের মাঁ-টি বলে £ খাটো, খাও। তুকাঁ চাষী তাই করে

গঁ! মাত্রেই কয়েকদিনের জন্তে মন্দ লাগে না। ট্রেনে ঝসে আরো ভাল লাগে সহরে পাখার তলায় বসে গায়ের কবিতাও গড়গড় ক'রে লেখা যায় -কিন্ত গাঁয়ে গিয়ে বেশিদিন বাস করতে হলেই মেজাজ যায় বিগড়ে | আরে, সেখানে সহরের হৈ হৈ নেই, হল্লা নেই, মজা নেই। ভাল লাগে? আর কথাই তো আছে -_ 0791) 195.8. 50019] 81017131. কাজেই গ'? থেকে চলে আসা যাক সহরে ইস্তান্বুলে।

তা, ইস্তাম্থুলের বিষয়ে বলবার বহুৎ আছে। মিনার, গম্বুজ উচোনো ফালি-সমুদ্রে তেভাগা! সহর ইস্তান্ুল অন্যান্ত সহর থেকে একটু আলাদা লোকও অনেক-_প্রায় আট লক্ষ রাজধানী আনকারাতেও অত নেই | তাছাড়া সহরট'র চীরধারেই ইতিহাসের পাতা ছড়ানো সত্যি, বয়সও কম হ'লে না সহরটার তুকাঁরা ইস্তাম্বুলকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে, কিন্তু ভক্তি করে আনকারাকে আনকারায় আমীর ওমরাহের ব্যাপার, প্রসাদ ছাড়া কথাই নেই ! কাজেই দূর থেকে সেলাম ঠুকে স'রে পড়তে পারলেই বাঁচে তুকাঁ। কিন্ত ইস্তাম্বুল যেন কফিখানার আড্ডা কফির কাপ হাতে নিয়ে _ “কি ইয়ার কেমন আছো ? ব'লে গল্প জমানে। যায় বেশ খানিকক্ষণ ওঠবার কথা মনেই

থাকে ন1। তাই ইস্তাম্বুলে যে সব তুকাঁরা একবার গেড়ে বসেচে, তারা আর ওঠবার নাম করেনি যদি ব'সতেই থাকে শুধু, আর ওঠবার নাম না করে_-তা হ'লে যা পরিণতি হয়, তাই হয়েচে ইস্তাম্বুলের বেড়েই চলেচে বসতি তেভাগ। ইস্তাম্বুলের ভাগগুলি হচ্চে- ইস্তাম্বুল ( যেটি আদিম); বেয়োলু (০5৫15 - আগে “পেরা” বলা হতো) আর উসকুদার। . আমাদের কলকাতায় যেমন উত্তর পাড়ার সঙ্গে দক্ষিণ পাড়ার একটু হালচালের তফাৎ আছে; আবার, যেমন আছে কিছুটা হাওড়ার লোকেদের সঙ্গে-_ইস্তান্বুলের ব।াপারেও তাই এক পাড়ার লোকের আর এক পাড়ায় গিয়ে একটু বাধো বাধো ঠেকে হালচালে মেলে না ঠিক।

আদি ইস্তাম্বুল আর বেয়োলুর মাঝখান দিয়ে বায়ে চলেচে নীল জলের ঢেউ _গোল্ডেন হর্ণ তবে ছুটিকে এক ক'রেচে ছুটি সেতু ছ'জায়গায়।

কিন্তু উস্কুদার এই ছুটি জায়গ! থেকে আলাদা হ'য়েচে বসফরাস্‌ প্রণালীটির জন্যে উস্কুদার আমাঁদের দলে প'ড়েচে__মীনে এশিয়ায় এবং আর ছুটি খণ্ড ইয়োরোপীয় কাজেই উস্কুদারের নেটিপেটি লোক আর বেয়োলু-ইস্তান্থলের চটপটে লোক দেখলেই বৌঁঝা যায়, কে কোথাকার আমদানী বসফরাসের উপর কোন সেতু বাধা যায়নি-_ তাই পারাপারের জন্যে ট্টিম-লঞ্চ, ছ্টীমার আর নৌকো

ইস্তাম্বুলে কি নেই ? মিনার সমেত জমকালো মস্জিদ্‌, আগেকার ্রীষ্টানী গির্জা, বিরাট সব অট্টালিকা, ব্যস্ত সমস্ত ডক, সাজানো নানা দৌঁকান-পাঁট, ফুল ভরি বাগিচা, লম্বা-চওড়া সেতু, নীল জলের ঢেউ, উপরে নীল আকাশ, নীচেয় লোকের ভিড়, ট্রাম লাইন বাঁধানো রাস্তা, সরু সরু গলি, বেঞ্চিপাতা৷ কফিখানা, কাচ ঘরে বিরাট অফিস - সব পাবে ইস্তান্বলে আর সব সহরের মতই -_ এখানে ধনী আছে, গরীব আছে, বোকা আছে, চালাক আছে | বনু জাতও আছে। ইংরেজ,

৩.৩

ফরাসী, গ্রীক, আমেনিয়ান __ হরেক রকম | দেখে চেনা দায়, কথা বলতে গেলেই ধরা পড়ে | কিন্তু আশ্চর্য, ভারতীয় কাউকেই চোখে পড়লো না একদিনও গামার মত কালো-ঘে সা বাদামী চামড়াও দেখলাম না একটাও | তা৷ হ'লে অন্তত ছুটে গিয়ে জিগ্যেস করতাম, দাদার কোখেকে আসা হয়েচে ? বাঙ্গালী তো দূরের কথা-__মম-বর্ণের কারোর দেখা পেলে বোধহয় মনে হ'তো। তাকে আমার পরমাতীয়। লাল-গোলাপী দেখে দেখে চোখট। এরই মধ্যে হয়ে গেছলো। ঘোলাটে; অথচ আমার যাত্রা-পথে রংয়ের খেলার সবে শুরু।

তুকাঁরা দোকান সাজাতে জানে কোথায় কোন জিনিষট? রাখলে লোকের নজরে পড়বে-_তুকাঁ-ব্যবসাদীরের স্দিকে নজর ঠিক আছে। দোকানের কাচগুলো ঝকৃঝকে, মেঝে তকৃতকে পরিস্কীর | সৌন্দর্যজ্ঞান নেই তৃকীরি-_বলা চলবে ন! 1 ফলের দোকানগুলিতে সময়কার ফলে সাজানো | দৌকানে দাড়ালে বল! ধায়, তুকাঁর গাছ-গাঁছড়ায় এখন কি ফল পাঁকচে আর এই ফলগুলোই যেন শীত-গ্রীষ্মকালের বেরোমিটার। অবশ্ঠ, ব্যাপারটা সব দেশেই সমান | “লেউ বোম্বাই আঁ-উ-ম' ঝলে পশ্চিমা আমওলা হাক দেয় যখন কিংবা আমের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে বাঙ্গালী মুসলমান আমওল! গলি দিয়ে যখন হাঁক দেয় “আম নেবেন গো মাঠাকরুণ' _- কোন বা্ডিরই কত? বা গিন্নী ভুল করেন না, সেটি শীতকাল বলে

তবে তুকীতে একট! চলতি কথা! আছে £ তরমুজের বীজ জলে পড়লে তবে স্নান করা উচিত মানেট! আর কিছু নয়, তরমুজ বাজারে উঠলে বোঝা গেল এইবার বেশ গরম পড়েচে--অতএব জল্‌কে চল্‌

ফলের দোকানের মত ফুলের দেকাঁনও সহরে অনেক তুকারা ফুল-পাগল | একদিন বেড়াতে বেরিয়ে ধরে। উচু ইটের কীলচে প্রাচীরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্চি, ভাবলাম হয়তো কোন কবরখানা

৩৪

হবে। কিন্তু প্রাচীরের গেটের কাছে এসেই থমকে ফাড়াতে হ'লো, দেখি বাগান আলে! ক'রে ফুল ফুটে গাছে নানা জাতের রেুরেন্টের টেবিলেও থাকে ফুলদানিতে সগ্-ফোট! ফুল। তবু তুকাঁ-ফুলের ভাগ্য খারাঁপ। কারণ তুকীঁ-তরুণীর খোঁপায় জড়িয়ে থাক! -_ ভাগ্যে তার নেই। সে সৌভাগ্য আছে ভারতীয় ফুলের।

ইস্তান্বল জেগে ওঠে খুব সকালেই | সকাল সাতটা</